সম্প্রতি, কনটেন্ট ক্রিয়েটর এথিনা তাবাসসুম মীমের ছবি ব্যবহার করে “বাসায় ফেরার পথে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার জুলাইযোদ্ধা এ্যাথিনা তাবাসসুম মিম” শীর্ষক শিরোনামে চ্যানেল২৪ এর লোগো সম্বলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ফটোকার্ড দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, এথিনা তাবাসসুম মীম ধর্ষণের শিকার হয়েছেন শীর্ষক দাবিটি সঠিক নয় এবং উক্ত শিরোনামে চ্যানেল২৪ও কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, গণমাধ্যমটির ভিন্ন ঘটনার একটি ফটোকার্ড ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তার সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে চ্যানেল২৪ এর লোগো এবং এটি প্রকাশের তারিখ ২৮ আগস্ট, ২০২৫ উল্লেখ পাওয়া যায়।
পরবর্তীতে চ্যানেল২৪ এর ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি অন্য কোনো গণমাধ্যম বা নির্ভরযোগ্য সূত্রে দাবিটির বিষয়ে কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে, চ্যানেল২৪ এর ফেসবুক পেজে গত ২৮ আগস্ট ‘বাড়িতে ফেরার পথে কলেজছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার’ শীর্ষক তথ্য সম্বলিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত ফটোকার্ডের সাথে উক্ত ফটোকার্ডের শিরোনাম এবং ছবি ব্যতিত বাকি সকল উপাদানের মিল রয়েছে। চ্যানেল২৪ এর মূল ফটোকার্ডটিতে ‘বাড়িতে ফেরার পথে কলেজছাত্রী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে ‘বাসায় ফেরার পথে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার জুলাইযোদ্ধা এ্যাথিনা তাবাসসুম মিম’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।
অর্থাৎ, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে চ্যানেল২৪ এর ফটোকার্ড সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
মূল ফটোকার্ড সম্বলিত চ্যানেল২৪ এর পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ২৬ আগস্ট পিরোজপুরে এক কলেজ ছাত্রী (১৯) সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। বর্তমানে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
অর্থাৎ, ভিন্ন ঘটনা এটি যার সাথে এথিনা তাবাসসুম মীমের কোনো সম্পর্ক নেই।
অনুসন্ধানে এথিনা তাবাসসুম মীম তার ফেসবুক প্রোফাইলে দাবিটি ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষিতে এ বিষয়ে একটি পোস্টের মাধ্যমে জানান, “আমাকে যেভাবে পারছে হেনস্থা করছে। আমার সম্পর্কে ভুয়া খবর ছড়াচ্ছে। আমার ছবি ইডিট করে যা ইচ্ছা তাই করছে। আমি বুঝতে পারছি না কেন প্রশাসন এদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”
সুতরাং, ‘বাসায় ফেরার পথে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার জুলাইযোদ্ধা এ্যাথিনা তাবাসসুম মিম’ শীর্ষক শিরোনামে চ্যানেল২৪ এর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Channel24: Facebook Post