রবিবার, জুলাই 21, 2024
spot_img

ফটোগ্রাফারের কান্নার এই ছবিটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নেপালের হারের সময়ের নয়

সম্প্রতি, আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ৩১ তম ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের পরও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে নেপালের হারের ঘটনায় ছবি তুলতে গিয়ে  একজন ফটোগ্রাফার কান্নায় ভেঙে পড়েন দাবিতে ফটোগ্রাফারের কান্নার ছবি সংযুক্ত একটি ছবি সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে।

ফটোগ্রাফারের

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফটোগ্রাফারের কান্নার এই ছবিটি এবারের আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে নেপারের হারের পর ধারণ করা হয়নি। বরং ২০১৯ সালে এএফসি এশিয়া কাপ চলাকালীন ছবিটি ধারণ করা হয় এবং উক্ত ফটোগ্রাফার নেপালি নন; তিনি ইরাকি।

দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি এশিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা Asian Football Confederation (AFC) এর AFC Asian Cup এর অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্টে মূল ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়।

Screenshot: AFC Asian Cup X Account

ছবিটির শিরোনাম থেকে জানা যায়, ছবিটিতে থাকা ফটোগ্রাফার একজন ইরাকি। তাঁর এই ছবিটি তোলা হয়েছিল ২০১৯ সালের এএফসি এশিয়ান কাপের “Round Of 16” কাতার বনাম ইরাকের ম্যাচ চলাকালীন সময়ে।

পাশাপাশি আরব আমিরাতের খেলাধুলা ভিত্তিক ওয়েবসাইট Sports360 Arabiya এর এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্টে একই বছরের ২৫ জানুয়ারি ‘‏مصور عراقي يبكي أثناء تأدية عمله وهو يشاهد خروج منتخب بلاده من كأس آسيا. শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি বার্তা খুঁজে পাওয়া যায়।

Screenshot: Sports360 Arabiya X Account

আরবি ভাষায় প্রদত্ত বার্তাটির শিরোনাম ইংরেজিতে অনুবাদ করে জানা যায়, ছবিতে থাকা এই ইরাকি ফটোগ্রাফার এশিয়ান কাপ থেকে তার দেশের বিদায়ে কান্না করছিলেন।

উপরোক্ত তথ্যের সূত্র ধরে বিষয়টির অধিকতর সত্যতা নিশ্চিতে খেলাধুলা ভিত্তিক গণমাধ্যম ESPN এর ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। পর্যবেক্ষণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারি এএফসি এশিয়া কাপের রাউন্ড অব ১৬ এর খেলায় ইরাক বনাম কাতারের ম্যাচে প্রতিপক্ষ ইরাককে ১-০ গোলে পরাজিত করে কাতার। 

এছাড়া Teller Report নামের একটি ওয়েবসাইটে ২০১৯ সালের ২৫ জানুয়ারি ‘An Iraqi photographer hides his grief with his lens‘ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কান্নারত ফটোগ্রাফারের নাম মুহাম্মেদ আল আজ্জায়ী। তিনি ইরাক ফুটবল ফেডারেশনের ফটোগ্রাফার।

পরবর্তীতে আলোচিত ছবিটিতে ব্যবহৃত খেলোয়াড়দের ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে খেলাধুলা বিষয়ক গণমাধ্যম ESPN এর ক্রিকেট ভিত্তিক ওয়েবসাইট Espncricinfo-এ আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরের ৩১ তম ম্যাচের বেশকিছু ছবি খুঁজে পাওয়া যায়।
যেখানে আলোচিত পোস্টে ব্যবহৃত খেলোয়াড়দের ছবির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি ছবি দেখতে পাওয়া যায়। ছবিটিতে সোমপাল কামিকে গুলশান ঝার কাধে হাত রেখে শান্তনা দিতে দেখা যায়।

Screenshot: Espncricinfo

মূলত, গত ১৫ জুন আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এবারের আসরের ৩১ তম ম্যাচে আর্নস ভেল স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপরীতে মাঠে নামে নেপাল ক্রিকেট দল। টসে জিতেও বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন নেপালি অধিনায়ক। মাত্র ১১৫ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে দুর্দান্ত পারফরমেন্স দেখান নেপালি ব্যাটাররা। কিন্তু দারুণ পারফরমেন্সের পরও শেষ ওভারে এসে মাত্র ১ রানে হেরে যান তারা। এতে দর্শকদের পাশাপাশি খেলোয়াড়রাও ভেঙে পড়েন। এরই প্রেক্ষিতে ‘জনৈক নেপালি ফটোগ্রাফার ছবিটা তুলছেন খেলার ঠিক শেষ মুহূর্তে যখন জিততে জিততে জেতা হলো না’ শীর্ষক দাবিতে এক ক্যামেরাম্যানের ক্রন্দনরত একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত দাবিটি সত্য নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০১৯ সালের ২২ জানুয়ারিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত এএফসি এশিয়ান কাপের ‘রাউন্ড অব ১৬’ ম্যাচে কাতারের কাছে ১-০ গোলে হেরে যায় ইরাক। এই ম্যাচের সময় মাঠে উপস্থিত ইরাক ফুটবল ফেডারেশনের ফটোগ্রাফার Mohammeed al-Azzawi নিজ ক্যামেরা সহ কান্নায় ভেঙে পড়েন। এটি সেই সময়কার দৃশ্য।

উল্লেখ্য, পূর্বেও একই ছবি ভিন্ন ভিন্ন দাবিতে প্রচার করা হলে তা শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল রিউমর স্ক্যানার।

প্রতিবেদন পড়ুন-

সুতরাং, চলমান আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরমেন্সের পর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে নেপালের হারের ঘটনা ধারণ করতে গিয়ে নেপালি ফটোগ্রাফারের কান্নায় ভেঙে পড়ার ছবি দাবিতে ২০১৯ সালের সংযুক্ত আরব আমিরাতে এএফপি এশিয়ান কাপ চলাকালে ধারণকৃত একটি ছবি প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

RS Team
Rumor Scanner Fact-Check Team
- Advertisment -spot_img
spot_img
spot_img