শনিবার, জানুয়ারি 17, 2026

হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে সাদিক কায়েমকে দেখতে পাওয়ার দাবিটি ভুয়া

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি রাজধানীর বিজয়নগরে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় তাকে গুলি করা হয়। মোটরসাইকেলে থাকা আততায়ী তাঁকে গুলি করে মোটরসাইকেলে করেই পালিয়ে যান।  বর্তমানে হাদি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনার সাথে নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে সম্প্রতি, ডাকসু ভিপি ও ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা সম্পাদক সাদিক কায়েমকে হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে দেখা গিয়েছে দাবিতে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচার করা হয়েছে। প্রচারিত ভিডিওটিতে সাদিক কায়েমকে একটি অ্যাশ কালারের মোটরসাইকেলে বসতে দেখা যায়। 

ফেসবুকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)। 

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাদিক কায়েমকে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে দেখতে পাওয়া দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, হাদির ওপর হামলা ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং সাদিক কায়েমের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল দুটি ভিন্ন কোম্পানির। এছাড়াও হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং সাদিক কায়েমকে বাইকে বহনকারী ব্যক্তিও এক নন।

আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে হাদিকে হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের স্পষ্ট ছবি সংবলিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। পাশাপাশি আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির একটি স্পষ্ট সংস্করণ বা মূল ভিডিওটিও খুঁজে পাওয়া যায়। উভয় সূত্র সূক্ষ্মভাবে পর্যালোচনা করে মোটরসাইকেল দুটির মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। 

Comparison by Rumor Scanner

দুটি বাইকের গঠন এবং ডিজাইন বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, হাদিকে হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি হোন্ডা কোম্পানির Honda CB Hornet 160R মডেলের এবং মোটরসাইকেলটি উক্ত মডেলের Mars Orange Colour ভেরিয়েন্টের। 

অপরদিকে সাদিক কায়েমকে বহনকারী মোটরসাইকেলটি সুজুকি কোম্পানির Suzuki Gixxer 155 Fi ABS মডেলের Ash Colour ভেরিয়েন্টের। 

Comparison by Rumor Scanner

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা যায়, হাদিও ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ‘ঢাকা মেট্রো-ল ৫৪-৬৩৭৫’। পাশাপাশি সাদিক কায়েমকে বহনকারী মোটরসাইকেলের আরেকটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ভিডিওটিতে উক্ত মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দেখতে পাওয়া যায় ‘ঢাকা মেট্রো-ল ৫২-১৮৯৬’। 

Screenshot: Facebook

অর্থাৎ, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে স্পষ্টত বোঝা যাচ্ছে, হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং সাদিক কায়েমকে বহনকারী মোটরসাইকেল দুটি এক নয়।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে জানা যায়, সাদিক কায়েমকে বহনকারী মোটরসাইকেলের চালকের নাম আহমেদ আতাউল্লাহ সালমান। সালমানের ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইল পর্যালোচনার মাধ্যমেও একইদিনের একই পাঞ্জাবি পরিহিত তার একটি ছবিও পাওয়া যায়। পাশাপাশি জানা যায়, সালমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পারওয়ারের ছেলে। অপরদিকে হাদির ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান এবং মোহাম্মদ আলমগীর শেখ। 

অর্থাৎ, সাদিক কায়েমকে বহনকারী মোটরসাইকেল চালক আহমেদ আতাউল্লাহ সালমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজনদের কেউ নন।

সুতরাং, ডাকসু ভিপি ও শিবির নেতা সাদিক কায়েমকে হাদির ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে দেখা গিয়েছে দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

তথ্যসূত্র

আরও পড়ুন

spot_img