সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচারিত হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে দুজন ব্যক্তি মিলে একজন তরুনকে ছুরিকাঘাত করছে। Neha Islam Ira নামের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ৭ নভেম্বর “দেশটা কি জাহান্নাম হয়ে গেল নাকি?” ক্যাপশনে ভিডিওটি পোস্ট করা হয়।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)। ভিডিওটি প্রায় দুই হাজার বার শেয়ার করা হয়েছে।
ইনস্টাগ্রাম প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওটি বাংলাদেশের কোনো ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভিডিওটি ভারতের হায়দ্রাবাদের একটি ঘটনার দৃশ্য।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে, গত ৫ নভেম্বর প্রকাশিত ভারতের অনলাইন সংবাদমাধ্যম Vidhartha.com-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ওই ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়। প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, বলেশ্বর রেড্ডি ও তার সহযোগী প্রকাশ্যে রাস্তার মধ্যে রোশন নামের এক যুবককে ছুরিকাঘাত করেন। ঘটনাটি ভারতের হায়দ্রাবাদের মেদচল মালকাজগিরি জেলার জগদ্গিরিগুট্টা বাস স্ট্যান্ড এলাকায় ঘটে। প্রতিবেদনে সংযুক্ত ছবিতে দৃশ্যমান তিনজন ব্যক্তি ও আশপাশের পরিবেশের সাথে প্রচারিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

এ বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে ৫ নভেম্বর প্রকাশিত ভারতের সংবাদমাধ্যম BIGTV-এর একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ঘটনাটি আর্থিক লেনদেনজনিত বিরোধের জের ধরে সংঘটিত হয়েছে। বর্তমানে আহত যুবক রোশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এছাড়া, বাংলাদেশের মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে দেশে এমন প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতের ঘটনার খবর প্রকাশিত হয়নি। অপরদিকে, ভারতের একাধিক গণমাধ্যম (১, ২, ৩) এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সুতরাং, প্রকাশ্যে যুবককে ছুরিকাঘাতের ভারতের ঘটনাকে বাংলাদেশের দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।





