জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দাঁড়ি রাখার প্রকৃত নির্দেশনাটি কি?

সম্প্রতি “চিন্তা করা যায় যে দেশে ৯১% জনসংখ্যা মুসলিম সেদেশে দাঁড়ি রাখতে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়!!!” শীর্ষক শিরোনামে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে । পোস্টগুলোর আর্কাইভ ভার্সন দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থীদের দাঁড়ি রাখতে চাইলে অনুমতি নেওয়ার দাবিতে প্রচারিত বিষয়টি বিভ্রান্তিকর। শিক্ষার্থীরা যাতে দাঁড়ি রাখার নামে স্টাইল করতে না পারে সেজন্যই প্রতিষ্ঠানটি এই নিয়ম চালু করেছে।

দাবিটির সত্যতা যাচাইয়ে রিউমর স্ক্যানার টিমের পক্ষ থেকে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী তানভীর মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করে।

তিনি রিউমর স্ক্যানারকে জানান,

“আমাদের এখানে দাঁড়ি রাখা যাবে, তবে সবাই স্টাইলিশ দাঁড়ি রাখতে চায়।সেজন্য দাঁড়ি রাখতে এখন আবেদনপত্র ও ভাইভা পরীক্ষা দিতে হবে। আর সুন্নতি দাঁড়ি ছাড়া স্টাইলিশ দাঁড়ি রাখা যাবে না।”

পরবর্তীতে অনুসন্ধানের মাধ্যমে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের কলেজ শাখার কো-অর্ডিনেটর একাউন্টিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মুহাম্মদ জাবেদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ৮ আগস্ট প্রকাশিত একটি নোটিশ খুঁজে পাওয়া যায়।

নোটিশটি থেকে জানা যায়, “জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জানানো যাচ্ছে যে, এখন থেকে যারা দাঁড়ি রাখতে চাও তাদেরকে অবশ্যই যথার্থ ভাবে (সুন্নাতি দাঁড়ি) রাখতে হবে, এবং স্ব স্ব শ্রেণি শিক্ষকের মাধ্যমে অধ্যক্ষ মহোদয় বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট শ্রেণি শিক্ষক, অ্যাডজুটেন্ট, কো-অর্ডিনেটর, উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষের সাথে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই দাঁড়ি রাখার অনুমতি পাবে। বাকি সবাইকে (ছেলেদের জন্য প্রযোজ্য) ক্লিন-সেইভ করে প্রতিষ্ঠানে আসতে হবে। উল্লেখ্য যে, কোনো ফ্যাশন কিংবা স্টাইল হিসেবে দাঁড়ি রাখা যাবে না।”

কলেজটির শিক্ষার্থী তানভীর মাহমুদ এই নোটিশটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পরবর্তীতে এই বিষয়টি নিয়ে অধিকতর সত্যতা যাচাইয়ে জানতে জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের উপাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল হান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। 

তিনি রিউমর স্ক্যানারকে বলেন,

“আমাদের ৮০% শিক্ষকের দাঁড়ি আছে। এমন কি আমার নিজেরও দাঁড়ি আছে। আমাদের কিছু শিক্ষার্থী আছে যারা ফ্যাশন করে দাঁড়ি রাখতে চায়, ঐ ব্যাপারে আমরা বলেছি সেটা করা যাবে না। করতে হলে অনুমতি লাগবে৷ ফ্যাশন করে দাঁড়ি রাখা আমাদের এখানে নিষেধ। সুন্নাতি দাঁড়ি যারা রাখবে তাদের কোনো নিষেধ নেই, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদেরও এমন নির্দেশনা দেওয়া আছে।”

তিনি আরও বলেন,

“ফ্যাশন দাঁড়ি যে আপনার জন্য, আমার জন্য, ইসলামের আঘাত, সেটাই অনেকে বুঝতে চায় না।”

মূলত, উক্ত কলেজসহ সামরিক বাহিনী নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দাঁড়ি রাখতে অনুমতির বিষয়টি স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখা যায়। গত আগস্ট মাসে এই প্রতিষ্ঠানটি একটি বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবগত করে। এই বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির উপাধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান রিউমর স্ক্যানারকে জানান, “আমাদের কিছু শিক্ষার্থী আছে যারা ফ্যাশন করে দাঁড়ি রাখতে চায়, ঐ ব্যাপারে আমরা বলেছি সেটা করা যাবে না। করতে হলে অনুমতি লাগবে৷ ফ্যাশন করে দাঁড়ি রাখা আমাদের এখানে নিষেধ। সুন্নতি দাঁড়ি যারা রাখবে তাদের কোনো নিষেধ নেই।”

সুতরাং, ছাত্রদের স্টাইলিশ দাঁড়ি রাখা বন্ধে অনুমতি নিয়ে সুন্নতি দাড়ি রাখার বিষয়কে ভুলভাবে ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

  • Conversation with Vice Principle of Jalalabad Cantonment Public School and College
  • Conversation with a Student of Jalalabad Cantonment Public School and College
RS Team
Rumor Scanner Fact-Check Team
- Advertisment -spot_img
spot_img
spot_img