দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সিলিন্ডারের বাজারে চলছে ব্যাপক নৈরাজ্য। সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি করেও বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না সরকার। সংকট দেখিয়ে ১৩০০ টাকার সিলিন্ডার ২০০০ টাকাতে বিক্রির অভিযোগও মেলে। এমন পরিস্থিতিতে গ্রামীণ ব্যাংক গ্যাসের সিলিন্ডার ও মাটির চুলা কিনতে সহজ কিস্তিতে ঋণ প্রদান করছে জানিয়ে গ্রামীণ ব্যাংকের ফেসবুক পেজে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি পোস্ট করা হয়েছে দাবিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি স্ক্রিনশট প্রচার করা হয়েছে।

ফেসবুকে প্রচারিত এমন পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ইনস্টাগ্রামে প্রচারিত একই পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে দেখা যায়, চলমান এলপিজি সিলিন্ডার সংকট মোকাবেলায় গ্যাসের সিলিন্ডার ও মাটির চুলা কিনতে বা বানাতে গ্রামীণ ব্যাংকের সহজ কিস্তিতে ঋণ প্রদানের দাবিটি সঠিক নয়। প্রকৃতপক্ষে, গ্রামীণ ব্যাংকের নামে পরিচালিত ভুয়া একটি পেজ থেকে আলোচিত দাবিতে বিজ্ঞপ্তিটি প্রচার করা হয়েছে।
আলোচিত দাবিটির বিষয়ে অনুসন্ধানে গ্রামীণ ব্যাংকের নামে পরিচালিত পেজটি থেকে গত ১২ জানুয়ারি প্রচারিত প্রথম পোস্টটি খুঁজে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে পেজটির ট্রান্সপারেন্সি সেকশন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত বিজ্ঞপ্তিটি প্রচারকারী পেজটি ২০১৩ সালের ১৩ মার্চ ‘New Sunrise-নব সুর্যোদয়’ নামে চালু করা হয়। পরবর্তী ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর পেজটির নাম পরিবর্তন করে ‘Grameen Bank-গ্রামীণ ব্যাংক’ করা হয়েছে।

এছাড়াও পেজটির ইউআরএলেও newsunrisebd লেখা দেখতে পাওয়া যায়। যা থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়, উক্ত পেজটি গ্রামীণ ব্যাংকের আসল পেজ নয়।
পরবর্তীতে গ্রামীণ ব্যাংকের ওয়েবসাইট পর্যালোচনা করে তাদের আসল ফেসবুক পেজের সন্ধান পাওয়া যায়। উক্ত পেজটি পর্যালোচনা করে আলোচিত দাবি সংবলিত কোনো পোস্টের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
আলোচিত দাবিটির বিষয়ে জানতে পরবর্তীতে গ্রামীণ ব্যাংকের মিডিয়া সমন্বয়কারী সোহেল রানা সবুজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি রিউমর স্ক্যানারকে জানান, গ্রামীণ ব্যাংক সাম্প্রতিক সময়ে এমন কোনো ঋণ প্রকল্প চালু করেনি। দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। গ্রামীণ ব্যাংকের নামে প্রায়শই ভুয়া ফেসবুক পেজ তৈরি করে এমন বিভিন্ন দাবি প্রচার করা হয়।
সুতরাং, গ্যাস সিলিন্ডার ও মাটির চুলা কিনতে গ্রামীণ ব্যাংক সহজ কিস্তিতে ঋণ প্রদান করছে দাবিতে প্রচারিত তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তথ্যসূত্র
- Statement of Sohel Rana Sobuj, Media Co-ordinator, Grameen Bank
- Rumor Scanner’s Analysis





