গত ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‘সহকারী শিক্ষক নিয়োগ ২০২৫’- এর লিখিত পরীক্ষা। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ওঠে উক্ত নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ গ্রেফতার করা হয় অনেককে। এর প্রেক্ষিতে ‘নওগাঁয় প্রাথমিকে নিয়োগের প্রশ্নপত্র দেবে বলে ১৮ লাখ টাকা চুক্তি, জামায়াত নেতার সাথে’ শিরোনামে অনলাইন গণমাধ্যম বার্তা বাজারের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ফটোকার্ড দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ‘নওগাঁয় প্রাথমিকে নিয়োগের প্রশ্নপত্র দেবে বলে ১৮ লাখ টাকা চুক্তি, জামায়াত নেতার সাথে’ শিরোনামে অনলাইন গণমাধ্যম বার্তা বাজার কোনো ফটোকার্ড প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ‘নওগাঁয় প্রাথমিকে নিয়োগের প্রশ্নপত্র দেবে বলে ১৮ লাখ টাকা চুক্তি, গ্রেফতার ১৮’ শিরোনামে বার্তা বাজারের প্রচারিত একটি ফটোকার্ড ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এতে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বার্তা বাজারের লোগো এবং প্রকাশের তারিখ হিসেবে ১০ জানুয়ারি ২০২৬ উল্লেখ রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যের সূত্র ধরে বার্তা বাজারের ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করে এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ পাওয়া যায়নি। তবে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে গত ১০ জানুয়ারি ‘নওগাঁয় প্রাথমিকে নিয়োগের প্রশ্নপত্র দেবে বলে ১৮ লাখ টাকা চুক্তি, গ্রেফতার ১৮’ শিরোনামের প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়।

ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটির ছবি ও গ্রাফিক্যাল ডিজাইনের সঙ্গে এর সাদৃশ্য রয়েছে। তবে শিরোনামে পার্থক্য রয়েছে। মূল ফটোকার্ডে ‘নওগাঁয় প্রাথমিকে নিয়োগের প্রশ্নপত্র দেবে বলে ১৮ লাখ টাকা চুক্তি, গ্রেফতার ১৮’ শিরোনাম থাকলেও আলোচিত ফটোকার্ডে ‘গ্রেফতার ১৮’ এর পরবর্তীতে ‘জামায়াত নেতার সাথে’ শীর্ষক লেখা রয়েছে।
অর্থাৎ, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় বার্তা বাজারের মূল ফটোকার্ড সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এছাড়া মূল ফটোকার্ড সংবলিত পোস্টের কমেন্টে পাওয়া সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ৯ জানুয়ারি নওগাঁয় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের দুই হোতাসহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ১১টি মোবাইল ফোন, আধুনিক ডিভাইসসহ নগদ ৩৭ হাজার ৯৪৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে প্রশ্নফাঁস চক্রের দুই হোতা হলেন- জেলার মহাদেবপুর উপজেলার জিওলি গ্রামের মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে আহসান হাবিব (৪০) এবং পত্নীতলা উপজেলার শিবপুর গ্রামের সালেহ উদ্দিনের ছেলে মামুনুর রশিদ (৪১)। তবে প্রতিবেদনটির কোথাও তাদের জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সাথে সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়নি। এছাড়াও একই ঘটনায় একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেও এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমন কিছু প্রতিবেদন দেখুন এখানে এবং এখানে।
সুতরাং, ‘নওগাঁয় প্রাথমিকে নিয়োগের প্রশ্নপত্র দেবে বলে ১৮ লাখ টাকা চুক্তি, জামায়াত নেতার সাথে’ শিরোনামে বার্তা বাজারের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Barta Bazar Facebook Post
- Barta Bazar Website: নওগাঁয় প্রাথমিকে নিয়োগের প্রশ্নপত্র দেবে বলে ১৮ লাখ টাকা চুক্তি, গ্রেফতার ১৮
- Rumor Scanner’s Analysis





