সম্প্রতি, “তারেক রহমান এর অনুমতিতে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রদল নেতা বিদেশি মদের আসর বসিয়েছে” শিরোনামে যমুনা টেলিভিশনের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

উক্ত দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন: এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, “তারেক রহমান এর অনুমতিতে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রদল নেতা বিদেশি মদের আসর বসিয়েছে” শীর্ষক তথ্যে বা শিরোনামে যমুনা টেলিভিশন কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি বরং, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় যমুনা টেলিভিশনের ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনার মাধ্যমে এই ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে যমুনা টেলিভিশনের লোগো রয়েছে। তবে, এটি প্রকাশের কোনো তারিখের উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
যমুনা টেলিভিশনের লোগোর সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে সাম্প্রতিক সময়ে আলোচিত শিরোনাম সংবলিত কোনো ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়নি। এছাড়াও যমুনা টেলিভিশনের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে, গত ৫ জানুয়ারি যমুনা টেলিভিশনের ফেসবুক পেজে প্রচারিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। যমুনা টেলিভিশনের মূল ফটোকার্ডে ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অভিযান, ২১ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার’ শীর্ষক বাক্য রয়েছে, যা আলোচিত ফটোকার্ডে পরিবর্তন করে ‘তারেক রহমান এর অনুমতিতে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রদল নেতা বিদেশি মদের আসর বসিয়েছে’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে।

অর্থাৎ, যমুনা টেলিভিশনের এই ফটোকার্ডটির শিরোনাম ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অভিযান সম্পর্কে জানতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চের মাধ্যমে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলো’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনটির বিস্তারিত বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ০৪ জানুয়ারিতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের ৭২৩ নম্বর কক্ষে অভিযান চালিয়ে ২১ বোতল মদ জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফজলে আজওয়াদ বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি মীর মশাররফ হোসেন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে অবস্থান করছিলেন বলে জানা যায়।
পাশাপাশি, তারেক রহমানকে উদ্ধৃত করে আলোচিত দাবি সমর্থিত কোনো তথ্য অন্য কোনো গণমাধ্যমেও পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ‘তারেক রহমান এর অনুমতিতে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রদল নেতা বিদেশি মদের আসর বসিয়েছে’ শীর্ষক দাবিতে যমুনা টেলিভিশনের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Jamuna Television: Facebook Page
- Jamuna Television: Website
- Jamuna Television: Youtube
- Jamuna Television: Facebook Post
- Prothom Alo: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে অভিযান, ২১ বোতল মদ উদ্ধার





