রবিবার, জুলাই 21, 2024
spot_img

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল জামিনে মুক্তি পাননি

সম্প্রতি, “এই মাত্র বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামিনে মুক্তি পেলেন।” শীর্ষক দাবিতে একটি তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে।

জামিনে মুক্তি

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিনে মুক্তি পাননি বরং তিনি পল্টন ও রমনা থানার পৃথক নয়টি মামলায় জামিন পেলেও আরও দুই মামলায় জামিন অপেক্ষমাণ থাকায় তার এখনই কারামুক্তির সুযোগ নেই। 

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে অনলাইন পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনে গত ১০ জানুয়ারি “৯ মামলায় জামিন পেলেন মির্জা ফখরুল, তবে মুক্তি পাচ্ছেন না এখনই” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রমনা ও পল্টন থানায় আলাদা নয়টি মামলাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামিন পেয়েছেন। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুলতান সোহাগ উদ্দিনের আদালতে ১০ হাজার টাকা মুচলেকায় এ জামিন মঞ্জুর হয়। তবে ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশের দিন নাশকতার অভিযোগে অপর দুই মামলায় জামিন অপেক্ষমাণ থাকায় তিনি এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না।

জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোয় গত ১০ জানুয়ারি “মির্জা ফখরুল ৯ মামলায় জামিন পেলেন” শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন থেকেও একই তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়।

অর্থাৎ, মির্জা ফখরুলের বিরুদ্ধে পরোয়ানা থাকা এগারোটি মামলার মধ্যে নয়টি মামলায় জামিন পেলেও আরও দুইটি মামলায় জামিন অপেক্ষমাণ থাকায় তিনি এখনো কারাগারে আছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির বাসভবনের ফটক ভেঙে ইটপাটকেল নিক্ষেপের মামলায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে প্রথমে গ্রেপ্তার এবং পরে কারাগারে পাঠানো হয়।

মূলত, গত ২৮ অক্টোবরে ঢাকায় বিএনপির সমাবেশের দিন পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় মোট ১১টি মামলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে একটি মামলায় ২৯ অক্টোবর তাকে প্রথমে গ্রেপ্তার এবং পরে কারাগারে পাঠানো হয়। গত ১০ জানুয়ারি আদালতের শুনানিতে নয়টি মামলায় তিনি জামিন পান। উক্ত জামিনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জামিনে মুক্তি অর্থাৎ কারামুক্তি পাওয়ার দাবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, দাবিটি সঠিক নয়। গত ১০ জানুয়ারি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নয়টি মামলায় জামিন পেলেও আরও দুইটি মামলায় জামিন অপেক্ষমাণ থাকায় তিনি এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না। এই দুই মামলায় কারামুক্তির আগ পর্যন্ত তাকে কারাগারেরই থাকতে হবে।

সুতরাং, বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন দাবিতে ইন্টারনেটে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

RS Team
Rumor Scanner Fact-Check Team
- Advertisment -spot_img
spot_img
spot_img