যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র এবং জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের মনোনীত উপ-প্রতিনিধি ট্যামি ব্রুস, ‘বাংলাদেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে দিতে বলেছেন’ এবং ‘সাংবিধানিক ভাবে নির্বাচিত আওয়ামী সরকারের ক্ষমতায় ফেরার ব্যবস্থা নেবেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান ভলকার তুর্ক’ শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ট্যামি ব্রুস বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে হবে এবং নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ থাকতে হবে বলে কোনো মন্তব্য করেননি। এছাড়া, নির্বাচন আয়োজনে সেনাবাহিনী ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হলে সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলেও কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, এটি গত ২০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুসের ভিন্ন একটি বিষয়ের প্রেস ব্রিফিংয়ের খণ্ডিত অংশ।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর একাধিক কী-ফ্রেম রিভার্স সার্চের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে গত ২১ জুন প্রকাশিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর শেষের অংশের দৃশ্যের সঙ্গে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর দৃশ্যের হুবহু মিল রয়েছে।
উক্ত ভিডিওর ২৭ মিনিট ৩৯ সেকেন্ড হতে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে আলোচনা শুনতে পাওয়া যায়। এসময় এক ব্যক্তি কর্তৃক ট্যামি ব্রুসকে প্রশ্ন করতে দেখা যায়, Given UN Human Rights Commission chief Volker Turk concern over the banning of political parties in Bangladesh – also, Human Rights Watch has accused the Yunus-led interim government for arbitrarily targeting Awami League supporters. Does the U.S. consider this violation of democratic principle and condemn these actions?
যার অর্থ দাঁড়ায় করলে দাঁড়ায়, “বাংলাদেশে রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধকরণ ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের ওপর নির্বিচার পদক্ষেপকে কি যুক্তরাষ্ট্র গণতান্ত্রিক নীতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখে এবং এসব কর্মকাণ্ডকে নিন্দা জানায়?”
প্রতিত্তোরে ট্যামি ব্রুস বলেন, “Obviously, when it comes to a – let’s say a White House reaction to what is occurring in another country, I would suggest you contact the White House. But when it comes to the Secretary of State and the State Department, let’s take that back and we’ll get an answer for you in that regard. But what I can tell you about Bangladesh is that Deputy Secretary Landau met with Bangladesh National Security Advisor Rahman yesterday – I should say Wednesday – and discussed the interim government’s efforts ahead of the national elections. They discussed the U.S.-Bangladesh relationship, including expanding trade and commercial ties. The United States is committing – committed to working with Bangladesh to promote peace and stability in the region.”
অর্থাৎ, পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেছেন, হোয়াইট হাউসের অবস্থান জানতে হলে সেখানে যোগাযোগ করতে হবে। তবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট বিষয়টি খতিয়ে দেখে আনুষ্ঠানিক উত্তর দেবে। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি ল্যান্ডাউ সম্প্রতি বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে আসন্ন নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
অর্থাৎ, এটি নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, ট্যামি ব্রুস বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আওয়ামী লীগসহ সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচন এবং নির্বাচন আয়োজনে সেনাবাহিনী ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হলে সেনাবাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে জানিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
পাশাপাশি, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো বিশ্বস্ত সূত্রে ‘সাংবিধানিক ভাবে নির্বাচিত আওয়ামী সরকারের ক্ষমতায় ফেরার ব্যবস্থা নেবেন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান ভলকার তুর্ক’ শীর্ষক দাবির পক্ষে কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস ও জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান ভলকার তুর্ককে জড়িয়ে বাংলাদেশের বিষয়ে প্রচারিত দাবিগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- U.S. Department of State: Youtube Video
- Rumor Scanner’s analysis