শনিবার, ফেব্রুয়ারি 7, 2026

ডেমরা থেকে পাকিস্তানের তৈরি গ্রেনেড উদ্ধারের দাবিটি ভিত্তিহীন, প্রচারিত ছবিটিও পুরোনো

গত ২৯ অক্টোবর রাতে, রাজধানীর ডেমরার সারুলিয়া এলাকা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় লুট হওয়া চারটি গ্রেনেড পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেছে র‌্যাব-১০। এরই প্রেক্ষিতে ডেমরা থেকে পাকিস্তানের তৈরি ৪টি গ্রেনেড উদ্ধার দাবিতে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। 

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে, এখানে এবং এখানে। 

একই দাবিতে ইন্সটাগ্রামে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে, এখানে এবং এখানে। 

অনুরূপ দাবিতে থ্রেডসে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে। 

ফ্যাক্টচেক 

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রচারিত ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। প্রকৃতপক্ষে, ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে কক্সবাজারের উখিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে উদ্ধারকৃত গ্রেনেডের ছবিকে সাম্প্রতিক সময়ে উক্ত দাবিতে প্রচার করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ছবিটি রিভার্স ইমেজ সার্চে দৈনিক প্রথম আলো’র ওয়েবসাইটে ২০২৪ সালের ১০ নভেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। হুবহু একই ছবি সংযুক্ত প্রতিবেদনটির বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, এটি মূলত ২০২৪ সালের ০৮ নভেম্বরে কক্সবাজারের উখিয়ার পালংখালী এলাকা থেকে যৌথ বাহিনীর অভিযানে উদ্ধার হওয়া গ্রেনেডের ছবি। 

Comparison : Rumor Scanner 

এছাড়া, ঐসময়ে উখিয়ায় উদ্ধার হওয়া গ্রেনেড প্রসঙ্গে দেশিয় একাধিক (এক, দুই, তিন) সংবাদমাধ্যমে খবর প্রচার হয়। 

পাশাপাশি, সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর ডেমরা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়া চারটি গ্রেনেডের ছবির সঙ্গেও আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ছবির মিল পাওয়া যায়নি এবং উদ্ধারকৃত গ্রেনেডগুলোর পাকিস্তানে তৈরি শীর্ষক দাবির পক্ষেও কোনো প্রমাণ মেলেনি। তাছাড়া, সম্প্রতি উদ্ধার হওয়া পরিত্যক্ত গ্রেনেডগুলো ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সংঘটিত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় থানা থেকে লুট হওয়া বলে দাবি র‍্যাবের। 

Screenshot : The Daily Star

সুতরাং, ডেমরা থেকে পাকিস্তানের তৈরি ৪টি গ্রেনেড উদ্ধার দাবিতে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে কক্সবাজারের উখিয়ায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে উদ্ধারকৃত গ্রেনেডের ছবি প্রচার করা হয়েছে; যা বিভ্রান্তিকর। 

তথ্যসূত্র 

আরও পড়ুন

spot_img