বৃহস্পতিবার, আগস্ট 18, 2022
spot_img

Fact Check: বাস্তবের দুমুখো মানুষ দাবী করা এডওয়ার্ড মরড্রেক চরিত্রটি কাল্পনিক

সম্প্রতি “১৯শ শতকে জন্ম নেয়া বাস্তবের দুমুখো মানুষটির নাম এডওয়ার্ড মরডেক, ২৩ বৎসর বয়সে আত্মহত্যার আগ পর্যন্ত যিনি ডাক্তারদের কাছে অনুনয় করতেন যেন পিছনের মুখটি সরিয়ে দেওয়া যায়” শিরোনাম সম্বলিত কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফেসবুকে ভাইরাল কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায় এডওয়ার্ড মরডেক / মরড্রেক বাস্তবের দুমুখো মানুষ নয় বরং এটি একটি কাল্পনিক চরিত্র। মূলত, ১৮৯৫ সালে আমেরিকান লেখক চার্লস লটিন হিলড্রেক The Boston Sunday Post পত্রিকায় এডওয়ার্ড মরডেক’কে নিয়ে একটি কাল্পনিক গল্প প্রকাশ করেন

পরবর্তীতে ১৮৯৬ সালে ডাক্তার George M. Goulad এবং Walter L. Pyle কর্তৃক প্রকাশিত মেডিকেল কেস স্টাডি বুক Anomalies and Curiosity of Medicine এ মরডেক চরিত্রের অস্তিত্ব পাওয়া যায় যা হিলড্রেক এর প্রকাশিত সেই কাল্পনিক গল্প থেকে নেয়া হয়েছিলো“Anomalies and Curiosity of Medicine” বই প্রকাশের পরপর ই এডওয়ার্ড মরডেকের গল্পটি মানুষের মধ্যে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে থাকে।

Anomalies and Curiosity of Medicine বই

রিভার্স ইমেজ সার্চ পদ্ধতি ব্যবহার করে দেখা যায়, মরডেকের দুই মাথার ছবি দাবীতে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত ছবিগুলো মূলত মোমের তৈরি যা জার্মানির হ্যামবার্গ শহরে অবস্থিত Panoptikum যাদুঘরে রয়েছে। ১৫ জুন ২০১৬ সালে ইন্টারনেটে আপলোড করা একটি ভিডিওতে ভাস্কর্যটিকে দেখা যায়

এছাড়াও দ্বিতীয় যে ছবিটি মরডেকের মাথার খুলি দাবীতে প্রচার করা হচ্ছে সেটি Tom Kuebler নামক একজন ভাস্করের তৈরি। তিনি পূর্বেও এরকম কয়েকটি “দুটি মাথা বিশিষ্ট” খুলির ভাস্কর্য তৈরি করে বিক্রি করেছেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া বেশকিছু পোস্টে মমিতে পরিণত আরেকটি “দুই মাথা বিশিষ্ট” এডওয়ার্ড মরডেক এর দাবী করা ছবি পাওয়া যায়। ২০২০ সালে ভাইরাল কিছু পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে

মূলত এটি Ewart Schindler নামের আরেকজন ভাস্কর papier-mâché নামক একধরনের উপাদান দিয়ে তৈরি করেছেন।

এডওয়ার্ড মরডেক’কে নিয়ে ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান স্নোপ্সের ২০১৭ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদন দেখুন এখানে।

সুতরাং, এডওয়ার্ড মরডেক এর ছবি দাবীতে প্রচারিত ছবিগুলো নিতান্তই শৈল্পিক কাজ এবং এখন পর্যন্ত তার অস্তিত্বের কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমান পাওয়া যায়নি, অতএব সামাজিক মাধ্যমে বাস্তবের দুমুখো মানুষ দাবীতে প্রচারিত বিষয়টি বিভ্রান্তিকর ও গুজব।

[su_box title=”True or False” box_color=”#f30404″ radius=”0″]

  • Claim Review: ১৯শ শতকে জন্ম নেয়া বাস্তবের দুমুখো মানুষটির নাম এডওয়ার্ড মরডেক
  • Claimed By: Facebook Posts
  • Fact Check: False

[/su_box]

RS Team
RS Team
Rumor Scanner Fact-Check Team
- Advertisment -spot_img
spot_img
spot_img