সম্প্রতি, ‘৫ই আগষ্ট পরবর্তীতে এটা আর বাংলাদেশ নেই।এটা হয়ে গেছে ইউনুসের মবের মুল্লুক।’ শীর্ষক দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে একদল জনতা কর্তৃক এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে পেটাতে দেখা যায়।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, একদল জনতা কর্তৃক এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার এই ভিডিওটি বাংলাদেশের নয় বরং, এটি গত আগস্ট মাসে ভারতের দিল্লির একটি মন্দিরে প্রসাদ নিয়ে বিরোধের জেরে এক ব্যাক্তিকে হত্যার ভিডিও।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে ‘Prakash Mehra’ নামক এক্স অ্যাকাউন্টে গত ৩০ আগস্ট প্রচারিত একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ভিডিওর সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

উক্ত ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়, দিল্লির কালকা মন্দিরের এক সেবাদারকে মন্দির প্রাঙ্গণের ভেতরে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে ‘চুন্নি প্রসাদ’ নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
এ বিষয়ে আরো অনুসন্ধান করে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘The Indian Express’ এর ওয়েবসাইটে গত ৩১ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দিল্লির কালকা মন্দিরে প্রসাদ নিয়ে বিরোধের জেরে ৩৫ বছর বয়সী এক সেবাদারকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যমতে, একদল ব্যক্তি দর্শনের উদ্দেশ্যে মন্দিরে আসে। পরে তারা সেবাদার যোগেন্দ্র সিংয়ের কাছ থেকে ‘চুন্নি প্রসাদ’(একটি পবিত্র ওড়না ও ধর্মীয় খাদ্য নিবেদন) দাবি করে। এই নিয়ে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে তারা যোগেন্দ্র সিংয়কে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় যোগেন্দ্রকে দ্রুত এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
সে সময় এ বিষয়ে অন্যান্য ভারতীয় গণমাধ্যমও সংবাদ (১, ২, ৩) প্রচার করে।
অর্থাৎ, ভিডিওটি বাংলাদেশের নয়।
সুতরাং, ভারতে মন্দিরে প্রসাদ নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যার ভিডিওকে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনা দাবিতে প্রচার করা হয়েছে; যা মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Prakash Mehra – X Post
- The Indian Express – Kalkaji Mandir sewadar beaten to death after row over prasad, 5 arrested





