চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থ লুটপাটের কথিত মামলায় শেখ হাসিনাকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবিটি ভুয়া

সম্প্রতি, “ব্রেকিং নিউজ  চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের অর্থ লুটপাটের মামলার অব্যাহত ফাইল হাতে পেলাম।। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর দায়ের কৃত চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের অর্থ লুটপাটের মামলা থেকে অব্যাহত পেলেন শেখ হাসিনা।  লুক্সেমবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট থেকে তার অব্যাহত কোর্ট ফাইলটি প্রকাশ করা হয়। গেলো বছর চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের ৬৭ হাজার কোটি টাকার অর্থ লুটপাটের মামলা দায়ের করেন বাংলাদেশ আন্তবর্তীন কালিন সরকার। মামলাটি তদন্ত শেষে পাঁচবার ফেরত আসে বাংলাদেশ কোন সাড়া না পেয়ে অবশেষে দালিলিক প্রমাণ না পাওয়ায় মামলাটি বাতিল করলো লুক্সেমবার্গ আদালত।” ক্যাপশনে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। 

ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থ লুটপাট মামলায় লুক্সেমবার্গ আন্তর্জাতিক আদালত অব্যাহতি দেওয়ার দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে কোনোরকম নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ছবিটির রিভার্স সার্চ করে স্প্যানিশ অনলাইন নিউজ পোর্টাল “El Correo del Golfo” এর ওয়েবসাইটে ২০১৬ সালের ২১ নভেম্বর “দুবাই এক্সপো ২০২০-এ অংশগ্রহণের প্রতিশ্রুতি জানালো উরুগুয়ে।” (অনূদিত) শিরোনামে প্রচারিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল রয়েছে। উক্ত ছবির বিবরণীতে বলা হয়, ছবিতে রয়েছেন উরুগুয়ের সহ-রাষ্ট্রপতি রাউল সেন্ডিক ও দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক রাষ্ট্রমন্ত্রী ও এক্সপো ২০২০-এর মহাপরিচালক রিম আল হাসিমি। 

Comparison: Rumor Scanner

উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উরুগুয়ের প্রজাতন্ত্রের সহ-রাষ্ট্রপতি রাউল সেন্ডিক সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) সফরকালে দুবাই এক্সপো ২০২০-এ অংশগ্রহণের জন্য তার দেশের অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন। সেন্ডিক ব্যক্তিগতভাবে সেই অঙ্গীকারের নথিটি হস্তান্তর করেছেন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিষয়ক রাষ্ট্রমন্ত্রী এবং এক্সপো ২০২০-এর মহাপরিচালক রিম আল হাশিমিকে। (অনূদিত) 

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অর্থ লুটপাটের মামলা করেছে এমন কোন তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া, লুক্সেমবার্গ ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট নামক কোনো সংস্থা আছে বলে নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। 

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) এর সদরদপ্তর নেদারল্যান্ডসের হেগ শহরে অবস্থিত। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থ লুটপাট মামলা যদি থেকেও থাকে, আইসিসি সেটি অব্যাহতি দেওয়া বা বিচার করার এখতিয়ার রাখে না।

সুতরাং, শেখ হাসিনাকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের অর্থ লুটপাট মামলায় লুক্সেমবার্গ আন্তর্জাতিক আদালত অব্যাহতি দেওয়ার দাবিটি ভুয়া ও বানোয়াট। 

তথ্যসূত্র 

আরও পড়ুন

spot_img