সোমবার, জুলাই 22, 2024
spot_img

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক খালেদা জিয়াকে সরকার ঘোষণার ভুয়া দাবি 

গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২২২টি সংসদীয় আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। তবে গত ৩১ জানুয়ারি ‘Media Cell’ নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে “রাতেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে খালেদা জিয়াকে সরকার ঘোষণা নিষেধাজ্ঞার তালিকা দিলো আমেরিকা” শীর্ষক শিরোনাম এবং প্রায় সমজাতীয় থাম্বনেইলে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। 

খালেদা জিয়াকে

ইউটিউবে প্রচারিত ভিডিওটি দেখুন এখানে (আর্কাইভ)। 

এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া অবধি ভিডিওটি দেখা হয়েছে প্রায় ১৩ হাজার বার। ভিডিওটিতে প্রায় ৪৫৭ পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

পরবর্তীতে আরও দুইটি ইউটিউব চ্যানেলে উক্ত ভিডিওটি প্রচার করা হয়েছে। সেগুলো দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)। 

ফ্যাক্টচেক 

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের সরকার ঘোষণা করেনি কিংবা যুক্তরাষ্ট্র থেকে কোনো প্রকার নিষেধাজ্ঞার তালিকাও দেওয়া হয়নি বরং ভিন্ন প্রেক্ষাপটের দুইটি ভিডিওর সাথে চটকদার শিরোনাম ও থাম্বনেইল যুক্ত করে আলোচিত ভিডিওটি তৈরি করা হয়েছে। 

অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। আলোচিত ভিডিওটি’র শিরোনাম এবং থাম্বনেইলে উল্লেখিত দাবিগুলোর সাথে ভিডিওটি’র বিস্তারিত অংশের মিল পাওয়া যায়নি। 

ভিডিওতে প্রচারিত এই দাবিগুলো নিয়ে প্রাসঙ্গিক একাধিক কি ওয়ার্ড সার্চ করেও গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে উক্ত দাবিগুলোর সত্যতা পাওয়া যায়নি। 

অনুসন্ধানের এপর্যায়ে আলোচিত ভিডিওটিতে প্রচারিত ভিডিও ক্লিপগুলোর বিষয়ে পৃথকভাবে অনুসন্ধান চালায় রিউমর স্ক্যানার টিম।

ভিডিও যাচাই – ০১ 

আলোচিত ভিডিওর শুরুতেই ভয়েজ বাংলার প্রতিষ্ঠাতা সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা ফিরোজের ভিডিও ফুটেজের অনুসন্ধানে কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে ভয়েজ বাংলার ইউটিউব চ্যানেলে গত ৩১ জানুয়ারি “বাংলাদেশের নির্বাচন অবাদ ও সুষ্ঠু হয়েছে মনে করে না আমেরিকা। Mostofa Fero। Voice Bangla” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। এই ভিডিওটির একটি অংশই আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটিতে যুক্ত করা হয়েছে। 

Video Comparison : Rumor Scanner 

তবে ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা যায় উক্ত ভিডিওর কোথাও আলোচিত দাবিগুলোর প্রসঙ্গে কোনো তথ্যের উল্লেখ নেই। ভিডিওটিতে মোস্তফা ফিরোজ গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্রিক তার নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন। 

ভিডিও যাচাই – ০২ 

আলোচিত ভিডিওটিতে যুক্ত দ্বিতীয় ভিডিওটি ক্লিপটির অনুসন্ধানে কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে News Bangla Today নামক ইউটিউব চ্যানেলে গত ৩১ জানুয়ারি “ভারতের প্ররোচনায় বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় পিছুটান-এমন দাবি মানতে নারাজ যুক্তরাষ্ট্র।।” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। এই ভিডিওটির একটি অংশের সাথে সাথে আলোচিত ভিডিওটিতে যুক্ত সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারীর বক্তব্য অংশের হুবহু মিল পাওয়া যায়। 

Video Comparison : Rumor Scanner 

উক্ত ভিডিওতে বিএনপি সাবেক প্রেস উপসচিব ও  সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারী বাংলাদেশের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন পাশাপাশি তিনি ভারতের হস্তক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্র পিছু হটলো কিনা প্রশ্ন রেখে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করেন।

তবে পুরো ভিডিও বিশ্লেষণে কোথাও আলোচিত দাবিগুলো প্রসঙ্গে কোনো তথ্যপ্রমাণ কিংবা দৃশ্যের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। 

উল্লেখ্য, গত ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ‘অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মানদণ্ড’ মেনে অনুষ্ঠিত হয়নি বলে মনে করে যুক্তরাষ্ট্র।

মূলত, গত ০৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ঘোষিত ২৯৮ আসনের ফলাফলে ২২২ টি আসন লাভ করে টানা চতুর্থবার সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। গত ৩০ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। এরই মধ্যে ৩১ জানুয়ারি Media Cell নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ‘রাতেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে খালেদা জিয়াকে সরকার ঘোষণা নিষেধাজ্ঞার তালিকা দিলো আমেরিকা’ শীর্ষক শিরোনাম এবং প্রায় সমজাতীয় থাম্বনেইল ব্যবহার করে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়। প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্র সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের সরকার ঘোষণা করেনি এবং সম্প্রতি বাংলাদেশ নিয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞার তালিকাও প্রকাশ করেনি।

প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া শারীরিক অসুস্থতা ও বয়স বিবেচনায় ২০২০ সালের মার্চ মাসে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাহী ক্ষমতাবলে ছয় মাসের মুক্তি পান। এরপর এই জামিনের মেয়াদ বেশ কয়েকবার বৃদ্ধি করা হয়। সর্বশেষ গত ১২ সেপ্টেম্বর জামিনের মেয়াদ ৬ মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ২০২০ সালে জামিনে মুক্তির পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে শারীরিক জটিলতার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

সুতরাং, যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক খালেদা জিয়াকে সরকার ঘোষণা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক নিষেধাজ্ঞার তালিকা প্রকাশের দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যগুলো মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

RS Team
Rumor Scanner Fact-Check Team
- Advertisment -spot_img
spot_img
spot_img