ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সাংবাদিক আনিস আলমগীর ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনকে জড়িয়ে ঢাকা পোস্টের ফেসবুক পেজ থেকে প্রচারিত ফটোকার্ড দাবিতে একটি ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা পোস্টের ডিজাইন ও লোগো সংবলিত ফটোকার্ডটিতে লেখা রয়েছে, ‘হাদির উপর হামলায় আনিস আলমগীর, শাওনসহ ৪ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়র করা হয়েছে।’ পোস্টটির ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ‘আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় অ’ভি’যো’গ-’

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, হাদির ওপর হামলার ঘটনায় আনিস আলমগীর, শাওনসহ ৪ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে এবং তাদের নামে মামলা দায়ের করা হয়েছে দাবি করে ঢাকা পোস্ট তাদের ফেসবুক পেজ কিংবা অন্য কোনো প্রচার মাধ্যমে এমন কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি বরং, ঢাকা পোস্টের ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিন্ন একটি পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে তা ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় সম্পাদনার মাধ্যমে পোস্টে থাকা ফটোকার্ডের শিরোনাম পরিবর্তন ও তারিখ মুছে দিয়ে আলোচিত স্ক্রিনশটটি তৈরি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানের শুরুতে আলোচিত ফটোকার্ডটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, ফটোকার্ডটিতে ঢাকা পোস্টের লোগো রয়েছে। উক্ত সূত্র ধরে গণমাধ্যমটির ফেসবুক পেজে সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত ফটোকার্ডগুলো পর্যবেক্ষণ করে আলোচিত দাবি সংবলিত কোনো ফটোকার্ডের সন্ধান মেলেনি। এছাড়া, ঢাকা পোস্টের ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে উক্ত দাবির সপক্ষে কোনো সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
তবে গত ১৫ ডিসেম্বর গণমাধ্যমটির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে “আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় অ’ভি’যো’গ” শিরোনাম ও ক্যাপশনে প্রকাশিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। উক্ত পোস্টটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, আলোচিত দাবিতে প্রচারিত স্ক্রিনশটটিতে থাকা ফটোকার্ডের সাথে এই পোস্টে সংযুক্ত ফটোকার্ডটির ক্যাপশন, ডিজাইন ও ফটোকার্ডে ব্যবহৃত ছবির হুবহু মিল রয়েছে। তবে, ঢাকা পোস্টের মূল ফটোকার্ডটিতে ‘আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী শাওনসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় অ’ভি’যো’গ’ শীর্ষক বাক্য থাকলেও প্রচারিত ফটোকার্ডটিতে এর পরিবর্তে ‘হাদির উপর হামলায় আনিস আলমগীর, শাওনসহ ৪ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে’ শীর্ষক বাক্য লেখা হয়েছে। এছাড়া প্রচারিত ফটোকার্ডে প্রকাশের তারিখ উল্লেখ না থাকলেও ঢাকা পোস্টের ফটোকার্ডে তারিখ উল্লেখ রয়েছে।

অর্থাৎ, ঢাকা পোস্টের ফেসবুক পেজে প্রচারিত এই পোস্টটি সম্পাদনা করেই আলোচিত ফটোকার্ড সংবলিত স্ক্রিনশটটি তৈরি করা হয়েছে।
মূল ফটোকার্ড সম্বলিত ঢাকা পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে জুলাই রেভ্যুলেশনারি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে আনিস আলমগীর, শাওনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযুক্ত অপর দুজন হলেন, মারিয়া কিশপট্ট ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ।
থানায় দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্যেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুসারীরা বিভিন্ন কৌশলে দেশে অবস্থান করে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বিনষ্টের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। অভিযুক্তরা এসব কর্মকাণ্ডে নানাভাবে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন টেলিভিশন টক শোতে অংশ নিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রচারণা চালাচ্ছে। এর মাধ্যমে তারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের অপচেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, অভিযুক্তদের এসব বক্তব্য ও অনলাইন কার্যক্রমের কারণে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা উসকানি পাচ্ছে। ফলে তারা রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, সহিংসতা এবং অবকাঠামো ধ্বংসের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে।
অর্থাৎ, উক্ত অভিযোগের কোথাও তাদের হাদির ওপর হামলায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়নি। এছাড়া হাদির ওপর হামলার ঘটনায় হওয়া মামলায়ও আনিস আলমগীর কিংবা মেহের আফরোজ শাওনের নাম পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গতকাল গত ১৪ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন থানায় একটি মামলা হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুলসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
সুতরাং, ‘হাদির উপর হামলায় আনিস আলমগীর, শাওনসহ ৪ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়র করা হয়েছে।’ শিরোনামে ঢাকা পোস্টের ফটোকার্ড দাবিতে প্রচারিত ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশটটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Dhaka Post – Facebook Post
- Dhaka Post – Website
- Dhaka Post – YouTube Channel
- Daily Star- ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মামলা





