ফরিদপুরে মন্দির ভাঙচুরে হিন্দু যুবক গ্রেফতারের এই ঘটনাটি ২০২৩ সালের  

গত ১৮ এপ্রিল ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নে একটি মন্দিরের প্রতিমায় আগুন ও এরপর সন্দেহের জেরে দুজন শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দশজনকে আটক করার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার। এর প্রেক্ষিতে ‘ফরিদপুরে আলফাডাঙ্গায় এক রাতে ৩ মন্দিরে ভাংচুরের ঘটনায় হিন্দু যুবক গ্রেফতার শীর্ষক একটি দাবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। উক্ত দাবি সম্বলিত পোস্টগুলোতে পুলিশ কর্তৃক এক যুবককে গ্রেফতারের ছবিও যুক্ত করা হয়েছে।  

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত কিছু পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)। 

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ফরিদপুরে আলফাডাঙ্গায় এক রাতে ৩ মন্দিরে ভাংচুরের ঘটনায় হিন্দু যুবক গ্রেফতারের ঘটনাটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় বরং ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের ভিন্ন ঘটনার ছবি ও তথ্যকে সাম্প্রতিক দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে পুলিশ কর্তৃক যুবক গ্রেফতারের বহুল প্রচারিত মূল ছবিটি (আর্কাইভ) খুঁজে বের করেছে রিউমর স্ক্যানার। DOAM – Documenting Oppression Against Muslims – Bangla নামক ফেসবুক পেজ থেকে ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর পোস্টটি করা হয়।  

Screenshot collage: Rumor Scanner

একই ছবি একাধিক গণমাধ্যমের খবরেও সে সময় প্রকাশ হতে দেখা গেছে। 

অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলানিউজ২৪ এর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বিজয় দিবসের রাতে ফরিদপুরে কেন্দ্রীয় হরি মন্দির, শ্রী বিষ্ণু পাগলের মন্দির এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডে আলফাডাঙ্গা মহল্লার শ্রীশ্রী দামুদর আখড়া মন্দিরে ভাঙচুর করা হয়। এর মধ্যে হরি মন্দিরের দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, মনসা ও মহাদেব; বিষ্ণু পাগলের মন্দিরের মহাদেব ও মনসা এবং দামুদর আখড়া মন্দিরের মহাদেব, শিবলিঙ্গ ও নারায়ণ ১০টি প্রতিমা ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় সনাতন মালো ওরফে সোনাই মালো (৪৫) নামের এক হিন্দু যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

একই খবর দিয়েছে নয়া দিগন্ত, ইনকিলাব, সময় নিউজ

মূলত, সম্প্রতি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নে একটি মন্দিরের প্রতিমায় আগুন ও এরপর সন্দেহের জেরে দুজন শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দশজনকে আটক করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে ‘ফরিদপুরে আলফাডাঙ্গায় এক রাতে ৩ মন্দিরে ভাংচুরের ঘটনায় হিন্দু যুবক’ শীর্ষক একটি দাবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। উক্ত দাবি সম্বলিত পোস্টগুলোতে পুলিশ কর্তৃক এক যুবককে গ্রেফতারের ছবিও যুক্ত করা হয়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানার টিম অনুসন্ধানে দেখেছে, আলফাডাঙ্গায় সম্প্রতি কোনো মন্দির ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। যে ছবি ব্যবহার করে এই দাবি ছড়ানো হচ্ছে সেটি গত ডিসেম্বরের। সে সময় আলফাডাঙ্গার একাধিক মন্দিরে হামলার ঘটনায় সনাতন মালো ওরফে সোনাই মালো নামের এক হিন্দু যুবককে গ্রেফতার করে পুলিশ। 

সুতরাং, সম্প্রতি ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নে একটি মন্দিরে হামলার ঘটনায় গত ডিসেম্বরে ভিন্ন ঘটনায় গ্রেফতার যুবকের ছবি ব্যবহার করে তিনি সম্প্রতি ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার হয়েছেন শীর্ষক দাবি ইন্টারনেটে প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর।  

তথ্যসুত্র

RS Team
Rumor Scanner Fact-Check Team
- Advertisment -spot_img
spot_img
spot_img