শনিবার, মে 18, 2024
spot_img

রোনালদোর গোল্ডেন বুট ও ফিলিস্তিনিদের সহায়তা নিয়ে গণমাধ্যমের ভুল প্রচার

৩ বছরে ফিলিস্তিনিকে ৩ মিলিয়ন ডলার দিয়ে সহায়তা করেছে এই মানুষটি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো” শীর্ষক শিরোনামসহ বিভিন্ন শিরোনামে (অনুদানের সংখ্যা পরিবর্তনসহ) একটি তথ্য বাংলা ভাষায় ২০১৪ সাল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং ২০১৫ সাল থেকে গণমাধ্যমে প্রচার হয়ে আসছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (২০২২), এখানে (২০২১), এখানে (২০২০), এখানে (২০১৯), এখানে (২০১৮), এখানে (২০১৭), এখানে (২০১৬), এখানে (২০১৫) এবং এখানে (২০১৪)। পোস্টগুলোর আর্কাইভ ভার্সন ক্রমানুসারে দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে। 

গণমাধ্যমে সমজাতীয় দাবিতে প্রকাশিত সংবাদসমূহ

(২০২১) দৈনিক সমকাল, নয়াদিগন্ত। (২০১৯) যুগান্তর, কালেরকন্ঠ, যমুনা টিভি, দেশ রুপান্তর (১৮ মে), দেশ রুপান্তর (১৯ মে), মানবজমিন, নয়াদিগন্ত, আমাদের সময়, আমাদের সময়.কমবাংলানিউজ২৪, ঢাকা টাইমস, জাগোনিউজ (১৭ মে), জাগোনিউজ (২১ মে), ডেইলি-বাংলাদেশ, হাজারিকা প্রতিদিন, প্রিয়.কম, বিডিমর্নিং । (২০১৮) প্রথমআলো, (২০১৫) সময় টিভি, প্রথমআলো, জনকণ্ঠ

পাশাপাশি স্যাটায়ার সাইট ইয়ারকি (২০১৮)। এছাড়াও, বিভিন্ন ভুঁইফোড় পোর্টালেও বিভিন্ন সময়ে এই সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে।  

বিদেশী সংবাদমাধ্যমে

ভারতীয় নিউজ এগ্রিগেটর ডেইলি হান্ট, পাকিস্তানের ডেইলি ট্রিবিউন, ফিলিস্তিনের প্যালেস্টাইন ক্রনিকল, ভেনেজুয়েলার টেলিভিশন চ্যানেল টেলিসুর, রাশিয়ান টেলিভিশন চ্যানেল আর টি, ইরানের টেলিভিশন প্রেস টিভি তে প্রকাশিত সংবাদে সমজাতীয় দাবি করা হয়েছে।

গণমাধ্যমের দাবিসমূহ

১. রোনালদো ২০১২ সালে ফিলিস্তিনের গাজার শিশুদের জন্য তাঁর গোল্ডেন বুট নিলামে তুলে জোগাড় করে দিয়েছিলেন ১৫ লাখ ইউরো (প্রায় ১২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা)। (২০১৫) সময় টিভি, প্রথম আলো, জনকণ্ঠ (২০১৮) প্রথমআলো

২. রোনালদো ২০১২ সালে ফিলিস্তিনের গাজার শিশুদের জন্য তাঁর গোল্ডেন বুট নিলামে তুলে জোগাড় করে দিয়েছিলেন ১.৫ মিলিয়ন ইউরো। (২০২১) দৈনিক সমকাল

৩. রোনালদো ২০১২ সালে ফিলিস্তিনের গাজার শিশুদের জন্য তাঁর গোল্ডেন বুট নিলামে তুলে জোগাড় করে দিয়েছিলেন ১.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। (২০১৯) দেশ রুপান্তর

৪. ২০১১ সালে ৪০ গোল করে পান ইউরোপীয় গোল্ডেন বুট। তা নিলামে বিক্রি করে পাওয়া ১২ লাখ পাউন্ডের সবটুকুই দিয়ে দেন যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বেশ কয়েকটি স্কুলের শিশুদের সহায়তায়। (২০২১) নয়াদিগন্ত, ইয়ারকি (২০১৮)।

৫. রমজানে ফিলিস্তিনিদের জন্য ১৫ লাখ ডলার দিলেন রোনালদো। (২০১৯) যমুনা টিভি, জাগোনিউজ

৬. রমজানে ফিলিস্তিনিদের জন্য ১.৫ মিলিয়ন ডলার দিলেন রোনালদো। (২০১৯) আমাদের সময়, দেশ রুপান্তর

৭. রমজানে ফিলিস্তিনিদের জন্য ১.৫ মিলিয়ন ইউরো দিলেন রোনালদো। (২০১৯)  ঢাকা টাইমস

৮. ফিলিস্তিনিদের ইফতারের জন্য ১৫ কোটি টাকা দিলেন রোনালদো। (২০২১) দৈনিক সমকাল

৯. ফিলিস্তিনিদের ইফতারের জন্য ১৪ কোটি টাকা দিলেন রোনালদো। (২০১৯) মানবজমিন, আমাদের সময়.কম, জাগোনিউজ (২১ মে), যুগান্তর, প্রিয়.কম, বিডিমর্নিং, হাজারিকা প্রতিদিন, ডেইলি-বাংলাদেশ

১০. ফিলিস্তিনিদের ইফতারের জন্য ১২ কোটি টাকা দিলেন রোনালদো। (২০১৯) নয়াদিগন্ত

১১. ফিলিস্তিনিদের ইফতারের জন্য সাড়ে ১২ কোটি টাকা দিলেন রোনালদো। (২০১৯) বাংলানিউজ২৪

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পর্তুগিজ তারকা খেলোয়াড় ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার গোল্ডেন বুট নিলামে তোলেননি এছাড়াও তিনি ২০১৯ সালে রমজান মাসে ইফতারের জন্য ফিলিস্তিনে ১.৫ মিলিয়ন ইউরো দান করেননি বরং রোনালদোর স্পোর্টস জুতা তার ক্লাবের দাতব্য সংস্থা কর্তৃক নিলামে তোলার খবরকে গোল্ডেন বুট নিলামে তোলা হয়েছিল দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি, কোনো প্রকার গ্রহণযোগ্য তথ্যসূত্র ব্যতীত ২০১৯ সালে রমজান মাসে ফিলিস্তিনে রোনালদো কর্তৃক ১.৫ মিলিয়ন ইউরো দান করার দাবি করা হয়েছে।

রোনালদো কি তার গোল্ডেন বুট নিলামে তুলেছিলেন? (দাবি ১-৪)

কি-ওয়ার্ড সার্চ পদ্ধতি ব্যবহার করে, লা লিগার অফিশিয়াল সাইট “লা লিগা ডট কম” এ ২০১৫ সালের ১৩ই অক্টোবর “Cristiano Ronaldo receives his fourth Golden Shoe” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চতুর্থ গোল্ডেন বুট পেলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এছাড়াও প্রতিবেদনে উলিখিত ছবিতে একইসাথে চারটি গোল্ডেন বুট তার কাছে দেখা গেছে।

রোনালদো ৩ অক্টোবর ২০১৫ সালে তার নিজের ফেসবুক পেজে-ও চারটি গোল্ডেন বুট এর ছবিসহ একটি পোস্ট (আর্কাইভ) আপ্লোড করেন।

পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম “দ্য গার্ডিয়ান” এ ২০১৫ সালের ১৩ই অক্টোবর “Cristiano Ronaldo receives his fourth Golden Shoe” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত মৌসুমে ইউরোপের ঘরোয়া লিগে সব গোলদাতাদের নেতৃত্ব দেওয়ার পর রেকর্ড চতুর্থ গোল্ডেন বুট পেয়েছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আর রোনালদোর গোল্ডেন বুট বিক্রির দাবিতে বলা হয়েছে তিনি ২০১২ সালে তা নিলামে তুলেছেন।

এছাড়াও, ভারতীয় খেলাধুলা বিষয়ক সাইট “স্পোর্টসকিডা” এ ২০১২ সালের ২১শে নভেম্বর “Ronaldo’s Golden Boot donation to Palestine a false alarm” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পর্তুগিজ সুপারস্টারের উদারতার গুজব টুইটারে শুরু হয়েছিল, ফুটবল জোকসের মতো হ্যান্ডেলগুলির মাধ্যমে৷

বিষয়টি নিয়ে ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদন করেছে জর্ডান এর ফ্যাক্ট-চেকিং সাইট মিসবার

সুতরাং, গোল্ডেন বুট নিলামে তোলার সংবাদটি মিথ্যা। ফলে গোল্ডেন বুট বিক্রি করে যে কোনো পরিমাণ টাকা দান করার দাবিগুলোও (১ থেকে ৪) মিথ্যা।

যেভাবে ছড়িয়েছে এই গুজবটি

খেলাধুলা (বিশেষত ফুটবল) বিষয়ক সাইট “গোল ডট কম” এ ২০১১ সালের ২১ শে নভেম্বর “Real Madrid’s Cristiano Ronaldo donates €2,400 to Palestinian children ”  শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রোনালদো তার ক্লাবের ফাউন্ডেশনকে তার স্পোর্টস জুতা দিয়েছিলেন, যা পাবলিক নিলামে বিক্রি হয়েছিল। সেই নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থ (২,৪০০ ইউরো) ফিলিস্তিনের গাজার স্কুলগুলোতে তহবিল হিসেবে যাবে।

অর্থাৎ, রোনালদো তার গোল্ডেন বুট নিলামে তোলেননি, বরং ২০১১ সালে তার ব্যবহৃত স্পোর্টস জুতা ক্লাবের দাতব্য ফাউন্ডেশনকে দিয়েছিলেন। দাতব্য ফাউন্ডেশন সেখান থেকে নিলামে বিক্রি করে ২৪০০ ইউরো ফিলিস্তিনের শিশুদেরকে দিয়েছে।

এছাড়াও, ২০১৭ সালের অক্টোবরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার ব্যালন ডি’অর এর রেপ্লিকা নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত মুল্য €600,000 ইউরো দাতব্য সস্থায় দান করেন।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর ব্যলন ডি’অর রেপ্লিকা নিলামে

অনুসন্ধানে, আমেরিকান স্পোর্টস চ্যানেল “ইএসপিএন” এর অনলাইন সংস্করণে ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর “Cristiano Ronaldo’s Ballon d’Or sold for €600,000 at charity auction” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার চারটি ব্যালন ডি’অর ট্রফির একটির রেপ্লিকা (প্রতিরূপ) দান করে দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য €600,000 ($705,000) সংগ্রহ করতে সাহায্য করেছেন বলে জানা গেছে, যেটি ইসরায়েলি কোটিপতি এবং জনহিতৈষী ইদান ওফার নিলামে কিনেছিলেন।

স্পেনের জাতীয় দৈনিক ক্রীড়া সংবাদপত্র মার্কা অনুসারে দান করা ট্রফিটি ছিল একটি ‘অতিরিক্ত’ প্রতিরূপ বা রেপ্লিকা যা রোনালদো বিশেষভাবে অনুরোধ করেছিলেন যখন তিনি ২০১৩ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন। ‘আসল’ ট্রফিটি এখনও তার নিজের হোম আইল্যান্ড মাদেইরাতে তার ব্যক্তিগত জাদুঘরে প্রদর্শিত হচ্ছে।

২০১৯ সালে রমজানে ফিলিস্তিনিদেরকে কোনো টাকা দিয়েছিলেন রোনালদো? (দাবি ৫-১১)

অনুসন্ধানে, আন্তর্জাতিক কোনো গণমাধ্যমে (গ্রহণযোগ্য) এ জাতীয় কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

কি-ওয়ার্ড সার্চ পদ্ধতি ব্যবহার করে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম “এসোসিয়েট প্রেস” এ ২০১৯ সালের ২৪শে মে “রমজানে ফিলিস্তিনিদের জন্য অর্থ দান করেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (অনুবাদিত)” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

আরও উল্লেখ করা হয়, সেসময়ে রোনালদোর প্রতিনিধিত্বকারী স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি “জেস্টিফিউট মিডিয়া”র একজন মুখপাত্র দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন “দাবিটি মিথ্যা”। তিনি আরো যোগ করেন যে রোনালদো প্রায়শই তাকে নিয়ে এই ধরণের মিথ্যা প্রতিবেদন করা হয়।

পাশাপাশি, আমেরিকান তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান “লিড স্টোরিজ” এ ২০১৯ সালের ১৯শে মে “ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এই সপ্তাহে ফিলিস্তিনিদের জন্য 1.5 মিলিয়ন ইউরো দান করেননি (অনুবাদিত)” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

এছাড়াও, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম “এএফপি” তে ২০১৯ সালের ২৮শে মে “না, রোনালদো রমজানে গাজায় ফিলিস্তিনিদের জন্য $1.5 মিলিয়ন দান করেননি (অনুবাদিত)” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এএফপিকে একটি ইমেলে রোনালদোর ব্যবস্থাপনা সংস্থা গেস্টিফিউট জানিয়েছে “ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে প্রকাশিত অন্যান্য গল্পের মতো এটিও মিথ্যা”।

সুতরাং, রোনালদো কর্তৃক ২০১৯ সালের রমজানে ফিলিস্তিনিদেরকে ইফতারের জন্য টাকা প্রদানের দাবিগুলোও (৫-১১) মিথ্যা।

এই গুজবটি যেভাবে ছড়িয়েছিল

২০১৫ সালের ১৫ই মে “9sportpro” নামের একটি ওয়েবসাইটে খবরটি প্রকাশের পরেই তা ইন্টারনেটে ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

এই প্রতিবেদনে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করা হয় infoqshipmedia. পরবর্তীতে মেসিডোনিয়া থেকে পরিচালিত আলবেনিয়ান ভাষায় infoqship.com এ এই বিষয়ে একদিন আগে (১৪ই মে) একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনে সোর্স হিসেবে উল্লেখ করা হয় “কিছু বিদেশী গণমাধ্যমের বরাতে” (অনুবাদিত)। তবে নির্দিষ্ট করে কোনো গণনাধ্যমের নাম উল্লেখ করা হয়নি।

পরবর্তীতে আলবেনিয়ান আরও দুটি সাইটে (আলবেনিয়ান শো, ফ্যাক্টিডিটর) ১৪ই মে প্রকাশিত আরও দুটি সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু কেউ নির্দিষ্ট করে কোনো গ্রহণযোগ্য তথ্যসূত্র উল্লেখ করেনি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের দাবিসমূহ

  1. ৩ বছরে ফিলিস্তিনিকে ৩ মিলিয়ন ডলার দিয়ে সহায়তা করেছে এই মানুষটি। নাম তার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
  1. বিশ্বকাপের প্রীতি ম্যাচে ইসরায়েলি প্লেয়ারদের সাথে ক্ষোভে তিনি জার্সিও বদলাননি (২০১৩ সালে)।
  1. ২০১০-১১ মৌসুমে .রোনালদো তার অর্জিত গোল্ডেন বুটটি ফিলিস্তিনি মুসলমান অনাথ শিশুদের চিকিৎসা ও শিক্ষা বাবাদ দান করেন যার মূল্য ১৫০ কোটি টাকা। 
  1. রোনালদো তার অর্জিত বাৎসরিক আয়ের একাংশ মুসলিম এতিমখানা ও গির্জায় দান করেন। এই উদারতা দেখে সৌদি রাষ্ট্রপতি তাকে উপহার হিসেবে … পবিত্র কোরআন শরীফ দেন এবং রোনালদো তা সাদরে গ্রহন করেন।
  1. ম্যানচেস্টারের বাড়ি বিক্রি করে সিরিয়ায় ৫ হাজার ঘর তৈরি করে দেন রোনালদো । সিরিয়ার অসহায় মুসলিম বাচ্ছাদের পাশে ছিলেন তিনি রোনালদো চ্যাম্পিয়ানস লীগ জয়ের জন্য দল থেকে যে টাকা পেয়েছিল, তা দাতব্য চিকিৎসালয়ে দান করেন । এক শিশুর ব্রেইন অপারেশনের জন্য নিজের অটোগ্রাফ সহ জার্সি এবং ব্রান্ডের একজোড়া বুট বিক্রি করে টাকা দেন এই রোনালদো ।
  1. ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নেপালকে বাংলাদেশী টাকায় ৬১ কোটি ১৩ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪ শত ৯৫ টাকা ২০ পয়সা দান করেছে ।
  1. ২০১২ সালে সবচেয়ে দানশীল ব্যাক্তিদের মধ্যে ১ম নামটা ছিলো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো গায়ে ট্যাটু করেন না এটা সবাই জানে।
  2. আবার ২০১৬ ইউরোতে: রোনালদোর ডান কানের পাশে দুটো দাগ দেখা গিয়েছে। পর্তুগালের ক্যান্সারে আক্রান্ত এক শিশুর চিকিৎসার খরচ বহন করেছেন রোনালদো। সেই শিশুটি নাকি দুটো ক্ষত নিয়ে হাসপাতাল ত্যাগ করে। আর সেই শিশুটির জন্যই রোনালদো এমন ভাবে চুল ছেঁটেছেন। ডান কানের কাছে দুটো দাগ দেখা যাচ্ছে। অসুস্থ শিশুটির পাশে যে তিনি রয়েছেন, সেটাই ইউরোর ময়দানে স্পষ্ট করে দিলেন রোনালদো।

এর মধ্যে ৩ নম্বর দাবিটি মিথ্যা, যা ইতোমধ্যেই এই আর্টিকেলে যাচাই করা হয়েছে।

৪ নম্বর দাবিটি ভিত্তিহীন এবং কোনো গ্রহণযোগ্য মাধ্যমে এরকম কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এই দাবির সাথে সংযুক্ত ছবিটি “Mobily” নামক সৌদি আরবের এক টেলিকম কম্পানি কর্তৃক রোনালদোকে পবিত্র কুরআন শরীফ উপহার দেয়ার সময়কার।

টেলিকম কম্পানিটির এক টুইটে ছবিটি পোস্ট করে উল্লেখ করা হয়, “Mobily সৌদি ঐতিহ্য থেকে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে পর্তুগিজ ভাষায় পবিত্র কোরআনের অনুবাদের একটি অনুলিপি উপহার প্রদান করে” (অনুবাদিত)।

অর্থাৎ, সৌদি রাষ্ট্রপতি রোনালদোকে পবিত্র কুরআন শরীফ উপহার হিসেবে দেননি।

৫ নম্বর দাবিটি তথা, রোনালদোর ম্যানচেস্টারের বাড়ি বিক্রি করে সিরিয়ার ৫ হাজার ঘর তৈরি করে দেয়ার কোনো সংবাদ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, দাবিটি মিথ্যা।

রোনালদো তার ম্যানচেস্টারের বাড়িটি বিক্রি করেছিলেন। এছাড়াও তিনি সিরিয়ার শিশুদের জন্য দানও করেন (বাড়ি বিক্রির টাকায় নয়)। তবে সেই বাড়ি বিক্রি করে সিরিয়ায় ৫ হাজার ঘর করে দেননি।

৫ নম্বরের অপর দাবি, চ্যাম্পিয়ানস লীগ জয়ের জন্য দল থেকে যে টাকা পেয়েছিল, তা দাতব্য চিকিৎসালয়ে দান করার দাবিটি সত্য। এছাড়াও, “এক শিশুর ব্রেইন অপারেশনের জন্য নিজের অটোগ্রাফ সহ জার্সি এবং ব্রান্ডের একজোড়া বুট বিক্রি করে টাকা দেন এই রোনালদো” শীর্ষক দাবিটিও সত্য

স্ক্রিনশটঃ এএস ডট কম

৬ নম্বর দাবিটি সত্য নয়। দাবি হলো- “ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নেপালকে বাংলাদেশী টাকায় ৬১ কোটি ১৩ লক্ষ ৬৫ হাজার ৪ শত ৯৫ টাকা ২০ পয়সা দান করেছে”। ওয়াশিংটন পোস্টরয়টার্স এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, “রোনালদো নেপালে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদেরকে সাহায্য করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আহবান করেছিলেন কিন্তু তিনি নিজে ৫ মিলিয়ন ইউরো কিংবা ৮ মিলিয়ন ডলার দান করেননি”

এই বিষয়ে দেশীয় গণমাধ্যমেও ভুল সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রথম আলো, কালেরকন্ঠ (৯ মে), কালেরকন্ঠ (১০মে), এনটিভি, বাংলানিউজ২৪, জাগোনিউজ, চ্যানেলআই অনলাইন, নয়াদিগন্ত এবং ঢাকাটাইমস

৭ নম্বর দাবিটির প্রথমাংশ বিভ্রান্তিকর এবং শেষ অংশ সত্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হয় যে “২০১২ সালে সবচেয়ে দানশীল ব্যাক্তিদের মধ্যে ১ম নামটা ছিলো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কেননা, রোনালদো সেরা দানশীল ব্যক্তি হয়েছিলেন ২০১৫ সালে, ২০১২ সালে নয়।

গায়ে ট্যাটু করেন না এটা সবাই জানে, দাবিটি সত্য। খেলাধুলা বিষয়ক সাইট “গোল ডট কম” এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী রোনালদোর গায়ে কোনো ট্যাটু নেই।

৮ নম্বর দাবির ক্ষেত্রেঃ এই দাবিটি রোনালদো নিজে কখনো এ ব্যাপারে কোনো মন্তব্যও করেনি। এছাড়াও গ্রহণযোগ্য কোনো গণমাধ্যমেও বিষয়টি নিশ্চিত করে কোনো প্রতিবেদন পাওয়া যায়না, তাই নিশ্চিত করে বলা যায়না যে রোনালদো ক্যান্সার আক্রান্ত শিশুর জন্য-ই চুলে এরকম কাটিং দিয়েছেন। সুতরাং এই দাবিটিও মিথ্যা।আর ৮ নম্বরের সংযুক্ত “পর্তুগালের ক্যান্সারে আক্রান্ত এক শিশুর চিকিৎসার খরচ বহন করেছেন রোনালদো” দাবিটি সত্য

১ এবং ২ নম্বর দাবি সম্পর্কে অনুসন্ধান

নিম্নে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ৮ টি দাবির এক এবং দুই নম্বর দাবি যাচাই করা হলোঃ

৩ বছরে ফিলিস্তিনিকে ৩ মিলিয়ন ডলার দিয়ে সহায়তা করেছে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো? (১ নং দাবি)

এই দাবিটি ২০১৪ সালের জুলাই থেকে প্রচারিত হয়ে আসছে এবং পরবর্তীতে প্রায় প্রতিবছরই দাবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া যায়। কিন্তু ২০১৪ সাল পর্যন্ত রোনালদো কর্তৃক ফিলিস্তিনকে একসাথে কিংবা মোট ৩ মিলিয়ন ডলার সহায়তা করার কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র পাওয়া যায়না।

এছাড়াও, “রোনালদো চ্যাপেকোয়েন্স দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ৩ মিলিয়ন অনুদান দিয়েছেন” শীর্ষক সমজাতীয় আরও একটি গুজব প্রচার করা হয়েছিল।

এছাড়াও, কি-ওয়ার্ড সার্চ পদ্ধতি ব্যবহার করে পাকিস্তানের গণমাধ্যম “ডেইলি টাইমস” এ ২০১৮ সালের ২৪শে আগষ্ট “4 Ronaldo donation reports that turned out to be false” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গুজববাদীরা মিথ্যা গুজব ছড়ায় এবং দাবি করে যে ক্রিশ্চিয়ানো দলকে ৩ মিলিয়ন দান করেছেন, যা পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছিল।

স্ক্রিনশটঃ ডেইলি টাইমস

বিশ্বকাপের প্রীতি ম্যাচে ইসরায়েলি খেলোয়াড়ের সাথে ক্ষোভে জার্সিও বদলাননি রোনালদো? (২ নং দাবি)

এই দাবিটিও ২০১৪ সাল থেকে প্রচার হয়ে আসছে। ২০১৪ বিশ্বকাপের আগে রোনালদো ইজরায়েলের সাথে প্রীতি ম্যাচ খেলেছেন  ২০১৩ সালের ২২শে মার্চ

স্ক্রিনশটঃ ইএসপিএন

অনুসন্ধানে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সাইট “মিরর ডট ইউকে” তে ২০১৩ সালের ২৪শে মার্চ পর্তুগাল-ইজরায়েল ম্যাচের সময়কার রোনালদোর দুটি ছবি দিয়ে শিরোনাম করা হয়েছে “ইসরায়েলের বিপক্ষে শার্ট বদলাতে রাজি নন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (অনুবাদিত)”। কিন্তু প্রতিবেদনে সূত্র বা আর কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ, প্রতিবেদনটি অসম্পূর্ণ।

পরবর্তীতে কি-ওয়ার্ড সার্চে “মুসলিম ভিলেজ” নামক একটি সাইটে ২০১৪ সালের ৬ই জুলাই “ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ইসরায়েলের পতাকার জার্সি পরতে রাজি নন (অনুবাদিত)” প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে সূত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয় ibtimes.co.uk।

ibtimes.co.uk (International business times)-এ ২০১৩ সালের ২৫শে মার্চ “Cristiano Ronaldo ‘Snubs Israel Shirt Swap to Support Palestine” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, “তবে এটা স্পষ্ট নয় যে ঘটনাটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়ের (রোনালদোর) ইচ্ছাকৃত ছিল কিনা, যিনি পুরো ম্যাচে ক্ষুব্ধ এবং হতাশ ছিলেন।” 

অর্থাৎ, ibtimes.co.uk অনুযায়ী হতে পারে ইজরায়েলের খেলোয়াড়টি জার্সি বদল করতে চেয়েছিলেন কিন্তু রোনালদো সেটি খেয়াল করেননি, কারন পুরো ম্যাচজুড়ে তিনি ক্ষুব্ধ এবং হতাশ ছিলেন। কিংবা ঘটনাটি ভিন্ন কিছুও হতে পারে। স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছেনা। 

স্ক্রিনশটঃ  ibtimes.co.uk

যেহেতু;  ibtimes.co.uk তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয় উল্লেখ করেছে এবং অস্পষ্ট (নিশ্চিত না হয়েও) সিদ্ধান্তমুলক শিরোনাম করেছে, তাই এই প্রতিবেদনটিও অসম্পূর্ণ। এবং এই প্রতিবেদনকে সূত্র হিসেবে গ্রহণ করে যেসকল পোর্টাল সংবাদ প্রকাশ করেছে তারাও বিভ্রান্তিকরভাবে তথ্য প্রকাশ করেছে।

উল্লেখ্য যে, ibtimes.co.uk এর এই প্রতিবেদনটির মধ্যেই তারা রোনালদোর গল্ডেন বুট নিলামে তুলে সেই টাকা ফিলিস্তিনিদেরকে দেয়ার কথাও উল্লেখ করেছে, যা ইতোপূর্বে মিথ্যা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। সেহেতু এই প্রতিবেদনটিকে অনির্ভরযোগ্য ধরা যায়।

পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্য কোনো গণমাধ্যমে এই দাবির স্বপক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও, ইউটিউবে ছড়িয়ে পড়া এই দাবির ভিডিওতেও জার্সি পরিবর্তন কিংবা রোনালদো কর্তৃক জার্সি পরিবর্তন করতে অস্বীকৃতি জানানোর মত কিছু পাওয়া যায়নি।

উপরন্তু, ভারতীয় ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান আজতক এবং ভারতীয় ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান বুম এর বাংলাদেশ সংস্করণেও এই দাবিটিকে বিভ্রান্তিকর হিসেবে শনাক্ত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বরং, ২০১৯ সালে প্রকাশিত এক তথ্য অনুযায়ী রোনালদো তার জুভেন্তাসের জার্সি তৎকালীন ইজরায়েলের বিদেশমন্ত্রী কাৎজকে উপহার দিয়েছিলেন। 

স্ক্রিনশটঃ কাৎজ এর টুইটার থেকে

তবে; ২০২১ সালের ৬ এপ্রিল গ্লোবাল নিউজ পাব্লিকেশন “insider.com” এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, “আটলান্টার ফুলব্যাক রবিন গোসেনস বলেছেন যে তিনি ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে জুভেন্টাসের বিরুদ্ধে কোপা ইতালিয়ার ৩-০ গোলে জয়ের পরে রোনালদোর জামা চেয়েছিলেন, তখন রোনালদো তাকে সরাসরি না বলেছিলেন।” সমজাতীয় আরো একটি সংবাদ দেখুন এখানে

স্ক্রিনশটঃ ইনসাইডার ডট কম

এছাড়াও, রোনালদোর একটি ভিডিও আপ্লোড করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করা হয় “রোনালদো ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সাথে হাত মেলাননি, এড়িয়ে গেছেন”। পাশাপাশি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী দাবির ব্যক্তিটির গায়ে প্রযুক্তির সহায়তায় ইজরায়েলের পতাকা যুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

তবে ভারতীয় ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান বুম এর অনুসন্ধানে অনুযায়ী ব্যক্তিটি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নন। এই কর্মকর্তা হলেন সৌদি আরবে ইটালির এ্যাম্বাসাডর লুকা ফেরারি

বিষয়টি নিয়ে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টলি-ও

দাবির সাথে সংযুক্ত ছবি অনুসন্ধান

সমজাতীয় বেশকিছু দাবির সাথে অনেকগুলো ছবি (কিছুক্ষেত্রে একটি ছবি) সংযুক্ত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে একটি ছবিতে রোনালদোকে ফিলিস্তিনের পতাকা সম্বলিত প্ল্যাকার্ড হাতে দেখা যায়। এরকম একটি পোস্ট দেখুন এখানে

ছবিতে লেখা ছিল “Everyone with palestine (স্প্যানিশ থেকে অনুবাদিত)”। যার অর্থ আমরা সবাই ফিলিস্তিনের সাথে।

এই সূত্র ধরে কি- ওয়ার্ড সার্চ পদ্ধতি ব্যবহার করে, আসল ছবিটি টাম্বলার নামক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া যায়।

 ছবিঃ টাম্বলার থেকে

পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম “ফ্রান্স২৪” এ একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় ফিলিস্তিনের পতাকা সম্বলিত ছবিটি এডিটেড। আসল ছবিতে লেখা ছিল “Everyone with Lorca (স্প্যানিশ থেকে অনুবাদিত)” যার দ্বারা বোঝানো হয়েছে “আমরা সবাই লর্সার ভূমিকম্পের ঘটনার ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে আছি।” 

স্ক্রিনশটঃ ফ্রান্স২৪ সাইট থেকে

দাতব্য ক্ষেত্রে রোনালদোর উল্লেখযোগ্য কিছু অবদান ও স্বীকৃতি

খেলোয়াড়দের ব্যবসা পরিচালনাকারী সংস্থা “ব্রাফম্যান অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস ল’ ফার্ম” এর ২০১৭ সালের এক তথ্য অনুসারে, রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ২০২০ সালে চিলির রাজধানী সান্তিয়াগোতে একটি শিশু হাসপাতাল তৈরি করবেন। হাসপাতালটি হবে পর্তুগাল অধিনায়ক এবং ইতালীয় ব্যবসায়ী আলেসান্দ্রো প্রোটোর যৌথ উদ্যোগে। এ কাজে তিনি £105,000 (পাউন্ড) দিয়েছিলেন।

আমেরিকান স্পোর্টস চ্যানেল “ইএসপিএন” এর অনলাইন সংস্করণে ২০১৭ সালের ৪ অক্টোবর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, “ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো তার চারটি ব্যালন ডি’অর ট্রফির একটির রেপ্লিকা (প্রতিরূপ) দান করে দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য €600,000 ($705,000) সংগ্রহ করতে সাহায্য করেছেন

২০১৬ সালে তিনি সিরিয়ার শিশুদের দুর্দশাকে লাঘব করতে খাদ্য, পোশাক এবং চিকিৎসা যত্নের জন্য সেভ দ্য চিলড্রেনকে বৃহৎ একটি অনুদান দিয়েছিলেন

তিনি ২০১৪ সালে ১০ মাস বয়সী একটি  শিশুর সাহায্যে করেছিলেন, শিশুটিকে দিনে ৩০দিন পর্যন্ত খিঁচুনি হওয়া থেকে রক্ষা করার জন্য মস্তিষ্কের অপারেশনের জন্য £53,000 (পাউন্ড) অর্থ প্রদান করেছিলেন

২০১৩ সালে, রোনালদো ইন্দোনেশিয়ার ম্যানগ্রোভ বন সংরক্ষণের জন্য একটি প্রকল্পে অনুদান দিয়েছিলেন

তিনি পর্তুগালের একটি ক্যান্সার কেন্দ্রে $165,000 এরও বেশি দান করেছেন যেটি তার মায়ের চিকিৎসা করেছিল
২০১৫ সালে রোনালদোকে dosomething.org-এর দ্বারা বিশ্বের সবচেয়ে দানশীল ক্রীড়াবিদ হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল

মূলত, ২০১১ সালে রোনালদো তার ক্লাবের ফাউন্ডেশনকে তার স্পোর্টস জুতা দিয়েছিলেন, যেগুলো দাতব্য সংস্থাটি পাবলিক নিলামে বিক্রি করে যা আয় হয়েছিল সেই অর্থ ২,৪০০ ইউরো ফিলিস্তিনের গাজার স্কুলগুলিতে তহবিল হিসেবে দেয়। সেই বিষয়টি-ই গোল্ডেন বুট নিলামে তুলে সেই অর্থ ফিলিস্তিনে দেয়ার দাবিতে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়াও, গ্রহণযোগ্য তথ্যসূত্র উল্লেখ ব্যতীত কয়েকটি সাইটের ভুয়া সংবাদের উপর ভিত্তি করে “রোনালদো ২০১৯ সালের রমজান মাসে ইফতারের জন্য ফিলিস্তিনে ১.৫ মিলিয়ন ইউরো দান করেছেন” শীর্ষক দাবি ইন্টারনেটে ব্যপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে তা বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমেও প্রচার হয়। এমনকি দেশীয় মূলধারার কিছু গণমাধ্যমে ১.৫ মিলিয়ন ইউরোর বদলে ১.৫ মিলিয়ন ডলার উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি ভিন্ন ভিন্ন কিছু গণমাধ্যমে টাকার সংখ্যা বিভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সিরিয়ার জন্য অনুদান দিয়েছেন, পাশাপাশি এক ভিডিও বার্তায় তিনি সিরিয়ার শিশুদের বলেছিলেন: ‘তোমরা আশা হারাবে না’। এছাড়াও, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদের পুর্তগাল সুপার স্টার ক্রিস্টিয়নো রোনালদো

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইজরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবেননা মেসি শীর্ষক ভুয়া খবর ছড়ানো হয়েছিল। খেলাধুলা সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে ইতোমধ্যে বেশকিছু ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।

সুতরাং, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোল্ডেন বুট বিক্রি করে যে কোনো পরিমাণ টাকা দান করার দাবিগুলো মিথ্যা কেননা গোল্ডেন বুট নিলামে তোলার সংবাদটি-ই মিথ্যা। পাশাপাশি ফিলিস্তিনি শিশুদেরকে ২৪০০ ইউরোর বেশি সংখ্যার টাকা প্রদানের দাবিগুলোও মিথ্যা। এছাড়াও, রোনালদো কর্তৃক ২০১৯ সালের রমজানে ফিলিস্তিনিদেরকে ইফতারের জন্য টাকা প্রদানের দাবিগুলোও (বিভিন্ন পরিমাণ) মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

RS Team
RS Team
Rumor Scanner Fact-Check Team
- Advertisment -spot_img
spot_img
spot_img