সোমবার, ডিসেম্বর 15, 2025
Home Blog Page 546

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ভোট দেওয়া চেকিয়াকে চেচনিয়া বলে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গতকাল ১০ মে শুক্রবার ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্য পদের প্রস্তাব ব্যাপক সমর্থন নিয়ে পাস হয়েছে। এ নিয়ে ভোটাভুটিতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ১৯৩টি সদস্যদেশের মধ্যে ১৪৩টি দেশ প্রস্তাবটির পক্ষে এবং ৯টি দেশ বিপক্ষে ভোট দিয়েছে। বাকি ২৫টি দেশ কোনো পক্ষে ভোট না দিয়ে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে।

ভোট
UN Photo : Results of the General Assembly’s vote on the resolution on the status of the Observer State of Palestine 

বিপক্ষে ভোট দেওয়া ৯টি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ছাড়াও আছে আর্জেন্টিনা, হাঙ্গেরি, মাইক্রোনেশিয়া,পালাউ, পাপুয়া নিউগিনি, নাউরু এবং চেকিয়া (চেক প্রজাতন্ত্র)।

বিপুল সমর্থন অর্জিত হওয়ায় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ফিলিস্তিনের জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য হওয়ার যোগ্য বলে স্বীকৃতি দিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে পুনর্বিবেচনা করার সুপারিশ করেছে। এ নিয়ে জাতিসংঘের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্টের একটি পোস্টে লেখা হয়– “UN General Assembly determines that the State of Palestine is qualified and should be admitted as a member to the United Nations. UNGA further recommends that the Security Council reconsider the matter.”

বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করতে গিয়ে প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনের সদস্যপদ প্রাপ্তি বিপক্ষে ভোট দেওয়া ৯টি দেশের কথা উল্লেখ করার সময় দেশের কতিপয় গণমাধ্যম চেচনিয়া’র নাম উল্লেখ করেছে। 

চেক প্রজাতন্ত্রের পরিবর্তে চেচনিয়া উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করা গণমাধ্যমগুলোর মধ্যে রয়েছে যুগান্তর, আজকের পত্রিকা, ইনকিলাব, প্রতিদিনের সংবাদ, নিউজজি২৪, বাংলাদেশ জার্নাল, বাংলা নিউজ২৪, বিডি২৪লাইভ, অর্থসূচক, ফেস দ্যা পিপল, স্বদেশ প্রতিদিন এবং আপন দেশ

গণমাধ্যমের সংবাদ প্রকাশের পর ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ভোট দেওয়া রাষ্ট্রগুলোর নামের তালিকায় চেচনিয়ার উল্লেখ দেখা গেছে। এসব পোস্টের কমেন্টে সূত্র হিসেবে উল্লেখিত গণমাধ্যমের লিংক দেওয়া হয়েছে। কিছু কমেন্টে চেচনিয়াকে সমালোচনাও করতে দেখা গেছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ফিলিস্তিনের বিপক্ষে ভোট দেওয়া ৯টি দেশের মধ্যে চেকিয়া (চেক প্রজাতন্ত্র) একটি। তবে চেচনিয়া এবং চেক প্রজাতন্ত্র এক নয় বরং সম্পূর্ণ দুটি ভিন্ন সত্তা(এনটিটি)। কতিপয় গণমাধ্যমে চেক প্রজাতন্ত্রকে ভুলভাবে চেচনিয়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

চেক প্রজাতন্ত্র জাতিসংঘের পূর্ণ সদস্য এবং একটি সার্বভৌম দেশ; অপরদিকে চেচনিয়া সার্বভৌম নয় এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সদস্যও নয়। তাই তাদের সাধারণ পরিষদে ভোট দেওয়ারও সুযোগ নেই। 

চেচনিয়া, যা আনুষ্ঠানিকভাবে চেচেন প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিত হলো রাশিয়ার একটি প্রজাতন্ত্র। এটি উত্তর ককেশাসে পূর্ব ইউরোপের সর্বদক্ষিণ অংশে অবস্থিত। চেক প্রজাতন্ত্র থেকে এটি প্রায় ২ হাজার মাইল দূরে অবস্থিত। 

Czechia and Checnya on Google map

অপরদিকে চেক প্রজাতন্ত্র মধ্য ইউরোপের একটি সার্বভৌম দেশ, যা চেকিয়া নামেও পরিচিত। ২০১৬ সালে চেক সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চেক রিপাবলিক নামটি সংক্ষিপ্ত করে চেকিয়া ব্যবহার শুরু করে এবং এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণটিকে আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে প্রচার করার সুপারিশ করে। ফলে পরবর্তীতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘসহ বড় বড় প্রতিষ্ঠান এটিকে চেকিয়া বলে উল্লেখ করা শুরু করে। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ‘জাতিসংঘে চেক প্রজাতন্ত্রের স্থায়ী মিশন ২০১৬ সালের ১৭ মে জাতিসংঘকে তাদের দেশের সংক্ষিপ্ত নাম ‘চেকিয়া’ ব্যবহারের জন্য জানায়।’ এরপর থেকে চেক রিপাবলিক এর পরিবর্তে জাতিসংঘে তাদের চেকিয়া নামটি ব্যবহার হয়।

Read More: ভিডিওটিতে দেখানো আগুন ও ধোঁয়া কবরের আযাবের দৃশ্যের নয়

আনুষ্ঠানিকভাবে সংক্ষিপ্ত নাম চেকিয়া ব্যবহার করা হলেও আন্তর্জাতিকভাবে এই নামটি এখনও পুরোপুরি সেভাবে পরিচিত লাভ করেনি। এর সম্ভাব্য একটি কারণ হতে পারে চেকিয়া খুব সহজেই ককেশাসের রাশিয়ান প্রজাতন্ত্র চেচনিয়ার নামের সাথে মিলে বিভ্রান্তি তৈরি করে। যেমনটা বাংলাদেশের উল্লেখিত সংবাদমাধ্যমেও দেখা গেছে। যদিও এক্ষেত্রে হয়তো একটি গণমাধ্যম তালিকায় Czechia বানান দেখে চেচনিয়া ধরে সংবাদ প্রকাশ করার পর অন্যরা তা কপি/অনুসরণ করে ভুল করে থাকতে পারে।

তবে চেকিয়া নাম প্রচলনের পূর্বেও চেক রিপাবলিক ও চেচনিয়া’র (চেচেন রিপাবলিক) নাম গুলিয়ে ফেলার উদাহরণ পাওয়া যায়। ২০১৩ সালে বোস্টন ম্যারাথনে বোমা হামলরা ঘটনায় সন্দেহভাজন(পরে অভিযুক্ত) সারনায়েভ ভাইরা ছিলেন জাতিগতভাবে চেচেন৷ চেচেন রিপাবলিক ও চেক রিপাবলিকের নামের কিছুটা মিলের কারণে অনলাইনে এ সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় চেক রিপাবলিকের নামও বিভ্রান্তিকরভাবে জড়িয়ে যায়। বিষয়টা এমন অবস্থায় পৌছেছিল যে বিভ্রান্তি দূর করতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত চেক প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রদূতকে ‘চেক প্রজাতন্ত্র ও চেচনিয়া দুটি একেবারে ভিন্ন সত্তা(entity)’ বলে সেসময় একটি অফিশিয়াল বিবৃতি প্রকাশ করতে হয়েছিল।  

অর্থাৎ, চেকিয়া এবং চেচনিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি সত্তা/এনটিটি।

সুতরাং, চেক প্রজাতন্ত্র তথা চেকিয়া এবং চেচনিয়া সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি সত্তা। কতিপয় গণমাধ্যমে চেকিয়া কে চেচনিয়া হিসেবে উল্লেখ করায় সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে৷ তাই রিউমর স্ক্যানার উল্লেখিত গণমাধ্যমের এ ভুলটিকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

তথ্যসূত্র

  1. UN NEWS & United Nations website 
  2. News of international media outlets
  3. 2013 statement of Czech Republic ambassador on name confusion  

হালনাগাদ/ Update

১২ মে, ২০২৪ : এই প্রতিবেদন প্রকাশ পরবর্তী সময়ে কতিপয় গণমাধ্যমের একই দাবি সম্বলিত সংবাদ আমাদের নজরে আসার প্রেক্ষিতে সেসব গণমাধ্যমকেও দাবি হিসেবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হলো।

বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা অসুস্থ দাবিতে পুরোনো ছবি প্রচার

0

সম্প্রতি, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার নামে পরিচালিত কিছু ফেসবুক পেজ থেকে হাতে ক্যানোলা লাগানো রুমিন ফারহানার একটি ছবি পোস্ট করে ক্যাপশনে “আমি একটু অসুস্থ। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন” শীর্ষক শিরোনামে একটি পোস্ট করা হয়।

রুমিন

এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

পরবর্তীতে একই দাবিটি বিভিন্ন পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকেও প্রচার করা হয়।

এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি নেত্রী রুমিন ফারহানা অসুস্থ দাবি করে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কোন ছবি প্রচার করেননি এবং গণমাধ্যমেও তার অসুস্থতার দাবি সম্পর্কিত কোনো সংবাদ প্রকাশিত হয়নি। বরং, তার অসুস্থতার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি ২০১৯ সাল থেকেই ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে তার নামে পরিচালিত কিছু ভুয়া ফেসবুক পেজ থেকে উক্ত দাবিটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, গত ০৬ মে ‘রুমিন ফারহানা’ নামক একটি ফেসবুক পেজ থেকে আলোচ্য দাবির সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি (আর্কাইভ) করা হয়৷ পরবর্তীতে ০৭ মে  ‘ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা BNP’ নাম আরেকটি ফেসবুক পেজ থেকে প্রায় একই ক্যাপশনে ছবিটি পোস্ট (আর্কাইভ) করা হয়। পরবর্তীতে উক্ত দাবিটি ফেসবুকে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

তবে এই দুইটি পেজ রুমিন ফারহানার নামে পরিচালিত হলেও এগুলো তার পেজ নয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, ফেসবুকে রুমিন ফারহানার একটি পেজ এবং একটি ভেরিফাইড অ্যাকাউন্ট রয়েছে। এই পেজ এবং অ্যাকাউন্টে সাম্প্রতিক সময়ে রুমিন ফারহানার আলোচ্য দাবি সম্পর্কিত কোনো তথ্য বা ছবি প্রকাশ করেননি। বরং তার নামে পরিচালিত ভুয়া ফেসবুক পেজগুলোতে তার অসুস্থতার দাবির পোস্ট প্রচার পরবর্তী সময়ে গত ০৮ মে রাতে তাকে বেসরকারি টেলিভিশন আরটিভির ‘গোলটেবিল’ লাইভ টকশোতে অংশ নিয়ে সুস্থ স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে দেখা গেছে। যা তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টেও শেয়ার করেছেন। এছাড়া আলোচিত দাবি প্রচার পরবর্তী সময়ে তিনি নিয়মিতই তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সক্রিয় (, ,) রয়েছেন।

এছাড়া, মূলধারার সংবাদমাধ্যম এবং বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতেও সাম্প্রতিক সময়ে রুমিন ফারহানার অসুস্থতার বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

রুমিন ফারহানার অসুস্থতার দাবিতে প্রচারিত ছবিটি সম্পর্কে যা জানা গেল

একই ছবিটি ২০২২ সালেও তার অসুস্থতার দাবিতে ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছিলেন। সে সময় বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল রিউমর স্ক্যানার।

সেসময় রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, ছবিটি অন্তত ২০১৯ সাল থেকে রুমিন ফারহানার অসুস্থতার দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচার হয়ে আসছে।

মূলত, সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা অসুস্থ দাবিতে ফেসবুকে একটি ছবি ছড়িয়ে পড়েছে। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। এটি অন্তত ২০১৯ সাল থেকে রুমিন ফারহানার অসুস্থতার ছবি দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচার হয়ে আসছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে রুমিন ফারহানার অসুস্থতার কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি নিয়মিত টেলিভিশন টকশোতে উপস্থিতি হচ্ছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় আছেন।

সুতরাং, বিএনপি নেত্রী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বর্তমানে অসুস্থ থাকার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং উক্ত দাবিতে প্রচারিত ছবিটি পুরোনো।

তথ্যসূত্র

সাকিব আল হাসানকে জড়িয়ে জুয়ার অ্যাপের ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার

0

সম্প্রতি, মাগুরা- ১ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পুরুষ ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান জুয়ার অ্যাপের প্রচারণা করছেন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)। 

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান Crazy Time নামের জুয়ার অ্যাপের প্রচারণা করেননি। বরং, তার ফেসবুক পেজে আপলোড করা একটি ভিডিওর কিছু অংশ ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে তার সাথে ভিন্ন অডিও এবং জুয়ার বিজ্ঞাপন যুক্ত করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। 

আলোচিত দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে জুয়ার বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত সাকিব আল হাসানের ক্লিপটির কয়েকটি কী-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে সাকিব আল হাসানের ফেসবুক পেজে গত ৩০ এপ্রিল, ২০২২ তারিখে ডিবিএল সিরামিক্সের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

Screenshot: Facebook

ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত জুয়ার বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত সাকিব আল হাসানের ক্লিপের সাথে উক্ত ভিডিওর বেশকিছু অংশের হুবহু মিল রয়েছে। দুটো ভিডিওতেই তার পোশাক, দাঁড়ানোর ধরন এবং পেছনের দেয়ালের মিল রয়েছে। অর্থাৎ, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় উক্ত ভিডিওটিতে অডিও যুক্ত করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

Screenshot collage: Rumor Scanner

অর্থাৎ, সাকিব আল হাসানের সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ভিডিওর সাথে জুয়ার বিজ্ঞাপনের অডিও ও ভিডিও যুক্ত করে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে। যার সাথে সাকিব আল হাসানের কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই।

ভিডিওটি প্রচার করা ফেসবুক পেজ সম্পর্কে যা জানা যায়

আলোচিত জুয়ার বিজ্ঞাপনটি কাছাকাছি নামের দুইটি আলাদা পেজ থেকে প্রচার করা হয়েছে। প্রচারকারী পেজ-১ (আর্কাইভ) ও পেজ-২ (আর্কাইভ) পর্যালোচনা করে দেখা যায় পেজ দুটোয় উল্লেখ্যযোগ্য কোনো পোস্ট নেই এবং জুয়ার ভিডিওটি বুস্ট করে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়াও পেজের ট্রান্সপারেন্সি সেকশন যাচাই করে দেখা যায়, পেজগুলো ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও ইউক্রেন এই তিনটি দেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি জানা যায় উক্ত পেজ দুইটি এবছরের ৯ ও ১০ এপ্রিল তৈরি করা হয়েছে।

Screenshot: Facebook

মূলত, ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল ডিবিএল সিরামিক্সের পক্ষ থেকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভিডিও প্রচার করেন। সম্প্রতি উক্ত ভিডিওর কিছু অংশ কাট করে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় তার সাথে ভিন্ন একটি অডিও ও জুয়ার অ্যাপের প্রচারণার ভিডিও যুক্ত করে দাবি করা হচ্ছে, সাকিব আল হাসান জুয়ার অ্যাপের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে, সাকিব আল হাসান এমন কোনো জুয়ার অ্যাপের প্রচারণায় অংশ নেননি। 

উল্লেখ্য, পূর্বেও একাধিক সাকিব আল হাসানের নামে Crazy Time জুয়ার অ্যাপের প্রচারণায় অংশ নেওয়ার দাবি প্রচার করা হলে সেগুলো প্রতারণা হিসেবে শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার। (, )

সুতরাং, সাকিব আল হাসান Crazy Time নামের অনলাইন জুয়ার অ্যাপের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা এবং বিষয়টি স্ক্যাম বা প্রতারণা।

তথ্যসূত্র

ভিডিওটিতে দেখানো আগুন ও ধোঁয়া কবরের আযাবের দৃশ্যের নয়

সম্প্রতি শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকে “কবরের আযাব কত ভয়ংকর দেখেন এই কবরে হে আল্লাহ আপনি আমাদের কবরের আজাব থেকে হেফাজত করিয়েন | জানি ইসলামিক ভিডিও ভাই রাল হইনা” দাবিতে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়।

কবরের আযাব

টিকটকে প্রচারিত উক্ত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)। 

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি উক্ত ভিডিওটি এক লক্ষ ষোলো হাজার বারেরও অধিক বার দেখা হয়েছে। তিন হাজার পাঁচশত এরও অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটিতে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, কবরস্থানে আযাবের ঘটনা দাবিতে প্রচারিত আগুন ও ধোঁয়ার দৃশ্য কোনো কবরের আযাবের আগুনের দৃশ্য নয়। বরং, কবরস্থানে ঝরে পড়া গাছের পাতাগুলো পরিষ্কার করার জন্যে সেগুলো বিভিন্ন জায়গায় জড়ো করে আগুন লাগানো হয়েছে, সেই দৃশ্য কবরের আযাব দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতি বিষয়ক জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর Salahuddin Sumon নামের একজন ভ্লগারের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২২ সালের ১২ মার্চ তারিখে “প্রাচীন আমলের একেকটি কবর যেনো একেকটি জীবন্ত ইতিহাস || Ancient Graveyard in Dhaka || Episode 02” শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিওয়ের সন্ধান পায় রিউমর স্ক্যানার টিম। প্রচারিত ভিডিওটির সাথে Salahuddin Sumon এর ভিডিওটির শুরুর অংশের হুবহু মিল দেখতে পাওয়া যায়।

Comparison : Rumor Scanner
Comparison : Rumor Scanner

পরবর্তীতে Salahuddin Sumon এর উক্ত ইউটিউব ভিডিওটির ডেসক্রিপশন এবং ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে জানা যায়, ভিডিওটিতে তিনি ঢাকার প্রাচীনতম ঐতিহাসিক একটি খ্রিষ্টীয় কবরস্থান দেখান এবং সেটির ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন। Salahuddin Sumon এর বক্তব্য অনুসারে, তার গত পর্বে দেখানো কলম্বো সাহেবের রহস্যঘেরা কবরের পাশেই নাকি একটি গির্জা ছিল। আর সেই গির্জাকে ঘিরেই মূলত গড়ে ওঠে এই সমাধিক্ষেত্র। বর্তমানে সেই গির্জার কোনো চিহ্নও নেই। ঢাকার ইতিহাস ৪শ’ বছরের। এই সমাধিক্ষেত্রের ইতিহাসও ৪শ বছরের। সেই হিসেবে ঢাকার উত্থানপতনের ইতিহাসের নীরব সাক্ষী এই কবরস্থানটি।

Screenshot : Youtube

অতঃপর, আগুন এবং কবরের আযাবের দাবির বিষয়ে অধিকতর নিশ্চিত হতে ভিডিওটির ক্রিয়েটর সালাহউদ্দিন সুমনের সাথে যোগাযোগ করা হয়। রিউমর স্ক্যানারকে তিনি জানান, “ঝরে পড়া গাছের পাতাগুলো পরিস্কার করার জন্যে সেগুলো বিভিন্ন জায়গা জড়ো করে আগুন লাগানো হয়। ভিডিওটিতে সেই ঘটনা-ই দেখা যাচ্ছে; কোনো কবরের আযাব নয়।”

মূলত, ঢাকার একটি খ্রিষ্টীয় কবরস্থান নিয়ে ইতিহাস, ঐতিহ্য ও প্রকৃতি বিষয়ক জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর Salahuddin Sumon সেটির ইতিহাস আলোচনা করে তার ইউটিউব চ্যানেলে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেই ভিডিওটিতে কবরস্থানে ঝরে পড়া গাছের পাতাগুলো পরিস্কার করার জন্যে পাতাগুলো বিভিন্ন জায়গায় জড়ো করে লাগানো আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পাওয়া যায়৷ উক্ত আগুন ও ধোঁয়াকেই কবরের আযাব দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

অর্থাৎ, কবরের আযাবের দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত বিষয়টি মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

যমুনা টেলিভিশনকে জড়িয়ে সাকিবের নামে জুয়ার ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার

সম্প্রতি, মাগুরা- ১ আসনের সংসদ সদস্য ও ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের কথিত অনলাইন জুয়ার অ্যাপ Crazy Time নিয়ে যমুনা টিভি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে।

যমুনা

Li Smith নামে ফেসবুক পেজে প্রচারিত উক্ত দাবির ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, বেসরকারি টেলিভিশন যমুনা টিভি সাকিব আল হাসানের কথিত অনলাইন জুয়ার অ্যাপ সম্পর্কিত কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি বরং আরেক বেসরকারি টেলিভিশন এনটিভির সংবাদ বুলেটিনের ভিডিওকে সম্পাদনার মাধ্যমে তাতে যমুনা টিভির লোগো এবং ভিন্ন ভয়েস-ওভার যুক্ত করে সাকিবের পুরোনো ভিডিও ব্যবহার করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে ভিডিওর কিছু কী-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে এনটিভি নিউজের ইউটিউব চ্যানেলে গত ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৩ এর একটি সংবাদ বুলেটিন “মধ্যাহ্নের খবর : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | NTV News | NTV News Bulletin” শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত সংবাদ প্রতিবেদনের শুরুর ১৫ সেকেন্ড সংবাদ উপস্থাপনের অংশের সাথে আলোচিত ভিডিওটির শুরু অংশের সাথে মিল রয়েছে। অর্থাৎ, এর সাথে আলোচিত জুয়া সম্বলিত দাবিটির কোনো সম্পর্ক নেই। তাছাড়া যমুনা টিভিতেও এমন কোনো সংবাদ প্রচারের প্রমাণ মেলেনি।

Screenshot comparison: Rumor Scanner

সাকিবের ভিডিও ফুটেজটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ০৬ অক্টোবর, ২০২২ এ এন্ড্রয়েড মোবাইল কোম্পানি OPPO Bangladesh এর একটি এডভার্টাইজমেন্ট পাওয়া যায়। OPPO Bangladesh এর ইউটিউব চ্যানেলে OPPO F21s Pro | S#75 Signature Color শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়। 

ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওর সাকিব আল হাসানের ক্লিপের সাথে উক্ত ভিডিওর  মিল রয়েছে। দুটোতেই তার পোশাক, অঙ্গভঙ্গি, বাচনভঙ্গী, পিছনের ব্যাকগ্রাউন্ড কালার সবকিছুর মিল দেখতে পাওয়া যায়।

Screenshot comparison: Rumor Scanner

ভিডিওটিতে সাকিব আল হাসানকে OPPO এন্ড্রয়েডের বিভিন্ন ফিচার সম্পর্কে জানাতে দেখা যায়। তবে উক্ত ভিডিওতে সাকিবকে কোনো জুয়ার অ্যাপের প্রচারণা চালাতে দেখা যায়নি। তাই সাকিব আল হাসানের উক্ত ভিডিওটির সাথে আলোচিত দাবিটির কোনো সম্পর্ক নেই।

ভিডিওটি প্রচার করা ফেসবুক পেজ সম্পর্কে যা জানা গেল

আলোচিত জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারকারী Li Smith (আর্কাইভ) পেজটি পর্যালোচনা করে দেখা যায় এতে অনলাইন ভিত্তিক জুয়া খেলার প্রচারণামূলক পোস্ট রয়েছে। এছাড়া পেজটির ট্রান্সপারেন্সি সেকশনে থেকে জানা যায় পেজটি ভিয়েতনাম, বাংলাদেশ ও ফিলিপাইন থেকে পেজটি পরিচালন করা হচ্ছে। উক্ত পেজটি ২০২২ সালের ২৪ আগস্ট তৈরি করা হয়েছে।

Screenshot: Facebook

এছাড়া, আলোচিত ভিডিওতে ‘Crazy Time’ নামক জুয়ার অ্যাপটি সাকিব আল হাসানের দাবি করা হলেও রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে উক্ত অ্যাপের সাথে সাকিব আল হাসানের কোনো সম্পৃক্ততা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মূলত, সম্প্রতি ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের অনলাইন জুয়ার অ্যাপের প্রচারণার ভিডিও দাবিতে  যমুনা একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বলে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাকিবকে নিয়ে এমন কোনো সংবাদ যমুনা টিভি প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, গত ১৭ মার্চ,২০২৩ এ এনটিভির ইউটিউব চ্যানেলে এনটিভি সংবাদ বুলেটিনের ভিডিও প্রচার করা হয়। উক্ত ভিডিওর উপস্থাপিকার এবং সাকিব আল হাসানকে নিয়ে ০৬ অক্টোবর, ২০২২ এ OPPO Bangladesh এন্ড্রয়েড কোম্পানির ইউটিউব চ্যানেল থেকে প্রচারিত একটি এডভার্টাইজমেন্ট এর কিছু অংশ কেটে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় তাতে যমুনা টিভির লোগো, ভিন্ন একটি অডিও এবং ‘Crazy Time’ নামের একটি অনলাইন জুয়ার অ্যাপের বিজ্ঞাপন যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।  

সুতরাং, সাকিব আল হাসান ‘Crazy Time’ নামের অনলাইন জুয়ার অ্যাপের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন শীর্ষক দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিষয়টি স্ক্যাম বা প্রতারণা।

তথ্যসূত্র

ব্র্যাকে নিয়োগের ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রচার

0

সম্প্রতি, “ব্রেকিং নিউজ ২৮,০০০/- বেতনে দেশব্যাপী ব্র্যাক এনজিওতে বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ” দাবিতে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে। 

ব্র্যাক

উক্ত দাবিতে ফেসবুক পোস্টগুলো দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক কর্তৃপক্ষ ২৮,০০০/- বেতনে শিক্ষক পদে দেশব্যাপী বিশাল নিয়োগের দাবিকৃত এ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেনি বরং, প্রতারণার উদ্দেশ্যে কথিত এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ব্র্যাক এর নাম ব্যবহার করে প্রচার করা হয়েছে।

এই বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে কথিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি। ফেসবুকের পোস্টের কমেন্ট সেকশনে আবেদনের লিঙ্ক দাবিতে একটি লিঙ্ক পাওয়া যায়। তবে সেটি Bd Latest Update নামের অন্য একটি ওয়েবসাইটের। ওয়েবসাইটের লিঙ্কে প্রবেশ করলে এই নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সেখানে বলা হয়েছে ব্র্যাক তাদের ওয়েবসাইটে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। 

পরবর্তীতে  ব্র্যাকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটের ক্যারিয়ার সেকশনে ফেসবুকের দাবিকৃত পোস্টের নিয়োগ পদ অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগ লিখে সার্চ করলে কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। 

মূলত, সাম্প্রতিক সময়ে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক শিক্ষক পদে ২৮,০০০/- বেতনে দেশব্যাপী বিশাল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দাবিতে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ফেসবুকে প্রচার হতে দেখেছে রিউমর স্ক্যানার। তবে দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে ব্র্যাক এমন কোনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি।  ব্র‍্যাকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এমন কোনো পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুঁজে  পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র‍্যাকে শিক্ষক পদে জরুরি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দাবিতে যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

  • ওয়েবসাইট – Brac
  • নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি – Brac Career
  • নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি – BDjobGob
  • Rumor Scanner’s own analysis 

পাকিস্তানের সব মসজিদ ভেঙে ফেলার গুজব

0

সম্প্রতি, ‘এবার পাকিস্তানের পালা, হিন্দু রাষ্ট্র হওয়ায় ভেঙে ফেলা হচ্ছে সব মসজিদ’ শীর্ষক একটি দাবি শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটকে প্রচারিত হচ্ছে। 

মসজিদ

টিকটক প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন  এখানে (আর্কাইভ)

টিকটকে এই ভিডিওটি এখন পর্যন্ত ২ লক্ষ ৩০ হাজারের অধিক বার দেখা হয়েছে। 

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়,  পাকিস্তানে সব মসজিদ ভেঙে ফেলা হচ্ছে শীর্ষক  দাবিটি সঠিক নয় বরং ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ছবি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে এমন দাবি শর্ট ভিডিও প্লাটফর্ম টিকটকে প্রচার করা হচ্ছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে আলোচিত দাবির সপক্ষে পাকিস্তান কিংবা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এমন কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও, আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবির পক্ষে কোনো তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি ভিডিওটিতে আলোচিত দাবির সাথে প্রাসঙ্গিক কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যেরও উল্লেখ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ভিডিওটি’র প্রচারিত দাবি ও ছবির  সাথে বিস্তারিত অংশের অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। ৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে একাধিক ছবি ব্যবহার করে ‍দাবিটি উপস্থাপন করা হয়েছে।

ছবি যাচাই ০১

Screenshot: TikTok

রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম Reuters এর ওয়েবসাইটে চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারী ‘Pakistani Islamist parties rally against top judge on blasphemy accusations’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে  আলোচিত  ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়। 

Image comparison: Rumor Scanner

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতির আহমদী সম্প্রদায় এক সদস্যের বিরুদ্ধে করা মন্তব্যকে নিন্দামূলক দাবি করে পাকিস্তানি ইসলামপন্থী দলগুলোর প্রতিবাদ সমাবেশের ছবি এটি।

অর্থাৎ, এই ছবিটি আলোচ্য দাবিটির সাথে সম্পৃক্ত নয়।

ছবি যাচাই ০২

Screenshot: TikTok

রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে মানবাধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান Human Rights Watch এর ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালের ২৮ নভেম্বর ‘Pakistan: Widespread Abuses Force Afghans to Leave’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে আলোচিত ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়।

Image comparison: Rumor Scanner

 প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, আফগানিস্তানে ফিরে যেতে বাধ্য করার জন্য পাকিস্তানে বসবাসরত আফগানদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে।

প্রতিবেদনে ছবি ক্যাপশনে বলা হয়, এটি আফগানদের পাকিস্তান ত্যাগের ঘটনায় ধারণকৃত ছবি।

অর্থাৎ, এই ছবিটিও আলোচিত দাবির সাথে সম্পৃক্ত নয়।

ছবি যাচাই ০৩

Screenshot: TikTok

রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে ভারতীয় গণমাধ্যম The Times Of India এর ওয়েবসাইটে ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল ‘Portion of mosque in Delhi’s Bengali Market demolished by NDDMC; official claims it was part of anti-encroachment drive’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে প্রচারিত ছবিটি পাওয়া যায়।

Image comparison: Rumor Scanner

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনেক পুলিশের উপস্থিতিতে নিউ দিল্লি মিউনিসিপ্যাল ​​কাউন্সিল ফুটপাত ও জনসাধারণের জায়গা দখল অপসারণের অংশ হিসেবে (এনডিএমসি) নতুন দিল্লির বাংলা বাজারে একটি মসজিদের অংশ ভেঙে দেয়।

অর্থাৎ, ঘটনাটি নয়া দিল্লির, পাকিস্তানের নয়।

এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানে আদৌ সব মসজিদ ভেঙে ফেলা হচ্ছে কিনা তা জানতে প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড সার্চ করে পাকিস্তান কিংবা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবির সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মূলত,  dinubando.mollik.dip143 নামে একটি টিকটক আইডি থেকে ’হিন্দু রাষ্ট্র হওয়ায় পাকিস্তানে ভেঙে ফেলা হচ্ছে সব মসজিদ’ দাবিতে একটি ভিডিও টিকটকে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, এমন কোনো ঘটনা পাকিস্তানে ঘটেনি। ৫ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার ছবি যুক্ত করে দাবটি উপস্থাপন করা হয়েছে কিন্তু তার কোনো প্রমাণ ভিডিওতে দেওয়া হয়নি। 

সুতরাং, পাকিস্তানে ভেঙে ফেলা হচ্ছে সব মসজিদ শীর্ষক দাবিতে প্রচারিত বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

পরিবার পরিকল্পনায় নিয়োগের নামে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রচার

0

সম্প্রতি, “দেশব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে নিয়োগ চলছে’ দাবিতে একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে। 

প্রচারিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি পোস্টের ক্যাপশনে  উল্লেখ করা হয়, এটি সরকার অনুমোদিত প্রকল্প। শিক্ষাগত যোগ্যাতা: এসএসসি/অষ্টম থেকে সমমান, বয়স ১৮ থেকে ৫০ বছর।

দারিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবন মান উন্নয়নে নেদারল্যান্ড ও আই.ইউ.এইচ.পি এর অর্থায়নে শহর ও গ্রাম পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচি, চর জীবিকা উন্নয়ন প্রকল্প, আশ্রয়ন প্রকল্প, ফ্যামেলি প্লানিং, পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য কার্যক্রম, শিশু শিক্ষা প্রকল্প, প্রতিবন্ধী পুনর্বাচন প্রকল্প ও পুষ্টি প্রকল্প পরিচালনার জন্য কিছু সংখ্যক পুরুষ/মহিলা নিয়োগ করা হবে।

পরিবার

 উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ দাবিকৃত এ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেনি বরং, আর্থিক প্রতারণার উদ্দেশ্যে কথিত এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রের নাম ব্যবহার করে প্রচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতেই আলোচিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, গত ১৫ এপ্রিল, ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত খবরপত্রের ৫ নম্বর পাতা ও ১৬ এপ্রিল, ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত সরেজমিনের ২ নম্বর পাতাকে বিজ্ঞপ্তিটির তথ্যসূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

পরবর্তীতে গত ১৫ এপ্রিল খবরপত্র পত্রিকায় এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে কিনা তা জানতে পত্রিকার ওয়েবসাইটে ই-পেপার সেকশনে আলোচিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে অনুসন্ধান চালায় রিউমর স্ক্যানার টিম। কিন্তু পত্রিকাটির ই-পেপার সেকশন পর্যবেক্ষণ করে জানা যায়, গত ১৫ এপ্রিল পত্রিকাটির প্রিন্ট ভার্সন প্রকাশিতই হয়নি। কারণ  ইদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে গত ১০ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সকল সংবাদপত্রের ছাপা বন্ধ ছিল। অর্থাৎ যেদিন সংবাদপত্রই প্রকাশিত হয়নি সেদিন সংবাদে বিজ্ঞাপনের দাবিটি একেবারেই অবান্তর।

পাশাপাশি, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত সরেজমিন পত্রিকার ২ নম্বর পাতার বিষয়ে অনুসন্ধানে সরেজমিন নামের কোনো পত্রিকারই অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তবে ‘সরেজমিন বার্তা’ নামক একটি গণমাধ্যমের খোঁজ পাওয়া যায়। তবে ইন্টারনেটে উক্ত পত্রিকার পুরোনো সংবাদের কোনো আর্কাইভ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সাথে উক্ত পত্রিকার ওয়েবসাইটে অনুসন্ধান করে আলোচিত বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কিত কোনো সংবাদ  খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

অর্থাৎ, ভুয়া তথ্যসূত্র উল্লেখ করে আলোচিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রচার করা হচ্ছে। 

পরবর্তীতে, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র নামের যে পেজ থেকে আলোচিত বিজ্ঞপ্তিটি প্রচার করা হচ্ছে, সে পেজটিতে ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ প্রকাশিত হুবহু একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সম্বলিত একটি পোস্ট (আর্কাইভ)খুঁজে পায় রিউমর স্ক্যানার টিম। 

তবে ১৮ মার্চ, ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত এই পোস্টের বিজ্ঞপ্তির সূত্রে ১৫ এপ্রিল, ২০২৪ ও ১৬ এপ্রিল, ২০২৪ তারিখ দেখে আলোচিত পোস্টের বিজ্ঞপ্তির ছবি আপলোডের তারিখের বিষয়ে সন্দেহ হয় রিউমর স্ক্যানার টিমের।

উক্ত সন্দেহের জেরে ১৮ মার্চ প্রকাশিত পোস্টের এডিট হিস্ট্রি চেক করা হলে দেখা যায়, পোস্টটি ২৮ মার্চ প্রকাশের পর গত ১৯ এপ্রিল, ২৭ এপ্রিল ও ২৮ এপ্রিল তিন দফা এডিট করার পর সর্বশেষ চতুর্থ দফায় গত ৬ মে আবারও পোস্টটিতে আলোচিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ছবিটি যুক্ত করা হয়েছে। 

অর্থাৎ, পোস্টটি একাধিকবার এডিট করে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ছবি যুক্ত করে প্রচার করা হয়েছে। 

মূলত, দেশব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে নিয়োগ চলছে দাবিতে বিভিন্ন পদের একটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ছবি ফেসবুকে প্রচার হতে দেখেছে রিউমর স্ক্যানার। যেখানে বিজ্ঞপ্তির সূত্র হিসেবে দৈনিক খবরপত্র ও সরেজমিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সরেজমিন গনমাধ্যমের খোঁজ না পাওয়া গেলেও সরেজমিন বার্তা নামক একটি গণমাধ্যমের খোঁজ পাওয়া যায়। তবে, রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, দৈনিক খবরপত্র ও দৈনিক সরেজমিন বার্তা এ এরূপ কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়নি। 

সুতরাং, দেশব্যাপী পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রে নিয়োগ চলছে দাবিতে যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির ছবি ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও প্রতারণামূলক।

তথ্যসূত্র

এক বাড়ি থেকেই নগদ ২০ কোটি অর্থ উদ্ধারের ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের

0

সম্প্রতি, “এক বাড়িতেই মিলল নগদ ২০ কোটি!” শীর্ষক শিরোনামে বেসরকারি অনলাইন নিউজ পোর্টাল Bd24live এর একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে এই ঘটনাটি বাংলাদেশের। 

কোটি

Bd24live এর ফটোকার্ড যুক্ত করে উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, এক বাড়ি থেকে নগদ ২০ কোটি অর্থ উদ্ধারের  ঘটনাটি বাংলাদেশের নয় বরং ঘটনাটি ভারতের ঝাড়খণ্ডের।

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত পোস্টগুলোতে ব্যবহৃত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায় ফটোকার্ডটিতে অনলাইন নিউজ পোর্টাল Bd24live লোগো রয়েছে এবং প্রচারের তারিখ হিসেবে ০৬ মে ২০২৪ এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে। 

পরবর্তীতে এসব তথ্যের সূত্র ধরে ফেসবুকে ম্যানুয়ালি অনুসন্ধানের মাধ্যমে Bd24live এর ফেসবুক পেজে আলোচিত ফটোকার্ডটি (আর্কাইভ) খুঁজে পাওয়া যায়।

Screenshot: Bd24live Facebook Page

উক্ত ফটোকার্ড পোস্টের মন্তব্য ঘরে এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদনের (আর্কাইভ) উল্লেখ পাওয়া যায়। 

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচির বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২৫ কোটি রূপি নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অভিযানের একপর্যায়ে ঝাড়খন্ডের গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী আলমগীর আলমের ব্যক্তিগত সচিব সঞ্জীব লালের গৃহ সহকারীর বাড়িতে হানা দেওয়া হয়। এসময় ওই সহকারীর বাড়ির একটি কক্ষে টাকার পাহাড়ের দেখা মেলে, যার পরিমাণ প্রায় ২০ কোটি রূপি। 

এছাড়া একই বিষয়ের সংবাদ শিরোনামে ভারতের কথা উল্লেখ না করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দেশীয় গণমাধ্যম দ্যা মিরর অব বাংলাদেশ, ঢাকা টাইমস এবং আমার সংবাদ

প্রতিবেদনের শিরোনামে ঘটনাটির স্থানের নাম উল্লেখ না করায় বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মনে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। বিস্তারিত প্রতিবেদন না পড়েই তারা বিষয়টিকে বাংলাদেশের মনে করে বিভিন্ন নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।

Collage: Rumor Scanner

পরবর্তীতে বিষয়টি অধিকতর নিশ্চিতের জন্য কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম Times of India এর ওয়েবসাইটে গত ০৬ মে “ED recovers huge amount of cash from alleged aide of Jharkhand minister”- শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। 

উক্ত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট ঝাড়খন্ডের রাঁচি জুড়ে একাধিক স্থানে অভিযান চালিয়েছে এবং ঝাড়খণ্ডের গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী এবং কংগ্রেস বিধায়ক আলমগীর আলমের একজন কথিত ঘনিষ্ঠ সহযোগীর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ‘বেহিসাবি’ নগদ উদ্ধার করেছে।

অর্থাৎ, এক বাড়িতেই নগদ ২০ কোটি অর্থ উদ্ধারের ঘটনাটি বাংলাদেশের নয়। তবে এ সম্পর্কিত খবরের শিরোনামে স্থানের নাম উল্লেখ না করায় ঘটনাটি বাংলাদেশের ভেবে নেটিজেনরা বিভ্রান্ত হয়েছেন।

পাশাপাশি, মূলধারার গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে অভিযানের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যক টাকা উদ্ধার সংক্রান্ত কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

মূলত, ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২৫ কোটি রূপি নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অভিযানের একপর্যায়ে ঝাড়খন্ডের গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী আলমগীর আলমের ব্যক্তিগত সচিব সঞ্জীব লালের গৃহ সহকারীর বাড়িতে হানা দিলে সেখান থেকে প্রায় ২০ কোটি রূপি উদ্ধার করা হুয় । উক্ত বিষয়ে বাংলাদেশের একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত ফটোকার্ড ও গণমাধ্যমের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনামে ঘটনাটির স্থানের নাম উল্লেখ না করে সংবাদ প্রচার করা হয়। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীরা বিষয়টিকে বাংলাদেশের ঘটনা মনে করে ফেসবুকে প্রচার করেন।

উল্লেখ্য, পূর্বেও ভারতের একাধিক ঘটনা বাংলাদেশের দাবিতে প্রচারিত হলে তা নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার। এমন কয়েকটি প্রতিবেদন দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

সুতরাং, ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনাটি বাংলাদেশে স্থানের নাম উল্লেখ না করে ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

সেনাপ্রধানের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গ্রেফতার হওয়ার গুজব

সম্প্রতি, সেনাপ্রধানের হাতে প্রধানমন্ত্রী ও কাদের গ্রেপ্তার শীর্ষক শিরোনাম উল্লেখপূর্বক থাম্বনেইলে একটি ভিডিও ইউটিউবে প্রচার করা হয়েছে।

Desh tv 71 নামে একটি চ্যানেল থেকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া অবধি ভিডিওটি দেখা হয়েছে ১ হাজারেরও অধিক বার।  

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়,  সেনাপ্রধানের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গ্রেফতার হওয়ার তথ্যটি সঠিক নয় বরং, অধিক ভিউ পাওয়ার আশায় চটকদার থাম্বনেইল ব্যবহার করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে ভিডিওটিতে কোথাও সেনাপ্রধানের হাতে প্রধানমন্ত্রী ও কাদের গ্রেফতার দাবি সম্পর্কিত সংবাদ বা সূত্র উপস্থাপন করা হয়নি। এমনকি ভিডিওটিতে আলোচিত দাবির সাথে প্রাসঙ্গিক কোনো তথ্যেরও উল্লেখ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ভিডিওটি’র থাম্বনেইলে প্রচারিত দাবিটির সাথে বিস্তারিত অংশের অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। ১০ মিনিট দুই সেকেন্ডের ভিডিওটিতে ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন সংবাদ উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংবাদ যাচাই ০১

এখানে বলা হয়, সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না অভিযোগ করলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। 

এ বিষয়ে যে সংবাদের স্ক্রিনশট দেখানো হয়েছে তা যুগান্তর এর ওয়েবসাইটে গত ৫ মে ‘সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না: মঈন খান’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল।

সেনাপ্রধান

Screenshot comparison: Rumor Scanner

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, আওয়ামী লীগ সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।

যেখানে গণতন্ত্র নেই, সেখানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা থাকতে পারে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণতন্ত্রকে রক্ষা করতে হলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। গণতন্ত্র ও মানুষের বাকস্বাধীনতার জন্য আজ সংগ্রাম চলছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতের সব দায়দায়িত্ব সরকারের ওপর বর্তায়। কারণ সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় সাধারণ মানুষ বাধা দেয় না, মানুষের কথা বলায় আরেকজন বাধা দেয় না, বাধা দেয় সরকার।

অর্থাৎ, এই সংবাদে সেনাপ্রধানের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গ্রেফতার শীর্ষক কোনো তথ্য উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

সংবাদ যাচাই ০২

এখানে বলা হয়, জনগনই সরকার এবং নেতৃত্ব নির্বাচন করবে বলছেন বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারন সম্পাদক সাইফুল হক।

এ বিষয়ে যে সংবাদের স্ক্রিনশট দেখানো হয়েছে তা কালবেলা এর ওয়েবসাইটে ৫ মে ‘জনগণই সরকার ও নেতৃত্ব নির্বাচন করবে : সাইফুল হক’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল।

Screenshot comparison: Rumor Scanner

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, আওয়ামী লীগের পরিবর্তে কারা দেশ চালাবে তা দেশের জনগণই নির্ধারণ করবে। একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে জনগণ তাদের সরকার ও নেতৃত্ব নির্বাচন করবে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এর অন্যথা হবার সুযোগ নেই। কিন্তু কেউ যদি মনে করেন, তারা ছাড়া আর কেউ চালাতে পারবে না- সেটা গণতন্ত্র নয়।

অর্থাৎ, এই সংবাদেও সেনাপ্রধানের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গ্রেফতার শীর্ষক কোনো তথ্য উল্লেখ পাওয়া যায়নি। 

সংবাদ যাচাই ০৩

এখানে বলা হয়, চিকিৎসকের পা ধরে মাফ চাইলেন সেই আ.লীগ নেতা। রোগীকে চিকিৎসা দিতে দেরি করায় ডাক্তারকে বেধড়ক পেটানো সেই আওয়ামী লীগ নেতা এলিম পাহাড় এবার পা ধরে মাফ চেয়েছেন। রোববার (৫ মে) শরীয়তপুর-১ আসনের এমপি ইকবাল হোসেন অপুর উপস্থিতিতে চিকিৎসকের পা ধরে মাফ চান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মাফ চাওয়ার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে যে সংবাদের স্ক্রিনশট দেখানো হয়েছে তা কালবেলা এর ওয়েবসাইটে ৬ মে  ’চিকিৎসকের পা ধরে মাফ চাইলেন সেই আ.লীগ নেতা’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল।

Screenshot comparison: Rumor Scanner

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, এলিম পাহাড় শরীয়তপুর জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী সভাপতি। ভুক্তভোগীরা হলেন, চিকিৎসক শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার শেহরিয়ার ইয়াছিন ও তত্ত্বাবধায়ক হাবিবুর রহমান।

অর্থাৎ, এই সংবাদেও আলোচিত দাবি সম্পর্কিত কোনো তথ্য উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

সংবাদ যাচাই ০৪

এখানে বলা হয়, মুন্সীগঞ্জে ওসিসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা। মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান থানার ওসি মো. মুজাহিদুল ইসলামসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে যে সংবাদের স্ক্রিনশট দেখানো হয়েছে তা কালবেলা এর ওয়েবসাইটে ৬ মে ‘মুন্সীগঞ্জে ওসিসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল।

Screenshot comparison: Rumor Scanner

প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়, রোববার (৫ মে) দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে পুলিশের হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করেন নির্যাতনের শিকার আব্দুল বারেক। আব্দুল বারেক সিরাজদিখান উপজেলার বড়বর্তা গ্রামের বাসিন্দা ও স্থানীয় কেয়াইন ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।

অর্থাৎ, ভিডিও এই অংশেও আলোচিত দাবি বিষয়ক কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।

সংবাদ যাচাই ০৫

এখানে বলা হয়, কুয়াকাটায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আহত ১১। পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে দুপক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে নারী এবং শিশুসহ কমপক্ষে ১১ জন আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে যে সংবাদের স্ক্রিনশট দেখানো হয়েছে তা কালবেলা এর ওয়েবসাইটে ৬ মে ‘কুয়াকাটায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আহত ১১’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল।

Screenshot comparison: Rumor Scanner

অর্থাৎ, এই সংবাদেও প্রচারিত দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

সংবাদ যাচাই ০৬ 

এখানে বলা হয়, আমার গলার বড়শিটা আপনারাই খুলে নিয়েছেন, সংসদে লতিফ সিদ্দিকী। স্বতন্ত্র সদস্য সংসদ আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, যাদের গলায় বড়শি লাগানো আছে, তারা কথা বলবে না। আমিও বলিনি। ৬০ বছর আমি বলিনি। আজকে আমার গলা থেকে আপনারাই বড়শিটা খুলে দিয়েছেন। তাই আমি যতক্ষণ আছি, আপনি যতই বাধা দেন আমি কথা বলতে চেষ্টা করব।

এ বিষয়ে যে সংবাদের স্ক্রিনশট দেখানো হয়েছে তা কালবেলা এর ওয়েবসাইটে ৫ মে Desh tv এর ওয়েবসেইটে ‘আমার গলার বড়শিটা আপনারাই খুলে নিয়েছেন, সংসদে লতিফ সিদ্দিকী’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়েছিল।

Screenshot comparison: Rumor Scanner 

অর্থাৎ, এই প্রতিবেদনেও আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো সূত্র উল্লেখ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, আলোচিত ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে সশরীরে একাধিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেখা যায়। গত ২ মে থেকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। আলোচিত ভিডিওটি প্রচারিত হওয়ার দিন মে এবং ,,(অধিবেশন চলমান) মে প্রধানমন্ত্রী সংসদ অধিবেশনে ছিলেন। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে মে উপজেলা নির্বাচন নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে কথা বলতে দেখা যায় ।

এছাড়া, একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী ও একজন মন্ত্রীকে গ্রেফতারের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে সেটি অবশ্যই দেশের গণমাধ্যমগুলোতে ঢালাওভাবে প্রচার হওয়ার কথা। তবে আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদ গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।

মূলত,  Desh tv 71 নামে একটি চ্যানেল থেকে প্রচারিত একটি ভিডিওর থাম্বনেইলে ‘সেনাপ্রধানের হাতে প্রধানমন্ত্রী ও কাদের গ্রেপ্তার’ দাবিতে একটি ভিডিও ইউটিউবে প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে এমন কোনো ঘটনা দেশে ঘটেনি। ১০ মিনিট ২ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন যে সংবাদগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে তার কোথাও সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ এর হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গ্রেফতারের দাবি সম্পর্কিত সংবাদ উপস্থাপন করা হয়নি। এমনকি ভিডিওটিতে আলোচিত দাবির সাথে প্রাসঙ্গিক কোনো তথ্যেরও উল্লেখ পাওয়া যায়নি। 

সুতরাং, সেনাপ্রধানের হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গ্রেপ্তার শীর্ষক দাবিতে ইউটিউবে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র