শনিবার, এপ্রিল 13, 2024
spot_img

বাহাদুরবাদের রেলওয়ে ফেরি দাবিতে ভিনদেশের ফেরির ছবি প্রচার

সম্প্রতি, “১৯৩৮ সালে ব্রিটিশ সরকার ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থাপনে জামালপুর দেওয়ানগঞ্জের বাহাদুরাবাদ ঘাট থেকে, অন্য পাড়ে গাইবান্ধার তিস্তা পাড় ঘাটের মধ্যে চালু করেছিলো এক রেলওয়েফেরী সার্ভিস” শীর্ষক শিরোনামে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হচ্ছে।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ছবিটি বাহাদুরাবাদ রেলওয়ে ফেরির ছবি নয় বরং এটি আমেরিকার লুসিয়ানার মিসিসিপি নদী পারাপাররত রেলওয়ে ফেরির ছবি। 

রিভার্স ইমেজ সার্চ পদ্ধতির মাধ্যমে, The Portal To Texas History নামের একটি ওয়েবসাইট থেকে ২০০৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত Photograph of “Sunset Limited” crossing the Mississippi River শিরোনামে প্রকাশিত একই ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়। 

ওয়েবসাইটটি থেকে জানা যায়, ছবির রেলওয়ে ফেরির নাম Mastodon. ফেরিটি দক্ষিণ প্যাসিফিক থেকে পশ্চিমগামী Sunset Limited নামের ট্রেন নিয়ে মিসিসিপি নদী পার হচ্ছিলো। ছবিটি ১৯৩০ সালে, লুসিয়ানার নিউ অরলিন্স থেকে তোলা।

এছাড়াও, মূলধারার সংবাদপত্র প্রথম আলো-এর অনলাইন সংস্করণে ২০২২ সালের ৮ এপ্রিল বালাসী-বাহাদুরাবাদ রুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু হচ্ছে শনিবার শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৩৮ সালে তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ নৌরুট চালু করে ব্রিটিশ সরকার। এপারে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখ ঘাট ওপারে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ঘাট। এই রুটের মাধ্যমে ঢাকা-দিনাজপুর রেল যোগাযোগ চালু ছিল। উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলার মানুষ ট্রেনে করে তিস্তামুখ ঘাটে যেতেন। এরপর তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ রুটে ফেরি পারাপার হতেন।ওপারে বাহাদুরাবাদে গিয়ে ট্রেনে উঠে ঢাকায় যেতেন।

মূলত, ১৯৩৮ সালে তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদ নৌরুট চালু করে ব্রিটিশ সরকার। ট্রেনে করে তিস্তামুখ ঘাট এসে মানুষ নৌরুটে ফেরি দিয়ে নদী পার হয়ে ওপারে বাহাদুরবাদ ঘাটে থাকা ট্রেনে করে ঢাকা আসত। নৌরুট-ফেরি চালুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমেরিকার নিউ অরলিন্সের মিসিসিপি নদীতে ট্রেন পারাপাররত একটি ফেরির ছবিকে বাংলাদেশের ১৯৩৮ সালে তিস্তামুখ ঘাট-বাহাদুরাবাদে চালু করা ফেরির ছবি দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ের দিকেও একই দাবিতে ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটিকে মিথ্যা শনাক্ত করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।

তথ্যসূত্র

RS Team
RS Team
Rumor Scanner Fact-Check Team
- Advertisment -spot_img
spot_img
spot_img