জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত ৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সময় রাত ১১টা ১৫ মিনিটে শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। দেশটির আবহাওয়া সংস্থার তথ্যানুযায়ী, ৭.৫ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল আউমোরি প্রদেশের পূর্ব উপকূলে, হাচিনোহে শহরের পূর্ব-উত্তর-পূর্বে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে, ভূপৃষ্ঠের ৫৪ কিলোমিটার গভীরে। এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে, জাপানে উক্ত ভূমিকম্প ২২২ জনের মৃত্যু ঘটেছে।

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ প্রতিবেদন: একাত্তর টিভি, নাগরিক টিভি, আমাদের সময়, লাল সবুজ বাংলাদেশ, আল জারির, আইবিটিভি ইউএসএ (ফেসবুক)।
এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমের ফেসবুক পেজে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
গণমাধ্যম ছাড়াও নানা নেটিজেনও এরূপ দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন।
এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
এরূপ দাবিতে ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ৮ ডিসেম্বরে জাপানে আঘাত হানা ভূমিকম্পে ২২২ জনের মৃত্যুর তথ্যটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, জাপানের অগ্নি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাসহ নানাদেশীয় একাধিক মূলধারার গণমাধ্যমের তথ্যানুসারে ভূমিকম্পটির কারণে জাপানে অনেকেই আহত হলেও কেউই নিহত হননি।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে জাপানের অগ্নি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করলে জাপানে হওয়া সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের বিষয়ে আজ ১৫ ডিসেম্বরে সর্বশেষ আপডেট হওয়া প্রতিবেদন পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ২ জন গুরুতর আহত হওয়াসহ সর্বমোট ৪৭জন আহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে কারোর মৃত্যুর খবরের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
গত ৯ ডিসেম্বরে জাপানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘এনএইচকে ওয়ার্ল্ড জাপান’ এর ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ৯ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা পর্যন্ত হোক্কাইডো, আউমোরি ও ইওয়াতে এলাকার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পে মোট ৩৩ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, গত ৯ ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘সিএনএন’ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এতে দুই ডজনেরও বেশি মানুষ আহত হন। এছাড়াও, গত গত ৯ ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘রয়টার্স’ এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এতে অন্তত ৩০ জন আহত হন।
এছাড়াও, এ বিষয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্যা গার্ডিয়ান’ এর ওয়েবসাইটে গত ১০ ডিসেম্বরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। আহত হওয়া ৩৪ জনের বেশিরভাগই সামান্য আহত হয়েছেন এবং কিছু সড়ক ও ভবনে ক্ষতি হয়েছে।
তাছাড়া, এ বিষয়ে গত ১২ ডিসেম্বরে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও যুক্তরাজ্য ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানের উক্ত ভূমিকম্পে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। একইরকম তথ্য আরো একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রেও জানা যায়। তবে, কোথাও জাপানের সাম্প্রতিক উক্ত ভূমিকম্পে কারোরই নিহত হওয়ার কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, জাপানে সাম্প্রতিক ভূমিকম্পে ২২২ জনের মৃত্যুর খবরটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Fire and Disaster Management Agency (FDMA) of Japan – 令和7年12月08日 青森県東方沖を震源とする地震による被害及び消防機関の対応状況(第16報・R7.12.15更新)
- NHK World Japan – Japan issues mega-quake advisory after M7.5 tremor
- CNN – Japan rattled by 7.5-magnitude earthquake, authorities warn of aftershocks
- Reuters – Japan lifts tsunami warning after 7.5-magnitude earthquake
- The Guardian – Japan issues megaquake advisory in north after magnitude 7.5 earthquake
- BBC – Japan lifts tsunami advisory after 6.7-magnitude earthquake
- Al Jazeera – Tsunami warning lifted after latest earthquake hits Japan’s northeast





