ইসরায়েলে ইরানের হামলার দৃশ্য দাবিতে প্রচারিত এই ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি

গত ১ এপ্রিল সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানের একটি কনস্যুলার ভবনে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই হামলায় ইরানের জ্যেষ্ঠ কয়েকজন সামরিক কমান্ডার নিহত হন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে গত ১৩ এপ্রিল ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান৷ ইরান এই হামলার নাম দিয়েছে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ’।

উক্ত হামলার দৃশ্য দাবিতে ড্রোন হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ির একটি ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)। 

টিকটকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ড্রোন হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ির আলোচ্য ছবিটি গত ১৩ এপ্রিল ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরানের করা ড্রোন ও মিসাইল হামলার দৃশ্য নয় বরং উক্ত ছবিটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি।

আলোচ্য ছবির বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ভাইরাল ছবিটির বাম সাইডে আরবি ভাষার একটি লোগো লক্ষ্য করে রিউমর স্ক্যানার টিম। লোগোটির সূত্রে إيران بالعربية (Iran In Arabic) নামের একটি এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট খুঁজে পাওয়া যায়। গত ১৩ এপ্রিল দিবাগত রাত ২টা ৪৮ মিনিটে এই অ্যাকাউন্ট থেকে ভাইরাল এই ছবিটি (আর্কাইভ) পোস্ট করা হয়। ছবিটির ক্যাপশনে সূরা হুদের ৮২নং আয়াত লেখা হয়েছে। যার বাংলা অনুবাদ, “অতঃপর যখন আমার আদেশ এসে গেল, তখন আমি জনপদের উপরকে নীচে উল্টে দিলাম এবং ক্রমাগত পোড়ামাটির পাথর বর্ষণ করলাম।”

উক্ত পোস্টটির ক্যাপশন কিংবা রিপ্লাইয়ে ছবিটি সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে এই ছবিটি সম্পর্কে জানতে Iran In Arabic এর সাথে যোগাযোগ করে রিউমর স্ক্যানার টিম, তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশ অবধি কোনো প্রত্যুত্তর পাওয়া যায়নি। 

তবে একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সূত্রে (,,) জানা যায়, ইসরায়েলের ওপর ইরানের হামলার ঘটনা রাতে ঘটেছে। কিন্তু ভাইরাল ছবিটিতে দিনের দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।

গতকাল ১৪ এপ্রিল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ইসরায়েলের এক সামরিক মুখপাত্র জানিয়েছেন গত ১৩ এপ্রিল ইরানের হামলায় মোট ৩৬০টি গোলাবারুদ নিক্ষেপ করা হয়েছিল, যার মধ্যে ছিল ১৭০টি বিস্ফোরক ড্রোন, ৩০টি ক্রুজ মিসাইল এবং ১২০টি ব্যালিস্টিক মিসাইল।

ইরানের ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ৯৯ শতাংশই প্রতিরোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল। তবে একটি সামরিক ঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেছে তারা। এছাড়া দক্ষিণের আরাদ অঞ্চলে ধ্বংসাবশেষ থেকে ছিটকে আসা স্প্লিন্টারে এক ১০ বছর বয়সী মেয়ে গুরুতরভাবে আহত হওয়ার ঘটনার কথাও জানিয়েছে ইসরায়েল।

এছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান বলেছেন, ইরান কেবল ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। কোনো বেসামরিক বা অর্থনৈতিক স্থান লক্ষ্য করে তারা হামলা চালায়নি।

তাছাড়া বিশ্বস্ত কোনো সূত্রেও আলোচ্য ছবির মতো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের তথ্য পাওয়া যায়নি। 

এদিকে ‘AI or Not’ এবং ‘Hive Moderation’ নামের দুটি এআই শনাক্তকারী ওয়েবসাইটে উক্ত ছবিটি যাচাই করে দেখা যায় এটি এআইয়ের সাহায্যে তৈরি।

Screenshot: AI or Not & Hive Moderation.

মূলত, ইরানের একটি কনস্যুলার ভবনে ইসরায়েলের হামলার জবাবে গত ১৩ এপ্রিল ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালিয়েছে ইরান৷ এই হামলার দৃশ্য দাবিতে ড্রোন হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ির একটি ছবি ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভাইরাল এই ছবিটি আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি। বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে আলোচ্য ছবির মতো ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের তথ্য পাওয়া যায়নি। তাছাড়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন ইরান কেবল ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, কোনো বেসামরিক বা অর্থনৈতিক স্থান তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল না।

সুতরাং, এআই দিয়ে তৈরি একটি ছবিকে গত ১৩ এপ্রিল ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরানের করা ড্রোন ও মিসাইল হামলার বাস্তব দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে; যা বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

RS Team
Rumor Scanner Fact-Check Team
- Advertisment -spot_img
spot_img
spot_img