আগামীকাল থেকে নতুন যােগাযােগের নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা

আগামীকাল থেকে নতুন যােগাযােগের নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে” শীর্ষক একটি তথ্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) এর উদ্ধৃত দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার হয়ে আসছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে। পোস্টগুলোর আর্কাইভ ভার্সন দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

ফেসবুক পোস্টগুলোতে যে যে দাবি করা হচ্ছে

১. সমস্ত কল রেকর্ড করা হবে। 

২. সমস্ত ফোন কল রেকর্ডিং সংরক্ষণ করা হবে। 

৩. হােয়াটসঅ্যাপ পর্যবেক্ষণ করা হবে। 

৪. টুইটার নিরীক্ষণ করা হবে। 

৫. ফেসবুক পর্যবেক্ষণ করা হবে। 

৬. সমস্ত সামাজিক মিডিয়া এবং ফোরাম পর্যবেক্ষণ করা হবে। যারা জানেন না তাদের জানিয়ে দিন। 

৭. সকলের ডিভাইসগুলি মন্ত্রিসভা সিস্টেমে সংযুক্ত করা, অপ্রয়ােজনীয় বার্তাগুলি না পাঠানাের প্রতি যত্নশিল হােন। এবং যত্ন নেওয়ার জন্যে আপনার বাচ্চাদের, আত্মীয়স্বজন এবং বন্ধুদের এ সম্পর্কে অবহিত করুন। 

৮.  কোনও পােস্ট বা ভিডিও ইত্যাদি ফরওয়ার্ড করবেন না। 

৯. আপনি সরকার । প্রধানমন্ত্রী ইত্যাদি সম্পর্কে রাজনীতি। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কিত কোন পােস্ট করা থেকে বিরত থাকুন । পুলিশ .. সাইবার ক্রাইম … নামে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন এবং ব্যবস্থা নেওয়া কথা বলা বলেছেন। 

১০. আপনার বন্ধুদের এবং অন্যদেরও অবহিত করুন। যে কোনও রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কের কোনও ছবি লেখা বা ফরওয়ার্ড করা এখন আপরাধ, ওয়ারেন্ট ছাড়াই আজথেকে এটি অত্যন্ত গুরুপূর্ন , সবাইকে জানিয়ে দিন।

১১. অপ্রয়ােজনীয় বার্তাগুলি না পাঠানাের প্রতি সাবধান হােন এবং এই সম্পর্কে প্রত্যেককে অবহিত করুন । ধন্যবাদ । সর্তকতায় রাপিড একশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

কিন্তু আদতেই কি এ ধরনের নির্দেশনা আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) দিয়েছে? এই নির্দেশনাগুলো কতটুকু সঠিক? বিস্তারিত আলোচনা নিয়েই এই প্রতিবেদন।

ভারতে যোগাযোগের নতুন নিয়ম সংক্রান্ত গুজব

অনুসন্ধানে দেখা যায়, ভারতীয় গণমাধ্যম Bangalore Mirror এ ২০১৭ সালের ১৫ মে “Fake News Buster: Trending Spam/Hoax for April, 2017” শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটিতে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে উদ্ধৃত করে বলা হয়, এ ধরনের কোনো নির্দেশনা তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।

এছাড়া ভারতীয় ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান The logical Indian ও ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর বরাত দিয়ে এই দাবিটিকে গুজব হিসেবে শনাক্ত করেছে।

আরব আমিরাতে যোগাযোগের নতুন নিয়ম সংক্রান্ত গুজব

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ আরব আমিরাতে যোগাযোগের নতুন নিয়ম সংক্রান্ত একই ধরনের দাবি সম্বলিত তথ্যের সন্ধান পাওয়া যায়।

তবে ফ্যাক্টচেকিং ওয়েবসাইট check4spam.com এ ২০১৭ সালের ১৮ জুলাই “(SPAM) Decision Of Ministry Of Interior New Communication Regulations” শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, একই ধরনের পোস্ট ঘানা, আরব আমিরাত ও ভার‍ত সহ আরও অনেক জায়গায় ছড়িয়েছে। আরব আমিরাতের পোস্টগুলোতে সাইবার অপরাধ নিয়ে আরব আমিরাতের সরকারের বিষয়ে বলা হয়েছে। কিন্তু এই পোস্টটি ২০১২ সালের এবং হোয়াটসঅ্যাপের পোস্টগুলোতে প্রচারিত তথ্যগুলো সত্য নয়।

ঘানায় যোগাযোগের নতুন নিয়ম সংক্রান্ত গুজব

ভারতের মতো একই গুজব ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া যায় আফ্রিকার দেশ ঘানাতেও। ঘানার 

peacefmonline.com নামের একটি ওয়েবসাইটে ২০১৭ সালের ১০ এপ্রিল “There’s No Regulation To Monitor Calls; Disregard The Rumors – Interior Ministry” শীর্ষক শিরোনামে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটিতে ঘানার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান পরিচালক এডিলেড অন্নো-কুমি স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তিকে উদ্ধৃত করে জানানো হয়, জনসাধারণের কল রেকর্ড ও নতুন যােগাযােগের নিয়ম নিয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। জনগণের নিরাপত্তা, সুরক্ষা সরকারের প্রধান লক্ষ্য। নাগরিকদের সুরক্ষা বিঘ্নিত হয় এমন কোনো উদ্দেশ্য সরকারের নেই। আমরা জনগণের মৌলিক অধিকারকে সম্মান করি।

বাংলাদেশে যোগাযোগের নতুন নিয়ম সংক্রান্ত গুজব

‘আগামীকাল থেকে সমস্ত কল রেকর্ড করবে র‌্যাব। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটস অ্যাপস নজরদারি করা হবে’- এমন তথ্য সম্বলিত একটি পোস্ট র‍্যাবের উদ্ধৃত দিয়ে ২০২০ সালের মার্চ মাসে বাংলাদেশেও ছড়িয়ে পড়েছিল। সেসময় বিষয়টি যাচাই করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে রিউমর স্ক্যানার।

পাশাপাশি, অনলাইন গণমাধ্যম Dhaka Times এ ২০২০ সালের ৩ এপ্রিল “র‌্যাবকে নিয়ে ফেসবুকে ছড়ানো তথ্যগুলো গুজব” শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা কি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব?

অনুসন্ধানে দেখা যায়, হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা আদান-প্রদানের সুরক্ষার বিষয়টি এন্ড টু এন্ড এনক্রিপ্টেড অর্থাৎ এই এপ্লিকেশনের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান করা হলে সেটি প্রকৃত বার্তা প্রেরক ও গ্রাহক ছাড়া অন্য কারো পক্ষে পড়া, পরিবর্তন করা সম্ভব নয়৷

ফেসবুক, টুইটারের বার্তা কি কারো পক্ষে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব?

হোয়াটসঅ্যাপের মতো ফেসবুকের বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম ম্যাসেঞ্জারের সরাসরি এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন না থাকলেও ম্যাসেঞ্জারে “সিক্রেট কনভারসেশন” নামে একটি সুবিধা রয়েছে, যেটিতে এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশনের সুবিধাটি রয়েছে।

এছাড়া টুইটারে সরাসরি এন্ড টু এন্ড এনক্রিপশন না থাকলেও ২০১৮ সালে টুইটারের বিরুদ্ধে ব্যবহারকারীদের তথ্য-উপাত্ত পর্যবেক্ষণ করার অভিযোগ উঠলে প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের কর্মীরা কখনোই সরাসরি বার্তার আদান-প্রদান পর্যবেক্ষণ করে না। খুব সীমিত সংখ্যক টুইটারকর্মীর আইনত বৈধ উদ্দেশ্যে এ ধরনের তথ্যে প্রবেশের অনুমতি আছে এবং এই কর্মীদের কার্যবিধি কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা কি বলছেন?

ভারতীয় গণমাধ্যম The wire.in আরেকটি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান Alt News এর বরাত দিয়ে ভারতের সরকার কর্তৃক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণ নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত তুলে ধরে।

Alt News এ উদ্দেশ্যে যোগাযোগ করে ফ্রিডম অব দ্যা প্রেস ফাউন্ডেশনের সিকিউরড্রপের উদ্যোক্তা কুশাল দাশের সঙ্গে।

কুশাল দাশ বলেন, ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার পর্যায়ের সকল তথ্য ভারতীয় সরকার সংরক্ষণে রাখে। এর মাধ্যমে সরকার দেখতে পারে কে কোন সাইট পরিদর্শন করছে। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পোস্টও এভাবে পর্যবেক্ষণ করে থাকে সরকার। এভাবে যখন সরকারের কোনো তথ্যের প্রয়োজন হয়, তখন সরকার কারো ব্যক্তিগত যোগাযোগে প্রবেশের অনুমতি দিতে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করে থাকে। এমনকি হোয়াটসঅ্যাপের বার্তা এন্ড টু এন্ড এনক্রিপ্টেড হলেও সরকার হোয়াটসঅ্যাপকে কে কার সাথে যোগাযোগ করছে এ বিষয়ে জানতে তথ্য চাইতে পারে। আবার যে কাউকে আটক করে তার থেকেও তথ্য আদায় করতে পারে।

পাশাপাশি সকলের ডিভাইস মন্ত্রিসভা সিস্টেমে সংযুক্তির ব্যাপারে তিনি বলেন, এটি মিথ্যা। সাধারণত আপনি যদি পুরোপুরি সরকারের পর্যবেক্ষণে না থাকেন তাহলে আপনার মোবাইল ফোন বা ডিভাইসটি সরাসরি সরকার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে না। ভাবেন তো ব্যাপারটা কেমন হবে, আপনি যা দেখছেন, যা যা ব্রাউজ করছেন অধিকাংশ ক্ষেত্রে যা হয়ে থাকে মেটা ডাটা যেমন কোন সাইট আপনি পরিদর্শন করছেন? কোনো সরকারই এ ধরনের ডাটা চায় না। তারা চায় প্রকৃত ডাটা অর্থ্যাৎ আপনার ইমেইল এড্রেস, ফেসবুকে চ্যাট ইত্যাদি।

বাংলাদেশে কি কল রেকর্ড করা হয়?

এ সংক্রান্ত বিষয়ে অনুসন্ধান করে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি বাংলায় ২০২১ সালের ২৮ জানুয়ারি “ফোন আলাপ রেকর্ড করা নিয়ে বাংলাদেশের আইন কী বলে” শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ২০০১ সালে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন পাস হয়, পরবর্তীতে ২০১০ সালে সেই আইনটি সংশোধন করা হয়। এ আইনে ফোনে আড়ি পাতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমানকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিধিমালা অনুসরণ করেই অনেক সময় ব্যক্তির ফোন কল রেকর্ড করে থাকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

মোখলেসুর রহমান প্রতিবেদনটিতে আরও বলেন, “টেলিফোনে আড়িপাতা সংক্রান্ত আইনে ২০১৪ সালে কিছু পরিবর্তন আনা হয়। ঐ পরিবর্তনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে বিভাগীয় প্রধানের অনুমতি সাপেক্ষে কারো ফোনে আড়িপাতা বা কথোপকথনের রেকর্ড আইনিভাবে সংগ্রহ করার সুযোগ তৈরি হয়।

জঙ্গি তৎপরতা ঠেকাতে, বিদেশী গুপ্তচর সন্দেহ করলে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এনটিএমসি’র (ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন্স মনিটরিং সেল) সহায়তায় কারো ফোন কল রেকর্ড করতে চাওয়ার আবেদন করতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কোন নাগরিকের কর্মকাণ্ড যদি রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বা হুমকি না হয়, তাহলে আদালতের নির্দেশনা ছাড়া কারো ফোনে কেউ বৈধভাবে আড়ি পাততে পারবে না।”

যদিও বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় ফোনালাপ অডিও ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও এসব ঘটনার রহস্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ উন্মোচন করতে পারেনি বলে ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি বাংলার একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, ফাঁস হওয়া কল রেকর্ডগুলোর মধ্যে সরকার বিরোধী রাজনীতিকদের টেলিফোন আলাপ ফাঁসের ঘটনা বেশি ঘটেছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় সাধারণ নাগরিকেরও ফোন আলাপ ফাঁস হয়েছে। তবে এসব কোন ঘটনার তদন্ত হয়েছে-কখনও তা জানা যায়নি।

এর মধ্যে এই বছরের ফেব্রুয়ারিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও প্রধানমন্ত্রীর এক উপদেষ্টার সঙ্গে কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছিল।

বাংলাদেশ সরকার কি ফেসবুক নিয়ন্ত্রণ করতে পারে?

এ বিষয়ে অনুসন্ধান করতে গিয়ে জার্মান ভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলে বাংলায় ২০১৯ সালের ২৫ অক্টোবর “সরকার কি ফেসবুক নিয়ন্ত্রণ করতে পারে?” শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, কোন দেশের সরকারের পক্ষেই ফেসবুককে সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়৷ আবার, একটি ফেসবুক পাতার এডমিন বা মডারেটর কে কে সেটাও সেই ব্যক্তিরা না জানালে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ ছাড়া আর কারো পক্ষে জানা সম্ভব নয়৷ 

তবে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন, ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফেসবুকের কাছে ২৪১টি অনুরোধের মাধ্যমে ৩৭১টি ইউজার আইডি বা অ্যাকাউন্ট–সম্পর্কিত তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এর মধ্যে ১৪২টি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুরোধ ও ৯৯টি জরুরি অনুরোধ রয়েছে। সরকারের অনুরোধে সাড়া দিয়ে ৪৪ শতাংশ ক্ষেত্রে কিছু তথ্য দিয়েছে ফেসবুক।

এসব প্রতিবেদন থেকে বোঝা যায়, ফেসবুকের উপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ নেই বরং সরকারের পক্ষ থেকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাইলে ফেসবুক তাদের মতো করে তথ্য দিয়ে থাকে।

মূলত, কোনো ধরনের তথ্যসূত্র ছাড়াই বাংলাদেশ সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে “আগামীকাল থেকে নতুন যােগাযােগের নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে” দাবিতে তথ্যগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার হয়ে আসছে। কিন্তু এই তথ্যগুলোর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

সুতরাং “আগামীকাল থেকে নতুন যােগাযােগের নিয়ম চালু হতে যাচ্ছে” দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার হয়ে আসা তথ্যগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

RS Team
Rumor Scanner Fact-Check Team
- Advertisment -spot_img
spot_img
spot_img