আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত ১০ ডিসেম্বর ১২৫টি আসনে মনোনীত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করে জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। দলটির পক্ষ থেকে সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে মনোনয়ন পায় সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর মনজুর কাদের। এনসিপির মনোনয়নপ্রাপ্ত মনজুর কাদের আওয়ামী লীগের শাসনামলে ধানমন্ডি ক্লাব দখল করে এর নাম পরিবর্তন করে ‘শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব’ করেন দাবি করে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য একটি পোস্ট করেন। পিনাকী তার পোস্টে আরও দাবি করেন, এনসিপির মনোনীত মনজুর কাদের ক্লাব দখলের পাশাপাশি দীর্ঘ ৯ বছর ক্লাবটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এসময় তিনি ক্লাবের গভনিং বডির চেয়ারম্যান হওয়ার সাথে সাথে ততকালীন আওয়ামী সরকার থেকে ব্যাপক সুযোগ-সুবিধা লাভ করে প্রচুর সম্পদের মালিক হন।
তবে পোস্টটিতে যুক্ত ফটোকার্ডে আলোচিত দাবিগুলো করতে দেখা যায়নি। সেখানে তার সাথে ক্লাব কিংবা আওয়ামী লীগের সাথে সংশ্লিষ্টতার কথাও বলা হয়নি। বরং, ১৯৮৬-১৯৮৮ পর্যন্ত জাতীয় পার্টির এবং পরবর্তীতে তার বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টি সেখানে তুলে ধরা হয়।

পিনাকী ভট্টাচার্যের করা ফেসবুক পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সিরাজগঞ্জ -৫ আসনে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত মেজর মনজুর কাদেরের ধানমন্ডি ক্লাব দখল কিংবা ক্লাবটির সভাপতির দায়িত্ব পালনের দাবিগুলো সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের সাবেক সভাপতি মনজুর কাদের এবং সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর মনজুর কাদের পৃথক দুইজন ব্যক্তি। মেজর (অব.) মনজুর কাদের পূর্বে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও ধানমন্ডি ক্লাব দখল সংক্রান্ত দাবিগুলোর সাথে তার সংশ্লিষ্টতা নেই।
আলোচিত দাবিগুলোর বিষয়ে অনুসন্ধানে অনলাইন গণমাধ্যম জাগোনিউজ২৪-এর ওয়েবসাইটে ২০১৭ সালের ৭ মার্চ এনসিপির প্রার্থী হলেন বিএনপির সাবেক এমপি মনজুর কাদের শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের সাবেক সভাপতি মনজুর কাদের এবং সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর মনজুর কাদের পৃথক দুইজন ব্যক্তি। উভয় মনজুর কাদেরের চেহারার বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। এছাড়াও প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, মনজুর সেসময় গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হওয়ার জন্যে তার দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।
পরবর্তীতে সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর মনজুর কাদেরের বিষয়ে অনুসন্ধানে জানা যায়, তাকে নিয়ে পিনাকী ভট্টাচার্যের করা পোস্টটিতে ব্যবহৃত ফটোকার্ডের দাবিগুলো সঠিক। তিনি মনজুর কাদের ১৯৮৬ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর জাতীয় পার্টিতে যোগ দিয়ে পাবনা-১ (সাঁথিয়া-বেড়া) আসন থেকে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে জাতীয় পার্টি ত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন মনজুর কাদের। এরপর ১৯৯৬ সালে পাবনা-১ আসন এবং ২০০১ সালে সিরাজগঞ্জ-৬ (চৌহালী ও শাহজাদপুর) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে এবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন চাইলে তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি পদত্যাগ করে এনসিপিতে যোগদান করেন বলেও জানা যায়।
গণমাধ্যম কিংবা কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রে মেজর মনজুর কাদেরের সাথে ধানমন্ডি ক্লাবের কোনো সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি।
মূলত, পিনাকী ভট্টাচার্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর মনজুর কাদের এবং ধানমন্ডি ক্লাবের সাবেক সভাপতি মনজুর কাদেরকে একই ব্যক্তি দাবি করে পোস্টটি করেছেন।
সুতরাং, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে এনসিপির মনোনীত প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত মেজর মনজুর কাদের ধানমন্ডি ক্লাবের সভাপতি ও গভনিং বডির চেয়ারম্যান ছিলেন বলে পিনার্কী ভট্টাচার্যের করা দাবিগুলো মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Jagonews24 Website: শেখ জামালের সভাপতির পদ ছাড়ছেন মনজুর কাদের
- Bdnews24 Website: এনসিপির প্রার্থী হলেন বিএনপির সাবেক এমপি মনজুর কাদের
- Rumor Scanner’s Analysis





