সম্প্রতি বাংলাদেশে কারফিউ জারি ও সেনা মোতায়েনের কোনো ঘটনা ঘটেনি

সম্প্রতি ‘মাঠে নামছে সেনাবাহিনী ৮ জেলা কারফিউ জারি’ শীর্ষক শিরোনাম ও থাম্বনেইল ব্যবহার করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত উক্ত ভিডিওটি দেখুন এখানে(আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশে ৮ জেলায় কারফিউ জারি এবং মাঠে সেনাবাহিনী নামার ঘটনা ঘটেনি বরং ভারতের মনিপুর রাজ্যের ৮ জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে এবং সে ঘটনায় সেনাবাহিনী মাঠে নেমেছে। তবে উক্ত সংবাদ প্রচার করতে গিয়ে ভিডিও’র থাম্বনেইলে দেশের নাম উল্লেখ না করে বাংলাদেশের রাস্তায় সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক জনগনকে ধাওয়া করার পুরোনো ছবি ব্যবহার করার ফলে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। 

গত ০৫ মে News Plus নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে ‘মাঠে নামছে সেনাবাহিনী ৮ জেলা কারফিউ জারি’ শীর্ষক শিরোনাম ও থাম্বনেইল ব্যবহার করে ভিডিওটি প্রচার করা হয়। 

Screenshot: Facebook

অনুসন্ধানের শুরুতে ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে রিউমর স্ক্যানার টিম। উক্ত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, এটি ভিন্ন ভিন্ন ঘটনার কয়েকটি প্রতিবেদন নিয়ে তৈরি একটি নিউজ বুলেটিন ভিডিও। ৮ মিনিট ৫৩ সেকেন্ডের এই ভিডিওটিতে ৭ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের সময় ৮ জেলায় কারফিউ এবং সেনাবাহিনীর মাঠে নামার বিষয়ে বলা হয়। এবিষয়ে সংবাদ পাঠ ৭ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড শুরু হয়ে ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত চলে।

উক্ত সংবাদ পাঠে বলা হয়, ‘ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যে উপজাতীয় গোষ্ঠীগুলোর এক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করা হয়েছে। বুধবার রাজ্যটির কিছু এলাকায় সহিংস ঘটনা ঘটার পর আট জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়াও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে পাঁচ দিনের জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সেনাবাহিনী বিক্ষুব্ধ এলাকাগুলোতে ফ্ল্যাগ মার্চ করে। এ রাজ্যের মেইতেই সম্প্রদায়, যারা মণিপুরের জনসংখ্যার কমপক্ষে ৫০ শতাংশ, তারা তফসিলি উপজাতি (এসটি) হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হওয়ার জন্য কয়েক বছর ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিল। ভারতে যেসব সম্প্রদায় ঐতিহাসিকভাবে সমান সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে, তাদের এসটি শ্রেণিভুক্ত করে তাদের জন্য সরকারি চাকরি, কলেজে ভর্তি ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির আসন সংরক্ষণ করা হয়।’

উক্ত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে প্রাসঙ্গিক কি ওয়ার্ড অনুসন্ধানের মাধ্যমে Europe Bangla’র অনলাইন সংস্করণে ‘ভারতের মণিপুরে রাস্তায় নামল সেনাবাহিন,  ৮ জেলায় কারফিউ’ শীর্ষক শিরোনামে গত ০৪ মে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন(আর্কাইভ) খুঁজে পাওয়া যায়। 

Screenshot: Europe Bangla

প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যে উপজাতীয় গোষ্ঠীগুলোর এক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা শুরু হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা জারি করা হয়েছে। বুধবার রাজ্যটির কিছু এলাকায় সহিংস ঘটনা ঘটার পর আট জেলায় কারফিউ জারি করা হয়েছে। এ ছাড়াও স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে পাঁচ দিনের জন্য মোবাইল ইন্টারনেট সেবা স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সেনাবাহিনী বিক্ষুব্ধ এলাকাগুলোতে ফ্ল্যাগ মার্চ করে। এ রাজ্যের মেইতেই সম্প্রদায়, যারা মণিপুরের জনসংখ্যার কমপক্ষে ৫০ শতাংশ, তারা তফসিলি উপজাতি (এসটি) হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হওয়ার জন্য কয়েক বছর ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিল। ভারতে যেসব সম্প্রদায় ঐতিহাসিকভাবে সমান সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে, তাদের এসটি শ্রেণিভুক্ত করে তাদের জন্য সরকারি চাকরি, কলেজে ভর্তি ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির আসন সংরক্ষণ করা হয়।’

রিউমর স্ক্যানার যাচাই করে দেখেছে, অনলাইন পোর্টাল ইউরোপ বাংলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনটি দাবিকৃত ভিডিওতে প্রতিবেদনের শেষ অংশ পর্যন্ত হুবহু পাঠ করা হয়েছে। 

পাশাপাশি, মূল ধারার গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে বাংলাদেশের কোনো জেলায় কারফিউ জারি কিংবা মাঠে সেনাবাহিনী নামার বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

অর্থাৎ, প্রচারিত ভিডিও’র বিস্তারিত প্রতিবেদন এবং এবিষয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করলে এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশে কারফিউ জারি এবং সেনাবাহিনী মাঠে নামার ঘটনা ঘটেনি। 

মূলত, সম্প্রতি ভারতের মনিপুর রাজ্যের ৮টি জেলায় কারফিউ জারি এবং মাঠে সেনাবাহিনী নামার ঘটনা ঘটেছে। তবে দেশটির নাম উল্লেখ না করে ‘মাঠে নামছে সেনাবাহিনী ৮ জেলা কারফিউ জারি’ শীর্ষক শিরোনাম ও থাম্বনেইলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং জনগনকে ধাওয়া করার পুরোনো ছবি ব্যবহার করার কারনে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।

উল্লেখ্য, ক্যাপশন এবং থাম্বনেইলে চটকদার শিরোনাম ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। এসব ঘটনা নিয়ে পূর্বেও ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিউমর স্ক্যানার।

সুতরাং, ভারতের মনিপুর রাজ্যের ৮টি জেলায় কারফিউ জারি এবং মাঠে সেনাবাহিনী নামার ঘটনার সংবাদের ভিডিও’র ক্যাপশনে দেশের নাম উল্লেখ না করে শুধুমাত্র ‘মাঠে নামছে সেনাবাহিনী ৮ জেলা কারফিউ জারি’ লিখে প্রচার করা হচ্ছে এবং থাম্বনেইলে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃপক্ষ জনগনকে ধাওয়া করার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর। 

তথ্যসূত্র

RS Team
Rumor Scanner Fact-Check Team
- Advertisment -spot_img
spot_img
spot_img