সম্প্রতি, “সাতক্ষীরায় যুবলীগ নেতাকে না পেয়ে, তার মাকে ঘরের ভিতরে রেখেই আগুন দিলো বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। আহা নির্যাতন, আর কত নির্যাতন সহায় কবরে সাধারণ আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।” দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং এটি সাতক্ষীরা কোনো যুবলীগ নেতার মাকে ঘরের মধ্যে রেখে আগুন দেওয়ারও ঘটনা নয়। প্রকৃতপক্ষে, অন্তত ২০২২ সাল থেকে ইন্টারনেটে বিদ্যমান একটি ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করলে তাতে প্রচারিত দাবিটির পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্যপ্রমাণের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। পরবর্তী অনুসন্ধানে ‘মো: জুবায়ের’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ২০২২ সালের ৩ এপ্রিলে “নোয়াখালী বসুরহাট মাকে ঘরে রেখে আগুন ধরিয়ে দিল” ক্যাপশনে প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়।

উক্ত ভিডিওটির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির তুলনা করলে সাদৃশ্য পাওয়া যায় এবং নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রচারিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়।
এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধানে ‘মো: শাহাদত হোসাইন’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একই বছরের ৯ জানুয়ারি প্রচারিত ভিন্ন একটি ভিডিও পোস্ট পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওতেও একজন ব্যক্তিকে আহাজারি করতে দেখা যায় এবং প্রচারিত ভিডিওটির মতো একই কথা বলতে শোনা যায়। তিনি বলেন, ঘরের ভেতর তার মাকে রেখে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, “ধিক্কার জানাই একরকম নিষ্ঠুরতার। ইউপি নির্বাচন কে কেন্দ্র করে ভোলায় মাকে ঘরে আটকে রেখে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মাকে বাঁচাতে ছেলে ফেসবুক লাইভে এসে আহাজারি করছে…. ভিডিওটি সংগ্রহ”।
এরই সূত্র ধরে অনুসন্ধান করলে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ফেস দ্য পিপল-নিউজ’ এর ফেসবুক পেজে আহাজারি করা উক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে ২০২২ সালের ৮ জানুয়ারি প্রচারিত একটি ফেসবুক লাইভ পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়, “#মাকে_ঘরে_রেখে_আগুন । আছেন সেই রাসেল। ভোলায় নির্বাচনী সহিংসতায় রাসেলের মা”কে ঘরে রেখে আগুন লাগিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা । সেই ভয়ানক দৃশ্য ও তার কারণ জানাচ্ছেন আর্তনাদ করা সেই সন্তান রাসেল।”
ভিডিওটিতে উক্ত ব্যক্তিকে নিজের ডাক নাম রাসেল হোসাইন বলতে শোনা যায় এবং তিনি জানান ২০২২ সালের ৭ জানুয়ারি রাজনৈতিক ও নির্বাচনী কারণে তার ঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
উল্লেখ্য, প্রচারিত আগুনের ভিডিওটি ও ব্যাকগ্রাউন্ডের আহাজারি একই ঘটনার কিনা ধারণকৃত কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এছাড়া, ২০২২ সালে ভিডিওটি নোয়াখালী ও ভোলার পৃথক পৃথক দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে। তবে এটি ঠিক কোন স্থানে ধারণ করা হয়েছে তা রিউমর স্ক্যানারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সুতরাং, অন্তত ২০২২ সাল থেকে ইন্টারনেটে বিদ্যমান আগুনের ঘটনার ভিডিওকে সাম্প্রতিক সময়ে একজন যুবলীগ নেতার মাকে ঘরের ভিতর রেখে বিএনপি-জামায়েত আগুন দিয়েছে দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Md Jubayer – Facebook Post
- Md Shahadat Hossain – Facebook Post
- Face the People-News – Facebook Post