বান্ধবীর হলে ঢুকা নিয়ে ডাকসু ভিপি প্রার্থী আবিদুলের মন্তব্য বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার

আসন্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কর্তৃক মনোনীত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খানের একটি ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওটিতে আবিদুলকে বলতে শোনা যায়, “এটা কেমন আইন যে আমি আমার বান্ধবীর হলে আমি ঢুকতে পারবো না আমি আমার বৈধ কার্ড আছে এভ্রিথিং আছে?”

ভিডিওটি প্রচার করে ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “এটা কেমন আইন , আমি আমার বান্ধবীর হলে ঢুকতে পারবোনা? : ছাত্র দলের ভিপি প্রার্থী আবিদ”। অর্থাৎ, দাবি করা হয়েছে আবিদুল নিজে তার বান্ধবীর হলে ঢুকতে না পারার বিষয়ে অভিযোগ করছেন।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি আলোচিত দাবিতে প্রচারিত উপরোল্লিখিত পোস্টগুলো সম্মিলিতভাবে ২ লক্ষেরও অধিক বার দেখা হয়েছে এবং প্রায় ২,৮০০ এরও অধিক পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে পোস্টগুলোতে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটিতে আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান নিজে তার বান্ধবীর হলে ঢুকতে না পারার বিষয়ে অভিযোগ করেননি। প্রকৃতপক্ষে কোনো এক মেয়ে তার বৈধ কার্ড থাকা সত্ত্বেও অন্য হলে থাকা তার বান্ধবীর হলে ঢুকতে না পারার নিয়মের বিষয়ে আবিদুল উল্লেখ করে বলেন এরূপ নিয়ম বাতিল করা উচিত। আবিদুল ইসলামের সাম্প্রতিক বক্তব্যের একটি খণ্ডিত অংশকে বিভ্রান্তিকরভাবে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেল ‘বায়ান্ন টিভি’র ফেসবুক পেজে ‘বৈধ কার্ড থাকা সত্ত্বেও ঢাবির এক হলের বান্ধবী অন্য হলের বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে পারে না’ শিরোনামে গত ২৩ আগস্টে প্রচারিত একটি ভিডিও পোস্ট পাওয়া যায়। 

ভিডিওটিতে আবিদুল ইসলাম খানকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটা ডাইনোসর যুগের আইন আছে। সে আইনটা হচ্ছে একটা মেয়ে স্টুডেন্ট তার বৈধ কাগজপত্র কার্ড এভরিথিং থাকার পরও তার সে যে হলে বসবাস করে আরেকটা হলে তার বান্ধবী থাকে, আরেকটা মেয়ে হলে, সে ইচ্ছে করলেই তার বৈধ কার্ড শো করেও তার বান্ধবীর সাথে দেখা করতে পারে না। যেতে পারে না। হলে ঢুকতে পারে না। দেখেন বর্তমান যুগে এসে এটা কোনোভাবেই কোন ধারাতেই কোন পরিস্থিতিতেই এটা মেনে নেওয়া যায় না। এখন আমি নির্বাচন করছি, আমি আমরাও নির্বাচন করছি। এখন আমার যেমন সেন্ট্রাল প্রার্থী আছে মেয়েরা আছে যেমন আমরা ছেলেরা প্রত্যেক হলে হলে গিয়ে প্রচারণা করতে পারতেছি। সেন্ট্রাল মেয়েরাও তো আছে সে রোকেয়া হলে থাকে সে ইচ্ছে করলেই শামসুন্নাহার হলে কেন্দ্রীয় প্রার্থী হিসেবে এখানে যেতে পারবে না পারছে না। রেগুলারিটি তার কোন এক্সেস নাই। সেটা শুধু নির্বাচন কেন্দ্রীক নয়৷ নির্বাচন কেন্দ্রীক নয়৷ আমাদের সকলের জন্য, সকলের সুবিধার্থে। আরে ভাই এটা কেমন আইন যে আমি আমার বান্ধবীর হলে আমি ঢুকতে পারবো না আমি আমার বৈধ কার্ড আছে এভ্রিথিং আছে?”

Comparison : Rumor Scanner

উক্ত ভিডিওটির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির তুলনা করলে পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও আবিদুলের দু’পাশে থাকা মানুষ ও তাদের পোশাকেরও হুবহু মিল পাওয়া যায়৷ এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রচারিত ভিডিওটি মূলত আবিদুলের উক্ত দিনের বক্তব্যের ভিডিও থেকেই নেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও, এ বিষয়ে মূলধারার গণমাধ্যম কালবেলাডিবিসি নিউজের ফেসবুক পেজেও আবিদুল ইসলাম খানের উক্ত বক্তব্যের ভিডিও পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে আবিদুল ইসলামের উপরোল্লিখিত বক্তব্য পর্যালোচনা করলে বুঝা যায়, বক্তব্যে আবিদুল ইসলাম মেয়েদের হলে তার নিজের ঢুকার বিষয়ে বলেননি। প্রকৃতপক্ষে কোনো এক মেয়ে তার বৈধ কার্ড থাকা সত্ত্বেও অন্য হলে থাকা ঐ মেয়ের বান্ধবীর হলে ঢুকতে না পারার নিয়মের বিষয়ে আবিদুল উল্লেখ করে বলেন এরূপ নিয়ম বাতিল করা উচিত। 

সুতরাং, আসন্ন ডাকসু নির্বাচনের প্রচারণায় ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান নিজে তার বান্ধবীর হলে ঢুকতে না পারার বিষয়ে অভিযোগ করেছেন শীর্ষক দাবিটি বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

আরও পড়ুন

spot_img