শনিবার, জানুয়ারি 17, 2026

দেশে সাম্প্রতিক ধর্ষণের দৃশ্য দাবিতে ভারতে বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নিযার্তনের পুরোনো ভিডিও প্রচার

সম্প্রতি, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, আলোচিত ভিডিওটি বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত কোনো ধর্ষণের ঘটনার নয়। প্রকৃতপক্ষে, ভারতে বাংলাদেশি এক তরুণীকে যৌন নির্যাতনের পুরোনো ঘটনার ভিডিওকে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।

আলোচিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে বিভিন্ন পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটে অন্তত ২০২১ সাল থেকে একই ঘটনার পুরো ভিডিওর অস্তিত্ব পাওয়া যায়। উল্লিখিত ওয়েবসাইটগুলোতে দাবি করা হয়, তরুণীকে নির্যাতনের এই ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়, ভারতের।

উল্লেখ্য, পর্নোগ্রাফিক ওয়েবসাইটগুলোর প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্টের কারণে প্রতিবেদনে এসব সূত্রের হাইপারলিংক করা থেকে সচেতনভাবে বিরত থেকেছে রিউমর স্ক্যানার।

প্রচারিত ভিডিওটি পর্যালোচনার মাধ্যমে নির্যাতনকারীদের চেহারা শনাক্ত করা যায়। তাদের চেহারা রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে ভারতীয় গণমাধ্যম The Financial Express এর ওয়েবসাইটে ২০২১ সালের ২৮ মে Bengaluru: 5 illegal Bangladeshi immigrants, who assaulted woman in viral video, arrested শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। 

Comparison by Rumor Scanner 

প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উক্ত প্রতিবেদনের ফিচার ইমেজে ব্যবহৃত ব্যক্তিদের ছবির সাথে আলোচিত ভিডিওতে দেখতে পাওয়া নির্যাতনকারীদের ছবির হুবহু মিল রয়েছে। অর্থাৎ, প্রতিবেদনটি আলোচিত ওই যৌন নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই প্রকাশিত বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, আলোচিত ওই যৌন নির্যাতনের ভিডিওর সূত্র ধরে ভারতের বেঙ্গালুরু পুলিশ শহরের রামমূর্তি নগর থেকে ভিডিওতে দেখতে পাওয়া ৫ জন ব্যক্তিকে আটক করে। এ ঘটনায় সেসময় ভারতীয় পুলিশের পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশও কাজ করছিল বলে প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়। অভিযুক্তদের আটকের পর জানা যায়, নির্যাতনের শিকার তরুণী ও অভিযুক্তরা সকলেই বাংলাদেশি। তারা ভারতে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে ছিলেন।

সেসময় এঘটনায় বাংলাদেশি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, নিযার্তনের শিকার ওই তরুণীকে সেবছরের ২৮ মে কেরালা থেকে উদ্ধার করে বেঙ্গালুরু পুলিশ। পাশাপাশি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, উক্ত ঘটনার মূলহোতা রিফাতুল ইসলাম হৃদয় ওরফে টিকটক হৃদয় নামের এক যুবক। আলামিন, তানিয়া ও সবুজ নামের তিনজন তাকে সহযোগিতা করেন। নির্যাতনের শিকার ওই তরুণীকে পাচারের জন্যে ভারতে নেওয়া হয় বলেও জানা যায়।

অর্থাৎ, তরুণীকে যৌন নির্যাতনের আলোচিত ভিডিওটি সাম্প্রতিক সময়ের নয় এবং এর সাথে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কোনো সংশ্লিষ্টতাও নেই।

সুতরাং, দেশে সাম্প্রতিক ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দাবিতে ভারতে বাংলাদেশি তরুণীকে যৌন নির্যাতনের পুরোনো ভিডিও প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

আরও পড়ুন

spot_img