গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত ২৩ নভেম্বর থেকে হাসপাতালে শয্যাশায়ী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এরপর থেকেই তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে গুঞ্জন এবং আলোচনা চলছে সর্বত্র। এরই প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়া হাসপাতালে শুয়ে আছেন এবং তারেক রহমান তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন – এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে দাবি করা হচ্ছে, পুরাতন এই ছবিটি লন্ডনে তোলা।

উক্ত দাবির ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে।
একই ছবি দেখুন ইউটিউব ও টিকটকে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ছবিটি আসল নয় এবং স্থানটি লন্ডনেও নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২১ সালের এই ছবিটি ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তোলা হয়। তারেক সে সময় দেশে ছিলেন না। মূল ছবিটি এআই দিয়ে সম্পাদনা করে তারেকের ছবি যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে মূল ধারার গণমাধ্যম ঢাকা ট্রিবিউনের ওয়েবসাইট ২০২১ সালের প্রকাশিত দুইটি পৃথক প্রতিবেদনে একই স্থানের ছবি পাওয়া যায়, যেগুলোতে শুধু খালেদা জিয়াকেই হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়।

একটি প্রতিবেদনের ছবির সাথে বর্তমানে প্রচারিত ছবিটির বেশকিছু মিল পাওয়া যায়। তবে এই ছবিতে তারেক রহমান ছিলেন না। ব্যাকগ্রাউন্ডেরও এক নয়। তবে বাকি সব উপাদানেই মিল পাওয়া যাচ্ছে। ছবির ক্যাপশন থেকে জানা যায়, এটি ২০২১ সালের মে মাসে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তোলা ছবি। একই ছবি জাতীয় দৈনিক যুগান্তরের ২০২১ সালের জুনের এক প্রতিবেদনেও ফাইল ছবি হিসেবে প্রচার করা হয়েছিল।

কিওয়ার্ড সার্চ করে ফেসবুকে ২০২১ সালের ০৯ মে প্রকাশিত এক ফেসবুক পোস্টেও একই ছবির দেখা মেলে। পোস্টে বলা হয়, দীর্ঘ ২৭ দিন পর খালেদা জিয়া আজ করোনা মুক্ত হয়েছেন। সে সময় মূল ধারার গণমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট টিভির এক ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, করোনা আক্রান্ত হয়ে সে বছরের ২৭ এপ্রিল এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন খালেদা জিয়া। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে সিসিইউতেও নেওয়া হয়েছিল।
অর্থাৎ, ছবিটি যে লন্ডনের নয় তা নিশ্চিত। ছবিটিতে যে তারেক রহমান ছিলেন না তাও নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে। কারণ তারেক ২০২১ সালে লন্ডনেই ছিলেন। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর লন্ডনের উদ্দেশে পরিবারের সদস্যদেরকে সাথে নিয়ে ঢাকা ছেড়েছিলেন তিনি। এরপর আর দেশে ফেরা হয়নি তার।
ছবিটি এআই দিয়ে সম্পাদিত কিনা তা জানতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকারী টুল ‘ডিপফেক-ও-মিটার’সহ একাধিক টুল ব্যবহার করে এটি এআই দিয়ে তৈরির কমপক্ষে ৮০ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত সম্ভাবনা আছে বলে জানা গেছে।
সুতরাং, এআই দিয়ে খালেদা জিয়ার ঢাকায় তোলা পুরোনো ছবিতে তারেক রহমানের ছবি যুক্ত করে প্রচার করা হচ্ছে; যা সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Dhaka Tribune: Khaleda Zia critically ill, says Fakhrul





