তীব্র শীতের কারণে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে দাবিতে শর্ট ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম টিকটকে যমুনা টেলিভিশনের একটি প্রতিবেদনের সংবাদপাঠকের ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। গত ২৪ নভেম্বর প্রচারিত এই ভিডিওটি দাবি করা হয়, আগামীকাল অর্থাৎ, ২৫ নভেম্বর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রচারিত ভিডিওটিতে সংবাদপাঠককে বলতে শোনা যায়, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলোর শ্রেণী কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজসমূহ। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বলা হয়, বিদ্যালয় ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।’

টিকটকে প্রচারিত এমন ভিডিও দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
এই প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়া অবধি টিকটকে প্রচারিত উক্ত দাবির ভিডিওটি দেখা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার ১০০ বার। এছাড়াও ভিডিওটিতে প্রায় ৫ হাজার ৪৪৭ পৃথক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতিক্রিয়াও দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১ হাজার ৬৮৯ বার ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, তীব্র শীতের কারণে ২৫ নভেম্বর থেকে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়নি। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন জায়গায় হওয়া সংঘর্ষের ঘটনার প্রেক্ষিতে সেসময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ ঘটনায় যমুনা টিভিতে প্রচারিত একটি প্রতিবেদনের ফুটেজ আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
অনুসন্ধানের শুরুতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো পোস্ট খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়া, গণমাধ্যম কিংবা অন্যকোনো নির্ভরযোগ্য সূত্রেও শীতের কারণে ২৫ নভেম্বর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্যে বন্ধ ঘোষণা করার বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
পরবর্তীতে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওটির বিষয়ে অনুসন্ধানে ভিডিওতে দেখতে পাওয়া যমুনা টেলিভিশনের লোগো এবং প্রতিবেদনের শিরোনাম ‘অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান’-এর সূত্র ধরে অনুসন্ধানে যমুনা টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই প্রচারিত একটি ভিডিও প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, উক্ত প্রতিবেদনের সংবাদপাঠকের ফুটেজের সাথে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ভিডিওর হুবহু মিল রয়েছে। প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালে হওয়া আন্দোলন ঘিরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় হওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় হতাহতের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এছাড়াও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজসমূহও সেসময় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি স্থগিত করা হয় অনুষ্ঠেয় সব বোর্ডের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা।
অর্থাৎ, উক্ত প্রতিবেদনের সংবাদপাঠকের ফুটেজটি কাট করে আলোচিত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে।
সুতরাং, তীব্র শীতের কারণে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করার দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Jamuna TV Youtube Channel: বন্ধ ঘোষণা করা হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সব কলেজ | School-College Off
- Jagonews24 Website: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সব কলেজ বন্ধ ঘোষণা
- মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ওয়েবসাইট
- Ministry of Education, Bangladesh Facebook Page
- Rumor Scanner’s Analysis





