বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর 11, 2025
Home Blog Page 548

ফরাসি ভাষা ত্যাগ করে সেনেগাল আরবি ভাষাকে সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করেনি 

সম্প্রতি, আফ্রিকা মহাদেশের দেশ সেনেগাল ফরাসি ভাষা ত্যাগ করে আরবি ভাষাকে দেশটির দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে গ্রহণের ঘোষণা করেছে, শীর্ষক দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট প্রচারিত হচ্ছে। 

ফরাসি ভাষা

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)। 

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সেনেগাল সরকার ফরাসি ভাষা ত্যাগ করে আরবি ভাষাকে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে গ্রহণ করার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বরং, কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে। 

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে দাবিটির সূত্রপাত জানতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে কিছু এক্স পোস্টে ও ওয়েবসাইটে দাবিটি দেখতে পাওয়া যায়।

এক্স পোস্টগুলোতে কোনো তথ্যসূত্র ব্যবহার না করা হলেও Nairaland, Medium, KaziNiKaziNews Rangers এর মতো কিছু ওয়েবসাইট সেনেগালের ক্যাবিনেট মিটিংকে দাবিটির স্বপক্ষে তথ্যসূত্র হিসেবে উল্লেখ করে। দাবিটির প্রচারের সময়কাল হিসেবে চলমান মে মাসের প্রথম সপ্তাহ লক্ষ্য করা যায়। এই সময়ের পূর্বে অনুষ্ঠিত হওয়া সেনেগালের সর্বশেষ ক্যাবিনেট মিটিংয়ের খোঁজ করলে গত এপ্রিল মাসের ২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত হওয়া একটি ক্যাবিনেট মিটিংয়ের সন্ধান পাওয়া যায় যা একইসাথে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া সেনেগালের সর্বশেষ ক্যাবিনেট মিটিং।

পরবর্তীতে ক্যাবিনেটে আলোচিত হওয়া বিষয় সম্পর্কে জানতে ইংরেজি কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। কি-ওয়ার্ডকে ফরাসি ভাষায় ভাষান্তরিত করে অনুসন্ধান করলে জাপানে অবস্থিত সেনেগালের দূতাবাসের ওয়েবসাইট, সেনেগালের সরকারি তথ্য অফিসের ওয়েবসাইট এবং সেনেগালের সংবাদমাধ্যম Senego এর ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়৷ 

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল তারিখে সেনেগালের প্রেসিডেন্ট বাসিরোউ ডিওমায়ে ডিয়াখার ফায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হওয়া উক্ত ক্যাবিনেট মিটিংয়ে সেনেগালের ক্যাবিনেট জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে গ্রহণ করা পদক্ষেপ, বিশেষ কিছু খাদ্যবস্তুর প্রতি সার্বক্ষণিক নজরদারি, বাসা ভাড়ার খরচ কমানোসহ নানা বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করেন। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সেনেগালের প্রেসিডেন্ট সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী, বাণিজ্য ও শিল্প, অর্থ ও বাজেট এবং কৃষির দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীবর্গদেরকে আগামী ১৫ মে তারিখের মধ্যে একটি কর্মক্ষম ইমার্জেন্সি পরিকল্পনা প্রস্তাবের নির্দেশ প্রদান করেন। স্থানীয় পণ্যের অগ্রগতি নিশ্চিত করতেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়৷ এছাড়াও, জীবনমান উন্নয়নে আরো বেশ কিছু বিষয়েও সেই ক্যাবিনেট মিটিংয়ে আলোচনা করা হয়। 

উক্ত ক্যাবিনেটে ফরাসি ভাষা ত্যাগ করে আরবি ভাষাকে দাপ্তরিক বা সরকারি ভাষা বানানোর পক্ষে কোনো আলোচনা কিংবা প্রস্তাব উত্থাপিত হয়নি।

তবে, আরবি ভাষা নিয়ে অন্য আরেকটি বিষয়ে উক্ত ক্যাবিনেট মিটিংয়ে আলোচনা করা হয়েছে। যুব কর্মসংস্থানকে উন্নীত করার নীতি পর্যবেক্ষণ এবং ফরাসি ও আরবিতে পড়াশোনা করা তরুণ গ্র্যাজুয়েটদেরকে দ্রুত পেশাদার একীভূতকরণ নিশ্চিত করার জন্য পদক্ষেপ বাস্তবায়নের প্রতি সেনেগালের প্রেসিডেন্ট নির্দেশ দেন। 

Screenshot : Ambassade du Sénégal au Japon

উল্লেখ্য যে, বর্তমানে প্রায় ৩৯টি ভাষাভাষী দেশ সেনেগালের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগ জনগোষ্ঠী তাদের মাতৃভাষা বা দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় ভাষা হিসেবে উলোফ ভাষায় কথা বললেও ফ্রান্সের থেকে স্বাধীনতা পাওয়ার পর থেকেই সেনেগালের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা ফরাসি।

মূলত, গত এপ্রিলের ২৪ তারিখে আফ্রিকার দেশ সেনেগালের প্রেসিডেন্টের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হওয়া সেনেগালের ক্যাবিনেট মিটিংয়ে জীবনমান উন্নয়নের বিষয়ে নানা আলোচনা করা হয়৷ তাছাড়া ফরাসি এবং আরবি ভাষায় পড়াশোনা করা নাগরিকদের জন্য পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করা হয়। সেই ক্যাবিনেট মিটিংকে তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করে সেনেগাল ফরাসি ভাষা ত্যাগ করে নিজেদের দাপ্তরিক বা সরকারি ভাষা হিসেবে আরবিকে গ্রহণ করেছে মর্মে দাবি প্রচারিত হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে উক্ত ক্যাবিনেটে ফরাসি ভাষা ত্যাগ করে আরবি ভাষাকে সেনেগালের দাপ্তরিক ভাষা করার বিষয়ে কোনো আলোচনাই হয়নি।

সুতরাং, সেনেগালের ফরাসি ভাষা ত্যাগ করে দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে আরবি গ্রহণ করার দাবিটি মিথ্যা। 

তথ্যসূত্র

তৌহিদ আফ্রিদিকে জড়িয়ে জুয়ার অ্যাপের ভুয়া বিজ্ঞাপন প্রচার

0

সম্প্রতি, বাংলাদেশের জনপ্রিয় ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদি জুয়ার অ্যাপের প্রচারণা করছেন দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে।

তৌহিদ আফ্রিদি

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)। 

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদি জুয়ার অ্যাপের প্রচারণা করেননি। বরং, তার ফেসবুক পেজে আপলোড করা একটি ভিডিওর কিছু অংশ ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে তার সাথে ভিন্ন অডিও এবং জুয়ার বিজ্ঞাপন যুক্ত করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। 

আলোচিত দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে জুয়ার বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত তৌহিদ আফ্রিদির ক্লিপটির কয়েকটি কী-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে তৌহিদ আফ্রিদির ফেসবুক পেজে গত ৩ এপ্রিল ‘জিতে নেন আমার থেকে গাড়ি।’  শীর্ষক শিরোনামে প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

Screenshot: Facebook 

ভিডিওটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত জুয়ার বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত তৌহিদ আফ্রিদির ক্লিপের সাথে উক্ত ভিডিওর বেশকিছু অংশের হুবহু মিল রয়েছে। দুটো ভিডিওতেই তার পোশাক, বসার স্টাইল এবং সোফার মিল রয়েছে। অর্থাৎ, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় উক্ত ভিডিওটিতে অডিও যুক্ত করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। 

Screenshot collage: Rumor Scanner 

অর্থাৎ, তৌহিদ আফ্রিদির সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ভিডিওর সাথে জুয়ার বিজ্ঞাপনের অডিও ও ভিডিও যুক্ত করে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে। যার সাথে তৌহিদ আফ্রিদির কোনো প্রকার সম্পর্ক নেই।

ভিডিওটি প্রচার করা ফেসবুক পেজ সম্পর্কে যা জানা যায়

আলোচিত জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারকারী পেজটি (আর্কাইভ) পর্যালোচনা করে দেখা যায় পেজটিতে উল্লেখ্যযোগ্য কোনো পোস্ট নেই এবং জুয়ার ভিডিওটি বুস্ট করে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়াও পেজটির লোকেশনের স্থানে অ্যাঙ্গোলার মেনঙ্গু শহরের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে পেজটির ট্রান্সপারেন্সি সেকশন যাচাই করে দেখা যায়, পেজটি ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইন এই দুইটি দেশ থেকে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি জানা যায় উক্ত পেজটি ২০২১ সালের ১৭ জুন তৈরি করা হয়েছে।

Screenshot: Facebook

মূলত, ইউটিউবার তৌহিদ আফ্রিদি তার ফেসবুক পেজে ‘জিতে নেন আমার থেকে গাড়ি।’ ক্যাপশনে একটি ভিডিও প্রচার করে। সম্প্রতি উক্ত ভিডিওর কিছু অংশ কাট করে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় তার সাথে ভিন্ন একটি অডিও ও জুয়ার অ্যাপের প্রচারণার ভিডিও যুক্ত করে দাবি করা হচ্ছে, তৌহিদ আফ্রিদি জুয়ার অ্যাপের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে, তৌহিদ আফ্রিদি এমন কোনো জুয়ার অ্যাপের প্রচারণায় অংশ নেননি। 

সুতরাং, তৌহিদ আফ্রিদি অনলাইন জুয়ার অ্যাপের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা এবং বিষয়টি স্ক্যাম বা প্রতারণা।

তথ্যসূত্র

  1. Tawhid Afridi’s Facebook Post: জিতে নেন আমার থেকে গাড়ি।
  2. Rumor Scanner’s Own Analysis

পুরুষের অণ্ডকোষের দাম ৩০ বা ৫০ হাজার ডলার নয় 

0

গত কয়েক বছর ধরে পুরুষের অণ্ডকোষ বিক্রির বিষয়ে অনলাইনে নানান তথ্য ছড়াতে দেখেছে রিউমর স্ক্যানার টিম। দাবি করা হয়, পুরুষের একটি অণ্ডকোষ বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া যায়। এই দাবিতে প্রচারিত জনপ্রিয় দুটি মূল্য হলো ৩০ হাজার ডলার এবং ৫০ হাজার ডলার। তবে এই দুই মূল্যের পাশাপাশি অন্যান্য ভিন্ন ভিন্ন মূল্যেরও প্রচলন রয়েছে। 

অণ্ডকোষের দাম

সম্প্রতি মানবতার আড়ালে প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার মিল্টন সমাদ্দার (আর্কাইভ) তার গ্রেফতারের হওয়ার পূর্বে এক গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুরুষের অণ্ডকোষ ৫০ লক্ষ টাকায় বিক্রি করা যায় বলে তিনি শুনেছেন বলে দাবি করেন।

সম্প্রতি এসব দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

একটি অণ্ডকোষের মূল্য ৩০ হাজার ডলার দাবিতে বিগত বছরগুলোতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন ২০১৯ (আর্কাইভ), ২০২০ (আর্কাইভ), ২০২১ (আর্কাইভ), ২০২২ (আর্কাইভ) এবং ২০২৩ (আর্কাইভ)।

৫০ হাজার ডলার দাবিতে বিগত বছরগুলোতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন ২০২০ (আর্কাইভ), ২০২১ (আর্কাইভ), ২০২২ (আর্কাইভ)। 

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, পুরুষের অণ্ডকোষের মূল্য ৩০ বা ৫০ হাজার ডলার শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয় বরং বিশ্বের অধিকাংশ দেশে অঙ্গ বিক্রি করা অবৈধ। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ীও অঙ্গ বিক্রি বা ক্রয় করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আলোচ্য দাবিতে প্রচারিত কিছু ইংরেজি ভাষার পোস্টের সূত্র হিসেবে মার্ক পার্সি নামের এক আমেরিকান বাসিন্দার গল্প প্রচার হতে দেখেছে রিউমর স্ক্যানার টিম। 

সেই সূত্রে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে, ব্রিটিশ অনলাইন গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এর ওয়েবসাইটে ২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর ‘Las Vegas man ‘excited’ to sell testicle for $35,000 as part of medical trial’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মার্ক পারিসি নামের আমেরিকার এক বাসিন্দা আমেরিকার টিএলসি টিভি চ্যানেলের একটি পোগ্রামে বলেছিলেন, তিনি একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের অংশ হিসেবে তার একটি অণ্ডকোষ ৩৫ হাজার ডলারে বিক্রি করতে চলেছেন। এই প্রক্রিয়ায় তার জৈবিক অণ্ডকোষের পরিবর্তে একটি কৃত্রিম অণ্ডকোষ প্রতিস্থাপন করতে হবে।

আমেরিকা ভিত্তিক মেল ম্যাগাজিনের ওয়েবসাইটে ২০১৯ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মার্ক পারিসির অণ্ডকোষ বিক্রির চেষ্টা সফল হয়নি কারণ উক্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য পর্যাপ্ত অংশগ্রহণকারী ছিল না এবং তার নিম্ন টেস্টোস্টেরনের জন্য তিনি এই ট্রায়ালের জন্য যোগ্য ছিলেন না।

পরবর্তীতে টিএলসি টিভি চ্যানেলের ইউটিউব চ্যানেলে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওটির শেষের দিকে ওই মুহূর্তটি দেখা যায় যখন মার্ক পারিসি জানতে পারেন তিনি আলোচ্য গবেষণায় অংশগ্রহণের যোগ্য নন।

অর্থাৎ, মার্ক পারিসি নামের আমেরিকার এক বাসিন্দা ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য ৩০ হাজার ডলারের বিনিময়ে তার অণ্ডকোষ বিক্রি করতে চেয়েছিলেন। এই পক্রিয়ায় তার জৈবিক অণ্ডকোষের পরিবর্তে একটি কৃত্রিম অণ্ডকোষ প্রতিস্থাপন করার কথা ছিল। যদিও পরবর্তীতে পর্যাপ্ত অংশগ্রহণকারী না থাকা এবং নিম্ন টেস্টোস্টেরনের জন্য তিনি এই কাজে সফল হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে অণ্ডকোষ বিক্রির বিষয়ে জানানো হয়েছে, অণ্ডকোষের দান বিরল। বিজ্ঞানীরা অণ্ডকোষ সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত এবং এর চাহিদা গবেষকদের মধ্যে কম। নৈতিক কারণে দান করা অণ্ডকোষ অন্য মানুষের শরীরে ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হয় না এবং মানুষের মধ্যে অণ্ডকোষের ট্রান্সপ্ল্যান্ট খুবই কম ঘটে। অনলাইনে অণ্ডকোষ বিক্রি করে বড় অঙ্কের টাকা পাওয়ার দাবি করা হলেও এগুলি বেশিরভাগই মিথ্যা। যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা উদ্দেশ্যে কোনো অঙ্গ বিক্রি আইনগতভাবে নিষিদ্ধ।

একই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা স্নোপসে প্রকাশিত একটি ফ্যাক্ট-চেক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, অণ্ডকোষ দানের বিপরীতে বিপুর পরিমাণ অর্থ পাওয়ার বিষয়টি মিথ্যা। ১৯৮৪ সালের যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন অনুযায়ী কোনো অঙ্গ বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ।

স্নোপসের এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত মার্ক পারিসির ঘটনাটি উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই ঘটনাটি প্রায়ই অণ্ডকোষ দান করে টাকা পায় দাবিতে ছড়ানো গুজবের উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন ১৯৯৯ অনুযায়ীও বাংলাদেশে অঙ্গ বিক্রি বা ক্রয় করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

এমনকি ওপেন সোর্স অনুসন্ধানে জানা যায় বিশ্বের অধিকাংশ দেশে অঙ্গ বিক্রি করা অবৈধ

মূলত, গত কয়েক বছর ধরে পুরুষের অণ্ডকোষের মূল্য ৩০ বা ৫০ ডলার হাজার দাবিতে একটি তথ্য ইন্টারনেটে প্রচার করা হচ্ছে। তবে রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, অণ্ডকোষের দান বিরল ঘটনা। বিজ্ঞানীরা অণ্ডকোষ সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত এবং এর চাহিদা গবেষকদের মধ্যেও কম। এছাড়া বিশ্বের অধিকাংশ দেশে অঙ্গ বিক্রি করা অবৈধ। বাংলাদেশের অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন ১৯৯৯ অনুযায়ীও অঙ্গ বিক্রি বা ক্রয় করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

সুতরাং, পুরুষের অণ্ডকোষের মূল্য ৩০ হাজার বা ৫০ হাজার ডলার দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যগুলো মিথ্যা। 

তথ্যসূত্র

সেনাবাহিনী দেশে নতুন নির্বাচন দেওয়ার কোনো ঘোষণা দেয়নি

0

সম্প্রতি, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে দিশেহারা হাসিনা, নতুন নির্বাচন দিচ্ছে সেনাবাহিনী শীর্ষক শিরোনাম থাম্বনেইলে উল্লেখপূর্বক একটি ভিডিও ইউটিউবে প্রচার করা হয়েছে।

সেনাবাহিনী

News Update 24 নামে একটি চ্যানেল থেকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া অবধি ভিডিওটি দেখা হয়েছে ৯ হাজারেরও অধিক বার। 

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়,  বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের নতুন নির্বাচন দেওয়ার কোনো ঘোষণা দেয়নি বরং, অধিক ভিউ পাওয়ার আশায় চটকদার থাম্বনেইল ব্যবহার করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে ভিডিওটিতে কোথাও নতুন নির্বাচন দিচ্ছে সেনাবাহিনী শীর্ষক দাবি সম্পর্কিত কোনো তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। এমনকি ভিডিওটিতে আলোচিত দাবির সাথে প্রাসঙ্গিক কোনো তথ্যেরও উল্লেখ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ ভিডিওটি’র থাম্বনেইলে প্রচারিত দাবিটির সাথে বিস্তারিত অংশের অসামঞ্জস্যতা রয়েছে। ১০ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ভিডিওটিতে ভিন্ন ভিন্ন সংবাদ উপস্থাপন করা হয়েছে। 

 তথ্য যাচাই ০১

ভিডিওর প্রথমে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর দেশ ছেড়ে পালানোর পরিকল্পনা ফাস করলো পিনাকী ভট্টাচার্য্য – এই বিষয়ে থাকছে বিস্তারিত প্রতিবেদন

সোশ্যাল একটিভিস্ট ও ব্লগার পিনাকি ভট্টাচার্য তার ইউটিউব চ্যানেল ‘Pinaki Bhattacharya’ এ গতে ৮ জানুয়ারি ‘ইন্তেকাল কমিশনের হাত মারার নির্বাচন || দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন ২০২৪’ শিরোনামে বাংলাদেশের ৭ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ  করেন। 

Screenshot Collage: Rumor Scanner

ভিডিওটিতে তিনি ৭ জানুয়ারির নির্বাচন এবং আওয়ামলীগের অতীত ও বর্তমান নির্বাচন নিয়ে তার নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন।

অর্থাৎ, ভিডিওটির সাথে আলোচিত দাবির কোনো সম্পর্ক নেই।

তথ্য যাচাই ০২ 

আলোচিত ভিডিওতে বাংলাদেশের অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনস অনুষ্ঠান নিয়ে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সিনেটর ডেভিড শুব্রিজ উল্লেখ করে বলা হয়, এবার দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনকে কোনো সত্যিকারের নির্বাচন নয় বলে মন্তব্য করেছেন ডিভিড শুব্রিজ। নির্বাচনের দিন ‘বাংলাদেশে শেখ হাসিনাকে পঞ্চম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার নিশ্চয়তা দেওয়া নির্বাচনে ভোট গ্রহন শুরু শিরোনামের প্রভাবশালী বৃটিশ পত্রিকা দ্য গার্ডিয়ান একটি প্রতিবেদন শেয়ার করে তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশে ভোট গ্রহন শুরু হয়েছে কিন্তু এটি সত্যিকারের নির্বাচন নয়। 
উক্ত সূত্র ধরে The Guardian এর ওয়েবসাইটে গত ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ‘Polls open in Bangladesh election guaranteed to hand Sheikh Hasina a fifth term’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গণগ্রেফতারে ইতোমধ্যে বিধ্বস্ত বিরোধী দলগুলো ‘লজ্জাজনক’ নির্বাচন বর্জন করেছে, যে নির্বাচন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বিজয় এনে দেবে।

অর্থাৎ, এই সংবাদের সাথেও আলোচিত দাবির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

মূলত, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ববর্তী ‍সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে নির্বাচন যাতে অবাধ ও সুষ্ঠুষ্ হয় সে বিষয়ে একাধিকবার বিবৃতি দেয় এবং নির্বাচনে অনিয়ম হলে জড়িত বা দায়ী ব্যক্তিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথাও বলেন। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি উল্লেখ করে দেশটির পক্ষ থেকে বিবৃতি দিলেও  এখন পর্যন্ত নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা দেয়নি। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউবে  “নতুন নির্বাচন দিচ্ছে সেনাবাহিনী” শীর্ষক থাম্বনেইল একটি ভিডিও প্রচার করা হয়। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে সেনাবাহিনী বাংলাদেশে নতুন নির্বাচন দেওয়ার কোনো ঘোষণা দেয়নি। 

সুতরাং, নতুন নির্বাচন দিচ্ছে সেনাবাহিনী শীর্ষক দাবিটি  সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

হাইফেন বাদ যাওয়ার ফলে নাসার রকেট ধ্বংস হয়নি

সম্প্রতি, কোডিং এ সামান্য হাইপেন না দেওয়ায় নাসার Mariner 1 মহাকাশযানটি ধ্বংস হয়েছে শীর্ষক একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। 

হাইফেন

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, নাসার মহাকাশযান Mariner 1 বহনকারী রকেটটি হাইফেন না দেওয়ার কারণে ত্রুটিপূর্ণ আচরণ করে নি, বরং ওভারবার না দেওয়ার কারণে ত্রুটিপূর্ণ আচরণ করেছিল। শুধুমাত্র ওভারবারের ত্রুটিই নয়, রকেটের গাইডেন্স অ্যান্টেনাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল। তাছাড়া, এই ভুলের কারণে রকেটটি ধ্বংস হয়নি, বরং নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে রকেটটি আগেভাগেই ধ্বংস করা হয়েছিল খোদ নাসার পক্ষ থেকেই। 

আলোচিত দাবির বিষয়ে অনুসন্ধানে এ বিষয়ে আমেরিকান মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার  ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। 

প্রতিবেদনটিতে নাসা বলেছে, শুক্র গ্রহকে কাছে থেকে অন্বেষণ করার জন্য আমেরিকার প্রথম প্রচেষ্টাটি একটি সফটওয়্যারজনিত ত্রুটির কাছে হেরে যায়। তদন্তকারীরা মহাকাশযানটির গাইডেন্স সফটওয়্যারে ত্রুটি সৃষ্টিকারী একটি টাইপো খুঁজে পান। মহাকাশযানটি প্রেরণ করার কিছুক্ষণ পরই নিরাপত্তার নিমিত্তে মহাকাশযান ও এর সহায়তাকারী ধ্বংস করা হয়। 

Mariner 1 ছিলো শুক্রতে প্রেরণ করার জন্য নাসার ডিজাইন করা দুইটি মহাকাশযানের মধ্যে প্রথম। এটিকে ১৯৬২ সালের ২২ জুলাই প্রেরণ করা হয়, কিন্তু এটিকে বহন করা রকেটটি পরিকল্পনামাফিক কাজ করছিল না। ফলশ্রুতিতে, যানটি প্রেরণের মাত্র ২৯৩ সেকেন্ড পর রেঞ্জ সেফটি অফিসার এটিকে ধ্বংস করে দেন। রকেটটির গাইডেন্স কমান্ডের ত্রুটি এটিকে চালনা করা অসম্ভব করে তুলেছিল এবং মহাকাশযানটিকে সম্ভাব্য উত্তর আটলান্টিকের জাহাজসমূহের গতিপথ বা জনপূর্ণ এলাকায় ধ্বংস হওয়ার দিকে ধাবিত করছিল। নিরাপত্তার কথা ভেবে আলাদা হওয়ার মাত্র ৬ সেকেন্ড পূর্বে মহাকাশযানটিসহ রকেটটি ধ্বংস করে দেওয়া হয় নাসার পক্ষ থেকে৷ কেননা এর পরবর্তী সময়ে চাইলেও ধ্বংস করা সম্ভব হতো না৷ 

আপাতদৃষ্টিতে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে দুইটি বিষয় ধরা হয়৷ আটলাস Airborne Beacon, আক্ষরিক অর্থে বাহুবাহিত (শূন্যে বাহিত) সঙ্কেতের (সহজ ভাষায় সিগন্যাল) ভুল অপারেশনের ফলে ডাটা অকার্যকর ছিলো বেশ কয়েকবার। তাছাড়া, Mariner 1 এর ফ্লাইট পরবর্তী রিভিউ বোর্ড সিদ্ধান্তে পৌঁছেছিল যে হাতে লেখা সমীকরণগুলোকে রূপান্তরিত করার সময় ব্যাসার্ধ বুঝাতে ব্যবহৃত প্রতীক R̅ পাল্টে R হয়ে যায়। অর্থাৎ R এর উপরের ওভারবারটি বাদ যায়৷ ফলশ্রুতিতে প্রোগ্রাম পরিকল্পনামাফিক কাজ করে নি। তখন কম্পিউটারের ভুল ডাটা ব্যবহার করার খেসারতস্বরূপ মহাকাশযানটি পরিকল্পনামাফিক রাস্তা থেকে সরে যায়।

নাসা তাদের ওয়েবসাইটে স্পষ্ট করে উল্লেখ করেছে, বাদ গিয়েছিল ওভারবার, হাইফেন নয়৷ 

Screenshot: NASA

মূলত, ১৯৬২ সালে শুক্র গ্রহের দিকে পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই মহাকাশযান Mariner 1 বহন করা রকেট আটলাসের গাইডেন্স অ্যান্টেনায় ত্রুটি ধরা পড়ে। তাছাড়া, ব্যাসার্ধ বুঝাতে ব্যবহৃত R̅ এর ওভারবার বাদ গিয়ে শুধু R হয়ে যায়৷ এসব ত্রুটিজনিত কারণে রকেটটি অস্বাভাবিক আচরণ করা শুরু করলে নিরাপত্তার কথা ভেবে নাসার রেঞ্জ সেফটি অফিসার রকেটটি ধ্বংস করে দেন। এই ঘটনাটিই হাইফেন বাদ যাওয়ার ফলে ঘটেছে দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত হচ্ছে।

অর্থাৎ, হাইফেন বাদ যাওয়ার ফলে নাসার Mariner 1 মহাকাশযানটি ধ্বংস হয়েছে শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা। 

তথ্যসূত্র

  • Nasa Science – Mariner 1 
  • Nasa Space Science Data Coordinated Archive – Mariner 1 
  • Rumor Scanner’s own analysis

স্বপ্ন সুপারশপে নিয়োগের ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রচার

0

সম্প্রতি, স্বপ্ন সুপারশপের সেলসম্যান, সহকারী সুপারভাইজার/ সহকারী ম্যানেজার পদে নিয়োগের একটি বিজ্ঞপ্তি ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে।

স্বপ্ন

ফেসবুকে প্রচারিত পোস্টটি দেখুন এখানে(আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে স্বপ্ন সুপারশপের সেলসম্যান, সহকারী সুপারভাইজার/ সহকারী ম্যানেজার পদে জনবল নিয়োগের কোনো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়নি বরং প্রতারণার উদ্দেশ্যে আলোচিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি প্রচার করা হচ্ছে। 

অনুসন্ধানের শুরুতেই আলোচিত পোস্টটি পর্যালোচনা করে রিউমর স্ক্যানার টিম। উক্ত খুদে পোস্টে দেখা যায়, আগ্রহী প্রার্থীদের 01400323179 হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। 

কিন্তু স্বপ্ন সুপারশপের ওয়েবসাইটে প্রাপ্ত তথ্যমতে, স্বপ্ন সুপারশপের অফিসিয়াল যোগাযোগের নম্বর হলো 16469. 

Source: SWAPNO Website

স্বপ্ন এ ধরনের কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে কি না এ বিষয়ে অনুসন্ধানে স্বপ্ন সুপারশপের মালিক প্রতিষ্ঠান এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেড এর লিংকডইন অ্যাকাউন্টে চলমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলো পর্যালোচনা করে রিউমর স্ক্যানার। 

Collage Image By Rumor Scanner

এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডের লিঙ্কড ইন প্রোফাইলে দেখা যায়, সম্প্রতি স্বপ্ন সুপারশপে নিয়োগের জন্য দুইটি চলমান নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি খুঁজে পাওয়া যায়। একটি অপারেশনাল অডিট টিমের জোনাল ম্যানেজার এবং অপরটি ম্যানেজার পদে। কিন্তু, সেলসম্যান, সহকারী ম্যানেজার/ সহকারী সুপারভাইজার পদে স্বপ্ন সম্প্রতি কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি।

অনুসন্ধানে, স্বপ্ন সুপারশপের ফেসবুক গ্রুপ SWAPNO Help Center সহকারী সুপারভাইজার পদে নিয়োগ বিষয়ক একটি পোস্ট(আর্কাইভ) খুঁজে পাওয়া যায়। 

উক্ত পোস্টের কমেন্ট সেকশনে স্বপ্ন জানায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি সঠিক নয়, স্বপ্ন এমন কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। সেইসাথে ভুয়া চাকরির প্রলোভন থেকে সতর্ক থাকতেও অনুরোধ জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

Source: SWAPNO Help Center

পরবর্তীতে, বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে চাকুরিপ্রার্থী হিসেবে যোগাযোগ করে রিউমর স্ক্যানার টিমের একজন সদস্য। প্রথমে চাকুরি প্রার্থীর কাছে জীবনবৃত্তান্ত চান তথাকথিত চাকুরিদাতা। পরবর্তীতে, উক্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে স্বপ্ন সুপার শপের সতর্কীকরণ মন্তব্যটি কথিত চাকুরিদাতাকে পাঠালে তিনি আর কোনো উত্তর দেননি।

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত নম্বরে একাধিকবার চেষ্টা করেও যোগাযোগ করতে পারেনি রিউমর স্ক্যানার টিম। 

মূলত, সম্প্রতি এসিআই লজিস্টিকস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন সুপারশপে সেলসম্যান ও সহকারী ম্যানেজার/ সহকারী সুপারভাইজার পদে নিয়োগের নামে একটি বিজ্ঞপ্তি ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে স্বপ্ন এমন কোনো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। স্বপ্নের পক্ষ থেকেই বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

অর্থাৎ, স্বপ্ন সুপারশপে সেলসম্যান ও সহকারী সুপারভাইজার/ সহকারী ম্যানেজার পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও প্রতারণামূলক।

তথ্যসূত্র

সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারমূলক ভুয়া বিজ্ঞপ্তির ওপর কালবেলায় প্রথম পাতায় সংবাদ প্রকাশ

0

গত এপ্রিলের শুরুতে বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদিস নামের একটি ধর্মীয় সংগঠনের নামে ‘হিন্দু নারীদের ধর্মান্তরিত করতে পারলে পুরস্কার ঘোষণার’ একটি কথিত বিজ্ঞপ্তি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক এবং সেক্রেটারী জেনারেল ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী এর সাক্ষরিত কথিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায় হিন্দু নারীদের ধর্মান্তরিত করার জন্য পুরষ্কার ধার্য করেছে জমঈয়তে আহলে হাদিস। ব্রাহ্মণ মেয়েকে ধর্মান্তরিত করলে তিন লাখ, ভারতীয় বাঙালী মেয়েকে ধর্মান্তরিত করতে পারলে দুই লাখ, মেয়ে নমশূদ্র হলে পঞ্চাশ হাজার এবং পুরো কোনো হিন্দু পরিবারকে ধর্মান্তরিত করতে পারলে পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা দেখা যায় ওই বিজ্ঞপ্তিতে। 

হিন্দু নারীদের ধর্মান্তরিত করতে পারলে পুরস্কার ঘোষণার কথিত এ বিজ্ঞপ্তি গত ২ এপ্রিল ভয়েস অব বাংলাদেশি হিন্দুস এর দুটি এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট হওয়ার পর ৩ এপ্রিল তা ভারতে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। টুইটার তথা এক্সে হিন্দি ও ইংলিশ উভয় ভাষাতেই এ বিজ্ঞপ্তির ব্যাপক প্রচার ঘটে। ৩ এপ্রিল সকালের দিকে ওই বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নজরে আসে রিউমর স্ক্যানার টিমের এবং সেদিন দুপুরের মধ্যেই রিউমর স্ক্যানার টিম বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া বলে নিশ্চিত হয়। 

মূলত, ২০২২ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদিস এর একটি বিজ্ঞপ্তি সংগ্রহ করে তা সম্পাদনার মাধ্যমে লেখা পরিবর্তন করে ভুয়া ওই বিজ্ঞপ্তি তৈরি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয় রিউমর স্ক্যানার। 

Notice comparison by Rumor Scanner 

বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া নিশ্চিত হওয়ার পর ৩ এপ্রিল দুপুর ৩.৫১ মিনিটে রিউমর স্ক্যানারের একজন সিনিয়র ফ্যাক্টচেকার তার ব্যক্তিগত এক্স অ্যাকাউন্টে এটিকে ভুয়া চিহ্নিত করে পোস্ট করেন এবং বিষয়টি ভারতে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হওয়ায় এর প্রচার থামাতে ও মূল তথ্য প্রচারের জন্য ভারতীয় ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান অল্ট নিউজকেও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত করেন। পরবর্তীতে ৩ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭.২০ মিনিটে অল্ট নিউজ ওই বিজ্ঞপ্তিকে ভুয়া চিহ্নিত করে “2022 notice by Bangladesh religious body morphed to show rates for converting Hindus” শিরোনামে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 

রিউমর স্ক্যানার ফেসবুক পেজেও ওই বিজ্ঞপ্তিকে ভুয়া চিহ্নিত করে ৩ এপ্রিল রাত ১০.৫২ মিনিটে ফ্যাক্টচেক পোস্ট করা হয় এবং পরের দিন ৪ এপ্রিল এ বিষয়ে ইংরেজি ভাষায় ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ৪ ও ৫ এপ্রিল ভারতীয় আরও বেশকিছু ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ওই বিজ্ঞপ্তিকে ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করে ফ্যাক্টচেক প্রকাশ করে। 

ওই বিজ্ঞপ্তির বিষয়ে ৩ এপ্রিল জমঈয়তে আহলে হাদিসের সাথে রিউমর স্ক্যানারের যোগাযোগের পরের দিন বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদিস “বিভ্রান্ত গোষ্ঠী কর্তৃক জমঈয়তের নামে তৈরিকৃত, প্রকাশিত ও প্রচারিত ভুয়া বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীসের বিবৃতি” শিরোনামে তাদের বিজ্ঞপ্তিকে বিকৃত করে সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারের বিষয়টি নিয়ে প্রেস বিবৃতি প্রকাশ করে।

সেসময়ে অল্ট নিউজের ফ্যাক্টচেকের পর অল্টের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও ফ্যাক্টচেকার মোহাম্মদ জুবায়েরের একাধিক টুইট এবং Boom, India Today, The Quint সহ ভারতীয় বেশকিছু  ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানের ওই বিজ্ঞপ্তিকে ভুয়া শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রকাশের পর ভারতে এ বিজ্ঞপ্তি ছড়িয়ে পড়ার গতি মন্থর হয়ে পড়ে।

তবে এতেই শেষ হয়নি। আলোচিত ওই বিজ্ঞপ্তি ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার ৪ দিন পর গত ৭ এপ্রিল উদ্বেগ প্রকাশ করে ভুয়া ওই বিজ্ঞপ্তির ওপর প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। “হিন্দু নারীদের ধর্মান্তরকরণে প্রেমের ফাঁদ: ঐক্য পরিষদের উদ্বেগ” শিরোনামের ওই প্রেস বিজ্ঞপ্তির প্রথম অংশে লেখা হয়– “বাংলাদেশ জমঈয়তে আহলে হাদীস নামীয় এক তথাকথিত সংগঠনের সভাপতি ও সেক্রেটারী জেনারেল অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক ও ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত বেশ কিছুদিন ধরে এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে চলেছে যা এতসঙ্গে সংযুক্ত করা হল, যাতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বিশেষ করে হিন্দুদের ধর্মান্তরকরণে তাদের দলের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল শিবিরদের জন্য নতুন পুরষ্কার ধার্য করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- ব্রাহ্মণ মেয়েদের ধর্মান্তরকরণের জন্য তিন লক্ষ, ভারতীয় বাঙালী মেয়েদের জন্যে দুই লক্ষ, নম শুদ্র মেয়েদের জন্য পঞ্চাশ হাজার আর পুরো পরিবারের জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা পুরস্কার হিসেবে দেয়া হবে কথিত ধর্মান্তরকারীদের।” 

Press release of BHBCOP based on the fake viral notice 

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উদ্বেগ প্রকাশ করে ভুয়া বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তির ওপর কালবেলা, ভোরের কাগজসহ কিছু সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ৭ এপ্রিল ওই প্রেস রিলিজের ওপর ‘হিন্দু নারীদের ধর্মান্তরকরণে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি’ শিরোনামে কালবেলার প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়–“হিন্দু নারীদের ধর্মান্তরীত করার নানামুখী ষড়যন্ত্র চলছে দেশজুড়ে। এ কাজে সফল হতে একটি সাম্প্রদায়িক সংগঠনের পক্ষ থেকে কর্মীদের জন্য রীতিমতো পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন আইডি থেকে ব্যাপক প্রচার চালানো হচ্ছে। প্রেমের ফাঁদে ফেলে সনাতন সম্প্রদায়ের নারীদের ধর্মান্তরিত করার সব কায়দা কৌশলও এসব স্ট্যাটাসে তুলে ধরা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসব অন্যায় কর্মকাণ্ড চললেও কেন প্রতিকার মিলছে না।

একের পর এক সাম্প্রদায়িক এমন ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। রোববার (৭ এপ্রিল) পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. রাণা দাশগুপ্ত স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়েছে। সেইসঙ্গে এসব ঘটনায় দায়ীদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার ও বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে।”

কালবেলার এই প্রতিবেদন পরের দিন প্রিন্ট সংস্করণেও প্রকাশিত হয়৷ 

কালবেলার এ প্রতিবেদন ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে দুইবার পোস্ট করা হয়। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি রিউমর স্ক্যানারের একজন ফ্যাক্টচেকারের নজরে আসলে তিনি গত ১৬ এপ্রিল ‘ভুয়া বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে দেওয়া প্রেস রিলিজের ওপর সংবাদ প্রকাশের’ বিষয়টি কালবেলার অনলাইন বিভাগ কর্তৃপক্ষকে অবগত করেন। তবে সেই প্রতিবেদনটি এখন পর্যন্ত তাদের ওয়েবসাইটে রয়েছে। উপরন্তু দেখা গেছে সম্প্রতি গত ৪ মে ওই বিজ্ঞপ্তিকে ভিত্তি করে এবার কালবেলার প্রিন্ট সংস্করণে আরেকটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। 

Kalbela prints fake notice as 2nd Lead on front page  

এক মাস পূর্বে ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত হওয়া ওই বিজ্ঞপ্তি যুক্ত করে “ধর্মান্তরকরণে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর নতুন মিশন!” শিরোনামে পত্রিকার প্রথম পাতার দ্বিতীয় লিড হিসেবে এবারের প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে কালবেলা। উক্ত প্রতিবেদনে ওই বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কে উল্লেখ করা হয়– “সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে ধর্মান্তরকরণের নতুন মিশনে নেমেছে উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী। দাওয়াতের নামে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ধর্মান্তরিত করতে রীতিমতো সংগঠনের কর্মীদের জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আইডি ও পেজ খুলে এ-সংক্রান্ত প্রচার চালানো হচ্ছে। নিজেদের কর্মীদের শিখিয়ে দেওয়া হচ্ছে ধর্মান্তরিত করার কলাকৌশলও।

বাংলাদেশ জমিয়তে আহলে হাদিস’ সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ফারুক ও সেক্রেটারি জেনারেল ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ খান মাদানী স্বাক্ষরিত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ঘুরপাক খাচ্ছে। এতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বিশেষ করে হিন্দুদের ধর্মান্তরকরণে তাদের দলের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার ধার্য করা হয়েছে। সংগঠনের সব জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর পাঠানো হয়েছে এর কপি। অফিসের ঠিকানায় দেওয়া আছে রাজধানীর উত্তর যাত্রাবাড়ীর ৭৯/ক/৩ বাসা। সেখানে গিয়ে কথা হয় এক ব্যক্তির সঙ্গে। তবে তিনি দাবি করেছেন, বিশেষ এই বিজ্ঞপ্তি তাদের সংগঠনের নয়। কেউ এই সংগঠনের নামে ষড়যন্ত্রে নেমেছে।”

কালবেলার ওই প্রতিবেদনের প্রতিবেদক রাজন ভট্টাচার্য প্রতিবেদনের প্রিন্ট ভার্সনের ছবি ও ক্যাপশনে লিংকসহ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট (আর্কাইভ) করেছিলেন। পরবর্তীতে ওই বিজ্ঞপ্তিটি ভুয়া এ সম্পর্কে অবগত হওয়ার পর অবশ্য তিনি পোস্টটি সরিয়ে ফেলেছেন কিংবা পোস্টের প্রাইভেসি বদল করে ফেলেন– যার ফলে তার ওই পোস্ট বর্তমানে উপলব্ধ নয়। 

Post of Kalbela reporter Rajon Bhattacharya

এর পূর্বে গত ২৪ এপ্রিল আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি এর ফ্যাক্টচেক ইউনিট ওই নোটিশকে ভুয়া শনাক্ত করে “Bangladesh organisation’s notice doctored to promote false ‘cash for Islamic conversion’ claim” শিরোনামে একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। 

সুতরাং, গত এক মাসে যে বিজ্ঞপ্তিকে দেশি ও বিদেশি বেশকিছু ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করেছে সেই সাম্প্রদায়িক অপপ্রচারমূলক ভুয়া বিজ্ঞপ্তি যুক্ত করে সম্প্রতি প্রথম পাতায় দ্বিতীয় লিড হিসেবে সংবাদ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক কালবেলা। 

তথ্যসূত্র

বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংঘর্ষকে ভারতে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা দাবিতে প্রচার

0

সম্প্রতি, ভারতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে এক নারীর কান্নার ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়, বরিশালের গৌরনদীতে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মুসলিমরা একজন হিন্দুর ওপর হামলা করেছে। পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মনির মিয়া নামের একজন মুসলিম ব্যক্তি ও তার দলবল ওই হিন্দু ব্যক্তিকে নির্যাতন করেছে এবং বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

রাজনৈতিক সংঘর্ষকে

উক্ত দাবিতে এক্সে ভাইরাল কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশালের গৌরনদীতে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে কোনো সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটেনি বরং উক্ত উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত রাজনৈতিক হামলার ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে সাম্প্রদায়িক হামলা দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। ভিডিওতে কান্নারত এক নারীকে উক্ত হামলার বিষয়ে কথা বলতে দেখা যায়। এ সময় তিনি বলেন, “ওরে হারিছের লোক ধরছে (হামলা করেছে)। এই উপজেলা নির্বাচন নিয়া সব ঝামেলা। ওরে বাঁচতে দেবে না। ওরে মারতে পারলে সব ক্লিয়ার”

অনুসন্ধানের মাধ্যমে কান্নারত এই নারীর পরিচয় শনাক্ত করে রিউমর স্ক্যানার টিম। তিনি গৌরনদীর মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আহত সৈকত গুহ’র স্ত্রী বিপাশা গুহ।

পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে মূলধারার গণমাধ্যম প্রথম আলোর অনলাইন সংস্করণে গত ০২ মে ‘গৌরনদীতে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যানকে কুপিয়ে জখম’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বরিশালের গৌরনদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে  মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈকত গুহকে কুপিয়ে জখম করেছেন প্রতিপক্ষের লোকজন। গত বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বাটাজোর বাসস্ট্যান্ডে এই সংঘর্ষে আরও চারজন আহত হয়েছেন। সে সময় গুরুতর আহত দুজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গৌরনদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মনির হোসেন মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহসহ ১০-১৫ জন সমর্থক নিয়ে তিনি আওয়ামী লীগের এক কর্মীর জানাজায় যাচ্ছিলেন। রাত সাড়ে আটটার দিকে বাটাজোর বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছানোর পর কিছু সমর্থকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করছিলেন। এ সময় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারিছুর রহমানের সমর্থক দেলোয়ার হোসেন হাওলাদার সেখানে উপস্থিত হন। দেলোয়ার উপজেলা যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক। সেখানে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

মনির হোসেন আরও বলেন, একপর্যায়ে যুবলীগ নেতা দেলোয়ারের সমর্থকেরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ, সমর্থক পলাশ হোসেন (২৭) ও মামুন খানকে (৩২) কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করেন।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেনের সমর্থক ও বাটাজোর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক কালু তালুকদার। পাল্টা অভিযোগ করে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পরিকল্পিতভাবে মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ দেলোয়ার হোসেনকে লক্ষ্য করে পিস্তল দিয়ে গুলি করেন। এতে দেলোয়ার হোসেন ও তাঁর ছেলে ইমতিয়াজ মাহমুদ আহত হন।

তবে সেখানে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি কিংবা স্থানীয় লোকজন গুলির কোনো শব্দ পাননি বলে জানিয়েছেন গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মাজাহারুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মনির হোসেন মিয়া ও মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ সমর্থকদের নিয়ে একটি জানাজায় যাওয়ার পথে বাটাজোর বাসস্ট্যান্ডে ছবি তোলা নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সৈকত গুহসহ তিনজন আহত হন। গুরুতর আহত সৈকত গুহ ও দেলোয়ার হোসেনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়াও মূলধারার গণমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের অনলাইন সংস্করণে গত ০৩ মে ‘গৌরনদীতে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যানসহ আহত ৪’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদনে স্থানীয়দের বরাতে জানানো হয়, গৌরনদী উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির হোসেন মিয়ার পক্ষে কাজ করছেন মাহিলারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু। এতে আরেক চেয়ারম্যান প্রার্থী ও গৌরনদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও হারিসুর রহমান পিকলুর ওপর ক্ষুব্ধ হন। 

গত ০২ মে রাতে পিকলু বাটাজোর বাজারে মনির হোসেন মিয়ার পক্ষে গণসংযোগে গেলে বাটাজোর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রব হাওলাদারের ভাই দিলু হাওলাদার, রাসেল ও তাদের অনুসারীরা পিকলু ও তার সমর্থকদের কুপিয়ে আহত করে।

উক্ত প্রতিবেদনে আহত সৈকত গুহ’র স্ত্রী বিপাশা গুহ’র বক্তব্য পাওয়া যায়। তিনি বলেন, ‘চেয়ারম্যান প্রার্থী হারিসুর রহমান নিজেও হামলায় অংশ নেন। আহতদের যেন বরিশাল না নেওয়া যায়, সেজন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস বন্ধ করে দেওয়া হয়।’

অর্থাৎ, আলোচিত পোস্টগুলোতে সৈকত গুহ’র ওপর মনির মিয়া হামলা করেছেন বলে দাবি করা হলেও সৈকত গুহ’র স্ত্রী বিপাশা গুহ’র বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হারিসুর রহমানের নেতৃত্বে এই হামলা হয়েছে। তাছাড়া সৈকত গুহ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির মিয়ার পক্ষের এবং হামলার শিকার হওয়ার সময়ে তারা একসাথে ছিলেন। এর সাথে সাম্প্রদায়িক কোনো ইস্যু সম্পর্কিত নয়। এটি সম্পূর্ণ একটি রাজনৈতিক ঘটনা।

মূলত, গত ০২ মে বরিশালের গৌরনদীতে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ইউপি চেয়ারম্যান সৈকতে গুহ সহ অম্তত ৪ জন আহত হন। গৌরনদী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদ্য সাবেক পৌর মেয়র হারিছুর রহমান, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হিসেবে বর্তমান চেয়ারম্যান সৈয়দা মনিরুন নাহার মেরী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়া রয়েছেন। গত ০২ মে গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের এক নেতা মৃত্যুবরণ করেন। তার জানাজার নামাজে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে বাটাজোর বাসস্ট্যান্ডে যান চেয়ারম্যান প্রার্থী ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মনির হোসেন মিয়া ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পিকলু। সেখানে হারিছুর রহমানের সমর্থকরাও এলে দুইপক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে দুই পক্ষের তিন-চারজন আহত হন। আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের এ রাজনৈতিক সংঘর্ষে গুরুতর জখম হওয়া সৈকত গুহ’র  স্ত্রী বিপাশা গুহর হাসাপাতালে বিলাপ করার একটি ভিডিও যুক্ত করে এ ঘটনাকে এক্সের বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতন হিসেবে প্রচার করা হয়েছে৷ তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে মনির মিয়া এবং তার দলবল সৈকত গুহকে নির্যাতন করেছে দাবি করা হলেও প্রকৃতপক্ষে সৈকত গুহ উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী মনির মিয়ার পক্ষে কাজ করছেন এবং হামলার শিকার হওয়ার সময়ও তারা একসাথে ছিলেন।

সুতরাং, বরিশালের গৌরনদীতে উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংগঠিত রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক হামলা দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ বানোয়াট ও মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

শুধু বাংলাদেশ থেকে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ মিলিয়ে মোট ৪ লক্ষ ৫২ হাজার লোক নিবে ইতালি

সম্প্রতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লটারিতে বিনামূল্যে বাংলাদেশ থেকে ৪ লক্ষ ৫২ হাজার লোক নেবে ইতালি শীর্ষক দাবিতে একটি ছবি প্রচারিত হচ্ছে। 

ইতালি

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত  এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ইতালিতে লটারিতে বিনামূল্যে বাংলাদেশ থেকে ৪ লাখ ৫২ হাজার লোক নেওয়ার তথ্যটি সঠিক নয় বরং, ২০২৩ সালে ইতালি সরকার কোভিড মহামারীর ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে তিন বছরে (২০২৩-২০২৫) ধাপে ধাপে ৪ লাখ ৫২ হাজার শ্রমিক নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। সেখানে ইউরোপীয় দেশ ব্যতীত বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশ মিলে মোট ৪ লাখ ৫২ হাজার শ্রমিক নেওয়া হবে বলে জানানো হয়। তবে সেই পরিকল্পনায় এসব বিদেশি শ্রমিককে লটারিতে বিনামূল্যে নেওয়া হবে এরকম কিছু বলা হয় নি। 

ফেসবুকে আলোচিত দাবির পোস্টগুলোর কমেন্ট থেকে একটি লিংক পাওয়া যায়। যেখানে উল্লেখ করা হয় অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে বিনামূল্যে বাংলাদেশ থেকে ৪ লক্ষ ৫২ হাজার লোক নিয়োগ দেওয়া হবে। লিংকে ক্লিক করলে কোনো নির্দিষ্ট আবেদন ফর্ম পাওয়া যায় না, তবে কিছু চাকরীর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়, যা বাংলাদেশ সরকারের  অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে প্রকাশিত নয়।  

আলোচিত বিষয়ে ইতালির অফিসিয়াল গেজেটে প্রকাশিত ডিক্রি – Entry Flows Italy তে বলা হয়েছে, বিদেশী নাগরিকদের মৌসুমী (কৃষি এবং হোটেল পর্যটন খাত), অ-মৌসুমি কর্মসংস্থান এবং স্ব-কর্মসংস্থানের (নির্মাণ, পর্যটন এবং আতিথেয়তা, যান্ত্রিক, টেলিযোগাযোগ, খাদ্য, জাহাজ নির্মাণ, বাস যাত্রী পরিবহন, মাছ ধরা, হেয়ারড্রেসার, ইলেকট্রিশিয়ান ইত্যাদি খাত) জন্য তিন বছরে  ৪ লাখ ৫২ হাজার এন্ট্রি অনুমোদন করা হয়।

অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম বিডিনিউজ ২৪ এর একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কোভিড মহামারীর ধকল কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন দেশ থেকে তিন বছরে সাড়ে চার লাখ শ্রমিক নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইতালি সরকার। এক আদেশে বলা হয়েছে, ইউরোপের নাগরিক নয়-এমন ৪ লাখ ৫২ হাজার শ্রমিক ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ইতালিতে নেওয়া হবে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ইতালিতে প্রবেশের অনুমতি পাবে এক লাখ ৩৬ হাজার জন। ২০২৪ সালে পাবেন এক লাখ ৫১ হাজার এবং ২০২৫ সালে এক লাখ ৬৫ হাজার শ্রমিক। 

কালবেলার এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইতালিতে আবেদন গ্রহণ শুরুর দিনকে ‘ক্লিক ডে’ বলা হয়। সুতরাং ২০২৩ সালের ক্লিক ডে ছিলো- ২, ৪ এবং ৮ ডিসেম্বর। এছাড়া সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে ২০২৪ সালে ১ লাখ ৫১ হাজার শ্রমিকের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ ২০২৪ সালের ক্লিক ডে- ৫,৭ এবং ১২ ফেব্রুয়ারী।

প্রতিবেদনে ইতালির সরকারি গেজেটকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, কোনো শ্রমিক সরাসরি আবেদন করতে পারবেন না। শ্রমিকের পক্ষে নিয়োগদাতা অনলাইনে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে আবেদন করবেন।

এ বিষয়ে সময় সংবাদের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ২০২৭ সালের মধ্যে ১০টি খাতে বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ কর্মী নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি সরকার। ইতালিতে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক আসতে পারবে কৃষি ও পর্যটন খাতের কাজের জন্য। এছাড়া ভবন নির্মাণ, জাহাজ নির্মাণ, পণ্য আনা-নেওয়ার জন্য বড় ট্রাকের চালক পদে এবং পর্যটন হোটেল, মেকানিক, টেলিকমিউনিকেশন ও খাদ্য-দ্রব্যাদি উৎপাদন খাতেও শ্রমিক আসতে পারবে।

মূলত, ইতালি সরকার ২০২৭ সালের মধ্যে ১০টি খাতে বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ কর্মী নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যারা ইউরোপের নাগরিক নন। গত বছর দেশটি কোটা ভেদে তিন বছরে (২০২৩-২০২৫) বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ধাপে ধাপে সর্বমোট ৪ লাখ ৫২ হাজার শ্রমিক নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানায়। ইতালি সব মিলিয়ে ৪ লক্ষ ৫২ হাজার লোক নেওয়ার কথা বললেও উক্ত তথ্যটিকে বিকৃত করে বাংলাদেশ থেকে ৪ লক্ষ ৫২ হাজার লোক নিবে দাবিতে ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে। আলোচিত দাবির পোস্টগুলোতে বিনামূল্যে লোক নেওয়ার কথা বলা হলেও ইতালির সরকারের পক্ষ থেকে লটারিতে বিনামূল্যে লোক নেওয়ার বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। এছাড়া পোস্টগুলোতে ইতালির যাওয়ার জন্য একটি আবেদনের জন্য লিংক প্রদান করা হলেও লিংকটি এ বিষয়ে কোনো তথ্যই পাওয়া যায়নি। বরং ইতালি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি এ বিষয়ে শ্রমিকদের সরাসরি আবেদনের সুযোগ নেই। শ্রমিকের পক্ষে নিয়োগদাতাকে অনলাইনে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে আবেদন করতে হবে।

সুতরাং, লটারিতে বিনামূল্যে বাংলাদেশ থেকে ৪ লক্ষ ৫২ হাজার লোক নেবে ইতালি শীর্ষক দাবিটি বিভ্রান্তিকর। 

তথ্যসূত্র

নোবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষায় ছাত্রলীগের সেবামূলক কার্যক্রমে চাপাতি দাবিতে ভিন্ন সংগঠনের ছবি প্রচার 

0

গত ০৩ মে গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের শরবত ও স্যালাইন প্রদান ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে। সেই ক্যাম্পেইনে স্যালাইনের প্যাকেট কাটার জন্য ‘চাপাতি’ রাখা হয়েছে দাবিতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। 

নোবিপ্রবি

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের শরবত ও স্যালাইন প্রদান ক্যাম্পেইনে স্যালাইনের প্যাকেট কাটার জন্য ‘চাপাতি’ রাখার দাবিটি সঠিক নয় বরং ভিন্ন একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ক্যাম্পেইনের ছবিকে ছাত্রলীগের ক্যাম্পেইনের ছবি দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে। 

অনুসন্ধানে নোবিপ্রবি ছাত্রদল নামক একটি অ্যাকাউন্ট থেকে করা পোস্টে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান শুভর একটি মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়। 

Screenshot: Facebook 

মন্তব্যে শুভ বলেন, প্রথমত, এইটা ছাত্রলীগের শরবত কিংবা স্যালাইন বিতরণের স্টল না। দ্বিতীয়ত, এইটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি রেজিস্টার্ড মানবিক সংগঠনের স্টল। তৃতীয়ত, এই সংগঠনের কাজের ব্যাপারে আগে খোজ খবর নিবেন। ওরা দারুণ সব কাজ করে। আর স্যালাইন কাটার জন্য যে দা ইউজ করেছে সেটা হয়ত আশপাশের কোন দোকানের কিচেনের।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে নোবিপ্রবির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন NSTU Society for Disabilities এর ফেসবুক পেজ থেকে গতকাল (০৪ মে) প্রকাশিত একটি পোস্ট (আর্কাইভ) খুঁজে পাওয়া যায়। 

উক্ত পোস্টটিতে প্রচারিত ছবিটি উক্ত সংগঠনের ক্যাম্পেইনের ছবি বলে উল্লেখ করা হয়। 

এছাড়া, একই পেজে গত ০৩ মে ২৫ টি ছবিযুক্ত করা একটি পোস্ট খুঁজে (আর্কাইভ) পাওয়া যায়। 

উক্ত পোস্টে থাকা একটি ছবির সাথে আলোচিত ছবিটির হুবহু মিল পাওয়া যায়। 

Comparison: Rumor Scanner

পোস্টটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, গত ০৩ মে গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষায় পানি, স্যালাইন ও শরবত বিতরণ কর্মসূচির কিছু ছবি এগুলো। 

অর্থাৎ, ছবিটি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের শরবত ও স্যালাইন প্রদান ক্যাম্পেইনের নয় বরং অলাভজনক সংস্থা NSTU Society for Disabilities নামক একটি সংগঠনের ক্যাম্পেইনের। 

পাশাপাশি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষার দিন শরবত ও স্যালাইন প্রদান ক্যাম্পেইনের কিছু ছবি পাওয়া যায়। এসব ছবিতে তৈরিকৃত শরবত এবং পানির বোতল সরবরাহ করতে দেখা গেলেও চাপাতি সদৃশ কোনো বস্তুর দেখা মেলেনি। ছবিগুলো দেখুন এখানে, এখানে

মূলত, সম্প্রতি ‘চাপাতি’ সহ একটি ছবি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের শরবত ও স্যালাইন প্রদান ক্যাম্পেইনের ছবি দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তবে রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি বিশ্ববিদ্যালয়টির শাখা ছাত্রলীগের কোনো ক্যাম্পেইনের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ছবিটি NSTU Society for Disabilities নামক একটি অলাভজনক সংগঠন কর্তৃক পানি, স্যালাইন ও শরবত বিতরণ কর্মসূচির, যা গত ০৩ মে গুচ্ছ ‘বি’ ইউনিটের পরীক্ষার দিন আয়োজন করা হয়েছিল। 

সুতরাং, ‘চাপাতি’ সহ একটি ছবি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের শরবত ও স্যালাইন প্রদান ক্যাম্পেইনের ছবি দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা। 

তথ্যসূত্র

  • NSTU Branch BCL Secretary Comment 
  • NSTU Society for Disabilities- Post (1, 2)
  • NSTU Branch BCL- Post (1, 2)
  • Rumor Scanner’s Own Analysis