গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। এরপর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতভর দেশের বিভিন্ন স্থানে ভবনে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ হয় দৈনিক প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের প্রধান কার্যালয়েও। এরই প্রেক্ষিতে, `প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগ কারীদের পরিচয় শনাক্ত, তারা জামায়াত ইসলামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছে’ শীর্ষক মন্তব্যটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন করেছেনে দাবিতে একটি তথ্য ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত একটি পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগকারীদের পরিচয় শনাক্ত, তারা জামায়াত ইসলামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছে’ শীর্ষক কোনো মন্তব্য ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন করেননি বরং, কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই আলোচিত দাবিগুলো প্রচার করা হচ্ছে।
অনুসন্ধানের শুরুতে প্রচারিত দাবির সপক্ষে কোনো সূত্রের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। এছাড়া, ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট পর্যালোচনা করেও আলোচিত বক্তব্য দেওয়ার প্রমাণ মেলেনি।
পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে গণমাধ্যম কিংবা অন্য কোনো বিশ্বস্ত সূত্রেও আলোচিত দাবির সমর্থিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে, গত ২১ ডিসেম্বর প্রথম আলোর ওয়েবসাইটে ‘জড়িত কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত, আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে: ধর্ম উপদেষ্টা’ শীর্ষক শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন পাওয়া যায়। উক্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২১ ডিসেম্বর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাঁদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, গত ২২ ডিসেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ২২ ডিসেম্বর ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্তত ৩১ ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে। মোট গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৭ জন ব্যক্তিকে। এর মধ্যে থানা-পুলিশ ১৩ জন, কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) ৩ জন ও গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চান এক সাংবাদিক। জবাবে নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ কোনো রাজনৈতিক পরিচয় খুঁজছে না। হামলায় জড়িতরা দুষ্কৃতকারী। তারা আইন ভেঙেছে, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছে। তাই জড়িতরা যে দলেরই হোক বা যে মতেরই হোক, দেশের প্রচলিত আইন ও বিচারব্যবস্থার মধ্যে তাদের বিচার হবে।’
অর্থাৎ, প্রচারিত বক্তব্যটি ধর্ম উপদেষ্টা দেননি।
সুতরাং, ধর্ম উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেন ‘প্রথম আলো-ডেইলি স্টারে অগ্নিসংযোগ কারীদের পরিচয় শনাক্ত, তারা জামায়াত ইসলামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছে’ বলে মন্তব্য করেছেন শীর্ষক দাবিটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Afm Khalid Hossain- Facebook Account
- Prothom Alo- জড়িত কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত, আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে: ধর্ম উপদেষ্টা
- Prothom Alo- প্রথম আলো-ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলায় গ্রেপ্তার ১৭, অভিযান চলছে: ডিএমপি





