ভারতের নয়, পাকিস্তান নিজেদের বাঁধে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে

মেঘ বিস্ফোরণ, প্রবল বর্ষণ ও ভারতীয় বাঁধ খুলে দেওয়ায় পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চল ও পাঞ্জাবসহ বেশকিছু অঞ্চল ভয়াবহ বন্যাকবলিত হয়েছে। যাতে ব্যাপক হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে একটি সংবাদ প্রকাশ করে দাবি করা হয়েছে, “ভারতের দেওয়া বাঁধ উড়িয়ে দিলো পাকিস্তান”।

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রচারিত পোস্ট: একুশে টিভি, দ্য নিউজ২৪

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

গণমাধ্যম ছাড়াও নানা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে। দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি ভারতের দেওয়া বাঁধ পাকিস্তান উড়িয়ে দেয়নি। প্রকৃতপক্ষে উড়িয়ে দেওয়া বাঁধটি পাকিস্তানেরই ছিল। বন্যা পরিস্থিতি মেকাবেলায় পাকিস্তান তাদের নিজেদের ভূখণ্ডের পাঞ্জাব প্রদেশের কাদিরাবাদ বাঁধের তীররক্ষা বাঁধটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে উড়িয়ে দিয়েছে।

অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে তাতে বলতে শোনা যায়, “পাঞ্জাবের ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ অবশেষে সেই কাজটিই করলো যার হুমকি তারা আগেই দিয়েছিল। চেনাব নদের কাদিরাবাদ বাঁধের পাশের তীররক্ষা বাঁধ উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।”

এরই সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করলে পাকিস্তান ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’ এর ওয়েবসাইটে ‘Over 210,000 evacuated as floodwaters rise across Punjab following India’s water release’ শিরোনামে গত ২৭ আগস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটির এক পর্যায়ে বলা হয়, “বুধবার (২৭ আগস্ট) চেনাব নদীর কাদিরাবাদ বাঁধে পানির স্তর বেড়ে যাওয়ায় কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে একটি তীররক্ষা বাঁধ ধ্বংস করেছে। “কাঠামো রক্ষা করার জন্য আমরা ডান পাশের তীররক্ষা বাঁধ কেটে দিয়েছি, যাতে পানির প্রবাহ কমে আসে,” বলেন পাঞ্জাব দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র মজহার হুসেইন।” (অনূদিত)

এছাড়া, পাকিস্তান ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ডন’ এর ওয়েবসাইটে গত ২৭ আগস্টে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, “এএফপি জানিয়েছে, বর্ষার অতিরিক্ত পানিতে ফুলে ওঠা কাদিরাবাদ বাঁধের পাশে একটি তীররক্ষা বাঁধ উড়িয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চেনাব নদীর কাদিরাবাদ বাঁধে পানির স্তর বাড়তে থাকায় কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে একটি তীররক্ষা বাঁধ ধ্বংস করেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইকোনমিকস টাইমস’ এর ওয়েবসাইটে গত ২৭ আগস্টে প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়, “ভারতজুড়ে ভারী বৃষ্টির কারণে তিনটি নদী উপচে পড়ায় পাকিস্তান তীব্র বন্যার সঙ্গে লড়াই করছে, যার ফলে পাঞ্জাব প্রদেশে ব্যাপকভাবে মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছে। পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কর্তৃপক্ষ কাদিরাবাদ বাঁধের একটি তীররক্ষা বাঁধ কেটে দিয়েছে।” (অনূদিত)

এ বিষয়ে ভারতীয় মূলধারার আরো একাধিক গণমাধ্যমসহ নানাদেশীয় মূলধারার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হতে দেখা যায়। সেসব সংবাদেও বলা হয় কাদিরাবাদ বাঁধের তীররক্ষা বাঁধটি পাকিস্তান সরকারের তরফ থেকে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে উড়িয়ে দেওয়া হয়। এবং সেসব সংবাদে পাকিস্তানকেই বাঁধটির কর্তৃপক্ষ হিসেবে উল্লেখ করা হয়৷ কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রেই বাঁধটি ভারতের বলে উল্লেখ পাওয়া যায়নি।

‘কাদিরাবাদ’ নামক এলাকাটির বিষয়ে অনুসন্ধান করলে একাধিক ওয়েবসাইটের সূত্রে জানা যায়, কাদিরাবাদ হলো পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মান্দি বাহাউদ্দিন জেলার ফালিয়া তহসিলের চেনাব নদীর তীরবর্তী একটি গ্রাম।

এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, কাদিরাবাদ বাঁধের তীররক্ষা বাঁধটির কর্তৃপক্ষ পাকিস্তান এবং এটি পাকিস্তানের তরফ থেকেই উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

সুতরাং, ভারতের দেওয়া বাঁধ উড়িয়ে দিলো পাকিস্তান শীর্ষক দাবিটি বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

আরও পড়ুন

spot_img