বৃহস্পতিবার, জুলাই 18, 2024
spot_img

আসন্ন নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য হচ্ছেনা শীর্ষক কোনো মন্তব্য করেননি সিইসি

সম্প্রতি, ব্রেকিং নিউজ হিসেবে জানিয়ে ফেসবুকের কিছু পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য হচ্ছেনা। এর দায় শুধু নির্বাচন কমিশন নিবেনা, সরকারকেও নিতে হবে।

আসন্ন নির্বাচন

উক্ত দাবি উল্লেখ করে ফেসবুকের কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিইসি হাবিবুল আউয়াল এই নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য হচ্ছেনা শীর্ষক কোনো মন্তব্য করেননি বরং তিনি বলেছেন, যদি নির্বাচন অনিরপেক্ষ হয় বা নির্বাচন যদি খুব বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায় সরকারের ওপরও সে দায় পড়বে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলা’র ওয়েবসাইটে গত ১৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনটি খুঁজে পেয়েছে রিউমর স্ক্যানার টিম। প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটিকে দেওয়া প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সাক্ষাৎকারের ভিডিওটিও সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রায় ৩০ মিনিটের ভিডিওটি গত ১৭ ডিসেম্বর ধারণ করা হয়৷ 

Screenshot: VOA Bangla

আমরা পুরো ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি। ২৩ মিনিট ১০ সেকেন্ড সময় থেকে দেখা যায়, সাক্ষাৎকার গ্রহণকারি শতরূপা বড়ুয়া সিইসিকে জিজ্ঞেস করেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচন গ্রহণযোগ্য না হলে পদত্যাগ করবেন কিনা। এমন প্রশ্নের জবাবে জনাব হাবিবুল আউয়াল বলেন, এসব ব্যাপারে আমি কোনো জবাব দেবো না৷ এটা খুব সঙ্গত প্রশ্ন নয়। আমরা আমাদের দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করে যাব। আমরা আশাবাদী সকলের প্রচেষ্টায় যে নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ হবে এই প্রত্যাশা আমাদের নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে সেই চেষ্টাটা সেই প্রয়াস থাকবে। একইসাথে আমরা ঘুরে ঘুরে এই মেসেজটা দিয়ে যাচ্ছি, নির্বাচনটাকে যারা প্রত্যক্ষভাবে পরিচালনা করবেন তারা যেন দায়িত্বের সাথে এই দায়িত্বটা পালন করবেন। হ্যাঁ, তারা যদি দায়িত্বটা পালন না করার কারণে অনিয়ম হয়, তার কিছুটা দায়ভার তো আমাদের ওপর এসে পড়বে। কিন্তু সার্বিকভাবে বা এককভাবে নির্বাচন কমিশনকে দায়বদ্ধ করা যাবে না। এখানে সরকার একটা বড় জিনিস। সরকারের ওপর আমাদের অনেকাংশে নির্ভর করতে হচ্ছে। সরকারের যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং তা বারংবার ব্যক্ত করা হয়েছে যে এবারের নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ হবে। আমি বলছি না, এটা সরকারের কথা। আমাদের আইনে রয়েছে, সরকার আমাদের সহায়তা দিতে হবে এবং সরকারের এই সহায়তার মধ্যে আন্তরিকতা, সদিচ্ছা থাকতে হবে।.. 

একই প্রশ্নের উত্তরে সিইসি বলেন, যদি নির্বাচন অনিরপেক্ষ হয় বা নির্বাচন যদি খুব বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায় সরকারের ওপরও সে দায় পড়বে। সেজন্য এবার সরকার খুবই সচেতন। আমরাও সরকারের ওপর সে চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছি।  

আমরা সিইসির পুরো সাক্ষাৎকারে আসন্ন নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য হচ্ছেনা শীর্ষক কোনো মন্তব্যের উল্লেখ পাইনি। তবে ছড়িয়ে পড়া এ সংক্রান্ত দাবিতে “এর দায় শুধু নির্বাচন কমিশন নিবেনা, সরকারকেও নিতে হবে।” শীর্ষক মন্তব্যের অস্তিত্ব পেয়েছি এভাবে যে, যদি নির্বাচন অনিরপেক্ষ হয় বা নির্বাচন যদি খুব বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায় সরকারের ওপরও সে দায় পড়বে। 

মূলত, গত ১৭ ডিসেম্বর ভয়েস অফ আমেরিকাকে আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে সাক্ষাৎকার দেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। সাক্ষাৎকার তিনি বলেন, যদি নির্বাচন অনিরপেক্ষ হয় বা নির্বাচন যদি খুব বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায় সরকারের ওপরও সে দায় পড়বে। সিইসির এই বক্তব্যকে “এ নির্বাচন প্রতিদ্বন্তিতামূলক ও গ্রহনযোগ্য হচ্ছেনা. এ দায় শুধু নির্বাচন কমিশন নিবেনা” শীর্ষক মন্তব্য দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে। কিন্তু রিউমর স্ক্যানার টিম সিইসির পুরো সাক্ষাৎকার পর্যবেক্ষণ করে উক্ত দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি। 

সুতরাং, প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল ভয়েস অফ আমেরিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে “আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য হচ্ছেনা। এর দায় শুধু নির্বাচন কমিশন নিবেনা, সরকারকেও নিতে হবে।” শীর্ষক মন্তব্য করার দাবিটি বিভ্রান্তিকর। 

তথ্যসূত্র

RS Team
Rumor Scanner Fact-Check Team
- Advertisment -spot_img
spot_img
spot_img