ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাদিকে গুলি করার ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। ওই ব্যক্তির নাম ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। এরই প্রেক্ষিতে নাগরিক টিভির ডিজাইন সংবলিত তিনটি ফটোকার্ড প্রচার হতে দেখেছে রিউমর স্ক্যানার।

একটি ফটোকার্ডের শিরোনামে দাবি করা হয়- ‘শিবির পরিচয়ে হাদির সাথে সম্পর্ক | হাদির ঘাতক ফয়সাল ছাত্রলীগ থেকে ৫ আগস্টের পর শিবিরের সাথে জড়িয়ে পরেন’।
আরেকটি ফটোকার্ডে দাবি করা হয়,’ হাদিকে হত্যা চেষ্টার পেছনে অস্ত্রধারী ফয়সাল ছাত্রলীগ হলেও শিবিরের সাথে জড়িত’।
অপর ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, ‘শিবির পরিচয়ে হাদির সাথে সম্পর্ক | হাদিকে হত্যা চেষ্টার পেছনে শিবিরের গুপ্ত রাজনীতিকে দোষারোপ করলেন হাদির ভাই’।
আরেক ফটোকার্ডে দাবি করা হয়, ‘হাদিকে হত্যা চেষ্টার পেছনে গুপ্ত লীগ কিনা খতিয়ে দেখার আহ্বান পীর ফয়জুল করিমের’।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে নাগরিক টিভি উল্লেখিত ফটোকার্ডগুলো প্রকাশ করেনি। এছাড়া, শিবিরের ‘গুপ্ত রাজনীতি’কে দোষারোপ করে কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য করেননি হাদির ভাই। পাশাপাশি, ‘গুপ্ত লীগ’ এর বিষয়েও আলোচিত মন্তব্য করেননি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় নাগরিক টিভির ডিজাইনের আদলে ফটোকার্ড তৈরি করে ভুয়া এই দাবিগুলো প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে এগুলোতে সংবাদমাধ্যম নাগরিক টিভি’র লোগোর উল্লেখ পাওয়া যায়। উক্ত সূত্র ধরে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করে ওসমান হাদির ওপর হামলার পরবর্তী সময়ে এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশের সন্ধান মেলেনি। সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইটেও উল্লেখিত দাবি সমর্থিত কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ফটোকার্ডগুলো বিশ্লেষণে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজের ফটোকার্ডগুলোর সাথে আলোচিত ফটোকার্ডগুলোর ফন্ট, ফন্টের আকার, ফন্টের গাঢ়ত্ব ও লাইন স্পেসে অমিল পরিলক্ষিত হয়। পাশাপাশি, নাগরিক টিভির ফটোকার্ডে শিরোনামের খানিকটা নিচে ফটোকার্ড প্রকাশের তারিখ ও ওয়েবসাইট লিঙ্কের সংযুক্তি থাকে কিন্তু আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডগুলোর শিরোনামের নিচে বেশকিছু জায়গা থাকলেও ফটোকার্ড প্রকাশের তারিখ ও ওয়েবসাইট লিঙ্কের কোনো সংযুক্তি পাওয়া যায়নি।

পাশাপাশি অন্য কোনো গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতেও হাদিকে হত্যা চেষ্টার পেছনে ‘শিবিরের গুপ্ত রাজনীতিকে দোষারোপ’ করে হাদির ভাইয়ের কোনো প্রকাশ্য মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, ওসমান হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় গত ১২ ডিসেম্বরে বিকালে সাংবাদিকদের কাছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন ওসমান হাদির বোন মাহফুজা। তিনি বলেছেন, ‘ভারতের র আমার ভাইকে বাঁচতে দেবে না। আমার ভাইয়ের ওপরে যারা গুলি করেছে আমরা তাদের বিচার চাই।’
পাশাপাশি, অন্য কোনো গণমাধ্যম কিংবা বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের আলোচিত মন্তব্য করার সপক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জড়িয়ে নাগরিক টিভির নামে প্রচারিত উল্লেখিত ফটোকার্ডগুলো ভুয়া ও বানোয়াট।
তথ্যসূত্র
- Rumor Scanner’s analysis
- Nagorik TV – Facebook Page
- Nagorik TV – Website





