সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও প্রচার করে দাবি করা হয়েছে, ‘দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে ধরা পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দোকানদার কাউন্টারের পেছনে বসে রয়েছেন। পাশে তার চার বা পাঁচ বছর বয়সী ছোট্ট কন্যা। এমন সময় এক সশস্ত্র ব্যক্তি দোকানে ঢুকে বন্দুক তাক করে নগদ টাকা ও দোকানদারের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ঠিক সেই মুহূর্তে পরিস্থিতি না বুঝে ছোট্ট শিশুটি ডাকাতের দিকে তার হাতে থাকা ললিপপ বাড়িয়ে দেয়। অপ্রত্যাশিত এই নিষ্পাপ আচরণে ডাকাতের আচরণ মুহূর্তেই বদলে যায়। তাকে দেখা যায় দোকানদারের কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া টাকা ও ফোন ফিরিয়ে দিচ্ছে। এমনকি শিশুটির প্রতি স্নেহ দেখিয়ে মাথায় চুমুও খায় লোকটি। এরপর কারও কোনো ক্ষতি না করেই দোকান ছেড়ে চলে যায় সে। ঘটনাটি ঘটেছে পাকিস্তানে।’

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমে প্রচারিত প্রতিবেদন: কালবেলা (ইউটিউব), জনকণ্ঠ, জাগোনিউজ২৪, সময়ের কণ্ঠস্বর, নিউজনাউ২৪, বিবার্তা২৪, এনপিবি নিউজ, নিউজ ফ্ল্যাশ৭১ (ফেসবুক), আজকের প্রত্যাশা, কুয়াকাটা নিউজ।
এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
গণমাধ্যম ছাড়াও নানা নেটিজেনরাও আলোচিত দাবিতে ভিডিওটি প্রচার করেছেন। এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বাস্তব কোনো ঘটনার নয় বরং, ‘কামরান টিম’ নামের এক পাকিস্তানি কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্ক্রিপ্টেড ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Kamran Team Official’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে ‘ডাকাতের মন নরম হয়ে গেল’ শীর্ষক শিরোনামে গত ১৬ নভেম্বরে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মূল ভিডিওটি পাওয়া যায়। এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হওয়া অবধি মূল ভিডিওটি ১২ লক্ষেরও অধিক বার দেখা হয়েছে।

ভিডিওর বর্ণনা অংশে বলা হয়, ‘এই ভিডিওটি সম্পূর্ণ সাজানো (স্টেজড) এবং এতে দেখা যাওয়া ব্যক্তিরা আসলে নাটকের চরিত্র (অভিনেতা)। ভিডিওতে দেখানো অস্ত্রগুলোও নকল। এই ভিডিওর উদ্দেশ্য কারো অনুভূতিতে আঘাত করা নয়। এই ভিডিও কোনো ব্যক্তি বা কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করে না। ভিডিওটি শুধুমাত্র বিনোদনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ধন্যবাদ।’ (অনূদিত)
উক্ত ইউটিউব চ্যানেলটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায় এটি পাকিস্তান থেকে পরিচালিত হয়ে থাকে। এছাড়াও, আলোচিত ভিডিওটি ‘কামরান টিম’ নামের ফেসবুক পেজ থেকেও গত ১৬ নভেম্বরে প্রচার হতে দেখা যায়। ফেসবুক পোস্টের ক্যাপশনেও ভিডিওটি আসল নয় বরং অভিনয় ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাছাড়া, উক্ত ইউটিউব চ্যানেলটি পর্যবেক্ষণ করলে একইরকম কাহিনীর আরো অনেকগুলো ভিডিও পাওয়া যায়। সেসব ভিডিওর বর্ণনা অংশেও ভিডিওগুলো আসল নয় বরং অভিনয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, আলোচিত ভিডিওতে প্রদর্শিত ব্যক্তিদের সেসব নানা ভিডিওতেও উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
এছাড়াও, অনুসন্ধানে পাকিস্তান ভিত্তিক ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম ‘সচ ফ্যাক্টচেক’ এর ওয়েবসাইটে গত ২১ নভেম্বরে এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভিডিওটি আসল নয় বরং অভিনয় ছিল এবং এটি ‘কামরান টিম অফিশিয়াল’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলের তৈরি যাদের বেশিরভাগই কনটেন্ট স্ক্রিপ্টেড সিসিটিভি-স্টাইলের ক্লিপ, যেগুলোতে হাস্যরস থেকে শুরু করে সামাজিক বার্তাও থাকে।
এ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রচারিত ভিডিওটি আসল কোনো ঘটনার নয়।
সুতরাং, ‘কামরান টিম’ নামের এক পাকিস্তানি কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্ক্রিপ্টেড ভিডিওকে শিশুর ব্যবহারে মুগ্ধ হয়ে ডাকাতের ডাকাতি বাদ দিয়ে জিনিসপত্র ফেরত দেওয়ার আসল ভিডিও দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Kamran Team Official – Youtube Video
- Kamran Team – Facebook Post
- Soch Factcheck – Viral CCTV footage of a child averting robbery attempt is not real





