১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর প্রথমবারের মতো পণ্যবাহী কোনো জাহাজ সরাসরি পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসে। এবছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৪ টি এমন পন্যবাহী কন্টেইনার জাহাজ বাংলাদেশে এসেছে। পাকিস্তান থেকে আসা এসব কন্টেইনারে কাঁচামালের পাশাপাশি বন্দুকের গুলিও দেশে আমদানি করা হয়েছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়। প্রচারিত ভিডিওটিতে একজন ব্যক্তিকে একটি বাক্স থেকে বন্দুকের গুলি বের করতে দেখা যায়। বাংলাদেশ-পাকিস্তানের নৌ-বাণিজ্যকে ঘিরে এমন তথ্য ও ভিডিও গত সেপ্টেম্বর থেকে প্রচারিত হতে দেখে রিউমর স্ক্যানার।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, পাকিস্তান থেকে আসা কন্টেইনার জাহাজে কাঁচামালের পাশাপাশি বন্দুকের গুলি আমদানির সত্যতা মেলেনি। এছাড়াও প্রচারিত ভিডিওটি আলোচিত দাবির সাথে সম্পর্কিত নয়। প্রকৃতপক্ষে, পাকিস্তানি একটি গানশপের ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত বন্দুকের গুলি আনবক্সিংয়ের একটি ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে গণমাধ্যম কিংবা নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে পাকিস্তান থেকে আসা কন্টেইনার জাহাজগুলোতে এখনও পর্যন্ত কোনো আগ্নেয়াস্ত্র কিংবা বন্দুকের গুলি আসার তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে Barki Armoury International নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলের সন্ধান পাওয়া যায়। উক্ত চ্যানেলটি পর্যালোচনার মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর প্রচারিত মূল ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়। তবে ভিডিওটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটি মূল ভিডিওকে মিরর করে তৈরি করা হয়েছে।

Barki Armoury International নামের ইউটিউব চ্যানেলটি পরবর্তীতে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এটি একই নামের একটি পাকিস্তানি গানশপের চ্যানেল। যেখানে তারা বিভিন্ন ধরনের বন্দুক ও গুলির ভিডিও প্রচার করে থাকেন।
সুতরাং, পাকিস্তানি গানশপের আনবক্সিং ভিডিওকে পাকিস্তান থেকে আসা কন্টেইনার জাহাজে করে দেশে বন্দুকের গুলি আমদানি করা হয়েছে দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Barki Armoury International Youtube Channel: Guess the ammunition’s origin ?? #satisfying
- Rumor Scanner’s Analysis





