বুধবার, জানুয়ারি 14, 2026

চাঁদপুর জেলা জামায়াত আমিরের বক্তব্য বিকৃত করে গণমাধ্যমে প্রচার

সম্প্রতি অনলাইনে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলটির জেলা শাখার আমির মাওলানা বিল্লাল হোসেন মিয়াজীকে জড়িয়ে দাবি করা হয়েছে, ‘একাত্তরে জামায়াত নেতার বয়স ছিল ৪, বললেন, ‘আমিও সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম’’।

এরূপ দাবিতে গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদ: প্রথম আলো (এক্স), মালয় নিউজ

পরবর্তীতে এরই প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও আলোচিত দাবিতে ফটোকার্ড প্রচার করা হয়েছে। এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।

ফ্যাক্টচেক


রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বিল্লাল হোসেন মিয়াজী ১৯৭১ সালে তার বয়স ৪ ছিল বলে কোনো বক্তব্য দেননি। প্রকৃতপক্ষে তিনি বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি চতুর্থ শ্রেণিতে পড়তেন এবং স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা করেছিলেন, তাই নিজেকে ‘সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা’ মনে করেন। তার এই বক্তব্যই বিকৃত করে আলোচিত দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানে চাঁদপুরে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর বক্তব্যের বিষয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার গণমাধ্যম সময় টিভির ফেসবুক পেজে গত ৯ ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া যায়। একই ভিডিও সময় টিভির ইউটিউব চ্যানেলেও গত ৯ ডিসেম্বরে প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওতে চাঁদপুরে জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির বিল্লাল হোসেন মিয়াজীকে বলতে শোনা যায়, ‘..একাত্তর সালের মুক্তিযুদ্ধে এদেশের আপামর জনসাধারণ সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে বলবো, আমি তখন ছোট ছিলাম, চতুর্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করি। তখন আমার মতো বয়সী ছেলেরা, আমাদের গ্রামে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প ছিল, আমরা বাড়ি বাড়ি থেকে তাদের জন্য চালডাল ইত্যাদি উঠিয়ে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছি। তাহলে আপনি কি আমাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বলতে পারেন না? আমি কি সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা ছিলাম না? ছিলাম।..’

Screenshot : YouTube

সময় টিভির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, গত ৮ ডিসেম্বর সকালে চাঁদপুর মুক্ত দিবস উপলক্ষে মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মারক ‘অঙ্গীকার’-এ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

এছাড়াও, বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর উক্ত বক্তব্যের আরো একাধিক ভিডিও পাওয়া যায়। সবজায়গায় তাকে ১৯৭১ সালে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র থাকার কথা উল্লেখ করতে দেখা যায়। কোথাও তাকে বয়স ৪ বছর থাকার উল্লেখ করতে দেখা যায়নি। 

সুতরাং, বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর মূল বক্তব্য বিকৃত করে ‘একাত্তরে তার বয়স ছিল ৪ বছর’ দাবি ছড়ানো হয়েছে; যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।

তথ্যসূত্র

আরও পড়ুন

spot_img