সম্প্রতি, “নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নির্দেশ, নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন শেখ হাসিনা” শীর্ষক দাবিতে কথিত মার্কিন পররাষ্ট্র সচিবকে উদ্ধৃত করে একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
একই দাবিতে টিকটকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)। বাংলাদেশ
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়নি এবং আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ করতে পারবেন জানিয়েও কোনো মন্তব্যও করা হয়নি। এছাড়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্র সচিব বলে কোনো পদবিই নেই।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে, ফেসবুকের উক্ত দাবির কতিপয় পোস্টে কোনো তথ্যসূত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। এছাড়া আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো সংবাদ দেশিয় এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী অনুসন্ধানে, মার্কিন সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণে আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এছাড়া, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত পোস্টে কথিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিবকে উদ্ধৃত করা হয়।
তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তালিকা পর্যবেক্ষণ করে পররাষ্ট্র সচিব নামে সরাসরি কোনো পদের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। তবে, Deputy Assistant Secretary, Acting Deputy Assistant Secretary, Under Secretary for Public Diplomacy নামের কিছু পদ আছে বলে জানা যায়।
উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে‘Secretary of State’ বলে সম্বোধন করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও এর অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট পর্যবেক্ষণ করেআলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো তথ্য কিংবা নির্দেশনার বিষয়ে কোনো তথ্যের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের নির্দেশ দেওয়া এবং আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনা অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলে ঘোষণা দেওয়া সংক্রান্ত এই দাবিগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া ও বানোয়াট।
তথ্যসূত্র
- U.S. Department of State: Official X Account
- Secretary Marco Rubio: Official X Account
- U.S. Department of State: Website
- The Guardian: Rubio comes a long way to become most dominant US diplomat since Kissinger