শনিবার, ফেব্রুয়ারি 7, 2026

জাইমা রহমানকে জড়িয়ে বাংলাদেশ টাইমসের নামে একাধিক ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানের ছবি যুক্ত করে তার মন্তব্য দাবিতে গণমাধ্যম বাংলাদেশ টাইমস এর লোগো ও ডিজাইন সংবলিত দু’টি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

এর মধ্যে একটি ফটোকার্ডের শিরোনামে দাবি করা হয়, ‘আমি এসেছি চাপা মারতে —জাইমা রহমান’।

অপর ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, ‘পৃথিবীর প্রথম অষ্টম শ্রেণী পাস প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া —জাইমা রহমান’।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, জাইমা রহমানের মন্তব্য দাবিতে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে জড়িয়ে জাইমা রহমানের নামে বাংলাদেশ টাইমস উল্লেখিত ফটোকার্ডগুলো বা কোনো সংবাদ প্রচার করেনি এবং জাইমা রহমানও এরূপ কোনো মন্তব্য করেননি৷ প্রকৃতপক্ষে, বাংলাদেশ টাইমস এর ভিন্ন শিরোনামের পৃথক দুটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে প্রচারিত পোস্টগুলো পর্যবেক্ষণ করে দাবির সপক্ষে কোনো তথ্যসূত্র পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পৃথকভাবে যাচাই করেছে রিউমর স্ক্যানার।

প্রথম ফটোকার্ড যাচাই

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে বাংলাদেশ টাইমসের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ ‘১৯ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।

উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে বাংলাদেশ টাইমসের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, বাংলাদেশ টাইমসের ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

তবে, বাংলাদেশ টাইমসের ফেসবুক পেজে গত ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায় যেটির সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির আংশিক সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

Comparison: Rumor Scanner 

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির সাথে প্রচারিত ফটোকার্ডে বাংলাদেশ টাইমস এর লোগো এবং জাইমা রহমানের ছবির মিল রয়েছে, তবে উভয়ের শিরোনামে ভিন্নতা রয়েছে। মূলত, ‘আমি এসেছি শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করতে’ শিরোনামে বাংলাদেশ টাইমস এর উক্ত ফটোকার্ডটির মূল শিরোনামের স্থলে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় ‘আমি এসেছি চাপা মারতে’ শিরোনামটি প্রতিস্থাপন করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ টাইমস এর ওয়েবসাইটের একই শিরোনামের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

অর্থাৎ, জাইমা রহমানের নামে বাংলাদেশ টাইমস এর লোগো ও ডিজাইন সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।

দ্বিতীয় ফটোকার্ড যাচাই

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে বাংলাদেশ টাইমসের লোগো রয়েছে এবং এটি প্রকাশের তারিখ ‘১৯ জানুয়ারি ২০২৬’ উল্লেখ করা হয়েছে।

উক্ত তথ্যাবলীর সূত্র ধরে বাংলাদেশ টাইমসের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে উক্ত তারিখে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, বাংলাদেশ টাইমসের ওয়েবসাইটইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। 

তবে, বাংলাদেশ টাইমসের ফেসবুক পেজে গত ১৯ জানুয়ারি প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায় যেটির সাথে আলোচিত ফটোকার্ডটির আংশিক সাদৃশ্য লক্ষ্য করা যায়।

Comparison: Rumor Scanner 

উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটির সাথে প্রচারিত ফটোকার্ডে বাংলাদেশ টাইমস এর লোগো এবং জাইমা রহমানের ছবির মিল রয়েছে, তবে উভয়ের শিরোনামে ভিন্নতা রয়েছে। মূলত, ‘খালেদা জিয়ার শিক্ষানীতিতে আলোকিত লাখো আফ্রিকান মেয়ে’ শিরোনামে বাংলাদেশ টাইমস এর উক্ত ফটোকার্ডটির মূল শিরোনামের স্থলে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় ‘পৃথিবীর প্রথম অষ্টম শ্রেণী পাস প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া’ শিরোনামটি প্রতিস্থাপন করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ টাইমস এর উক্ত ফটোকার্ডের মন্তব্য ঘরে দেওয়া ওয়েবসাইটের লিংকে একই শিরোনামের একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদনে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। 

অর্থাৎ, জাইমা রহমানের নামে বাংলাদেশ টাইমস এর লোগো ও ডিজাইন সংবলিত ভুয়া ফটোকার্ড তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ টাইমস ব্যতীত অন্য কোনো গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে উক্ত দাবিকে সমর্থন করে এমন কোনো সংবাদ বা তথ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি৷

জাইমা রহমান এমন কোনো মন্তব্য করেছেন কিনা তা জানতে তার ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো পোস্ট বা তথ্য পাওয়া যায়নি। 

সুতরাং, জাইমা রহমানের মন্তব্য দাবিতে বাংলাদেশ টাইমস এর নামে প্রচারিত উল্লেখিত ফটোকার্ডগুলো সম্পাদিত।

তথ্যসূত্র

আরও পড়ুন

spot_img