সম্প্রতি টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকে বাড়ি থেকে বিএনপির কথিত সন্ত্রাসীরা তুলে নিয়ে গেছে দাবিতে একটি ভিডিও গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে একজন বৃদ্ধকে কাঁধে করে তুলে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত উক্ত দাবি দেখুন: চ্যানেল আই (ফেসবুক), বায়ান্ন টিভি (ফেসবুক)।
একই দাবিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক থেকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে।
ফেসবুকে প্রচারিত এমন আরও কিছু পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে।
অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত দাবি দেখুন: ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম, এক্স।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত ভিডিওটি টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত কোনো ইউপি চেয়ারম্যানকে তুলে নেওয়ার দৃশ্য নয়। প্রকৃতপক্ষে, এটি চলতি বছরের মার্চে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনার ভিডিও।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘MD Hasan’ নামের একটি ফেসবুক প্রোফাইলে চলতি বছরের ১১ মার্চ প্রকাশিত একই ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওটির ক্যাপশনে উল্লেখ করা হয়, এটি সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারীতে শিশু ধর্ষণের অভিযোগে এক প্রবীণ ব্যক্তি আটক হওয়ার দৃশ্য। এছাড়া ১০ মার্চ রাতে ‘আমাদের সীতাকুণ্ড’ নামের একটি ফেসবুক পেজেও একই বৃদ্ধকে তুলে নেওয়ার দৃশ্যের আরেকটি ভিডিও পাওয়া যায়।
বাংলা ট্রিবিউনে ১১ মার্চ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ১০ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি ইউনিয়নে ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ইউসুফ (৭০) নামের এক ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে স্থানীয়রা।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন দুপুরে শিশুটিকে বাড়ির পাশের পুকুরপাড় থেকে নিজের ঘরে নিয়ে যাওয়ার পর এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানাজানি হলে রাতে স্থানীয় লোকজন ইউসুফকে আটক করে মারধর করে। পরে পুলিশ তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। শিশুটিকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করলে ইউসুফকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
জাগোনিউজ২৪-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া যায়। তবে সেখানে ভুক্তভোগী শিশুর বয়স ৯ বছর উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, আলোচিত ভিডিওটি আওয়ামী লীগ সমর্থিত কোনো ইউপি চেয়ারম্যানকে তুলে নেওয়ার দৃশ্য নয়। পাশাপাশি, সম্প্রতি টাঙ্গাইলে এ ধরনের কোনো ঘটনার তথ্যও বিশ্বস্ত কোনো গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, পুরোনো ও ভিন্ন ঘটনার একটি ভিডিওকে টাঙ্গাইলে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যানকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার দৃশ্য দাবিতে প্রচার করা হয়েছে, যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- MD Hasan: Facebook Post
- Dhaka Tribune: ১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ ৭০ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে





