লিবিয়ায় ঘুর্ণিঝড় থেকে সৃষ্ট বন্যার খবরে গণমাধ্যমে পুরোনো ছবি

সম্প্রতি, লিবিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ঘটনায় দেশীয় গণমাধ্যমে ৬ টি ছবি প্রচার করা হয়েছে। 

উক্ত ছবিগুলো ব্যবহার করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখুন চ্যানেল২৪, মাই টিভি, প্রতিদিনের সংবাদ, বিজনেস আওয়ার, সময়ের খবর, অর্থসূচক, ইনকিলাব, দৈনিক করতোয়া, ডেইলি অবজারভার

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, লিবিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ঘটনায় প্রচারিত ছয়টি ছবি উক্ত ঘটনার নয় বরং পুরোনো ও ভিন্ন স্থানের ছবিকে উক্ত ঘটনার দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

ছবি যাচাই ১

Screenshot: Channel24

লিবিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ঘটনায় এই ছবিটি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে চ্যানেল২৪, মাই টিভি, বিজনেস আওয়ার, সময়ের খবর

কিন্তু ছবিটি উক্ত ঘটনার নয়।

ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ছবি শেয়ারিং এবং স্টোরেজ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান Getty Images এর ওয়েবসাইটে আলোচিত ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়।

Screenshot: Getty Images 

গেটি ইমেজ বলছে, গত ১০ জুলাই ভারী বৃষ্টি থেকে সৃষ্ট বন্যায় যুক্তরাষ্ট্রের  Ottauquechee River এর দৃশ্য এটি। 

একই স্থানে সেসময়ে ধারণকৃত একটি ভিডিও দেখুন এখানে। 

অর্থাৎ, ছবিটি লিবিয়ার নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের।  

ছবি যাচাই ২

Screenshot: Orthosuchok

লিবিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ঘটনায় এই ছবিটি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অর্থসূচক। 

কিন্তু ছবিটি উক্ত ঘটনার নয়।

ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম The Guardian এর ওয়েবসাইটে গত ০৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আলোচিত ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়।

Screenshot: The Guardian 

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন থেকে জানা যাচ্ছে, সেসময় হংকংয়ে ভারী বৃষ্টিপাতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার দৃশ্য এটি।  

একই ছবি পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম The Dawn এ দেখুন এখানে।

অর্থাৎ, ছবিটি লিবিয়ার নয়, বরং হংকংয়ের।

ছবি যাচাই ৩

Screenshot: Inqilab

লিবিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ঘটনায় এই ছবিটি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইনকিলাব।

কিন্তু ছবিটি উক্ত ঘটনার নয়।

ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters এর ওয়েবসাইটে  গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আলোচিত ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়।

Screenshot: Reuters

রয়টার্স বলছে, গত ১১ সেপ্টেম্বর তোলা এই ছবিতে সেসময় মরক্কোর ভূমিকম্পের ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকার দৃশ্য তুলে ধরা হয়েছে। 

অর্থাৎ, ছবিটি লিবিয়ার নয়, বরং মরক্কোর।   

ছবি যাচাই ৪

Screenshot: Karatoa

লিবিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ঘটনায় এই ছবিটি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দৈনিক করতোয়া।

কিন্তু ছবিটি উক্ত ঘটনার নয়।

ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে এক্স এ (সাবেক টুইটার) ২০২০ সালের ২০ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি টুইটে আলোচিত ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়।

Screenshot: X

ছবিটির মূল সূত্র খুঁজে পাওয়া না গেলেও এটা নিশ্চিত যে, এটি লিবিয়ার সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনার দৃশ্য নয়। 

ছবি যাচাই ৫

Screenshot: Daily Observer

লিবিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ঘটনায় এই ছবিটি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডেইলি অবজারভার

কিন্তু ছবিটি উক্ত ঘটনার নয়।

ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera এর ওয়েবসাইটে গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আলোচিত ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়।

Screenshot: Al Jazeera

ছবিটির ক্যাপশন থেকে জানা যাচ্ছে, রয়টার্সের তোলা ছবিটি গ্রিসের বন্যা কবলিত একটি এলাকার।  

অর্থাৎ, ছবিটি লিবিয়ার নয়, বরং গ্রিসের।

ছবি যাচাই ৬

Screenshot: Protidiner Sangbad

লিবিয়ায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার ঘটনায় এই ছবিটি ব্যবহার করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রতিদিনের সংবাদ। 

কিন্তু ছবিটি উক্ত ঘটনার নয়।

ছবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ভারতের সংবাদমাধ্যম Hindustan Times এর ওয়েবসাইটে ২০২০ সালের ২৮ জুলাই প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আলোচিত ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়।

Screenshot: Hindustan Times

ছবিটির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, সে বছরের ২৭ জুলাই ভারতের বিহারের গোপালগঞ্জ জেলায় ভারী বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টির দৃশ্য এটি।

অর্থাৎ, ছবিটি লিবিয়ার নয়, বরং ভারতের।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আলোচিত ছবিগুলোর ক্যাপশনে ফাইল ফটো বা পুরোনো ছবি শীর্ষক কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি বরং কিছু গণমাধ্যম ছবিগুলো সংগৃহীত এবং কোনো কোনো গণমাধ্যম ছবির ক্যাপশনে বিদেশি সংবাদ সংস্থার নাম উল্লেখ করেছে। আবার কোনোটিতে কিছুই উল্লেখ করা হয়নি। সাম্প্রতিক ঘটনার বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ছবিগুলো ব্যবহার করে সংগৃহীত উল্লেখ কিংবা কোনো তথ্য উল্লেখ না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই ছবিগুলো চীনের গত জুলাইয়ের বন্যার ঘটনার বলে প্রতীয়মান হয়। এতে করে নেটিজেনদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়া অমূলক নয়।

মূলত, সম্প্রতি লিবিয়ায় ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনায় দেশীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে লিবিয়ার ঘটনার দাবিতে ছয়টি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। তবে, রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ছবিগুলো উক্ত ঘটনার নয়। ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার পুরোনো ছবিকে লিবিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনার খবরে ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে আলোচিত ছবিগুলোর ক্যাপশনে ফাইল ফটো বা পুরোনো ঘটনার ছবি শীর্ষক কোনো তথ্যও দেওয়া হয়নি। এতে করে স্বাভাবিকভাবে ছবিগুলো লিবিয়ার সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনার বলে প্রতীয়মান হয়, যা বিভ্রান্তির জন্ম দিয়েছে।

সুতরাং, লিবিয়ায় সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনায় বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ছয়টি পুরোনো ও ভিন্ন স্থানের ছবিকে সাম্প্রতিক দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

RS Team
Rumor Scanner Fact-Check Team
- Advertisment -spot_img
spot_img
spot_img