জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান কারামুক্তি পাননি 

সম্প্রতি, ‘জামায়াত-শিবিরের ভয়ে মুক্তি পেলো জামায়াতের আমির’ শীর্ষক শিরোনাম এবং ‘ জামায়াত আমিরের মুক্তি রাজধানী দখলে নিলো জামায়াত শিবির ‘ শীর্ষক থাম্বনেইল ব্যবহার করে একটি ভিডিও ইউটিউবে প্রচারিত হয়।

ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে ( আর্কাইভ)  

ফ্যাক্টচেক 

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়,জামায়াতে ইসলামীর আমির ড.শফিকুর রহমান কারা থেকে মুক্তি পাননি বরং ভিন্ন একটি ঘটনার ভিডিও ক্লিপ ব্যবহার করে কোনো প্রকার নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই উক্ত দাবিটি প্রচারিত হয়।

গত ৯ আগস্ট ‘Taza News‘ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে জামায়াত-শিবিরের ভয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ড.শফিকুর রহমানকে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়।

Screenshot : Teza News

অনুসন্ধানের শুরুতে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ভিডিওটির থাম্বনেইলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ড.শফিকুর রহমানের মুক্তির কথা বললেও ভিডিওটিতে এমন কোনো তথ্য নেই। অর্থাৎ ভিডিওটির থাম্বনেইলের সাথে ভিডিটিতে থাকা বিষয়বস্তুর কোনো মিল নেই। 

পরবর্তীতে ভিডিওটিতে থাকা ব্যানারের লেখার সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে দেশীয় গণমাধ্যম নয়া দিগন্তের ওয়েবসাইটে ২০২২ সালের ১৮ মে ‘ রাজধানীসহ সারা দেশে জামায়াতের বিক্ষোভ‘ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে থাকা একটি ছবির ব্যানারের সাথে আলোচ্য ভিডিওটিতে থাকা ব্যানারের হুবহু মিল খুঁজে পাওয়া যায়। 

Screenshot : Nayadiganta 

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গণকমিশনের দেশ বরেণ্য ১১৬ আলেমের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং, জঙ্গিবাদে অর্থায়ন, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো ও ইসলামের অপব্যাখ্যার কথিত অভিযোগের প্রতিবাদে এবং গণকমিশনের হোতাদের আইনের আওতায় আনার জন্য জামায়াতে ইসলামী ঢাকা উত্তর মহানগরের উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।বিক্ষোভ মিছিলটি মিরপুর-১ গোল চত্বর থেকে শুরু হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে টেকনিক্যালে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এবং সমাবেশে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন দেশ, জাতি, ইসলাম ও ইসলামী মূল্যবোধবিরোধী ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলেন।

এছাড়া,  ‘ Bangladesh Jamaat-e-Islami‘ এর ইউটিউব চ্যানেলে ‘দেশের শীর্ষ আলেম-ওলামাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল‘ শীর্ষক শিরোনামে এক বছর পূর্বে প্রচারিত বিক্ষোভ মিছিলটির মূল ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়।

Video Comparison: Rumor Scanner 

পাশাপাশি ‘Bangladesh Jamaat-e-Islami ‘এর অফিশিয়াল ফেসবুক পেইজে গত ৯ আগস্ট জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান এবং সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার কে একটি মামলায় হাজিরা দিতে আদালতে তোলার বিষয়ে একটি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমানের মুক্তি সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

Screenshot : Bangladesh Jamaat-e-Islami fb page

অর্থাৎ উপরোক্ত বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলে এটি স্পষ্ট যে, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মুক্তি পাননি।

মূলত, ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট(সিটিটিসি)। সম্প্রতি তিনি কারামুক্তি পেয়েছেন এমন একটি দাবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধ্যানে জানা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, সর্বশেষ গত ০৮ আগস্ট একটি মামলায় হাজিরা দিতে তাকে আদালতে তোলা হয়েছিলো। হাজিরা শেষে তাকে আবার কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের মুক্তি দাবিতে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন মহানগরে বিক্ষোভ মিছিল করেছে দলটি।

পূর্বে, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক গোলাম পরওয়ারের কারামুক্তি পাওয়ার দাবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে সেসময় বিষয়টি শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।  

সুতরাং,জামায়াতে ইসলামীর আমির ড.শফিকুর রহমানকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। 

তথ্যসূত্র

RS Team
Rumor Scanner Fact-Check Team
- Advertisment -spot_img
spot_img
spot_img