সৌদি ফুটবলারকে জার্মানিতে পাঠানোর দাবিটি মিথ্যা

সম্প্রতি “উন্নত চিকিৎসার জন্য সৌদি প্রিন্সের নির্দেশে জার্মানি পাঠানো হলো সৌদি ডিফেন্ডারকে!” শীর্ষক শিরোনামে একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও মূলধারার গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ দেখুন প্রথম আলো, সংবাদ প্রকাশ, নিউজ বাংলা২৪, চ্যানেল আই, ঢাকা প্রকাশ, একুশে টিভি, ইনকিলাব, মানব জমিন, যমুনা টিভি, সময় টিভি, বাংলা ভিশন, আজকের পত্রিকা, বাংলা নিউজ২৪, ঢাকা পোস্ট, আরটিভি, কালবেলা, দৈনিক আমাদের সময়, যুগান্তর, জুম বাংলা, আলোকিত বাংলাদেশ, নয়াশতাব্দীবিডি মর্নিং, বিডি২৪লাইভ

গণমাধ্যমের ফেসবুক পেইজে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন একুশে টিভি, আর টিভি, যমুনা টিভি, সময়ের আলো, জুম বাংলা। পোস্টগুলোর আর্কাইভ ভার্সন দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে। 

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য সৌদি প্রিন্সের নির্দেশে সৌদি ফুটবল দলের ডিফেন্ডার ইয়াসের আল শাহরানিকে জার্মানিতে পাঠানোর তথ্যটি সঠিক নয় বরং তার নিজ দেশ সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালেই তার চিকিৎসা হচ্ছে। এছাড়া সৌদি প্রিন্সের এমন কোনো নির্দেশনাও পাওয়া যায়নি।

কি-ওয়ার্ড অনুসন্ধানের মাধ্যমে সৌদি আরবের গণমাধ্যম Saudi Gazette এ ২৩ নভেম্বর “Saudi defender Al-Shahrani flown to Riyadh for surgery after horrific injury” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

এই প্রতিবেদনটি থেকে সৌদি জাতীয় ফুটবল দলের টুইটার সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরবের ডিফেন্ডার ইয়াসের আল আল শাহরানি চলতি ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে খেলার শেষ মুহূর্তে মারাত্মকভাবে আহত হন। তাকে বুধবারই জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের জন্য রিয়াদে নিয়ে আসা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি থেকে আরও জানা যায়, বুধবার সকালে কাতারের রাজধানী দোহার হামাদ মেডিকেল সিটি থেকে তাকে সৌদি আরবের রিয়াদের ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। যেখানে তার একটি অস্ত্রোপচার হওয়ার কথা রয়েছে।

পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারের সৌদি জাতীয় ফুটবল দলের টুইটার একাউন্ট ঘুরেও এই তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়।

এছাড়া দুবাই ভিত্তিক গণমাধ্যম Al Arabiya এর ওয়েবসাইটে ২৩ নভেম্বর “Saudi footballer al-Shahrani undergoes surgery in Riyadh after gruesome injury” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গতকাল বুধবার রিয়াদের হাসপাতালে ইয়াসের আল শাহরানির সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

প্রতিবেদনটি থেকে আরও জানা যায়, আহত হওয়ার পর আল শাহরানিকে কাতারের হামাদ মেডিকেল সিটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং এক রাত তিনি সেখানেই থাকেন৷ পরবর্তীতে তাকে সৌদি আরবের রিয়াদের ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের জন্য নিয়ে আসা হয়। অর্থাৎ ইয়াসের আল শাহরানিকে জার্মানিতে পাঠানোর তথ্যটি সঠিক নয়। 

ইয়াসের আল আল শাহরানিকে জার্মানি পাঠাতে সৌদি প্রিন্সের নির্দেশ দিয়েছেন?

দেশের মূলধারার গণমাধ্যম দেশ রূপান্তর, দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাস, এনটিভি, বাংলা ইনসাইডার, চ্যানেল২৪, জনকণ্ঠ, নয়া দিগন্ত, বাংলাদেশ প্রতিদিন, মানবকণ্ঠ, ঢাকা পোস্ট, নিউজ২৪, ঢাকা মেইল, সময়ের আলো, ডেইলি বাংলাদেশ তাদের প্রতিবেদনে দাবি করে সৌদি প্রিন্স ইয়াসের আল আল শাহরানিকে জার্মানি পাঠাতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্য সহ একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম যাচাই করেও ইয়াসের আল আল শাহরানিকে সৌদি প্রিন্সের জার্মানিতে পাঠানোর নির্দেশনার কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া সৌদি জাতীয় ফুটবল দলের টুইটার ও সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের ফেসবুক পেইজ ঘুরেও এ তথ্যের কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, ইয়াসের আল আল শাহরানিকে সৌদি প্রিন্সের জার্মানিতে পাঠানোর নির্দেশনাটি সঠিক নয়।

মূলত, গত মঙ্গলবার কাতারে চলমান বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে খেলার একদম শেষ মুহূর্তে সৌদি গোলরক্ষক মুহাম্মদ আল ওয়াইসের হাঁটুর সঙ্গে আঘাত লাগে শাহরানির মুখের। এতে শাহরানি আহত হলে তাকে চিকিৎসার জন্য কাতারের হামাদ মেডিকেল সিটিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয় এবং এক রাত সেখানেই থাকার পর তাকে সৌদি আরবের রিয়াদের ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের জন্য নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে সেই হাসপাতালেই ইয়াসের আল শাহরানির সফলভাবে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া সৌদি প্রিন্সের জার্মানিতে পাঠানোর নির্দেশনারও কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সৌদি জাতীয় ফুটবল দলের টুইটার ও সৌদি ফুটবল ফেডারেশনের ফেসবুক পেইজ ঘুরেও এ তথ্যের কোনো সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

সুতরাং, উন্নত চিকিৎসার জন্য সৌদি ফুটবল দলের ডিফেন্ডার ডিফেন্ডার ইয়াসের আল শাহরানিকে জার্মানিতে পাঠানোর তথ্যটি সঠিক সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

RS Team
Rumor Scanner Fact-Check Team
- Advertisment -spot_img
spot_img
spot_img