রবিবার, ফেব্রুয়ারি 8, 2026

এক টিকটক প্রোফাইল থেকে অভিনেত্রীদের উদ্ধৃত করে রাজনৈতিক বিষয়ে চার গণমাধ্যমের নামে ভুয়া ফটোকার্ড প্রচার

সম্প্রতি ‘Bangladesh 2.0’ নামের একটি টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে বাংলাদেশের কয়েকজন অভিনেত্রীর নামে রাজনৈতিক বক্তব্য জুড়ে দিয়ে চারটি ভিন্ন গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে চারটি আলাদা ফটোকার্ড ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

যুগান্তরের লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ডে অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মানকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, তিনি বলেছেন, ‘ধর্ম ব্যবসায়ী হোক তবুও আমরা আর কোনো সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের দেশের ক্ষমতায় দেখতে চাই না। এটাই তরুন প্রজন্মের আকাঙ্খা।’

কালবেলার লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ডে অভিনেত্রী পরী মণিকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, তিনি বলেছেন, ‘নারী কোন দলের কাছে নিরাপদ সেটা নারীরাই সিদ্ধান্ত নেবে। গত পনেরো মাস আমরা দেখেছি কারা নারী নির্যাতন ও ধর্ষন করে। বিএনপির আমলনামা খুঁজলে সেটা আরো পরিষ্কার হয়। নারীদের বোকা ভাববেন না। নারীদের সিক্স সেন্স অনেক শক্তিশালি।’

প্রথম আলোর লোগো ব্যবহার করা একটি ফটোকার্ডে অভিনেত্রী শবনম ফারিয়াকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, তিনি বলেছেন, ‘কিছু দল জনগণকে চেতনার ট্যাবলেট খাইয়ে রেখে গুম, খুন ও অরাজকতাকে বৈধ করে ফেলেছে। একটা দলকে ধর্ম ব্যবসায়ী বলে সারাদিন গালাগালি করা দলকে দেখি দখল বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য ও চাঁদাবাণিজ্য করতে। ধর্ম ব্যবসাই যেন হারাম আর অন্যগুলোতে আরাম। আমাদের বোকা বানানো কতই না সহজ।’

চ্যানেল আইয়ের লোগোযুক্ত একটি ফটোকার্ডে অভিনেত্রী সাবিলা নূরকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়েছে, তিনি বলেছেন, ‘২৪ এর আকাঙ্খার সাথে বিএনপিকে বেমানান মনে হয়। সত্যিকারের পরিবর্তন চাইলে আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে বাদ দিয়েই নতুন প্রজন্মের চিন্তা করা উচিত।’

ফ্যাক্টচেক

রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, আলোচিত টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে সাদিয়া আয়মান, পরী মণি, শবনম ফারিয়া ও সাবিলা নূরকে জড়িয়ে যুগান্তর, কালবেলা, প্রথম আলো ও চ্যানেল আইয়ের নাম ও লোগো ব্যবহার করে যে ফটোকার্ডগুলো প্রচার করা হয়েছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট কোনো গণমাধ্যমই প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, গণমাধ্যমগুলোর ফটোকার্ডের ডিজাইন প্রযুক্তির সহায়তায় নকল করে এসব দাবি সংবলিত ফটোকার্ড তৈরি করা হয়েছে।

অনুসন্ধানের স্বার্থে আলোচিত ফটোকার্ডগুলো রিউমর স্ক্যানার পৃথকভাবে যাচাই করেছে।

সাদিয়া আয়মানকে জড়িয়ে যুগান্তরের ফটোকার্ড যাচাই

যুগান্তরের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডে থাকা লোগোর সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে সেখানে এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি সাদিয়া আয়মানের ফেসবুকইন্সটাগ্রামেও এ ধরনের কোনো মন্তব্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। অন্য কোনো গণমাধ্যমেও তার এমন বক্তব্যের তথ্য মেলেনি।

এছাড়া, যুগান্তরের নিয়মিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের পার্থক্য দেখা যায়।

Comparison: Rumor Scanner 

অর্থাৎ, যুগান্তরের ফটোকার্ডের ডিজাইন নকল করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

পরী মণিকে জড়িয়ে কালবেলার ফটোকার্ড যাচাই

কালবেলার নামে প্রচারিত ফটোকার্ডে থাকা লোগো ও প্রকাশের তারিখের সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে গত ০২ ফেব্রুয়ারি তারিখে এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে পরী মণির ফেসবুকইন্সটাগ্রামেও এ ধরনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্য কোনো গণমাধ্যমেও তার এমন বক্তব্যের তথ্য নেই।

এছাড়া, কালবেলার প্রচলিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডের ফন্টের মিল পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি ফটোকার্ডটির শিরোনামে অতিরিক্ত শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাধারণত গণমাধ্যমের ফটোকার্ডে দেখা যায় না।

Comparison: Rumor Scanner 

অর্থাৎ, কালবেলার ফটোকার্ডের ডিজাইন নকল করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

শবনম ফারিয়াকে জড়িয়ে প্রথম আলোর ফটোকার্ড যাচাই

প্রথম আলোর নামে প্রচারিত ফটোকার্ডে থাকা লোগোর সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে সেখানে এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শবনম ফারিয়ার ফেসবুকইন্সটাগ্রামেও এ ধরনের কোনো মন্তব্যের অস্তিত্ব মেলেনি। অন্য কোনো গণমাধ্যমেও তার এমন বক্তব্যের তথ্য পাওয়া যায়নি।

এছাড়া, প্রথম আলোর প্রচলিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের সঙ্গে আলোচিত ফটোকার্ডের ফন্টের পার্থক্য রয়েছে। 

Comparison: Rumor Scanner 

অর্থাৎ, প্রথম আলোর ফটোকার্ডের ডিজাইন নকল করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

সাবিলা নূরকে জড়িয়ে চ্যানেল আইয়ের ফটোকার্ড যাচাই

চ্যানেল আইয়ের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডে থাকা লোগো ও প্রকাশের তারিখের সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ পর্যবেক্ষণ করা হয়। তবে গত ০৩ ফেব্রুয়ারি তারিখে এমন কোনো ফটোকার্ড প্রকাশের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে সাবিলা নূরের ফেসবুকইন্সটাগ্রামেও এ ধরনের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্য কোনো গণমাধ্যমেও তার এমন বক্তব্যের তথ্য মেলেনি।

এছাড়া, চ্যানেল আইয়ের প্রচলিত ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ফন্টের সঙ্গেও আলোচিত ফটোকার্ডের ফন্টের পার্থক্য রয়েছে।

Comparison: Rumor Scanner 

অর্থাৎ, চ্যানেল আইয়ের ফটোকার্ডের ডিজাইন নকল করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।

সুতরাং, ‘Bangladesh 2.0’ নামের একটি টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে অভিনেত্রীদের জড়িয়ে চারটি গণমাধ্যমের নামে প্রচারিত আলোচিত চারটি ফটোকার্ডই ভুয়া ও বানোয়াট।

তথ্যসূত্র

আরও পড়ুন

spot_img