সম্প্রতি ‘যশোরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দলিও কোন্দলে যুবদল নেতা’কে গুলি করে হত্যা’ শিরোনামে সংবাদমাধ্যম ইত্তেফাকের ডিজাইন সংবলিত একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

এরূপ দাবিতে ফেসবুকে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ)।
এরূপ দাবিতে এক্সে প্রচারিত পোস্ট দেখুন এখানে (আর্কাইভ)।
ফ্যাক্টচেক
রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে জানা যায়, ‘যশোরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দলিও কোন্দলে যুবদল নেতা’কে গুলি করে হত্যা’ দাবিতে ইত্তেফাক কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশ করেনি। প্রকৃতপক্ষে, ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় ইত্তেফাকের ভিন্ন একটি ফটোকার্ড সম্পাদনা করে আলোচিত এই ফটোকার্ডটি তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অনুসন্ধানে আলোচিত ফটোকার্ডে ইত্তেফাকের লোগো উল্লেখ থাকার সূত্রে সংবাদমাধ্যমটির ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইট পর্যবেক্ষণ করে সাম্প্রতিক সময়ে উক্ত তথ্য সংবলিত কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমটির ইউটিউব চ্যানেলেও উক্ত দাবির বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি অন্য গণমাধ্যম বা বিশ্বস্ত সূত্রগুলোর বরাতেও আলোচিত দাবির সপক্ষে কোনো তথ্য বা সংবাদ পাওয়া যায়নি৷
তবে, গত ৯ জানুয়ারিতে “যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যাকাণ্ডে শুটারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, জামাতার পরিকল্পনাতেই খুন হন তিনি” শিরোনামে ইত্তেফাক এর ফেসবুক পেজে প্রচারিত একটি ফটোকার্ড খুঁজে পাওয়া যায়। ফটোকার্ডটি পর্যালোচনা করে আলোচিত দাবিতে প্রচারিত ফটোকার্ডের ছবি ও গ্রাফিক্যাল ডিজাইনের সাথে এর সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যায়। শুধু আলোচিত ফটোকার্ডটিতে ‘যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যাকাণ্ডে শুটারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, জামাতার পরিকল্পনাতেই খুন হন তিনি’ শীর্ষক বাক্যের পরিবর্তে ‘যশোরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দলিও কোন্দলে যুবদল নেতা’কে গুলি করে হত্যা’ শীর্ষক বাক্য ও ‘বিস্তারিত’ শব্দ লেখা হয়েছে। এছাড়া, লেখার ফন্টেও অমিল রয়েছে। পাশাপাশি, লেখার বানানেও ভুল লক্ষ্য করা যায়। যেমন ‘দলীয়’কে লেখা হয়েছে ‘দলিও’।

অর্থাৎ, ইত্তেফাকের এই ফটোকার্ডটি সম্পাদনা করে আলোচিত ফটোকার্ডটি তৈরি করা হয়েছে।
উক্ত ফটোকার্ড সংবলিত পোস্টের মন্তব্যের ঘরে পাওয়া গণমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার ত্রিদিব চক্রবর্তী (মিশুক) আদালতে জবানবন্দি দিয়ে জানিয়েছেন, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহত আলমগীরের জামাতা বাসেদ আলী (পরশ), এবং তার দেওয়া আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করে তিনি গুলি চালান।
সুতরাং, “যশোরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দলিও কোন্দলে যুবদল নেতা’কে গুলি করে হত্যা” দাবিতে ইত্তেফাকের নামে প্রচারিত ফটোকার্ডটি সম্পাদিত।
তথ্যসূত্র
- Daily Ittefaq – Facebook Post
- Daily Ittefaq – যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যাকাণ্ডে শুটারের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি





