সম্প্রতি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুমিল্লা-১১ আসন তথা চৌদ্দগ্রামে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী মনোনীত প্রার্থী জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন ও সংগঠনটির এক কর্মীকে জড়িয়ে কুমিল্লার স্থানীয় দৈনিক কুমিল্লা জার্নালের ডিজাইন সংবলিত সাতটি ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে।
এর মধ্যে একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, “চৌদ্দগ্রাম বিভিন্ন কো-অপারেটিভ নাম ভাঙ্গিয়ে জামায়াত নেতা আব্দুল্লাহ মোঃ তাহেরের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ।”
আরেকটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, “ডা. তাহেরের বিরুদ্ধে গ্যাসের টাকা লুটের অভিযোগ, হলফনামায় ধামাচাপা।”
একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, “চৌদ্দগ্রাম বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কামরুল হুদার বিরুদ্ধে গ্যাসের টাকা লুট যে নিউজ করা হয়েছে, আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি, এমন ঘটনার সত্যতা আমরা পাইনি।”
জামায়াত নেতা তাহেরকে জড়িয়ে প্রচারিত আরো একটি ফটোকার্ডের শিরোনামে দাবি করা হয়েছে, “আলকরার জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ মোঃ তাহেরের ভাগিনা আন্ত জেলা ডাকাত দলের সদস্য, গোয়েন্দা অভিযানে অস্ত্রসহ আটক।”
অপর ফটোকার্ডটির শিরোনামে দাবি করা হয়েছে, “৫ আগষ্টের পর জগন্নাথ দিঘীর মাছ লুটের মূল হোতা, চৌদ্দগ্রাম জামায়াতের সেক্রেটারী মোঃ বেলাল।”
একটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়েছে, “মুন্সিরহাট ইউনিয়নে অবৈধভাবে সরকারি জমি দখলের প্রমাণ পাওয়া গেছে জামাত নেতার বিরুদ্ধে।”
আরেক ফটোকার্ডের শিরোনামে দাবি করা হয়েছে, “ভাইরাল হওয়ার জন্য এমপি প্রার্থী কামরুল হুদার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছি বলে, শিকার করলেন জামাত নেতা হারুন।”

ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াত সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইনকে জড়িয়ে কুমিল্লার স্থানীয় দৈনিক কুমিল্লা জার্নাল উল্লেখিত ফটোকার্ডগুলো প্রচার করেনি। প্রকৃতপক্ষে, গণমাধ্যমটির ফটোকার্ড ডিজাইন নকল করেই আলোচিত দাবির ফটোকার্ডগুলো তৈরি করা হয়েছে।
প্রথম ফটোকার্ড যাচাই

অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে কুমিল্লার স্থানীয় দৈনিক ‘Comilla journal’ এর লোগো পরিলক্ষিত হয়। উক্ত সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে গত ০৫ জানুয়ারি গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে এক বিবৃতির মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি ভুয়া বলে জানানো হয়।
এছাড়া, ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এর শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে কুমিল্লা জার্নাল এর প্রচলিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের অমিল পরিলক্ষিত হয়।
দ্বিতীয় ফটোকার্ড যাচাই

অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে কুমিল্লার স্থানীয় দৈনিক ‘Comilla journal’ এর লোগো পরিলক্ষিত হয়। উক্ত সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে, কুমিল্লা জার্নাল এর ফেসবুক পেজে গত ০৪ জানুয়ারি ‘কামরুল হুদার বিরুদ্ধে গ্যাসের টাকা লুটের অভিযোগ, হলফনামায় ধামাচাপা’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডটির সাথে এই ফটোকার্ডটির ডিজাইন ও ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। তবে কুমিল্লা জার্নালের মূল ফটোকার্ডটিতে ‘কামরুল হুদার বিরুদ্ধে গ্যাসের টাকা লুটের অভিযোগ, হলফনামায় ধামাচাপা’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে ‘কামরুল হুদার’ এর পরিবর্তে ‘ডা. তাহেরের’ এর নাম যুক্ত রয়েছে।

অর্থাৎ, কুমিল্লা জার্নাল এর এই ফটোকার্ডটির শিরোনাম ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
তৃতীয় ফটোকার্ড যাচাই

অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে কুমিল্লার স্থানীয় দৈনিক ‘Comilla journal’ এর লোগো পরিলক্ষিত হয়। উক্ত সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে, কুমিল্লা জার্নাল এর ফেসবুক পেজে গত ০৪ জানুয়ারি ‘কামরুল হুদার বিরুদ্ধে গ্যাসের টাকা লুটের অভিযোগ, হলফনামায় ধামাচাপা’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ড প্রকাশ পরবর্তী সময়ে এই ফটোকার্ডের বিষয়ে গণমাধ্যমটিকে দুঃখপ্রকাশ করে এমন কোনো বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি।

এছাড়া, ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এর শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে কুমিল্লা জার্নাল এর প্রচলিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের অমিল পরিলক্ষিত হয়।
অর্থাৎ, কুমিল্লা জার্নাল এর ফটোকার্ড ডিজাইন নকল করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
চতুর্থ ফটোকার্ড যাচাই

অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে কুমিল্লার স্থানীয় দৈনিক ‘Comilla journal’ এর লোগো পরিলক্ষিত হয়। উক্ত সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এর শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে কুমিল্লা জার্নাল এর প্রচলিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের অমিল পরিলক্ষিত হয়।
অর্থাৎ, কুমিল্লা জার্নাল এর ফটোকার্ড ডিজাইন নকল করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে, আলোচিত ফটোকার্ডে যুক্ত ছবির বিষয়ে অনুসন্ধানে দৈনিক যুগান্তর এর ওয়েবসাইট গত ০৫ জানুয়ারি ‘অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার’ শিরোনামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত ফটোকার্ডে যুক্ত ছবির সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির মিল রয়েছে।
প্রতিবেদনটির বিস্তারিত অংশ থেকে জানা যায়, গত ৫ জানুয়ারি ভোরে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- চান্দিনা উপজেলার মাহমুদ ওরফে সিফাত(১৯), নোয়াখালী জেলার সেনবাগ এলাকার মো. বেলাল (৪২), একই এলাকার মো. নুর নবী ওরফে সুমন (২৫), জেলার কোম্পানীগঞ্জ এলাকার কারী জামাল (৪০), মো. ইলিয়াস (৩৫), গাজীপুর জেলার টঙ্গী এলাকার মো. রাহাত ওরফে রাজু (২৮)।
প্রতিবেদনের কোথাও গ্রেফতারকৃত কোনো ব্যক্তির সাথে জামায়াত নেতা তাহেরের ভাগ্নে এমন দাবি করা হয়নি।
পঞ্চম ফটোকার্ড যাচাই

অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে কুমিল্লার স্থানীয় দৈনিক ‘Comilla journal’ এর লোগো পরিলক্ষিত হয়। উক্ত সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে গত ০৬ জানুয়ারি গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে এক বিবৃতির মাধ্যমে আলোচিত ফটোকার্ডটি ভুয়া বলে জানানো হয়।
এছাড়া, ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এর শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে কুমিল্লা জার্নাল এর প্রচলিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের অমিল পরিলক্ষিত হয়।
ষষ্ঠ ফটোকার্ড যাচাই

অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে কুমিল্লার স্থানীয় দৈনিক ‘Comilla journal’ এর লোগো পরিলক্ষিত হয়। উক্ত সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এর শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে কুমিল্লা জার্নাল এর প্রচলিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের অমিল পরিলক্ষিত হয়।
অর্থাৎ, কুমিল্লা জার্নাল এর ফটোকার্ড ডিজাইন নকল করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
সপ্তম ফটোকার্ড যাচাই

অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এতে কুমিল্লার স্থানীয় দৈনিক ‘Comilla journal’ এর লোগো পরিলক্ষিত হয়। উক্ত সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেল পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে এর শিরোনামে ব্যবহৃত ফন্টের সাথে কুমিল্লা জার্নাল এর প্রচলিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের অমিল পরিলক্ষিত হয়।
অর্থাৎ, কুমিল্লা জার্নাল এর ফটোকার্ড ডিজাইন নকল করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
সুতরাং, কুমিল্লা ১১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ও স্থানীয় জামায়াত নেতাদের নামে কুমিল্লা জার্নাল এর নামে প্রচারিত উল্লেখিত ছয়টি ফটোকার্ড ভুয়া এবং একটি ফটোকার্ড সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Comilla Journal: Facebook Post
- Comilla Journal: Facebook Post
- Jugantor: অস্ত্রসহ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেফতার
- Comilla Journal: Facebook Post





