সম্প্রতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আওতাধীন ক্যাডার ও নন-ক্যাডারসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় বইছে। আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক ড্রাইভার সৈয়দ আবেদ আলীর নাম। পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত অভিযোগে সৈয়দ আবেদ আলী ও তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান ওরফে সিয়ামসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এরই প্রেক্ষিতে গত ১১ জুলাই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন ড্রাইভার আবেদ আলী প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বলেন, এখানে একটি কথা বলে রাখি, যে ড্রাইভার এ কথা বলছেন, “তাকে আমরা দেখলাম অন্য একটি দলের স্লোগান দিচ্ছেন। আসলে ব্যাপারটি হচ্ছে… যে এখানে কী হয়েছে? যতক্ষণ পর্যন্ত প্রমাণিত না হবে যে, সে সত্য বলছে, মিথ্যা বলছে, বিষয়গুলো প্রমাণিত হতে হবে তো। সে একটি দলের ষড়যন্ত্রের ইনস্ট্রুমেন্ট হিসাবে কাজ করছে কি না। অনেকগুলো বিষয় কিন্তু এখানে আছে। সে তো একটি দলের হয়ে কাজ করছে, সরকারের ইমেজ নষ্ট করার জন্য।”
জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের উক্ত মন্তব্য নিয়ে দেশের একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখুন: আরটিভি, মানবজমিন, যুগান্তর।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি সৈয়দ আবেদ আলী বিএনপির হয়ে স্লোগান দিয়েছেন শীর্ষক দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওতে স্লোগান দেয়া ব্যক্তিটি বিপিএসসির প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে অভিযুক্ত বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক ড্রাইভার সৈয়দ আবেদ আলী নন। প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কর্তৃক আয়োজিত জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট মাওলানা কাজী মোহাম্মদ আবুল হোসেনের স্লোগান দেয়ার ভিডিওকে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
মূলত, গত ২৯ মে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল কর্তৃক আয়োজিত জিয়াউর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎ বার্ষিকীর আলোচনা সভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব এডভোকেট মাওলানা কাজী মোহাম্মদ আবুল হোসেন বিএনপির পক্ষে নানা স্লোগান দেন। পরবর্তীতে উক্ত স্লোগানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়। বিএনপির স্লোগানরত ওলামা দলের ঐ নেতাকেই গত ১১ জুলাই জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বিপিএসসির প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে অভিযুক্ত বিপিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী বলে দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, আলোচ্য দাবিটি চলতি মাসে ফেসবুকে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হলে দাবিটিকে মিথ্যা হিসেবে শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।
সম্প্রতি, লিওনেল মেসি খেলার মাঠে দুহাত উঁচুতে তুলে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার একটি ছবি নিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাস করছেন এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, খালেদা জিয়ার ছবি হাতে নিয়ে লিওনেল মেসি সতীর্থদের সঙ্গে উল্লাসের দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত ছবিটি আসল নয়। বরং, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের পর সতীর্থদের সঙ্গে মেসির উল্লাসের ছবিকে প্রযুক্তির সাহায্যে সম্পাদনার মাধ্যমে তাতে মেসির হাতে খালেদা জিয়ার ছবির ফ্রেম যুক্ত করে আলোচিত ছবিটি তৈরি করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের শুরুতে মেসির হাতে খালেদা জিয়ার ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে messi.com এর ওয়েবসাইটে ‘LEO ON TARGET AS ARGENTINA TOPPLE MEXICO’ শীর্ষক শিরোনামে সতীর্থদের সাথে নিয়ে মেসির উল্লাসের ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়।
Screenshot: messi.com
উক্ত ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির অনেকটাই মিল পাওয়া গেছে। তবে উক্ত ছবিতে মেসির হাতে খালেদা জিয়া কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির ছবির ফ্রেম নেই।
Photo comparison : Rumor Scanner
ছবির সংবাদে উল্লেখ করা হয়, কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে মেক্সিকোকে ২-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপে তিন পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা।
এছাড়া, আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অফিসিয়াল এক্স ( সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট-এ ২০২২ সালের ২৭ নভেম্বর আপলোডকৃত দুটি ছবির মধ্যে একটিতে দুহাত উঁচুতে তুলে সতীর্থদের সঙ্গে মেসির উল্লাস অন্যটিতে ম্যাচ চলাকালীন বল পায়ে দুজন মেক্সিকোর খেয়োড়কে পরাস্থ করার চেষ্টা মেসির। এখানে দুহাত উঁচুতে তুলে সতীর্থদের সঙ্গে মেসির উল্লাসের ছবিটির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।
অর্থাৎ, আলোচিত ছবিটি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার জয়ের পর সতীর্থদের সঙ্গে মেসির উল্লাসের ছবি। ছবিটি ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় এডিট বা সম্পাদনা করে মেসির হাতে খালেদা জিয়ার ছবি যুক্ত করে ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে।
মূলত, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর বিপক্ষে আর্জেন্টিনার গুরুত্বপূর্ণ জয়ের পর সতীর্থদের সঙ্গে নিয়ে দর্শক গ্যালারির দিকে ফিরে উল্লাস করেন নিওলেন মেসি। সেসময় উল্লাস প্রকাশের ঘটনায় ধারণকৃত একটি ছবি ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় এডিট বা সম্পাদনা করে তাতে মেসির হাতে খালেদা জিয়ার ছবি বসিয়ে খেলার মাঠে সতীর্থদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার ছবি নিয়ে লিওনেল মেসির উল্লাসের ছবি দাবিতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে।
সুতরাং, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছবি হাতে লিওনেল মেসির উল্লাসের ছবিটি এডিটেড বা সম্পাদিত।
সম্প্রতি শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, “এটা কিসের ইঙ্গিত দিচ্ছে | যশোর বেনাপোল বর্ডার দিয়ে ভারতের মিলিটারি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করল”।
উক্ত দাবিতে টিকটকে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি উক্ত ভিডিওটি ৩ লক্ষ ৫০ হাজারেরও অধিক বার দেখা হয়েছে এবং ১০ হাজারেরও অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটিতে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি ভারতীয় মিলিটারি ট্রাকের নয়, বরং বাংলাদেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে ভারত থেকে আমদানিকৃত গাড়ির ভিডিও।
এ বিষয়ে রিভার্স ইমেজ সার্চ পদ্ধতিতে গত ১০ জুলাই তারিখে মূলধারার গণমাধ্যম সময় টিভিতে ভিন্ন কোণ থেকে ধারণকৃত উক্ত ঘটনার একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়।
Comparison : Rumor Scanner
ভিডিও প্রতিবেদনটি দেখে জানা যায়, বাংলাদেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারত থেকে ১১টি মাইন প্রটেক্টেড বুলেটপ্রুফ সামরিক যান আমদানি করা হয়েছে৷ আমদানি পত্রের তথ্য অনুযায়ী, ১১টি মাইন প্রটেক্টেডের আমদানি মূল্য দেখানো হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৬ কোটি টাকা।
উক্ত একই ঘটনার বিষয়ে বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম আমাদের সময় এর ওয়েবসাইটে একটি সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটি পড়ে জানা যায়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সামরিক শক্তি বাড়াতে ভারত থেকে মাইন প্রটেক্টেড ১১টি ৪৬ কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি আমদানি করা হয়েছে। এ গাড়িগুলো ভারতের পেট্রাপোল বন্দর থেকে বেনাপোল বন্দরে দিয়ে দেশে প্রবেশ করে মঙ্গলবার (৯ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ডিরেক্টর জেনারেল ডিফেন্স পারসেজ (ডিজিডিপি) এসব গাড়ি আমদানি করেছে। রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারতের টাটা অ্যানভান্সড সিস্টেমস লিমিটেড। চালানে গাড়িগুলোর আমদানি মূল্য হলো ৩৮ লাখ ৫ হাজার ৩৯ ইউএস ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪৬ কোটি টাকা। দেশের সামরিক শক্তি বৃদ্ধিতে এই প্রথম বেনাপোল বন্দরের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বুলেটপ্রুফ সামরিক যান বাংলাদেশে আমদানি করা হয়েছে।
মূলত, সম্প্রতি শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, ভিডিওটিতে ভারতীয় মিলিটারি ট্রাক বাংলাদেশ প্রবেশরত অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। কিন্তু রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটিতে প্রদর্শিত গাড়িগুলো ভারতীয় মিলিটারির নয়, বরং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য ভারত থেকে আমদানিকৃত গাড়ির ভিডিও।
সুতরাং, বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় মিলিটারি ট্রাক প্রবেশ করার দৃশ্য দাবিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর জন্য ভারত থেকে আমদানিকৃত গাড়ির ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর।
সম্প্রতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আওতাধীন ক্যাডার ও নন-ক্যাডারসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় বইছে। আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর নাম। গত ৮ জুন বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত অভিযোগে সৈয়দ আবেদ আলী ও তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান ওরফে সিয়ামসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
এরই প্রেক্ষিতে, “সুশান্ত পাল ফাঁস হওয়া প্রশ্নে প্রথম হয়েছে। আবেদ আলীর প্রশ্ন সাপ্লায়ের ১০৫ জন লিস্টের ১১ নাম্বারে সুশান্ত পালের নাম।”- শীর্ষক একটি তথ্য জাতীয় গণমাধ্যম কালবেলার বরাতে প্রচার করা হয়েছে।
এছাড়া, একই তথ্যে কালবেলার ডিজাইন সম্বলিত একটি ফটোকার্ডও প্রচার হতে দেখা যায়৷
দাবি করা হচ্ছে- প্রশ্নফাঁসে জড়িত পিএসসি’র আলোচিত ড্রাইভার আবেদ আলীর দেওয়া প্রশ্ন পেয়ে বিসিএস পরীক্ষায় প্রথম হয়েছেন কুষ্টিয়া কাস্টমস এক্সাইজ অ্যান্ড ভ্যাট কমিশনারেট অফিসের ডেপুটি কমিশনার সুশান্ত পাল। আবেদ আলীর দেওয়া ১০৫ জনের তালিকায় সুশান্ত পালেন নাম রয়েছে- শীর্ষক তথ্যে জাতীয় গণমাধ্যম কালবেলা সংবাদ প্রকাশ করেছে।
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সুশান্ত পাল ফাঁস হওয়া প্রশ্নে বিসিএসে প্রথম হয়েছেন কিংবা প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন দাবিতে জাতীয় গণমাধ্যম কালবেলা কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি এবং প্রশ্ন ফাঁসে ক্যাডার হওয়াদের কোনো তালিকাও এখন অবধি প্রকাশ করেনি পুলিশ, বরং কোনো তথ্য প্রমাণ ছাড়া আলোচিত দাবিটি কালবেলার বরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানের শুরুতে জাতীয় দৈনিক কালবেলার ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। উক্ত গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে আলোচিত দাবি সংক্রান্ত কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে বিষয়টি অধিকতর যাচাইয়ের জন্য কালবেলা অনলাইন বিভাগের প্রধান পলাশ মাহমুদের সাথে যোগাযোগ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। তিনি বলেন, কালবেলা এমন কোনো সংবাদ প্রকাশ করেনি।
পাশাপাশি, কালবেলার ফেসবুক পেজে নিয়মিত প্রকাশিত ফটেকার্ডের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের পার্থক্য লক্ষ করা যায়।
Photocard Comparison By Rumor Scanner
এরপর পিএসসি’র আলোচিত ড্রাইভার আবেদ আলীর দেওয়া প্রশ্নে ক্যাডার হওয়ার তালিকার বিষয়ে অনুসন্ধান করে রিউমর স্ক্যানার টিম।
গুগলে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে নিদিষ্ট তালিকা প্রকাশের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিপিএসসির প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) করা মামলায় গত ৯ জুলাই পিএসসির চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়ি চালক সৈয়দ আবেদ আলীসহ ছয়জন দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। দায় স্বীকার করা অন্য আসামিরা হলেন- পিএসসির ডেসপাস রাইটার খলিলুর রহমান, অফিস সহায়ক (ডেসপাস) সাজেদুল ইসলাম, ব্যবসায়ী সহোদর সাখাওয়াত হোসেন ও সায়েম হোসেন এবং বেকার যুবক লিটন সরকার।
জবানবন্দিতে পিএসসির ডেসপাস রাইটার খলিলুর রহমান বলেছেন, তিনি ৩৩তম বিসিএস পরীক্ষায় ১০ জন প্রার্থীর কাছে প্রশ্ন ফাঁস করেছেন। এর মধ্যে তিনজন বর্তমানে বিভিন্ন ক্যাডারে চাকরি করছেন। এছাড়াও সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও রেলের বিভিন্ন নিয়োগে তার হাত ছিল।
এছাড়া, একই দিনে দেশ রূপান্তরে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা দিয়ে বিভিন্ন ব্যাচ থেকে ক্যাডারদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া প্রশ্ন ফাঁস চক্রের গ্রেপ্তার সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে এই তালিকা প্রকাশ করা হবে।
অর্থাৎ, ফাঁস হওয়া প্রশ্নে ক্যাডার হওয়াদের তালিকা তৈরির কাজ চলমান। এই প্রতিবেদন প্রকাশের আগ অবধি পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য, আলোচিত দাবিটি কোনো সূত্র উল্লেখ না করেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হতে দেখা যায়। (১, ২, ৩)
মূলত, সম্প্রতি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল২৪ এ বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আওতাধীন ক্যাডার ও নন-ক্যাডারসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় বইছে। গত ৮ জুন পিএসসির প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী ও তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান ওরফে সিয়ামসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এরই প্রেক্ষিতে “সুশান্ত পাল ফাঁস হওয়া প্রশ্নে প্রথম হয়েছে। আবেদ আলীর প্রশ্ন সাপ্লায়ের ১০৫ জন লিস্টের ১১ নাম্বারে সুশান্ত পালের নাম।”- শীর্ষক একটি তথ্য জাতীয় গণমাধ্যম কালবেলার বরাতে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া একই দাবির সাথে “প্রশ্নফাস কান্ডে দোষী সাব্যস্ত হলেন সুশান্ত পাল”- শীর্ষক তথ্যে বা শিরোনামে কালবেলার ডিজাইন সম্বলিত একটি ফটোকার্ডও প্রচার করা হচ্ছে। তবে রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত দাবিটি মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে, জাতীয় গণমাধ্যম কালবেলা এমন তথ্যে কোনো সংবাদ বা ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। এছাড়া, প্রশ্নফাঁসে ক্যাডার হওয়াদের কোনো তালিকাও এখন অবধি প্রকাশ করেনি পুলিশ।
সুতরাং, সুশান্ত পাল প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং ফাঁস হওয়া প্রশ্নে বিসিএস ক্যাডার হয়েছেন শীর্ষক দাবিতে কালবেলা নামে প্রচারিত বিষয়টি ভুয়া।
সম্প্রতি সকল গ্রেডের সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীরা টানা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রেক্ষিতে, বাংলা ব্লকেড কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১১ জুলাই কুমিল্লার কোটবাড়িতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের জন্য যাত্রা শুরু করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা, কিন্তু পথে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। ফলে, উভয়ের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক এবং শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন।
এই বিষয়ে ‘Sumaiya Jannat Mim’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে একাধিক পোস্ট করার পর “উনি মারা গেছেন” শীর্ষক শিরোনামে একজন মৃত ব্যক্তির ছবি প্রচার করা হয়। এর ফলে, নেটিজেনরা এই মৃত ব্যক্তির ছবিটিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচ্য ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত বলে মনে করে বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানান।
উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে এই প্রতিবেদন প্রকাশ অবধি আন্দোলনকারী নিহত হননি এবং উক্ত দাবিতে প্রচারিত ছবিটি কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত কোনো শিক্ষার্থীর নয় বরং এটি ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া শাওন প্রধানের ছবি।
আলোচিত দাবির বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে প্রচারিত ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চ করে ‘Rakibul Islam Rakib’ নামের একটি ফেসবুক আইডিতে ২০২২ সালের ০১ সেপ্টেম্বর একই ছবি সম্বলিত একটি পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত পোস্টের ক্যাপশনে দাবি করা হয়, “নারায়ণগঞ্জে বিএনপির মিছিলে পুলিশের গুলিতে যুবদল কর্মী শাওনের মৃত্যু।”
Screenshot: Facebook.
এই পোস্টের সূত্রে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে বিডিনিউজ২৪ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। যেখানে জানানো হয়, “নারায়ণগঞ্জে বিএনপি ও পুলিশের সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান শাওন প্রধান। শাওনকে যুবদল নেতা বলছেন জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি, তবে শাওন কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না বলে তার পরিবার দাবি করে।”
প্রতিবেদনে নিহত শাওন প্রধানের ছবির সাথে আলোচ্য নিহত ব্যক্তির ছবিতে থাকা পোশাকের মিল লক্ষ্য করা যায়।
Screenshot: bdnews24.
০২ সেপ্টেম্বর ইনকিলাবের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় নিহত যুবদল কর্মী শাওনের মৃত্যুতে তার বড় ভাই মিলন হোসেন মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, “শাওন বিএনপির ছোড়া ইট-পাটকেল ও আগ্নেয়াস্ত্রের গুলিতে নিহত হয়েছেন।”
এছাড়া, কুমিল্লায় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর সংবাদ বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে পাওয়া যায়নি। তবে এই ঘটনায় একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন দাবিতে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। রিউমর স্ক্যানার টিম ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থী নিহতের খবরটি মিথ্যা জানিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
মূলত, গত ১১ জুলাই পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করতে যাওয়ার পথে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয়। ফলে, উভয়ের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে পুলিশ, সাংবাদিক এবং শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন দাবিতে একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে একজন মৃত ব্যক্তির ছবিও প্রচারিত হয়। তবে রিউমর স্ক্যানার টিম ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থী নিহতের খবরটি মিথ্যা জানিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এছাড়া, নিহত ব্যক্তির যে ছবিটি প্রচার করা হচ্ছে তা ২০২২ সালে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া শাওন প্রধানের ছবি।
সুতরাং, কুমিল্লায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলার ঘটনায় নিহত ব্যক্তির ছবি দাবিতে ২০২২ সালে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির ছবি প্রচার করা হচ্ছে; যা মিথ্যা।
সম্প্রতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আওতাধীন ক্যাডার ও নন-ক্যাডারসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় বইছে। আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর নাম। গত ৮ জুন বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত অভিযোগে সৈয়দ আবেদ আলী ও তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান ওরফে সিয়ামসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।
এরই প্রেক্ষিতে, “সে ভাবছে আল্লাহ যেহেতু কবরের প্রশ্ন আউট করে দিছে, সুতরাং বি সি এস এর প্রশ্ন আউট দোষের কি!” শীর্ষক মন্তব্যটি অভিনেতা মারজুক রাসেল প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িয়ে সৈয়দ আবেদ আলীকে নিয়ে করেছেন দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে অভিযুক্ত সৈয়দ আবেদ আলীকে নিয়ে অভিনেতা মারজুক রাসেল এমন কোনো মন্তব্য করেননি বরং, তাঁর নামে পরিচালিত একটি ফ্যান পেজ থেকে করা একটি পোস্ট থেকে আলোচ্য ভুল দাবিটির সূত্রপাত হয়েছে।
অনুসন্ধানের শুরুতে কি-ওয়ার্ড সার্চ করে Marzuk Russell নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ০৮ জুলাই বিকাল ০৩ টা ৪৭ মিনিটে করা একটি পোস্ট (আর্কাইভ) খুঁজে পাওয়া যায়।
Screenshot: Marzuk Russell Fan Page
পরবর্তীতে উক্ত ফেসবুক পেজটির অ্যাবাউট সেকশন ঘেঁটে দেখা যায়, এটি একটি ফ্যান পেজ।
Screenshot: Marzuk Russell Fan Page
এরপর কি-ওয়ার্ড সার্চ করে Marzuk Russell নামের ভিন্ন আরেকটি পেজ খুঁজে পাওয়া যায়।
উক্ত পেজটিতে মারজুক রাসেলকে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করতে দেখা যায়। উক্ত পেজের সার্বিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে এটি তার পেজ বলেই প্রতীয়মান হয়।
তবে এই পেজটিতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িয়ে সৈয়দ আবেদ আলীকে নিয়ে কোনো পোস্ট বা ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
অর্থাৎ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িয়ে সৈয়দ আবেদ আলীকে নিয়ে প্রচারিত পোস্টটি মারজুক রাসেলের নয়।
মূলত, সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) আওতাধীন ক্যাডার ও নন-ক্যাডারসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনার ঝড় বইছে। গত ৮ জুন বাংলাদেশ রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত অভিযোগে পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী ও তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান ওরফে সিয়ামসহ ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। এরই প্রেক্ষিতে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে অভিযুক্ত সৈয়দ আবেদ আলীকে নিয়ে অভিনেতা মারজুক রাসেলের বক্তব্য দাবিতে একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত এই মন্তব্যটি যে পেজ থেকে করা হয়েছে সেটি মারজুক রাসেলের আসল পেজ নয় বরং সেটি তাঁর নামে পরিচালিত একটি ফ্যান পেজ। প্রকৃতপক্ষে মারজুক রাসেল এরূপ কোনো মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, পূর্বেও বিভিন্ন ইস্যুতে একই কায়দায় অভিনেতা মারজুক রাসেলের ভুয়া মন্তব্য প্রচারের প্রেক্ষিতে বেশ কয়েকটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।
সুতরাং, অভিনেতা মারজুক রাসেলের নামে পরিচালিত ফ্যান পেজ থেকে প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে অভিযুক্ত সৈয়দ আবেদ আলীকে নিয়ে করা মন্তব্যকে মারজুক রাসেলের মন্তব্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
সাম্প্রতিক সময়ে শিশু-কিশোর ‘নিখোঁজ’ হওয়ার সংবাদ ইন্টারনেটে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে। নেটিজেনরা বলছেন তারা পূর্বের তুলনায় ইদানীং অনেক বেশি নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তির সংবাদ দেখছেন ফেসবুকে। তাছাড়া, বিষয়টি নিয়ে নানা রকম লেখালেখিও করেছেন অনেকেই। হারিয়ে যাওয়া এসব শিশুদের বেশিরভাগই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী হওয়ায় কেউ কেউ যড়যন্ত্র তত্ত্বের কথাও ভাবছেন। আলাদা আলাদাভাবে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিগুলো ফেসবুকে প্রচারিত হলেও সেই আলাদা আলাদা বিচ্ছিন্ন পোস্টগুলোর স্ক্রিনশট একসাথে করে ‘২৪ ঘণ্টায় ১০ শিশু নিখোঁজ’, ‘৪৮ ঘণ্টায় ঢাকা ও চট্টগ্রামে ৩৫ শিশু নিখোঁজ, ৭২ ঘন্টায় ঢাকাসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় ৫০ শিশু নিখোঁজ’ শীর্ষক ক্যাপশনে বিভিন্ন ফেসবুক পোস্ট হওয়ার পরই সাম্প্রতিক নিখোঁজ সংক্রান্ত বিষয়টি অনেক বেশি আলোচনায় আসে এবং বিষয়টি নিয়ে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। তবে এই পোস্টগুলো ভাইরাল হওয়ার পরপরই পুলিশ সদর দপ্তরের দেওয়া একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়— সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘শিশু নিখোঁজ’-সংক্রান্ত পোস্টগুলো পুলিশের নজরে এসেছে। এ ধরনের পোস্ট নিছক গুজব। এমন গুজবে বিভ্রান্ত বা আতঙ্কিত না হতে সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও শিশু নিখোঁজ এর বিষয়টি গুজব বলে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে৷ কিন্তু আদতে এসব নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তির পোস্টগুলো কি পুরোপুরি গুজব? তাছাড়া বিষয়টি কতটা ভয়ের? ‘খোঁজ’ নামের একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করে নিখোঁজ ঘটনাগুলোর আদ্যোপান্ত জানার চেষ্টা করেছে রিউমর স্ক্যানার।
নিখোঁজ মানুষদের খুঁজে পেতে সহযোগিতা করবে এমন একটি ডেডিকেটেড প্লাটফর্ম করার পরিকল্পনা ছিল রিউমর স্ক্যানারের। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৭ জুন অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ এবং গ্রুপ খোলার মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয় রিউমর স্ক্যানারের নতুন উদ্যোগ– খোঁজ এর। সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজ বিষয়টি বাংলাদেশে টক অফ দ্যা কান্ট্রি হওয়ায় সেই প্লাটফর্মের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার তাগিদ অনুভব হয়। যার ফলে গত ৩ জুলাই থেকে শুরু হয় খোঁজ এর কার্যক্রম। সাম্প্রতিক সময়েই দেখা যায় যে কারো নিখোঁজ পোস্টগুলো যতবেশি শেয়ার হয়, তাকে খুঁজে পাওয়ার পোস্ট ততবেশি প্রচারিত হয় না। যার ফলে খুঁজে পাওয়ার পরও নিখোঁজ পোস্টগুলো কপি-পেস্ট হতে থাকে। যা অনেকসময় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। আবার অনেকসময় নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিগুলো যাচাই করারও প্রয়োজন হয়। অপরদিকে ডেডিকেটেড কোনো গ্রুপ না থাকায় বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করতে হয় ভুক্তভোগী পরিবারকে, অনেকসময় সেগুলো অনুমোদনও করা হয়না কিংবা অনেক দেরিতে অনুমোদন করা হয়। সবমিলে লস্ট-ফাউন্ড মানুষদের জন্য একটি ডেডিকেটেড প্লাটফর্ম থাকার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যেখানে ভেরিফাইড নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি প্রচারিত হবে, নিখোঁজ কে পাওয়া গেল দ্রুত সময়ে তার আপডেটও প্রচার করা হবে এবং কাউকে কোথাও খুঁজে পাওয়া গেলে গ্রুপে পোস্ট করার মাধ্যমে তার পরিবারকে খুঁজে পেতে সহযোগিতা করা হবে। খোঁজ হবে এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে কেউ হারিয়ে গেলে যেন সবাই ‘খোঁজ’ গ্রুপে এসে খোঁজ করেন এবং কাউকে কোথাও পাওয়া গেলে সেটাও যেন খোঁজে জানানো হয়। ‘খোঁজ’ লস্ট-ফাউন্ড মানুষদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হতে চায়।
খোঁজ-এর কার্যক্রম শুরুর পর আমরা দেখতে পাই ‘নিখোঁজ’ বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে আতঙ্কের সৃষ্টি হচ্ছে। এমতবস্থায় আমাদের চোখে ভেসে উঠে তাসলিমা বেগম রেনুর নাম। সেই রেনু বেগম যিনি ২০১৯ সালের ২০ জুলাই রাজধানীর বাড্ডার একটি স্কুলে সন্তানদের ভর্তির বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে খুন হয়েছিলেন। নিখোঁজ এই আতঙ্কের মধ্যে ছেলেধরা ভীতির যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেজন্য– ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা থেকে রিউমর স্ক্যানারের ‘খোঁজ’ টিম নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিগুলো নিয়ে কেস স্টাডি করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং কেস স্টাডির মাধ্যমে হারানোর কারণগুলো ধারাবাহিকভাবে রিউমর স্ক্যানার বাংলাদেশের অফিশিয়াল ফেসবুক গ্রুপ এবং খোঁজ -এর ফেসবুক গ্রুপে প্রচার করে সচেতনতা সৃষ্টির চেষ্টা করে। কেস স্টাডি প্রচারের মাধ্যমে মূলত রিউমর স্ক্যানারের খোঁজ টিম ভীতি দূর করার চেষ্টা করে এবং এসব নিখোঁজ ঘটনার পেছনে ভয়ের কোনো কারণ পাওয়া যায়নি নিশ্চিত করে লোকজনকে আশ্বস্ত করে। রিউমর স্ক্যানারের খোঁজ টিম গত দুই সপ্তাহে হারানোর পর ফেসবুকে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি পোস্ট হয়েছে এবং পরবর্তীতে খুঁজে পাওয়া গেছে এমন ৬০টিরও বেশি নিখোঁজর ঘটনার ওপর কেস স্টাডি করেছে এবং নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করেছে। এ প্রতিবেদনে থাকছে সেই ৬০টি ঘটনারই কেস স্টাডি, তাদের হারিয়ে যাওয়ার পিছনের কারণ।
নিখোঁজ কেস স্টাডি– খোঁজ এর প্রথম অ্যাসাইনমেন্ট
শিশু-কিশোর নিখোঁজের বিষয়টি ফেসবুকে অনেক বেশি আলোচিত হওয়ার মাধ্যমে একরকম ভীতি সৃষ্টি হওয়ায় এবং যড়যন্ত্র তত্ত্বের বিষয় চলে আসায় খোঁজ টিম ‘নিখোঁজ কেস স্টাডি’ প্রকাশ শুরু করে৷ রিউমর স্ক্যানার এর অফিশিয়াল ফেসবুক গ্রুপ এবং খোঁজ- এর ফেসবুক গ্রুপে ধারাবাহিকভাবে কেস স্টাডিগুলো প্রচার করা হয়। এখন পর্যন্ত ২০টির মতো কেস স্টাডি ফেসবুকে প্রকাশিত হয়েছে, ধারাবাহিকভাবে আরও কিছু পোস্ট করা হবে। আজকের এই রিপোর্টে থাকছে এমন ৬০ টি ঘটনার বিস্তারিত কেস স্টাডি।
‘খোঁজ’ টিম ফেসবুক নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি প্রচারিত হয়েছে এবং পরে খুঁজে পাওয়া গেছে এমন বিষয়গুলো নিয়ে অনুসন্ধান করেছে। নিখোঁজ দাবির এই শিশু-কিশোররা কিভাবে হারিয়েছিল বা হারানোর কারণগুলো জানার চেষ্টা করেছে। এ প্রক্রিয়ায় নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিগুলোতে পরিবারের সাথে যোগাযোগের জন্য দেওয়া মোবাইল নাম্বারেই যোগাযোগ করে হারানোর কারণ অনুসন্ধান করেছে ‘খোঁজ’ টিম। কিছু ক্ষেত্রে ফেসবুক পোস্টে কিংবা পোস্টের কমেন্টবক্সেও হারানোর কারণ পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, এই রিপোর্টে উল্লেখিত হারানোর কারণসমূহ হারিয়ে যাওয়া শিশু-কিশোরদের পরিবারের বক্তব্যের ভিত্তিতেই তৈরি করা হয়েছে।
নিখোঁজের খবর প্রচারের মাধ্যম ফেসবুক
গত জুন মাস থেকে ধীরে ধীরে আলোচিত হয়ে জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই ফেসবুকের মাধ্যমে ট্রেন্ডিংয়ে আসে নিখোঁজ ইস্যু। এ সময়টায় ফেসবুকে তুলনামূলক বেশি নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি প্রচার হতে দেখা যায়। যা নিয়ে ফেসবুকে অনেক বেশি লেখালেখি হওয়ার ফলে অনেকের মাঝেই ভীতি ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। এর আগে কেউ নিখোঁজ হতো না কিংবা নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি ফেসবুকে পোস্ট হতো না বিষয়টি ঠিক এমনও নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নিখোঁজ পোস্ট বেশি দেখার কারণ সম্ভবত বিষয়টির আলোচনায় আসা। আগে বিচ্ছিন্নভাবে নিখোঁজ পোস্টগুলো হওয়ায় তা তেমন আলোচনায় আসেনি। তবে এবার আলাদাভাবে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তির পোস্টগুলো প্রচার হওয়ার পাশাপাশি ‘২৪ ঘন্টা’ বা ‘৪৮ ঘন্টায়’ শীর্ষক বাক্যগুলো যুক্ত করে বিভিন্ন নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তির পোস্ট এর স্ক্রিনশট একসাথে প্রচার হওয়ায় এবং এগুলো খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি ব্যাপক আলোচনায় চলে আসে। এ ধরনের পোস্ট ভাইরাল হওয়ার ফলে আরও অনেকেই ‘নিখোঁজ’ কিংবা ‘হারানো বিজ্ঞপ্তি’ লিখে সার্চ করেছেন, নিখোঁজ সম্পর্কিত পোস্টে লাইক-কমেন্ট-শেয়ার করেছেন, যার ফলে ফেসবুক অ্যালগরিদমও বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের আগ্রহ দেখে এ সম্পর্কিত পোস্ট আরও বেশি পরিমাণে নিউজফিডে দেখিয়ে থাকতে পারে।
আবার বাস্তবিকভাবেও ফেসবুকে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি প্রচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। আগেকার দিনে কোনো শিশু হারিয়ে গেলে ওই এলাকা ও তার আশপাশে মাইকিং, পোস্টারিং করা হতো। ফলে অন্য জেলা বা উপজেলার মানুষের ওই নিখোঁজ সংবাদের বিষয়টি জানার তেমন সুযোগ ছিল না। তবে বর্তমান সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যেই ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ বা পেজে প্রচার হয়ে অধিকসংখ্যক মানুষের কাছে পৌছে যাচ্ছে। আবার এসব পোস্ট মানুষজন সাধারণত মানবিক দায়িত্ব থেকে শেয়ার করে থাকেন। যার ফলে আগের মতো এখন আর একটি নিখোঁজ ঘটনা একটি এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, এটি দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
নিখোঁজ কেস স্টাডি নিয়ে কাজ করার সুবাদে অভিভাবকদের সাথে কথা বলে ফেসবুকে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টিও উপলব্ধি করেছি আমরা। চট্টগ্রামের এক অভিভাবক জানিয়েছেন যে, তাদের সন্তান এর আগেও একবার হারিয়ে গিয়েছিল। তবে ফেসবুকে পোস্ট দেয়ার কিছুক্ষণ পরেই তাকে পাওয়া যায়। তাই এবার হারানোর সাথে সাথেই (ভালোভাবে না খুঁজে) ফেসবুকে পোস্ট করেন তিনি। সন্ধায় তার মামা তাকে বাড়ির আশেপাশেই খুঁজে পায়। অন্তত দুটি ঘটনায় আমরা এরকম বিষয় দেখেছি যে, দুজন শিশু যথাক্রমে বাসার স্টোররুম এবং গোয়ালঘরে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল। কিছুক্ষণ খোঁজাখুজি করে না পাওয়ায় তাদের বিষয়েও ফেসবুকে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করা হয়।
সন্তানকে খুঁজে না পাওয়া গেলে বাবা-মায়েরা ভীষণ উদ্বেগের মধ্যে থাকে। এ সময় মানসিকভাবেও তারা কিছুটা দূর্বল থাকে। তাই অল্প সময় খোঁজাখুঁজি করে না পাওয়া গেলে খুব দ্রুতই তারা ফেসবুকে পোস্ট করার সিদ্ধান্ত নেন কিংবা পরিবারের তরুন সদস্যরা ফেসবুকে পোস্ট করে দেন। ফেসবুকে পোস্ট করা যেমন সহজ, এর মাধ্যমে অল্প সময়েই নিজ ও পার্শ্ববর্তী এলাকার অধিকসংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো যায়। ফলে নিখোঁজ বিজ্ঞাপন প্রচারের একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যমও হয়ে উঠেছে ফেসবুক।
আমাদের অনুসন্ধানে দেখা যায়, হারানোর পর খুঁজে পাওয়া গেছে এমন শিশু-কিশোরদের মধ্যে অধিকাংশই হারানোর একইদিনে অথবা পরের দিনে খুঁজে পাওয়া যায়। ফেসবুকে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি প্রচারের অন্যতম একটি সমস্যা হলো অনেকসময় কাউকে খুঁজে পাওয়ার পরও নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তির পোস্টটি কপি-পেস্ট হয়ে প্রচার হতে থাকে। মূলত পোস্টটি নতুন নতুন মানুষের কাছে যাওয়ায় এবং তারা খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে অবগত না থাকায় এমনটা হচ্ছে। এজন্য নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়ার পর দ্রুততম সময়েই নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি সম্বলিত পোস্ট এডিট করে শুরুতেই খুঁজে পাওয়ার আপডেট যুক্ত করে দেয়া কিংবা নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তির পোস্ট ডিলিট করে যেসকল প্লাটফর্মে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিটি প্রচারিত হয়েছিল সেসব স্থানে নতুন পোস্টে খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি জানানোও জরুরি।
যেভাবে আলোচনায় নিখোঁজ ইস্যু
নিখোঁজ ইস্যুটি এবার যেভাবে আলোচনায় আসে তা যদি আমাদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে সহজভাবে বলা যায়— কোনো একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী ‘নিখোঁজ’ কিংবা ‘হারানো বিজ্ঞপ্তি’ কিওয়ার্ডটি লিখে ফেসবুকে সার্চ করে দেখতে পান ওইদিনে অনেকগুলো নিখোঁজ এর পোস্ট হয়েছে। তারপর তিনি সেসব পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে একসাথে একটি পোস্টে সংযুক্ত করে চারপাশে অনেক বেশি নিখোঁজ হচ্ছে, হঠাৎ এমন বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ তুলে ধরে ফেসবুক পোস্ট করেন। একইভাবে আরও অনেকে ফেসবুকে সার্চ করে স্ক্রিনশট নিয়ে এভাবে পোস্ট করেন। যা পরবর্তীতে কপি-পেস্ট হয়ে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি, পেজ ও গ্রুপে প্রচারের মাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়। বিষয়টির আলোচনায় আসা ভীতি তৈরির পাশাপাশি সম্ভবত এ সময়টায় নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি পোস্টের প্রবণতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রেখেছে। আমরা অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখেছি অনেকসময় একজনকে কয়েক ঘন্টা পাওয়া যায়নি, সেজন্যও নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি পোস্ট হয়েছে। হারানো শিশুদের মধ্যে অধিকাংশই মাদ্রাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থী হওয়ায় অনেকে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্বও লিখেছে। সর্বোপরি অতি আলোচনায় আসায় বিষয়টি নিয়ে ভীতির সৃষ্টি হয়েছে।
শিশু-কিশোর নিখোঁজের বিষয়টি কি গুজব?
পুলিশ হেডকোয়ার্টারের বিবৃতিসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে শিশু নিখোঁজের আলোচিত বিষয়টিকে ঢালাওভাবে গুজব হিসেবে উল্লেখ করা হলেও বিষয়টি এমন নয়। এটি সত্য যে নিখোঁজের এই অতি আলোচনা এবং ফেসবুকে এর পিছনে ষড়যন্ত্র তত্ত্ব খোঁজার বিষয়গুলো অতিরঞ্জিত এবং বিভ্রান্তিকর। কিংবা খুঁজে পাওয়ার পরও অনেক নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি কপি-পেস্ট হয়ে প্রচারিত হওয়ার বিষয়টিও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। তবে বিষয়টিকে ঢালাওভাবে গুজব বলা যায় না। রিউমর স্ক্যানারের খোঁজ টিম ৬০টিরও বেশি নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তির পোস্ট এবং তাদের খুঁজে পাওয়ার আপডেটের পোস্ট দেখেছে, তাদের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছে তাদের সন্তানের নির্দিষ্ট একটি সময়ের জন্য খোঁজ না পাওয়ার বিষয়টি সত্য এবং খোঁজাখুঁজি করে না পাওয়ার ফলেই মূলত তারা ফেসবুকে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করেছেন। খোঁজ টিমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে সাম্প্রতিক সময়ে হারানোর পিছনে বড় কারণ মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের না বলে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে লুকিয়ে থাকা কিংবা কোনো আত্মীয়ের বাসায় চলে যাওয়া। অন্যতম আরেকটি কারণ হলো না বলে ঘুরতে যাওয়া কিংবা ঘুরতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া।
অপরদিকে শিশু অপহরণ কিংবা শিশু পাচারের ঘটনা কিন্তু সংবাদপত্রে নিয়মিত দেখা যায়। আমাদের অনুসন্ধানে এরকম দু-তিনটি ঘটনা দেখা গেছে যেখানে অপহরণ চেষ্টা করা হয়েছিল। তাই ঢালাওভাবে নিখোঁজ ঘটনাগুলোকে গুজব হিসেবে চিহ্নিতের চেয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং এসব হারানোর ঘটনার পিছনে যে কারণ সেগুলোতে ভয়ের কিছু নেই বলে প্রচার করে আশ্বস্ত করাই শ্রেয়।
৬০টি নিখোঁজ ঘটনার কেস স্টাডির বিশ্লেষণ– মাদ্রাসা পলায়নই হারানোর সবচেয়ে বড় কারণ
সাম্প্রতিক সময়ে হারানো শিশু-কিশোরদের মধ্যে দেখা গেছে অধিকাংশই মাদ্রাসা শিক্ষার্থী, নির্দিষ্ট করে তাদের অধিকাংশই হাফেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। ৬০টি নিখোঁজ ঘটনার মধ্যে অন্তত ৪৫টি মাদ্রাসা সম্পর্কিত। এদের মধ্যে ৩০ জন সেচ্ছায় নিরুদ্দেশ হয়েছে। যাদের পরবর্তীতে এক থেকে পাঁচ দিনের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া গেছে। হারানোর দুই দিনের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া গেছে সবচেয়ে বেশি। মাদ্রাসায় পড়াশোনার চাপ, ঠিকমতো পড়াশোনা না করায় শিক্ষকের কড়া শাসন তাদের নিরুদ্দেশ হওয়ার অন্যতম কারণ। অভিভাবকরাও এমনটাই বলছেন। এসব বাচ্চার অভিভাবকরা বলছেন তাদের বাচ্চা অমনোযোগী হওয়ায় শিক্ষকরা শাসন করেন এবং পড়ার চাপ দিলে তারা পালিয়ে যায়। এসব ঘটনার কেস স্টাডিতে দেখা গেছে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীরা পালিয়ে কোনো আত্মীয়ের বাসায় যায় কিংবা আশেপাশের কোনো স্টেশন, বাজার কিংবা মসজিদে গিয়ে আত্মগোপন করে থাকে। কেউ কেউ ট্রেন বা বাসে করে অন্য কোথাও চলে যায়। এমনকি দুটো ঘটনায় দেখা গেছে দুজন শিক্ষার্থী পালিয়ে যাওয়ার পর দোকানের কাজে যুক্ত হয়েছে। যারা আত্মীয়ের বাসায় যায় কিংবা আশেপাশে লুকায় তাদের হারানোর দিন কিংবা দু-এক দিনের মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যায়।
এসব শিশু-কিশোরদের হারানোর অন্যতম আরেকটি কারণ পরিবারকে না বলে ঘুরতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া। অন্তত ১২টি ঘটনায় হারানোর পেছনের কারণ হিসেবে এমনটি জানা গেছে। যেমন, সিয়াম ও রিয়ান নামের দুই সহপাঠী লক্ষ্মীপুর থেকে সামান্য কিছু টাকা নিয়ে কাউকে কিছু না বলে কক্সবাজারে বেড়াতে যায়। তাদের খুঁজে না পেয়ে পরিবার দুশ্চিন্তায় পড়ে। দেয়া হয় ফেসবুকে তাদের নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি। পরবর্তীতে কক্সবাজারে দিক বিদিক ঘুরতে থাকা সিয়াম ও রিয়ানকে এক ভদ্রমহিলা তার বাসায় নিয়ে যান, খাওয়ান এবং ওদের থেকে মোবাইল নাম্বার নিয়ে বাসায় ফোন করে দেন। এভাবে তাদের সন্ধান পাওয়া যায়।
অন্তত চারটি ঘটনায় বাবা-মায়ের সাথে অভিমান করে বাড়িতে চলে গিয়ে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা দেখা গেছে। চট্টগ্রামের সিয়াম আকন বাবার বকাঝকায় অভিমান করে বাসা থেকে বের হয়ে অপরিচিত জায়গায় চলে যায়। অনেক চেষ্টায় ৬দিন পর সিয়ামকে খুঁজে পায় তার পরিবার।
সিলেটের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আফজাল হোসেন মাদ্রাসা থেকে বাসায় ফেরার পথে অটোরিকশায় ওঠে। এসময় অটোচালক তাকে কোমল পানীয় খাওয়ালে সে অজ্ঞান হয়ে যায়। এর মধ্যে আফজলকে সিলেট শহরে নিয়ে যায় অটোচালক এবং তার কাছে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে নেয়। এরপর তাকে সিলেট শহরের একটি জায়গায় নামিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এক দোকানে গিয়ে আফজাল তার পরিবারকে কল দেয় এবং ওইদিনই তাকে খুঁজে পায় তার পরিবার। এরকম অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ে হারিয়ে গিয়েছে এমন অন্তত ০৪টি ঘটনা দেখা গেছে।
চট্রগ্রামের মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মুন্সি জায়েদ আব্দুল্লাহ নিখোঁজ হয়েছিল। পরবর্তীতে তাকে খুঁজে পাওয়ার পর জানা যায় মাদ্রাসায় যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে রাস্তায় গাড়ীর জন্য দাঁড়িয়ে থাকলে এক সিএনজি চালক তাকে মাদ্রাসায় নামিয়ে দিবে বলে ইচ্ছার বিরুদ্ধে গাড়ীতে তুলে নেয়। এসময় তাকে ভিন্ন রাস্তায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে জায়েদ আব্দুল্লাহ জোরে চিৎকার শুরু করেন। ফলে কালোশার্ট পরিহিত সিএনজি চালক তাকে নামিয়ে দিতে বাধ্য হন। এরকম অপহরণ চেষ্টার অন্তত ২টি ঘটনা দেখা গেছে।
এছাড়াও আরও ০৯টি হারানোর ঘটনা রয়েছে যেগুলো ‘অন্যান্য’ তে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ৯টি ঘটনার মধ্যে রয়েছে কল্পনা নামের এক কিশোরী গৃহকর্মীর বাসার কর্তার কাছে নির্যাতনের শিকার হয়ে পালিয়ে গিয়ে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা ও বাসার স্টোররুম, গোয়ালঘরে ঘুমিয়ে পড়া কিংবা গোসল না করায় মা মারতে পারে সেই ভয়ে শিশুর বাসার পিছনে লুকিয়ে থাকার মত ঘটনা।
নিখোঁজ কেস স্টাডি যা বলছে
উল্লেখিত ৬০টি নিখোঁজের ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায় বেশিরভাগ ঘটনাই মূলত সেচ্ছায় পলায়নের কিংবা ঘুরতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়ার। মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা বেশি হারালেও তাদের অধিকাংশকেই দ্রুত সময়েই পাওয়া গেছে। এসব ক্ষেত্রে নিজে থেকে লুকানো, ঘুরতে গিয়ে হারিয়ে যাওয়া, অভিমান করে চলে যাওয়া ইত্যাদি কারণই উল্লেখযোগ্য। এর পেছনে আদতে কোনো সংঘবদ্ধ চেষ্টা কিংবা ষড়যন্ত্র পাওয়া যায়নি। অজ্ঞান পার্টি, শিশু অপহরণ কিংবা পাচারের ঘটনা যেহেতু পত্রিকার পাতায় নিয়মিত দেখতে পাওয়া যায় তাই এ বিষয়ে সবসময় সতর্ক থাকা উচিত এবং বাচ্চাদেরও সচেতন করা উচিত।
সর্বোপরি, যুক্ত হতে পারেন রিউমর স্ক্যানারের নতুন উদ্যোগ ‘Khoj- নিখোঁজের খোঁজে’ ফেসবুক গ্রুপে। খোঁজ এর অফিশিয়াল ওয়েবসাইট চালুর কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে যার ইউআরএল – khoj.news
৬০টি নিখোঁজ ঘটনার তালিকা ও বিস্তারিত
যেহেতু সকল মোবাইল নাম্বার নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত পাবলিক পোস্ট থেকে পাওয়া গেছে, তাই বিস্তারিত তালিকায় না মুছেই নাম্বারগুলো উল্লেখ করা হয়েছে।
হারানোর কারণ: হাফিজি মাদ্রাসায় পড়াশোনা ভালো না লাগায় অন্য এক ছাত্রের সাথে মাদ্রাসা ছেড়ে চলে যায়। পরে নিখোঁজ ব্যক্তির বাবার ফেসবুক ফ্রেন্ডের মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায়।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন আল ইয়াশা জেদনী এর পিতা আলি হোসাইন মনির, 01818751275)
হারানোর কারণ: ঈদের ছুটি শেষে গত ২৭ জুন মাদ্রাসায় ফেরার সময় বাস তাদের ভুল জায়গায় নামিয়ে দেয়। তারা সময়মত মাদ্রাসায় না পৌঁছালে ফেসবুকে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করা হয়। পরে তারা নিজেরাই চলে আসে।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন তাদের শাহীন নামের এক চাচা, 01714204814)
হারানোর কারণ: গত ৬ জুলাই সকাল ৬টার সময় বাড়ির পাশের মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যায়। ওদের কাছে ৩০০ টাকা ছিলো সেগুলো শেষ হয়ে যাওয়া অবধি তারা দুই বন্ধু ঘোরাঘুরি করে। এরপর এক আত্মীয়ের বাসায় উঠে। পরেরদিন সকালে তাদের খুঁজে পায় পরিবার।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন মুরাদের বড় ভাই ওয়াহিদুল হাসান ফরহাদ, ০১৭৪৭২৮০৪৬৭)
হারানোর কারণ: সে আর পড়ালেখা করতে চায় না, মাদ্রাসায় যেতে চায় না, তাই গত ৩ জুলাই কাউকে কিছু না বলে পালিয়ে নানা বাড়ি চলে যায়। যতক্ষণে জানা যায় তার আগেই ফেসবুকে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন আব্দুল্লাহ মাসুদের মা আম্বিয়া বেগম, 01595025903)
হারানোর কারণ: গত ৩০ জুন বাসা থেকে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মাদ্রাসা না গিয়ে কাউকে কিছু না বলে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরবর্তীতে কক্সবাজার না গিয়ে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাট থেকে ফিরে আসে। এরমধ্যে সে ১ তারিখ দিন ও রাত ওই এলাকার আশেপাশেই বিভিন্ন মসজিদ ও দোকানে ঘুরাফেরা করে। ২ জুলাই নিজে থেকেই মাদ্রাসায় ফিরে আসে।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন, ফজলুল হক, সম্পর্কে বাবা, 01823843802)
হারানোর কারণ : বাড়ি থেকে মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয় কিন্তু মাদ্রাসায় পড়বে না বলে সেখানে না গিয়ে পরবর্তীতে বাসের টিকিট কেটে চট্টগ্রাম শহরে চলে যায়। সেখানে এক লোক তাকে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে দেখে পুলিশ বক্সে নিয়ে যায়। তার নিখোঁজ হওয়ার সাথে সাথে থানায় জিডি করে রাখায় পুলিশ সরাসরি পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন বড়ভাই মোঃ মিজান উদ্দিন, 01812442246)
হারানোর কারণ : মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে বের হয়ে মাদ্রাসা না গিয়ে অন্য কোথাও চলে যায়। তাকে খুঁজে না পেয়ে নিখোঁজ বিজ্ঞাপন পোস্ট করা হয়। পরের দিন ফুফুর বাসায় পাওয়া যায়।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন, জিহাদের খালু মিজানুর রহমান, নাম্বার: 01818362007)
হারানোর কারণ : মাদ্রাসায় পড়াশোনা করবে না বলে বাবা-মায়ের সাথে ঝগড়া করে। তাই পরবর্তীতে ছেলের ইচ্ছে অনুযায়ী সাধারণ বাংলা মিডিয়াম স্কুলে ভর্তি করা হয়। এরপর স্মার্টফোন কেনা নিয়ে পুনরায় ঝগড়া করে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে বন্ধুদের সাথে চট্টগ্রাম শহরে চলে যায়। পরবর্তীতে সে আমার সাথে যোগাযোগ করে আমার বাসায় আসলে আমি তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেই।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন সিহামের খালাতো ভাই, মঈন উদ্দিন, 01874871627)
হারানোর কারণ : বাবা-মায়ের সাথে ঝগড়া করে কাউকে কিছু না বলে কাকির বাসায় চলে যায়। তাকে খুঁজে না পেয়ে নিখোঁজ পোস্ট করা হয়। পরে কাকির বাসায় পাওয়া যায়।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন সাইদুল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই, নাম্বার: 01836273834)
হারানোর কারণ : ঠিকমতো পড়েনি। যার ফলে মাদ্রাসা শিক্ষক বকে ও শাস্তি দেয়। তাই অভিমান/ রাগে ঢাকা চলে যায়। পরবর্তীতে উপলব্ধি করার পর বাসে করে নিজেই বাসায় ফেরে।
হারানোর কারণ – বাবা বকাঝকা করায় সিয়াম বাসা থেকে বের হয়ে যায়। অপরিচিত জায়গায় চলে গেলে হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে, নিখোঁজের ৬ দিন পর চট্টগ্রামের লালদীঘি এলাকায় তাকে খুঁজে পাওয়া যায়।
(স্টেটমেন্ট প্রদানকারীর নাম মামুন আকন, সিয়ামের পিতা, ০১৯৯১২০৪৮৫৭)
হারানোর কারণ – ফাহিম একজন হাফেজি বিভাগের ছাত্র, পড়ালেখার প্রতি তার অমনোযোগী এবং হাফেজী পড়া তার জন্য একটু কঠিন, এবং তার উস্তাদ একটু শাসন করেছিল, এই জন্য সে গত ৬ জুলাই সকালে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে ট্রেনে করে গফরগাঁও থেকে কমলাপুর চলে যায়। পরে সিলেটের ট্রেনে উঠলে এক ভদ্রলোক তাকে ময়মনসিংহের লোকাল ট্রেনে উঠিয়ে দেয়। এভাবে তাকে ১ দিন পর পাওয়া যায়।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন মা সাবিনা ইয়াসমিন, এবং ফাহিমের দুলাভাই।)
হারানোর কারণ – দোকানে যাওয়ার কথা বলে মাদ্রাসা থেকে বের হয়। হাতে টাকা থাকায় ঘুরতে চলে যায়। পরে একদিন পর খুঁজে পাওয়া যায়। বর্তমানে মাদ্রাসাতেই আছে।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন কাওছার আহমেদ, রেজওয়ানের মাদ্রাসার শিক্ষক, ফোন- 01718455778)
হারানোর কারণ : বাসা থেকে মাদ্রাসায় খাবার নিয়ে যাওয়ার পথে মাদ্রাসা না গিয়ে হারিয়ে যায়। গত ৩ জুলাই একটি রেস্টুরেন্টে কাজে জয়েন করে। ওই রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে ফাহিমের নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি দেখতে পেয়ে তার বাসায় যোগাযোগ করে। এভাবে ফাহিমকে ৮ দিন পর খুঁজে পাওয়া যায়।
হারানোর কারণ : বাসার বিল্ডিংয়ের স্টোররুমে একা ঘুমিয়ে পড়েছিল। কাউকে না বলে ওখানে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ায় এবং অনেকক্ষণ খুঁজে না পাওয়ায় দুশ্চিন্তার সৃষ্টি হয়েছিল। পরে তাকে পাওয়া যায়।
(সূত্র: আলভির পিতাকে ট্যাগ করে দেয়া ফেসবুক পোস্ট)
হারানোর কারণ : বাসা থেকে কোয়ার্টার কিলোমিটার দূরে মাদ্রাসা। সকালে একবার মাদরাসায় দিয়ে আসলে সে বাসায় চলে আসে, ওর আম্মু বকা দেয়। পরবর্তীতে আবার ওর আব্বু দিয়ে আসতে যাওয়ার জন্য রেডি হতে হতে ও রাস্তায় গিয়ে দাঁড়ায়। রাস্তায় একটি সিএনজি আসে এবং এক কালো শার্ট পরিহিত ব্যক্তি মাদ্রাসার সামনে নামিয়ে দিবে বলে জোর করে তুলে নিয়ে ভিন্ন রাস্তায় গাড়ি নিয়ে যায়। এটা দেখে জোরে কান্নাকাটি শুরু করলে তাকে পথে নামিয়ে রেখে চলে যায়।
(সূত্র: জায়েদ আব্দুল্লাহর ভিডিও স্টেটমেন্ট, প্রতিবেশী রবি, সেনবাগ এর স্টেটমেন্ট ও ফেসবুক পোস্ট)
হারানোর কারণ : দুইজনই একসাথে মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে৷ মাদ্রাসা ফাঁকি দিয়ে ঘুরতে যায় গত ৩০ জুন। পরবর্তীতে ভয়ে আর মাদ্রাসায় ফেরেননি। তবে একইদিনে সন্ধার পর খুঁজে পাওয়া যায়।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন, চাচা মোহাম্মদ শাহ আলম, 01884587257)
হারানোর কারণ: ঈদের ছুটির পর বহুদিন মাদ্রাসায় যায়নি আরাফাত। গত ৭ জুলাই ভোরে তাকে মাদ্রাসায় পাঠানোর জন্য ঘুম থেকে তুললে একটু পর রুমে গিয়ে তাকে আর পাওয়া যায়নি। পরে ঐদিন বিকেলে এক ব্যক্তি আরাফাতকে কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখতে পেয়ে ছবি তুলেন। পরবর্তীতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সহায়তায় ৯ জুলাই আরাফাতকে খুঁজে পায় তার পরিবার।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন সাইফুল আলম রিফাত, আপন ভাই, 01764867436)
হারানোর কারণ: সন্ধ্যার পর নাহিদ বাড়ির পাশে গোয়াল ঘরে যায় এবং ওখানেই ঘুমিয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর পরিবারের সবাই তাকে খুঁজে না পেয়ে এলাকায় মাইকিং করে, ফেসবুকে পোস্টও হয়। এর কিছু সময় পর নাহিদ বাসায় আসে।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন পিতা মো: সাহিরুল ইসলাম , 01781762411)
হারানোর কারণ: গত ৩০ জুন মাদরাসা থেকে সকাল বেলা বাড়িতে নাস্তা করতে আসার পর মাদরাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। কিন্তু পরিবার জানতে পারে সে মাদরাসায় যায়নি। থানায় জিডি ও অনেক খোঁজার পর গত ৯ জুলাই এক ভদ্রলোকের মাধ্যমে জানতে পারে শহরের (নতুন ব্রিজেরে আশেপাশে) এক নতুন কুলিং কর্ণারে জব করে । খবর পেয়ে ছেলের বড় ভাই সেখান থেকে ছেলেটাকে নিয়ে আসে। (বন্ধুদের প্ররোচনায় সে বাড়ি থেকে পালিয়ে কুলিং কর্ণারে জব করে বলে তার ভাই জানায়)
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন বড় ভাই ওসমান গনি, মোবাইল- ০১৮৭৩১৬৫২৮০)
হারানোর কারণ : মুন্তাহার বাবা-মা হজে যাওয়ায় তাকে এবং তাদের বাসার কাজের মেয়ে শারমিনকে চাচার বাসায় (চকবাজার, চট্টগ্রাম) রেখে যাওয়া হয়। গত ০৩ জুলাই বিকেলে কাজের মেয়ে শারমিন মুন্তাহাকে তার চাচার বাসা থেকে (চকবাজার, চট্রগ্রাম) থেকে কাউকে কিছু না বলে নিজের বাড়ী বাঁশখালীতে নিয়ে যায়। ওইদিন মুন্তাহাকে খুঁজে না পাওয়ায় চকবাজার থানায় জিডি করে তার পরিবার। পরেরদিন সকালে শারমিনের পরিবার থেকে ফোন আসলে তাকে খুঁজে পাওয়া যায়।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন মুন্তাহার বাবা এবং চাচা, 01711117786)
হারানোর কারণ: সাধারণত বন্ধুদের সাথে মেশে না কিন্তু সেদিন কাউকে না বলে স্কুলে যাওয়ার পর প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তারই এক বন্ধুর বাসায় বন্ধুর সাথে চলে যায়। পরবর্তীতে সন্ধ্যার পর পর নিজেই বাড়িতে ফিরে আসে।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন সাঈদের চাচা, ফোন : 01321064469)
হারানোর কারণ : হেফজ মাদ্রাসার চাপের কারণে সেখান থেকে পালিয়ে ঢাকা চলে যায়। করোনার পূর্বে বাবার কর্মস্থল ঢাকা হওয়ায় সেদিকটা তার চেনা ছিল, তাই বেনাপোল থেকে পালিয়ে সরাসরি ঢাকা চলে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে নিজের ভুল বুঝতে পেরে সেদিন রাতেই বরিশাল নানী বাড়ি চলে যায়। সেখান থেকে তাকে পরে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন, দূরসম্পর্কের চাচা, যার নাম্বার নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তিতে ছিল, 01719919782)
হারানোর কারণ : কল্পনা মিরপুরেের একটি বাসায় কাজ করতো। বাসার কর্তা কল্পনার চুল কেটে দেয়। পরে গত ২১ জুন সে ওই বাসা থেকে পালিয়ে যায়। পরে আরেক মহিলা তাকে রাস্তায় পেয়ে তার বাসায় নিয়ে যায় এবং কাজ করতে বলে। কিন্তু সে কাজ করবে না বললে ৯ দিন আটকে রাখা হয় । এরপর ওই বাসা থেকে পালিয়ে আসে। রাস্তায় আরেক মহিলা তাকে কান্নারত অবস্থায় দেখে জিজ্ঞেস করে কী হয়েছে? বিস্তারিত বলার পর তাকে তার নানার বাড়ি নেত্রকোনার গাড়িতে তুলে দেয়৷ ১১ দিন পর গত ২ জুলাই তাকে পাওয়া যায়।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন কল্পনার চাচা মো: সাদ্দাম, মোবাইল : 01321383818)
হারানোর কারণ : আফজাল মাদ্রাসা থেকে আসার পথে অটোরিকশায় ওঠে। অটো চালক তাকে কোমল পানীয় খাওয়ায় এবং সে অজ্ঞান হয়ে যায়। এর মধ্যে আফজলকে সিলেট শহরে নিয়ে যায় অটোচালক এবং তার কাছে থাকা টাকা-পয়সা নিয়ে নেয়। এরপর তাকে সিলেট শহরের একটি জায়গায় নামিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এক দোকানে আফজাল গিয়ে পরিবারকে কল দেয় এবং ওইদিনই তাকে খুঁজে পায় তার পরিবার।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন আফজলের বাবা মুহা. মোতালিব হোসেন, মোবাইল : 01719984372)
হারানোর কারণ : ৫৪ ঘন্টা পর খুঁজে পাওয়া গেছে। নিজে পালিয়ে যায়। জিনের সমস্যা আছে বলে পরিবার থেকে জানানো হয়েছে। নিজে থেকে আগেও একবার হারিয়ে গিয়েছিল।
সূত্র : আব্দুল্লাহ রাহীমের বোনের ফেসবুক পোস্ট ও কমেন্টস)
হারানোর কারণ : উত্তরায় নিজ মাদ্রাসা থেকে বিমান বন্দর এলাকার খালার বাসায় যায় । খালার বাসা থেকে আর মাদরাসায় ফেরেনি। বুধবার থেকে তার আর কোনো খোঁজ না পাওয়ার পর শুক্রবার বিমানবন্দর স্টেশন এলাকায় মাদ্রাসার ছাত্ররাই খুঁজে পায়।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন রাফির খালাতো ভাই আসিফ ইকবাল প্রিন্স, 01640828775)
হারানোর কারণ : মাদ্রাসার শিক্ষক মারার কারণে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়িতে না গিয়ে আমাদের বাড়ি অর্থাৎ ওর মামা বাড়ি চলে আসে। সকালবেলা মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে আমাদের এখানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। বিষয়টি আমাদের জানা ছিল না তাই আমরা তার সন্ধানে খোঁজাখুঁজি চালাই এবং ফেসবুকেও পোস্ট করি।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন তামিমের মামা ইমরান, নাম্বার: 01648825113)
হারানোর কারণ : তার মা জানান, বাড়ি থেকে একা একা মাদ্রাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল মাঝ পথে হারিয়ে যায়। পরবর্তীতে নিজেই বাড়িতে ফিরে আসে। অপরদিকে তাকে নিয়ে দেয়া এক ফেসবুক পোস্টে বলা হয়েছে, মাদরাসা থেকে পালিয়ে নিজ ইচ্ছায় আত্নগোপনে ছিলো।
হারানোর কারণ : পেশায় চক্ষু চিকিৎসক মনির হোসেন তার এক রোগীর আত্মীয়ের সাথে একটি রেস্টুরেন্টে দেখা করতে যান। সেখানে তার জুসে ঘুমের ঔষধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে মোবাইল, টাকা, কার্ড ইত্যাদি নিয়ে তাকে একটি হোটেলে রেখে চলে যাওয়া হয়। পরে জ্ঞান ফিরলে তিনি নিজেই বাসায় ফেরেন।
কারণ: নিজে নিজে চট্টগ্রাম চলে গিয়েছিল। সেখানে একজন তাকে দেখে তার নিজের কাছে রাখেন। পরবর্তীতে সেই ব্যক্তি তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করলে ফিরে পাওয়া যায়।
হারানোর কারণ : গোসল করতে না যাওয়ায় মা মারতে পারে ভেবে ভয়ে পাশের বাড়ির বেড়ার চিপাই লুকিয়ে থাকে। রাতের দিকে সবাই মিলে তাকে খোঁজাখুঁজি করার সময় সেখানে লাইট পড়লে তাকে দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু অনেকেই বিষয়টিকে ভুত এবং জ্বীনের সাথে মিলিয়ে ফেলছে। তারা বলছেন হয়তো জ্বীনে ধরেছে তাই ওখানে গিয়ে ছিল।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন চাচাতো ভাই সুজন, 01623481196)
হারানোর কারণ : চিকিৎসার জন্যে গ্রাম থেকে ঢাকায় আসেন। প্রথম ঢাকায় আসা এবং ঠিকানা ভুলে যাওয়ার স্বভাবের কারণে বিকেলে মসজিদের নামাজ পড়তে গিয়ে বাসা চিনে আর ফিরে আসতে পারেননি। এজন্যে রাতে এলাকারই একটি মসজিদে ঘুমিয়েছিলেন। পরবর্তী দিনে সকালেতাকে খুঁজতে বের হয়ে মসজিদের বাইরে তাকে দেখতে পাই।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন ভাতিজা ফাইয়াজ খালিদ সোহান, নাম্বার: 01736786689)
হারানোর কারণ: সোমবার বিকেল ৫:৩০ এর দিকে মাদ্রাসার দিকে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে চার-পাঁচজন লোকের সাথে কথা হয়৷ এক পর্যায়ে তাদের আর কিছুই মনে থাকেনি৷ পরেরদিন রাত ১০ টার দিকে জ্ঞান ফিরে। রাস্তার পাশে নিজেদের দেখতে পান অচেতন অবস্থায়৷ পরবর্তীতে নিজেরা বাসায় ফিরে আসেন। অনেকটা মাতালের মতো অবস্থা হয়ে গিয়েছিল৷ সারাদিন টানা ঘুমিয়ে, বিশ্রাম নিয়ে এখন অবস্থা ভালো। অজ্ঞান/অচেতন হওয়ার পর তাদের টাকা চুরি হয়েছে। একজনের বয়স ১৭, আরেকজনের ২১।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন তাদের বাবা শফিউল্লাহ, 01716600781)
হারানোর কারণ: সাদিয়ার বাসার পাশে সামিয়া নামের এক তরুনী ভারত থেকে তার মামার বাসায় বেড়াতে আসে। সামিয়া ও সাদিয়ার মধ্যে ভালো সখ্যতা গড়ে ওঠে। শিশু সাদিয়াকে নিয়ে সামিয়া পাশের গ্রামের তার খালার বাড়িতে যাচ্ছেন বলে জানিয়ে সাদিয়াকে সঙ্গে নিয়ে যান৷
এদিকে সন্ধা হলেও তারা না ফেরায়, এবং সামিয়ার খালার বাসায় কল করেও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়ে সাদিয়ার পরিবার। তাকে খোঁজাখুজি শুরু হয়, ফেসবুকে নিখোঁজ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। ওই তরুনী যেহেতু ভারতের এবং বর্ডার এলাকা কাছে হওয়ায় তাকে ভারতে পাচার করা হতে পারে এমন দুশ্চিন্তাও তৈরি হয়।
সাদিয়ার ফুফু আমাদের তেমন শঙ্কার কথাই জানান। তিনি জানান দালালরা হয়তো তার মাধ্যমে শিশু পাচারের কাজ করিয়ে নিতে পারে, অর্থের বিনিময়ে। এমন সন্দেহ তাদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছিল। যেটা ফেসবুক পোস্টেও দেখা যায়।
পরে রাত ১২ টার দিকে পুলিশের সহযোগিতায় সাদিয়াকে পাওয়া যায়। সামিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার খালার বাসায় পাঠানো হয়৷ সামিয়া এখন তার খালার বাসাতে আছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে আরও নিশ্চিত হতে আমরা কথা বলি স্থানীয় পুলিশের সাথে। বিষয়টি সম্পর্কে একজন এএসআই জানান— এখানে আসলে ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। ইন্ডিয়া থেকে আসা মেয়েটি মামার বাসায় বেড়াতে আসে। সে পাশেই একটি বাজার ঘুরতে যায় শিশুটিকে নিয়ে। ফিরতে একটু দেরি হওয়ায় (সম্ভবত রাত ৯ টা), এমন ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। আসলে কিডন্যাপ বা পাচার সংক্রান্ত কিছু নেই এখানে।
অর্থাৎ, ঘটনাটি পাচার সংক্রান্ত কিছু নয়। ফিরতে দেরি করায় নানান দুশ্চিন্তা করা হয় এবং পাচার ভাবনা সেরকমই একটি দুশ্চিন্তা। ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধান করে আমাদেরও এটি স্রেফ ভুল বোঝাবুঝির জন্য সৃষ্টি হয়েছে বলেই মনে হয় এবং পুলিশের বক্তব্যে তা আরও নিশ্চিত হওয়া যায়।
হারানোর কারণ : গত ঈদুল আজহায় বাড়িতে যাওয়ার পর আর মাদ্রাসায় ফিরতে চাচ্ছিলো না। পরিবার থেকে জোর করে মাদ্রাসায় পাঠানো হয়। পরবর্তীতে গত ৮ জুলাই আরেক সহপাঠীকে নিয়ে মাদারীপুরের শিবচর থেকে বাসে উঠে গুলো স্তান নামে। এরপর সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ চলে যায়। এরইমধ্যে হাতে থাকা টাকা শেষ হয়ে যায়। ফোন দেয় নানাকে। পরবর্তীতে মা এবং নানা গিয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থেকে ৯ তারিখ নিয়ে আসেন।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন মামা ইব্রাহীম খলিল, 01792522925)
৫৫. নাম: মুহাম্মদ ইসমাইল
হারানোর কারণ মাদ্রাসার প্রেসার এবং দুষ্টু ছেলেদের অত্যাচারের কারণে ক্লাস চলাকালীন সে এবং তার এক বন্ধু ক্লাস থেকে ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে বের হয়ে যায়। পরবর্তীতে একই এলাকায় তাদেরকে হাঁটাহাঁটি করতে দেখতে পেয়ে একজন ফোন করে আমাদের জানান। সেখান থেকেই তাদের উদ্ধার করা হয়।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন চাচাতো ভাই মোঃ ইসমাইল, ফোন নাম্বার: 01744960355)
হারানোর কারণ: সহজ সরল, সাধাসিধা, একটু মানসিক সমস্যাও আছে। ডাক্তারের কাছে হাসপাতালে গিয়েছিল। ডাক্তার অপেক্ষা করতে বললেও তিনি উঠে চলে যান এবং ফলশ্রুতিতে হারিয়ে যান। পরে উনার ভাগিনা খুঁজে পান।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন দেবর, রাভিদ মোল্লা, 01932280954)
হারানোর কারণ : মাদ্রাসার পড়ার চাপে পালিয়ে যায়। এর আগেও পালিয়েছিল। গত ৯ জুলাই মাদ্রাসা থেকে তাকে নিয়ে তার মা বের হন এবং কিছু খাবার কিনে দিতে চান। খাবার কিনে মা টাকা দিতে থাকলে ফারুক পেছন থেকে পালিয়ে যায়। পালিয়ে নানার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। একই দিনে সন্ধ্যায় তার মামা তাকে খুঁজে পায়।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন চাচাতো ভাই আবদুল হালিম, ফোন : 01602836419)
হারানোর কারণ : পড়াশোনা থেকে বাঁচতে নিজের বাড়ি ছেড়ে মামার বাড়ি আসছিল। তখন হারানো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়৷ আসার পথে পথিমধ্যে একজন ব্যক্তি মরিয়মকে উনার সাথে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেই ব্যক্তি তাকে ফেরত দেন৷
গতকাল সন্ধ্যায় হারানোর পর আজ সকাল সাড়ে দশটার দিকে পাওয়া গিয়েছে।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন মামা টুটুল, +8801782935615)
হারানোর কারণ: মাদ্রাসা থেকে কোচিং করার জন্য গেলে হঠাৎ ও অস্বাভাবিক হয়ে যায়। ফিরে আসেনি। উনাদের ধারণা, জিন ধরেছিল। পরবর্তীতে ও মাজারের কাছে এক জায়গায় স্বাভাবিক হওয়ার পর কান্নাকাটি করলে একজন ব্যক্তি তার কাছ থেকে তার বাড়ির নাম্বার নিয়ে কল করে যোগাযোগ করেন। এভাবেই খুঁজে পাওয়া যায়। ১০ জুলাই রাত সাড়ে আটটার দিকে হারিয়ে যাওয়ার পর ১১ জুলাই দুপুর ৩:৩০ এর দিকে খুঁজে পাওয়া যায়।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন মামাতো ভাই কবির, 01866568882)
হারানোর কারণ: স্বেচ্ছায় মাদ্রাসা থেকে চলে গিয়েছিল। পরবর্তীতে পল্লীবিদ্যুতের দুঃসম্পর্কের এক বোনের মাধ্যমে ফেরত পাওয়া গিয়েছে। উনার কাছে কেউ একজন ছবি নিয়ে গিয়েছিল। কেন গিয়েছে তা এখনও জানা যায়নি। তাকে জিজ্ঞেস করা হয়নি। সে বিশ্রাম নিচ্ছে। কাল হারানোর পর আজ পাওয়া যায়।
(হারানোর কারণ জানিয়েছেন বাবা আজহারুল ইসলাম, 01731807848)
উপরে বর্নিত ঘটনাগুলোর বাইরে আরও অন্তত ১৫টি ঘটনায় আমরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করি যাদের হারানোর পর খুঁজে পাওয়া গেছে। তবে সঠিক কারণ না জানা কিংবা কল রিসিভ না করাসহ বিভিন্ন কারণে সেগুলো এই কেস স্টাডিতে উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়াও সিলেটের একটি ঘটনা, যেখানে ঘটনাটিতে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর অপহরণকারী গ্রেফতার হয়েছেন। তবে অপহরণকারী সম্পর্কে নিশ্চিত হতে না পারায় এবং ওপেন সোর্সের একাধিক মন্তব্যে বিষয়টিকে প্রেমঘটিত ঘটনা বলে দাবি করার ফলে প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে কোটা সংস্কার বা সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন তীব্র বেগবান হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১১ জুলাই বিকেলে আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করতে যাওয়ার পথে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীসহ আহত হন।
এরই প্রেক্ষিতে “কুবি শিক্ষার্থীদের পেটাচ্ছে পুলিশ, ভিডিও করছেন প্রক্টর” শীর্ষক দাবিতে একটি ছবি গণমাধ্যম সহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
দাবি করা হচ্ছে- কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও সহকারী প্রক্টর অমিত দত্ত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার সময় ভিডিও ধারণ করছিলেন।
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিতে লাল গোল চিহ্নিত অংশে মোবাইলে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ভিডিও ধারণা করতে দেখা যাওয়া ব্যক্তি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অমিত দত্ত নন বরং, মোবাইলে ভিডিও ধারণ করা ব্যক্তিটি হলেন সহকারী প্রক্টরের ডান পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আজকের পত্রিকার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আতিকুর রহমান তনয়।
অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ছবিটি পূঙ্খানুপুঙ্খ পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, সহকারী প্রক্টর অমিত দত্তের প্যান্টের বাম পকেটে মোবাইল সদৃশ একটি বস্তু রয়েছে। এছাড়া ছবিতে যে হাত দিয়ে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করতে দেখা যাচ্ছে সে হাতের অবস্থানের সাথেও তার দেহের অসামঞ্জস্যতা পরিলক্ষিত হয়।
I Rumor Scanner
পরবর্তীতে বিষয়টি আরো যাচাইয়ের লক্ষ্যে উক্ত ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ধারণকৃত একাধিক ভিডিও সংগ্রহ রিউমর স্ক্যানার টিম।
এরমধ্যে ২ মিনিট ৩২ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ১ মিনিট ৪০ সেকেন্ড থেকে শিক্ষার্থীদের হামলার সময় অমিত দত্তকে মোবাইলে কোনো ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়নি। পাশাপাশি সেসময় তার হাতে কোনো মোবাইলও ছিল না।
Indicated: Rumor Scanner
এছাড়া, আমাদের হাতে থাকা ঘটনাস্থলের ২০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার সময় অমিত দত্ত নয় বরং তার পাশে থাকা পুদিনা সবুজ রংয়ের শার্ট পরা অন্য একজন ভিডিও ধারণ করছিলেন।
Indicated: Rumor Scanner
অনুসন্ধানে রিউমর স্ক্যানার টিম জানতে পারে সহকারী প্রক্টরের পাশে দাঁড়িয়ে ভিডিও করা ব্যক্তি হলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী এবং আজকের পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আতিকুর রহমান তনয়।
এ বিষয়ে জানতে আতিকুর রহমান তনয়ের সাথে যোগাযোগ করে রিউমর স্ক্যানার। তিনি বলেন, অমিত স্যারের পাশেই আমি ভিডিও করছিলাম। ফেসবুকে এবং গণমাধ্যমে দেখলাম একটি ছবি দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। এটি আসলে ভুল। ভিডিও আমি করছিলাম অমিত স্যার নয়। আমি পাশেই থাকায় ছবিটিতে দেখা যাচ্ছে ভিডিও অমিত স্যার করছেন।
পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় সংবাদ সংগ্রহের কাজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার ক্যাম্পাস প্রতিনিধি জাভেদ রায়হান এবং দৈনিক জনকণ্ঠের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি ইকবাল হাসান।
জাভেদ রায়হান বলেন, তখন অমিত স্যার ভিডিও করছিলেন না। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম। তিনি তখন শিক্ষার্থী এবং পুলিশকে দমাতে চেষ্টা করছিলেন।
ইকবাল হাসান বলেন, সংবাদ সংগ্রহের জন্য আমি উপস্থিত ছিলাম। অমিত স্যারের ভিডিও করার দাবিটি আসলে ঠিক না। তিনি ভিডিও করছিলেন না, ভিডিও করছিলেন আমাদের সহকর্মী আতিকুর রহমান তনয়।
মূলত, গতকাল (১১ জুলাই) বিকাল তিনটার দিকে কোটা আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধের উদ্দেশ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস থেকে রওনা দেয়। ক্যাম্পাস সংলগ্ন শালবন বিহারের সামনে আনসার ক্যাম্প পর্যন্ত আসার পর পুলিশ শিক্ষার্থীদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে দুই সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীসহ আহত হন। এরই প্রেক্ষিতে “কুবি শিক্ষার্থীদের পেটাচ্ছে পুলিশ, ভিডিও করছেন প্রক্টর” শীর্ষক শিরোনামের সাথে একটি ছবি গণমাধ্যম সহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
দাবি করা হচ্ছে- কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও সহকারী প্রক্টর অমিত দত্ত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার সময় ভিডিও ধারণ করছিলেন। তবে রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। প্রকৃতপক্ষে, প্রচারিত ছবিতে সংঘর্ষের সময় মোবাইলে ভিডিও ধারণ করা ব্যক্তি হলেন অমিত দত্তের ডান পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পুদিনা সবুজ রংয়ের শার্ট পরিহিত এক ব্যক্তি। তিনি মূলধারার গণমাধ্যম আজকের পত্রিকার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আতিকুর রহমান তনয়। ছবিটি নিয়ে রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে এই তথ্য জানা যায়। পাশাপাশি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা একাধিক সাংবাদিক।
সুতরাং, পুলিশের সাথে কুবি শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সময় নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও সহকারী প্রক্টর অমিত দত্তের ভিডিও করার দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
সাম্প্রতিক সময়ে সারাদেশে কোটা সংস্কার বা সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের দাবিতে আন্দোলন তীব্র বেগবান হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় উক্ত আন্দোলনে যোগদান করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করতে যাওয়ার পথে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। এরই প্রেক্ষিতে আজ (১১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে “ব্রেকিং নিউজ, পুলিশের গুলিতে রক্তাক্ত ৭ জনের এক জন এই মূহুর্তে মারা গেছে! ঘটনা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ” শীর্ষক দাবি ব্যাপকভাবে প্রচার হতে লক্ষ্য করে রিউমর স্ক্যানার টিম।
তাছাড়া, উক্ত একই ঘটনার প্রেক্ষিতে “কুমিল্লায় ছাত্রদের উপর পুলিশ ও ছাত্রলীগের যৌথ হামলায় ২ জন নি’হ’ত।” শীর্ষক দাবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার হতে লক্ষ্য করে রিউমর স্ক্যানার টিম।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি কুমিল্লায় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা অন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়নি। বরং, কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ভিত্তিহীনভাবে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। উক্ত দাবিগুলোর স্বপক্ষে কোনো বিশ্বস্ত তথ্যপ্রমাণের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করেও মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে আলোচিত দাবির স্বপক্ষে কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি।
আলোচিত দাবির পোস্টগুলোতে মৃত্যুর স্থান কুমিল্লা মেডিকেল উল্লেখ থাকায় এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বীর সাথে যোগাযোগ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। তিনি জানান, “পুলিশের হামলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার খবরটি সঠিক নয়। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী ৮ জন ভর্তি হয়েছিল। যার মধ্যে ২ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।”
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অমিত দত্ত রিউমর স্ক্যানারকে বলেন, “আজকের ঘটনায় কেউ মারা যাননি।”
উক্ত দাবির বিষয়ে কুমিল্লায় কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনরত তৌহিদুল ইসলাম জিসান নামের কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর সাথেও কথা বলে রিউমর স্ক্যানার টিম। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত কেউ মারা যাননি।
তাছাড়া, আলোচিত দাবির বিষয়ে ফেসবুকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, কুমিল্লা জেলা পুলিশ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি এর বক্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাব আলোচিত দাবির একটি স্ক্রিনশট নিজেদের ফেসবুক পেজে পোস্ট করে জানায়, “কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলায় একজন নিহত হওয়ার তথ্যটি সঠিক নয়।”
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের বরাতে আলোচিত দাবির বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি-কুবিসাস নিজেদের ফেসবুক পেজে একটি ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানায়, “ব্রেকিং… | পুলিশের হামলায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন শিক্ষার্থী মারা যাওয়ার খবরটি সঠিক নয়। | সূত্র: কুমিল্লা মেডিকেলের পরিচালক।”
তাছাড়া, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠানটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে আলোচিত দাবির বিষয়ে ফেসবুক পোস্ট আকারে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। কুবি কর্তৃপক্ষ জানায়, ” বিজ্ঞপ্তি | বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়ায় প্রচার করা হচ্ছে যে, কোটা আন্দোলনরত শিক্ষার্থী-পুলিশ সংঘর্ষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ জাতীয় সংবাদ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট নেই। | প্রচারিত সংবাদটি ভিত্তিহীন ও গুজব। এ জাতীয় গুজব রটানো থেকে বিরত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করা যাচ্ছে। -কুবি কর্তৃপক্ষ”
কুমিল্লা জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজ থেকেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের বরাতে কুমিল্লায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী নিহতের খবরটি সম্পূর্ণ গুজব বলে জানানো হয়।
মূলত, আজ ১১ জুলাই পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকারি চাকরির সব গ্রেডে অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করতে যাওয়ার পথে পুলিশের বাধার সম্মুখীন হয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশ, সাংবাদিক, শিক্ষার্থীসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। তাঁদের কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এরই প্রেক্ষিতে আজ (১১ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে “ব্রেকিং নিউজ, পুলিশের গুলিতে রক্তাক্ত ৭ জনের এক জন এই মূহুর্তে মারা গেছে! ঘটনা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ” শীর্ষক দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়া একটি পোস্টে দুইজন নিহতের দাবিও করা হয়। তবে, রিউমর স্ক্যানার টিম অনুসন্ধান করে দেখেছে, আজ কুমিল্লায় কোটা সংস্কারের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে কোনো শিক্ষার্থী মারা যাননি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থী, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সাথে যোগাযোগ করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয় রিউমর স্ক্যানার টিম।
সুতরাং, কুমিল্লায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশের হামলায় একজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন শীর্ষক দাবিটি ভিত্তিহীন এবং মিথ্যা।
হবিগঞ্জ- ৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন “যে শিক্ষা নারীকে ওড়না বিহীন করে দেয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে হাফ প্যান্ট পড়তে শেখায়, সে শিক্ষা কখনো জাতির মেরুদন্ড হতে পারে না” শীর্ষক মন্তব্য করেছেন দাবিতে একটি তথ্য সম্প্রতি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ব্যারিস্টার সুমন নারী ও পুরুষের পোশাক নিয়ে এমন কোনো মন্তব্য করেননি বরং অন্তত ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে প্রচার হয়ে আসা একটি মন্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীনভাবে ব্যারিস্টার সুমনের নাম জুড়ে দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে।
আলোচিত দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রাসঙ্গিক কিছু কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনুসন্ধান শুরু করে রিউমর স্ক্যানার টিম। অনুসন্ধানে দেখা যায়, অন্তত ২০১৬ সাল থেকে একই ধরনের মন্তব্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে প্রচারিত হয়ে আসছে। ২০১৬ (১,২) সালে প্রাথমিকভাবে প্রচারিত মন্তব্যটি ছিল:
“যে শিক্ষা যুবতিকে ওড়না বিহীন করে দেয়, যুবকের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়, বলিউড হলিউডের হিরো-হিরোইনদের অনুসরণ শিখায়, মা বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়, গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী বানায়, পরিমল দত্তের মতো অসংখ্য বদমাইশ বানায়, তাসলিমা নাসরিনের মতো অসংখ্য বেশ্যা বানায়, এবং আব্দুল গাফফারের মতো অসংখ্য নাস্তিক বানায়, সেই শিক্ষা কখনো জাতির মেরুদণ্ড হতে পারে না বরং এমন শিক্ষাকে জাতির কারাদণ্ড বলা যায়। অতএব, শিক্ষা নয়, সুশিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড।”
২০১৭ সালে (১,২) এই একই মন্তব্য কিছুটা পরিবর্তন করে ইসলামি বক্তা ও হেফাজতে ইসলামের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের নামে প্রচার হতে দেখা যায়।
Screenshot: Facebook.
২০১৭ সালের মন্তব্যটি ছিল:
“যে শিক্ষা যুবতিকে ওড়না বিহীন করে দেয়, যুবকের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়, বলিউড হলিউডের হিরো হিরোইনদের অনুসরণ করতে শিখায়, অধিকাংশ মা বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়, গণজাগরণ মঞ্চের বিরানি খাওয়ার কর্মী বানায়, ইনু, মেনন, বাদল, মুরগী চোরদের মত কুলাঙ্গার বানায়, পরিমল দত্ত, জাফর ইকবালের মত অসংখ্য বদমাইশ বানায় এবং তাসলিমা নাসরিনের মত অসংখ্য বেশ্যা বানায়, সে শিক্ষা কখনো জাতির মেরুদণ্ড হতে পারে না! বরং এমন শিক্ষাকে জাতির কারাদণ্ড বলা যায়। অতএব, শিক্ষা নয়, কোরআনি শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড হওয়া উচিত এবং অবশ্যই কোরআন হাদিসের শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া উচিত, তবেই শান্তি আসবে ব্যক্তি জীবনে, পরিবারে, সমাজে, রাষ্ট্রে।”
২০১৮ সালে (১,২) এই মন্তব্যটি সংক্ষিপ্ত আকারে প্রচারিত হতে দেখা যায়:
“যে শিক্ষা ৯০%নারীকে ওড়নাবিহীন বেহায়া করে দিয়েছে! সে শিক্ষা কখনো জাতির মেরুদণ্ড হতে পারে না! একমাত্র কোরআনী শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড।”
২০১৮ সালের পর থেকে মন্তব্যটি প্রায় প্রতিবছর (২০১৯,২০২০,২০২১,২০২২,২০২৩) পুরোনো সংস্করণগুলো কপি-পেস্টের মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছিল। কিন্তু এ বছরের মে মাস থেকে মন্তব্যটি কিছুটা পরিবর্তন করে প্রচার করা হয়:
“যে শিক্ষা নারীকে ওড়না বিহীন করে দেয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে হাফ প্যান্ট পরতে শেখায়, সে শিক্ষা কখনো জাতির মেরুদন্ড হতে পারে না।”
গত ২৬ মে ‘Ahsanul Haque Jewel’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে পরবর্তীতে এই মন্তব্যটি যুক্ত করে প্রচারিত সম্ভাব্য প্রথম পোস্টটি খুঁজে পাওয়া যায়।
Screenshot: Facebook.
তখনও মন্তব্যটিতে কারো নাম উল্লেখ করা হয়নি। জুন মাসেও একই মন্তব্য কারো নাম উল্লেখ না করেই প্রচারিত হচ্ছিল। পরবর্তীতে এই মন্তব্যটির সাথে ব্যারিস্টার সুমনের নাম জুড়ে দিয়ে প্রচার করা হয়।
অর্থাৎ, অন্তত ২০১৬ সাল থেকে প্রচার হয়ে আসা একটি মন্তব্য কিছুটা পরিবর্তন করে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যারিস্টার সুমনের নামে প্রচার করা হচ্ছে।
রিউমর স্ক্যানার টিম ব্যারিস্টার সুমন আদতে এমন কোনো মন্তব্য করেছেন কি-না তা জানতে গুগলে কি-ওয়ার্ড করে। কিন্তু এতে বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে ব্যারিস্টার সুমনের এমন কোনো মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি সম্পর্কে অধিকতর নিশ্চিত হতে রিউমর স্ক্যানার টিম ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তিনি জানান, এগুলো ভুয়া। তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি।
মূলত, “যে শিক্ষা নারীকে ওড়না বিহীন করে দেয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে হাফ প্যান্ট পড়তে শেখায়, সে শিক্ষা কখনো জাতির মেরুদন্ড হতে পারে না” শীর্ষক একটি মন্তব্য ব্যারিস্টার সুমন করেছেন দাবিতে একটি তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি। অন্তত ২০১৬ সাল থেকে প্রায় একই ধরনের একটি মন্তব্য বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ইন্টারনেটে প্রচার হয়ে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে ২০১৬ সাল থেকে প্রচার হয়ে আসা ওই মন্তব্যটির কিছুটা পরিবর্তিত সংস্করণ ব্যারিস্টার সুমনের নাম জুড়ে দিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। এছাড়া ব্যারিস্টার সুমনও রিউমর স্ক্যানার টিমকে নিশ্চিত করেছেন তিনি এমন মন্তব্য করেননি। সুতরাং, “যে শিক্ষা নারীকে ওড়না বিহীন করে দেয় এবং প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে হাফ প্যান্ট পড়তে শেখায়, সে শিক্ষা কখনো জাতির মেরুদন্ড হতে পারে না” শীর্ষক মন্তব্য ব্যারিস্টার সুমন করেছেন দাবিতে প্রচারিত বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা।