গত ২৩ নভেম্বর থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তাকে দেশের বাইরে নেওয়ার জন্য যে সিদ্ধান্ত মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে হয়েছিল তা আপাতত স্থগিত রেখে দেশেই তার চিকিৎসা সেবা অব্যাহত রাখা হয়েছে। এরই মধ্যে “বেগম জিয়া আর নেই, এইমাত্র ঘোষণা দিলেন ডাঃ জোবাইদা রহমান। এভারকেয়ার হসপিটাল থেকে লাইভ দেখুন” শীর্ষক একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, বেগম খালেদা জিয়ার মারা গেছেন দাবি করে তার পুত্রবধূ ডা. কোনো মন্তব্য করেননি। প্রকৃতপক্ষে, কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই ব্লগস্পটের ফ্রি ডোমেইন সাইটে প্রকাশিত কথিত প্রতিবেদনের বরাতে ভুয়া এই দাবিটি প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফেসবুকের উক্ত দাবির পোস্টে ভিন্ন ভিন্ন কয়েকটি ব্লগপোস্টের লিংক সূত্র হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে। রিউমর স্ক্যানারের বিশ্লেষণে ‘shadhinn71.blogspot.com’, ‘bbcbangla76246.blogspot.com’ এবং ‘protibadnews76.blogspot.com’ নামক ব্লগস্পটের বিনামূল্যের ডোমেইনের এই সাইটগুলো ভূঁইফোড় সাইট বলে প্রতীয়মান হয়। এই সাইটগুলোতে ‘এইমাত্র ইন্তেকাল করলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া’ শীর্ষক কথিত দাবির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে এবং এর প্রকাশকাল হিসেবে গত ০৪ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে।
কথিত এই সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়, “এইমাত্র ইন্তেকাল করলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া আজ দুপুরে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি CCU-তে চিকিৎসাধীন ছিলেন। দুপুর ১টা ৪৭ মিনিটে চিকিৎসকরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। কিন্তু এই মৃত্যুর খবরটি সাধারণ জনগণের কাছে প্রকাশ করা হয়নি বরং তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। মৃত্যুর খবর গোপন রাখার নির্দেশ হাসপাতাল ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রধান উপদেষ্টা “যতক্ষণ পর্যন্ত প্রয়োজন, ততক্ষণ এই মৃত্যুসংবাদ বাইরে না যাওয়ার” নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হতে পারে কয়েকটি সংবেদনশীল গোষ্ঠী উত্তেজিত হতে পারে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে “প্রস্তুত না হওয়া পর্যন্ত” খবর প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা হাসপাতালকে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হয়েছে এবং যেসব চিকিৎসক মৃত্যুর বিষয়টি প্রত্যক্ষ করেছেন, তাদেরকে মেডিকেল কনফিডেনশিয়ালিটি-র নামে নীরব থাকতে বলা হয়েছে।”

স্বাভাবিকভাবে, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মারা গেলে তা নিয়ে দেশিয় এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ঢালাওভাবে খবর প্রচার হতো। কিন্তু, গণমাধ্যম কিংবা সংশ্লিষ্ট বিশ্বস্ত কোনো সূত্রে এ বিষয়ে কোনো সংবাদ বা তথ্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ফ্রি ডোমেইনের ব্লগসাইট ব্যবহার করে অপতথ্য ছড়ানোর এই পদ্ধতি গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে। রিউমর স্ক্যানারের ইনভেস্টিগেশন ইউনিট এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, যাতে বেরিয়ে এসেছে এসব সাইটের পেছনে কারা আছেন, কারাই বা এসব সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এবং কাদের এসব অপতথ্যের শিকার বানানো হচ্ছে।
সুতরাং, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মারা গিয়েছেন শীর্ষক দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Jugantor: চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন খালেদা জিয়া
- Rumor Scanner’s Analysis





