প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও এবং রিজভীর গ্রেফতারের গুজব ইউটিউবে

সম্প্রতি, “গভীর রাতে ডিবির হাতে গ্রেফতার যুবদলের ১১ জন সকালেই লাঠিসোঁটা নিয়ে যুদ্ধে নামলো” শীর্ষক শিরোনামে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওটির থাম্বনেইলে দাবি করা হচ্ছে, গভীর রাতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছে।  

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও

ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, বিএনপির অঙ্গসংগঠনের ১১ জন নেতাকর্মী গ্রেফতারের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন ঘেরাও করার কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং রুহুল কবির রিজভীও গ্রেফতার হননি বরং কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই অধিক ভিউ পাওয়ার আশায় চটকদার শিরোনাম এবং থাম্বনেইল ব্যবহার করে আলোচিত ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের শুরুতেই আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটি সংবাদপাঠের ভিডিওর খণ্ডাংশ এবং ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

ভিডিও যাচাই-১

প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে, Kalbela News এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৭ ডিসেম্বর “ডিবির অভিযানে ঢাবি ছাত্রদল সভাপতিসহ আটক ১১ | DB Harun | Kalbela” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওটির মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

Video comparison: Rumor Scanner

উক্ত ভিডিও থেকে জানা যায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ(ডিবি) এর অভিযানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল সভাপতিসহ ১১ জনকে আটক করা হয়।

ভিডিও যাচাই-২

প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে, BNP Media Cell Narayanganj এর ইউটিউব চ্যানেলে গত ২৫ ডিসেম্বর “কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলা অসহযোগ আন্দোলন দেশব্যাপী অবরোধ বিএনপির আসন কক্সবাজার-২ মহেশখালী” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত ভিডিওটির মিল খুঁজে পাওয়া যায়।

Video Comparison: Rumor Scanner

উক্ত ভিডিওর বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ২৪ ডিসেম্বর মহেশখালীতে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে দেশব্যাপী সর্বাত্মক অবরোধ সমর্থনে সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ এর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

অর্থাৎ, উক্ত ভিডিও দুইটি অপ্রাসঙ্গিকভাবে আলোচিত ভিডিওর সাথে জুড়ে দিয়ে প্রচার করা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে, গত ২৮ ডিসেম্বর প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে “ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতিসহ ১১ জন আটক” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি খোরশেদ আলমসহ ১১ জনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদের বরাত দিয়ে উক্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, আটক ব্যক্তিরা নির্বাচন বানচাল করার লক্ষ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন ধরনের নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত।

এছাড়াও, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্র থেকে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতা-কর্মীকে গ্রেফতারের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও করা এবং বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর গ্রেফতারের সত্যতা জানা যায়নি।

মূলত, নাশকতার পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গত ২৭ ডিসেম্বর বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ১১ নেতা-কর্মীকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ ঘটনার প্রেক্ষিতেই “গভীর রাতে ডিবির হাতে গ্রেফতার যুবদলের ১১ জন সকালেই লাঠিসোঁটা নিয়ে যুদ্ধে নামলো” শীর্ষক শিরোনামে এবং গভীর রাতে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছে শীর্ষক থাম্বনেইলের মাধ্যমে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়। তবে অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত দাবিগুলো সঠিক নয়। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও হয়নি এবং রিজভীও গ্রেফতার হননি। অধিক ভিউ পাবার আশায় ভিন্ন ভিন্ন ভিডিওর খণ্ডাংশ যুক্ত করে করে তাতে চটকদার শিরোনাম ও থাম্বনেইল ব্যবহার করে কোনোপ্রকার নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র ছাড়াই আলোচিত দাবির ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পূর্বেও চটকদার শিরোনাম ও থাম্বনেইল ব্যবহার করে বিভিন্ন ভুয়া তথ্য প্রচারের প্রেক্ষিতে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার। এমন কয়েকটি প্রতিবেদন দেখুন এখানে, এখানে এবং এখানে

সুতরাং, ছাত্রদলের ১১জন নেতাকর্মী ও বিএনপি গ্রেফতারের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাসভবন ঘেরাও রুহুল কবির রিজভী গ্রেফতার করা হয়েছে শীর্ষক দাবি ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

RS Team
Rumor Scanner Fact-Check Team
- Advertisment -spot_img
spot_img
spot_img